২১ নভেম্বর ২০১৯ ১:৩১:৪০
logo
logo banner
HeadLine
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের শুদ্ধি অভিযান * ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি সঠিক পথে - অভিজিৎ ব্যানার্জি * হৃদরোগ ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মূল কারণ চিনি * সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় বাংলাদেশের অর্থনীতি * যুবলীগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রবিবার, বৈঠকে থাকছেন না ওমর ফারুক চৌধুরী * পাপ পুণ্যের দানবে অসহায় মানুষ * র্যা গিংয়ের শিকার হলে নালিশ করুন, বিচার হবে : আইনমন্ত্রী * চট্টগ্রামে তিন মেট্রোরেল নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ * আরও দু'টি মেট্রোরেল রাজধানীতে * এক বাঙালিসহ অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন ৩ জন * বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনারও রোল মডেল : প্রধানমন্ত্রী * ছাত্র রাজনীতি কিংবা ছাত্রলীগ নয়, টার্গেট সরকার * হঠাৎ চারদিকে কেমন যেন অস্বস্তি * ইউনিয়ন পর্যন্ত নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী * রসায়নে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী * দেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে, এটা হতে পারে না * পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী * অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ অটুট থাকবে, আশা প্রধানমন্ত্রীর * হাসিনা-মোদী বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত ৭ চুক্তি, ৩ প্রকল্প উদ্বোধন * পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান * আঞ্চলিক অর্থনীতির কেন্দ্র হতে পারে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী * উন্নয়নের উইপোকা দমনে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত * কোনো অন্যায় হলে তার ব্যবস্থা আমিই নেবো, সেটা যে-ই হোক - প্রধানমন্ত্রী * রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে * রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ব্যবস্থা নিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী * 'রাজহংস' উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা * মানুষের সেবা করার ব্রত নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি - প্রধানমন্ত্রী * জনগণের আস্থায় যেন ফাটল না ধরে, সজাগ থাকতে হবে * কাল রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী * এসএমই খাতে ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ছে *
     29,2016 Thursday at 11:26:18 Share

অনুমান বা ধারনা করে কথা বলা, অন্যের দোষত্রুটি অন্বেষন করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম

অনুমান বা ধারনা করে কথা বলা, অন্যের দোষত্রুটি অন্বেষন করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম

পবিত্র কোরানে কারিমে আল্লহ বলেন, “মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিšদা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছšদ করবে? বস্তূত: তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ্ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু”--সুরা হুজরাত, আয়াত ১২।


এই আয়াতেও পারস্পারিক হক ও সমাজিক নিয়ম নীতি ব্যক্ত করা হয়েছে, এবং এতেও  তিনটি   বিষয় হারাম করা হয়েছে। এক) ( জন্নুন ) কোন কিছুর প্রতি ঢালাও ভাবে ধারনা করা। দুই) (তাজাছ্ছুছ ) অথাৎ কোন গোপনীয় দোষ সন্ধান করা। তিন) গীবিত করা অথাৎ, কোন অনুপস্থিত ব্যক্তি সম্পর্কে এমন কথা বলা যা সে শুনলে অপছন্দ করবে।


