৬ জুন ২০২০ ২২:৫৩:১৭
logo
logo banner
HeadLine
দেড় কোটি পরিবারকে সরকারের ত্রাণ সহায়তা * দশ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ , বাজেটে করোনা মোকাবেলা ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব * করোনাসংকটে অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে এ পর্যন্ত ১ লক্ষ ২ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকার প্রণোদনা * ৬ জুন :দেশে আজ শনাক্ত ২৬৩৫, মৃত ৩৫ * ফিরে আসুন নাসিম ভাই * ৫ জুন : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ১৪০, মৃত ৪ * কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় দ্রুত টিকা উদ্ভাবনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর * ৫ জুন :দেশে আজ শনাক্ত ২৮২৮, মৃত ৩০ * ৪ জুন : সন্দ্বীপের ৭ জন সহ চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ১৩২, মৃত ৩ * করোনা ভাইরাস থেকে জনগণকে সুরক্ষা দিতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী * ৪ জুন :দেশে আজ শনাক্ত ২৪২৩, মৃত ৩৫ * স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আব্দুল মান্নানসহ ৫ মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব * বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষেত্রে অন্যদের শিক্ষা দিতে পারে : প্রধানমন্ত্রী * সমুদ্র সম্পদের টেকসই ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রীর তিন দফা প্রস্তাব পেশ * ৩ জুন : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ১৪০ * ১১৩৪ জন মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল , অন্তরভুক্ত হলেন আরও ১২৫৬ * ৩ জুন :দেশে আজ শনাক্ত ২৬৯৫, মৃত ৩৭ * ২ জুন : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২০৬ * জনগণের কল্যাণের কথাই সরকার সবচেয়ে বেশি চিন্তা করছে : প্রধানমন্ত্রী * ২ জুন :দেশে আজ শনাক্ত ২৯১১, মৃত ৩৭ * ১ জুন : চট্টগ্রামে আজ শনাক্ত আরও ২০৮ * আক্রান্ত ও মৃত্যু অনুযায়ী সারা দেশকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা * সচিবালয়ে ২৫ শতাংশের বেশি কর্মকর্তার অফিস নয় * ১ জুন :দেশে আজ শনাক্ত ২৩৮১, মৃত ২২ * করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ২ হাজার কোটি টাকা সুদ মওকুফের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর * ৩১ মে :দেশে সর্বোচ্চ শনাক্তের সাথে আজ মৃতও সর্বোচ্চ, শনাক্ত ২৫৪৫ মৃত ৪০ * এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৮২.৮৭ * এখনই খুলছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : প্রধানমন্ত্রী * ভাড়া বাড়ছে না রেলের, সব টিকিট অনলাইনে * ৩০ মে: চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২৭৯ *
     01,2016 Wednesday at 13:05:48 Share

ধর্ম যার যার ,চিন্তা তার তার

ধর্ম যার যার ,চিন্তা তার তার

কাজী ইফতেখারুল আলম তারেকঃ

এখন হেমন্ত। চারদিকে শীতের আগমন বার্তা জানান দেয় যে,সামনে রোদ পোহানোর দিন। সকালের সোনাঝরা রোদ,শেষ বিকেলের গোধুলির ক্লান্ত আলো ,সন্ধায় জোসনার আলো আমার মতো সবাই কে মাতিয়ে যায়। প্রকৃতির এই মনোরম সুন্দর সংযোগ সব থেকে উপভোগ্ করেন গ্রামের মানুষরা । শহরের হেলোজেনের আলোতে এখন চাদের আলো খুব একটা দেখা যায় না। সামনে শীত ,সব দিক থেকে আনন্দের। সেই অর্থে মানুষ বেশ ভালোই আছে। গত শীতে মানুষ রোদের উত্তাপ পাবার বদলে রাজনীতি আমাদের আগুন,পেট্রল বোমার তাপ দিয়েছে।দেশটাকে করেছে বার্ন ইউনিট।

দেশের অনেক লোক আছেন যারা শীত বস্ত্রের অভাবে ঠান্ডায় কাপতে থাকেন। সেই দিকে রাজনীতিবিদদের খুব একটা নজর আছে বলে আমার অন্তত মনে হয় না। যে দেশের মানুষ এক সময় স্বল্প কাপড়ে দিনাতিপাত করতেন ,সেই দেশের কাপড় এখন বিশ্ববাজারে চাহিদা মিটাচ্ছে। অথচ কি অবাক কথা সেই দেশের মানুষ ঠান্ডায় কাপে ,ঠান্ডায় প্রাণ হারায়। রাজনীতি আমাদের একটি দেশ উপহার দিয়েছে ,আজ সেই দেশের বার্ষিক বাজেট লক্ষ -কোটির ঘরে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই ভাবে চলতে থাকলে আমরা এক দিন উন্নতির বন্দরে ভিড়তে পারব এই কথা বিশ্ব বলছে।সরকার তার গন্তব্যে ফিরতে অস্থির।

মহাজোট সরকার জনগণকে নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছে ,ক্ষমতায় গেলে যোদ্ধাপ রাধীদের বিচার করবে।যথারীতি একের পর এক রায় ঘোষনা হচ্ছে ,সরকার এই ক্ষেত্রে বিলম্ব করছেন কেন তা জনগণ জানেন এক ভাবে ,আর রাষ্ট্র জানেন আরেক ভাবে। যাই হউক সরকার চাপে আর তাপে খুব একটা স্বস্তিতে নেই। সরকারের কিছু হাইব্রিড নেতার কথা বার্তা মাঝে মাঝে জনগনকে সংকটে ফেলে দেন। আগে বহু আরাধনা করে নেতা হতো ,আর এখন নেতা হওয়ার নতুন নতুন ফর্মূলা এসে গেছে বাজারে। মাঝে মাঝে অবাক না হয়ে পারি না এই ছোট্ট একটা দেশে এত নেতা ,কই থেকে যে আইলো। কর্মী হওয়া কে এখন যোগ্যতা মনে করি। কারণ নেতার কদর কমে গেছে ,মানুষের মাঝে অনেক পরিবর্তন এসে গেছে। রাজনীতি অনেক আরাধনার বিষয় তাই খুব একটা জড়াতে চাই না এতে। আজ কাল দেখি ছোট ছোট ছেলেরা রাজনীতি করে ,এরা যতটা না রাজনীতি করে তার থেকে বেশি রাজনীতির নেতাদের শিকার। ফলে বুজতে বাকি নেই কোন দিকে ছাত্র রাজনীতি।

যাক সে কথা ,আমি মুক্ত চিন্তার মানুষ। সৃজনশীল কাজ করে আনন্দ পাই ,লেখালিখি আমাকে পুলকিত করে। আমার লিখতে ভালো লাগে ,তাই লিখে যাচ্ছি। খুব ভালো না লিখলেও আমি প্রজন্মের কথা বলি,,,কলামে আমার প্রকাশ বাণী প্রকাশ করি। এখন সারা দেশে মুক্ত মনা মানুষের উপর যে হামলা হচ্ছে তা একেবারেই অনাকাঙ্কিত। গত বছর লেখক অভিজিত এর রক্তের দাগ দেখেছি। গণজাগরণ মঞ্চের পর থেকে এই দেশে লেখক নিধনের কাজ চলছে সুনিপুন ভাবে। কখনো অভিজিত ,কখনো দীপন ,আবার যে কে সংবাদ শিরোনাম হবে কে জানে ?টুটুল ,তারেক রহিম ,রণদীপম বসুকে যে ভাবে আঘাত করা হয়েছে তা যে কোনো মানুষ আতকে উঠার কথা।