প্রথম বিষয়ঃ- জুননুন এর অর্থ প্রবল ধারনা। এ সম্পর্কে কোরআন পাক বলেছে যে, তোমরা অনেক ধারনা থেকে বেচে থাক। এর পর কারণ স্বরুপ বলা হয়েছে, কতক ধারণা পাপ। এ থেকে জানা গেল যে, প্রত্যেক ধারনাই পাপ নয়। অতএব কোন কোন ধারনা পাপ,তা জেনে নেওয়া প্রয়োজন বা ওয়াজিব হবে। যাতে তা থেকে আত্বরক্ষা করা যায়। এ পর্যায়ে আলেম ও ফেকাহ বিদগণ এর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। ইমাম কুরতুবী বলেনঃ ধারনা বলে এ স্থলে অপবাদ বোঝানো হয়েছে,অর্থাৎ কোন ব্যক্তির প্রতি শক্তিশালী প্রমান ছাড়া ধারনার উপর ভিত্তি করে দোষ চাপাইয়া দেওয়া জায়েজ নাই। ইমাম আবুবকর জাসসাস আহকামুল কোরআনে এর পুর্ণাঙ্গ বিবরণ দিয়েছেনতিনি বলেছেন ধারণা চার প্রকারঃ তার মধ্যে (১) প্রথম প্রকার হারাম। যেমন আল্লাহর প্রতি খারাপ ধারনা রাখা যে, তিনি আমাকে শা¯িতই দিবেন বা বিপদেই রাখবেন। অর্থাৎ আল্লাহর রহমত থেকে নৈরাশ না হওয়া, সব সময় আল্লাহর রহমতের আশা করা। এ প্রসঙ্গে জাবের রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম বলেছেন যে, তোমাদের কারও আল্লাহর প্রতি সুধারনা পোষন করা ছাড়া মৃত্যবরণ করা উচিৎ নয়। অন্য হাদিসে আছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন ঃ আমি আমার বান্দার সাথে তেমনি ব্যবহার করি, যেমন আমার বান্দা আমার প্রতি ধারনা রাখে।এখন বান্দার ইচ্ছা তারা আমার প্রতি কি ধারনা রাখতে চায় রাখুক।২২এ থেকে জানা যায় যে,আল্লাহর প্রতি ভাল ধারনা পোষণ করা ফরজ এবং কুধারণা পোষণ করা হারাম। এমনি ভাবে যে সব মুসলমান প্রকাশ্য ভাবে নেক কার বলে দৃষ্টিগোচর হয় তাদের সম্পর্কে প্রমান ছাড়া কু-ধারণা পোষণ করা হারাম।হযরত আবু হুরাইরা রাঃ হু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম বলেছেন যে, তোমরা ধারণা থেকে বিরত থাক, কেননা, কতক ধারণা মিথ্যা কথার নামান্তর। এখানে সবার মতে ধারণা বলে প্রমান ছাড়া মুসলমানের প্রতি কুধারণা বোঝানো হয়েছে।(২) ধারণার দ্বিতীয় প্রকার ওয়াজিব, যেমন কোন কাজের বা কোন বিচার ফয়সালার যে কোন এক দিকে রায় দিতে হবে, এ ব্যাপারে কোরআন হাদিসের  সুস্পষ্ট কোন প্রমান পাওয়া যাইতেছেনা। সেখানে প্রবল ধারনা অনুযায়ী আমল করা বা রায় দেওয়া ওয়াজিব। যেমন পাস্পারিক বিবাদ ও মামলা মোকাদ্দমার ফয়সালায় শাক্ষিদের শাক্ষ্য অনুযায়ী রায় দেওয়া হয়। এখানে কে সঠিক শাক্ষি দিতেছে তা নির্ধারন করার কোন যন্ত নাই। তাই সেখানে শাক্ষিদের উপর প্রবল ধারনা প্রয়োগ করে বিচার ফয়সালা করতে হয়। অনেক সময় ভাল চেহারা ওয়ালা লোক মিথ্যা শাক্ষি দেয়, ধরার কোন উপায় নাই। তার সত্যবাদিতা নিছক একটা প্রবল ধারণা মাত্র। তাই এখানে প্রবল ধারণার উপর কাজ করা ওয়াজিব। এমনি ভাবে কেউ যদি অজানা যায়গায় যাইয়া উপস্থিত হয়, কেবলা কোন দিকে তা জানেনা, এবং জেনে নেওয়ার মত কোন লোক পাওয়া না যায়। সেখানে নিজের প্রবল ধারণা অনুযায়ী  কেবলা নির্ধারণ করে নামাজ পরা ওয়াজিব।এমনি ভাবে কোন ব্যক্তির উপর কোন বস্তুর ক্ষতিপূরণ দেয়া ওয়াজিব হলে, সেই বস্তুর মুল্য নির্ধারণের ব্যাপারেও প্রবল ধারণা অনুযায়ী মুল্য নির্ধারণ করা ওয়াজিব। (৩) ধারণা করা জায়েজ ঃ-যেমন নামাযের রাকআত সম্পর্কে সন্দেহ হল যে, তিন রাকআত পড়া হয়েছে, না চার রাকআত। এমত- অবস্থায় প্রবল ধারণা অনুযায়ী আমল করা জায়েজ।(৪) ধারণা করা মুস্তাহাবঃ-যেমন প্রত্যেক মুসলমানের উপর সু ধারণা রাখা মুস্তাহাব। দলিল প্রমান ছাড়া বদ ধারণা রাখা হারাম। সাধারণ ভাবে সু ধারণা রাখতে হবে। বাকী ফয়সালা আল্লাহর জিম্মায়ায় থাকবে।


 আয়াতের দ্বিতীয় নিষিদ্ধ বিষয় হচ্ছে, (আত্ তাজাছ্ছুছ) অর্ধাৎ কারও দোষ অনুসন্ধান করা। এই দোষ দুই প্রকার। এক, প্রকাশ্য দোষ, যেমন ব্যক্তি সচারাচর করে থাকে। দুই, যেই দোষ কারো জানা নাই। যেমন কোন লোক কোন ব্যক্তির পিছনে দোষ ধরার জন্য লেগে থাকা। হাদিসে আছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম বলেছেন ঃ তোমরা মুসলমানদের গীবত করো না,এবং তাদের দোষ অনুসন্ধান করো না। কেননা, যে ব্যক্তি মুসলমানদের দোষ অনুসন্ধান করে, আল্লাহ তার দোষ অনুসন্ধান করেন। আর আল্লাহ যার দোষ অনুসন্ধান করেন তাকে নিজ গৃহে অপমানিত করে দেখান।এরপর গোপনে অথবা নিদ্রার ভান করে কারও কথাবার্তা শোনাও নিষেধ, এটাও দোষ অনুসন্ধান করার হুকুমে পরে। তবে যদি ক্ষতির আশংকা থাকে নিজের, অথবা অন্য কোন মুসলমানের, তাহলে ক্ষতিকারীর গোপন ষড়যন্ত্রের অনুসন্ধান জায়েজ।