লেখক দের পর পর এবার প্রকাশক দের উপর হামলা যে কোনো মুক্ত চিন্তার মানুষ দের ভাবিয়ে তুলেছে। ব্লগার দের ধর্ম নিয়ে যে বাড়াবাড়ি তার সাথে আমি এক মত নই। আবার তাদের চিন্তা ,তাদের বিশ্বাসকে চাপাতি দিয়ে হত্যার সাথেও আমি এক মত নই। ধর্ম যার যার ,চিন্তা তার তার এখানে আঘাত করবার অধিকার কারো নেই। ধর্মের উপর আঘাত কোনো সচেতন মানুষ মেনে নেবে না এটা যেমন সত্য ঠিক এটাও সত্য যে হত্যা কখনো সমর্থন যোগ্য না। যারা দিনের পর দিন এই ধরনের নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে ,তারা একটা ধর্ম বিশ্বাস থেকেই কিনতু করছে । আমাদের দেশের মাদ্রাসা গুলিতে ইসলামী নাম ধারী সংগঠন গুলি তাদের মত করে শিক্ষা দিচ্ছেন। ছাত্রদের জিহাদী মানসিকতায় গড়ে তুলছেন।কিছু স্বল্প শিক্ষায় তাদের কে পরিচালিত করে যে ,জিহাদ করেলই জান্নাত অবধারিত। সেই জন্যই মূলত কিলিং মিশন গড়ে উঠেছে। যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করছেন ,ক্ষমতায় যেতে শুধু মাত্র ধর্মকে সিড়ি বানাচ্ছেন তারাই মূলত এই জন্য দায়ী। যুক্তির বদলে যুক্তি চলে ,তর্কের বিপরীতে তর্ক ,কলমের বিপরীতে তবে চাপাতি কেন হবে ?কিছু দিন পর পর বিদেশী দের হত্যা ,লেখকদের হত্যা ,মুক্তমনা মানুষদের উপর হামলা এসব মেনে নেয়া যাই না। দেশটা কে একটা তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে আর কত দূর বাকি ?

সামনে একুশে বইমেলা ,বসন্তে যেমন কত ফুল ফুটে ,ঠিক তেমনি লেখক -প্রকাশকরা মিলে শব্দের ফুল ফুটান। যেখানে মিলিত হয় সব মেধা আর মননের সংযোগ। জাতির সব থেকে বড় সৃজনশীলতার ক্যানভাস এ আমরা আর রক্তের দাগ দেখতে চাই না। গতকাল সন্ধায় বাংলাদেশ টেলি ভিশনের মুক্তিযোদ্ধের অনুষ্ঠানের নির্মাতা ও উপস্থাপক জনাব আবদুল্লা শাহরিরার আমাকে বললেন -সামনের কিছু দিন খারাপ যেতে পারে ,কেননা সাকা আর মুজাহিদ এর ফাসির রিভিউ রায় দিবে ,এই সময় জামাতিরা কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। আমি রসিকতা করে বলেছি আপনি আরো বেশি নিরাপদে থাকবেন কেননা মৃত্যু আপনাকে তাড়া করে ফিরে। মুক্তিযোদ্ধের অনুষ্ঠান করার অপরাধে তাকে প্রতি নিয়ত হুমকি শুনতে হয়। আমি মুক্তমনা বলেই তিনি আমাকে সতর্ক করেছেন। এই রকম জঙ্গি তৎপরতা চলতে থাকলে দেশের মানুষের মধ্যে নিরাপদ বোধ মনে করাটা ও থাকবে না। আমরা অচিরেই এর সমাধান চাই ,খুনিদের ফাসি চাই এমন অনেক কিছুই চাই ,জনগণ শুধু একটু শান্তি চাই। হত্যা কোনো দিন সমাধান আনতে পারে না। এটা ভ্রান্ত দিক ,এটা অযুক্তিক। আমরা চাই না একই দেশ ,একই আকাশ ,একই মাটির অংশীদার হয়ে রক্তের হলি খেলা দেখতে। একটি নিরাপদ বাসভূমের স্বপ্ন দেখা খুব একটা বেশি কিছু না। আবার সৃজনশীলতা যেন কখনো অন্যের বিশ্বাসে আঘাত না করে সেই দিকে সবাই কে সচেতন হতে হবে

User Comments

  • আরো