 আয়াতের তৃতীয় নিষিদ্ধ বিষয় হচ্ছে গিবত করা,কারও অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে কষ্টকর কথাবার্তা বলা, যদিও তা সত্য কথা হয়, তাই হচ্ছে গীবত। কেননা, যদি তা মিথ্যা কথা হয় তা হবে অপবাদ। আর অপবাদ বলে, যা ঘটে নাই তাই বলে দেওয়া। তাই বলে এ কথাও জয়েজ করে নাই যে, সামনা সামনী কাউকে কষ্টকর কথা বলা যাবে। সামনা সামনী কষ্টকর কথা বলাও হারাম।  যার বর্ণনা সুরা হুমাজার প্রথম আয়াতে আসিয়াছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রত্যেক পশ্চাতে ও সমুখে পর নিনদা কারীর জন্য ধংশ। এখানে সামনে নিন্দা করলেও ধংশ এবং পিছনে নিন্দা করলেও  তার জন্য ধংশের কথা বলা হয়েছে। তবে সামনে নিন্দা করলে তো সে নিজে অথবা অন্য কাউকে দিয়ে প্রতিবাদ করতে পারে। কিন্তু যদি কেউ পিছনে বা অগোচরে কারো নিন্দা করে তার প্রতিবাদ কারী থাকে না। তাই গীবতের অপরাধ অধিক গুরুতর। এ জন্য গীবত কারীর অপরাধকে মৃত্যু ব্যাক্তির গোস্ত খাওয়ার সাথে তুলনা করেছে। যেমন মৃত্যু মানুষের গোশত ভক্ষণ করলে তার কোন কষ্ট হয় না, তেমনি অনুপস্থিত ব্যক্তি যে পর্যন্ত গীবতের কথা না জানে তারও কোন কষ্ট হয়না। কিন্তু কোন মৃত মুসলমানের গোশত খাওয়া শুধু হারামই নয় কত নীচুতর ও ঘৃণত কাজ। তেমনি গীবত করা হারাম, নীচুতর ও ঘৃণত কাজ। কারণ, অসাক্ষাতে কাউকে মন্দ বলা কোন বীরত্বের কাজও নয়।এই আয়াতে তিনটি বিষয় নিষিদ্ধ করতে গিয়ে গীবতের নিষিদ্ধতাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, এবং একে মৃত মুসলমানের গোশত ভক্ষনের সমতুল্য প্রকাশ করে এর নিষিদ্ধতা ও নিচুতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর রহস্য এই যে, কারও উপস্থিতে তার দোষ প্রকাশ করে তাকে কষ্ট দেওয়ার কারণে হারাম, কিন্তু তার প্রতিরোধ সে নিজেও করতে পারে। অনেক সময় প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ার কারণে সামনে দোষ প্রকাশ করার সাহস হয় না, এবং সামনে দোষ প্রকাশ করার ক্ষোপ ২৪বেশীক্ষণ স্থায়ী হয় না। পক্ষান্তরে গীবতের মধ্যে কোন প্রতিরোধকারী থাকে না, তাই নীচ থেকে নীচুতর ব্যক্তি কোন উচ্চতর ব্যক্তির গীবত অনায়াসে করতে পারে। প্রতিরোধ না থাকার কারণে এর ধারা সাধারণতঃ দীর্ঘ হয়ে থাকে এবং এতে মানুষ লিপ্তও হয় বেশী। এ সব কারণে গীবতের নিষিদ্ধতার উপর অধিক জোর দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মুসলমানদের জন্যে জরুরী করা হয়েছে যে, কেউ গীবত শুনলে তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে সাধ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ করবে। প্রতিরোধ শক্তি না থাকলে কমপক্ষে গীবত শুনা থেকে বিরত থাকবে। কেননা, ইচ্ছাকৃত ভাবে গীবত শোনাও নিজে গীবত করার মতই।হযরত হাছান ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেরাজে যাইয়া যখন জাহান্নাম পরি দর্শণ করেন, তখন দেখেন এক দল লোক তাদের নোখ গুলো ছিল তামার তারা নিজেদের মুখমন্ডল নোখ দ্বারা আচরাইয়া গোশত গুলি ফেলে দিচ্ছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিবরীলকে বললেন এরা কারা। তখন জিবরীল ( আঃ) বললেন  এরা অন্য ভাইয়ের গীবত করত এবং তাদের ইজ্জত হানি করত। অন্য হাদিসে আসছে, আবু সাইদ ও জাবের (রাঃ)হু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, গীবত জিনার চেয়েও কঠিন গুনাহ্। সাহাবায়ে কেরাম জিগ্গাসা করলেন, এটা কিভাবে? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,যদি কোন বাক্তি জিনা করার পর খাটি ভাবে তাওবা করে তাহলে তার গুনা মাফ হয়ে যায়। কিন্ত যে গীবত করে, তার গুনা প্রতিপক্ষ মাফ না করা ছাড়া মাফ হয় না, এটাই কারণ।

User Comments

  • ধর্ম ও নৈতিকতা