২৩ এপ্রিল ২০২১ ১৩:৪৯:৫২
logo
logo banner
HeadLine
২২ এপ্রিল ২০২১ : গেল ২৪ ঘন্টায় ১৪ দশমিক ৬৩ হারে শনাক্ত ৪২৮০, মৃত ৯৮, সুস্থ ৭২৬৬ * কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে উন্নত দেশগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান * ২১ এপ্রিল ২০২১ : কমেছে সংক্রমণ , বেড়েছে সুস্থতা * দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন সোয়া ১৮ লাখ, প্রথম ডোজ সাড়ে ৫৭ লাখ এবং নিবন্ধন করেছেন সাড়ে ৭১ লাখের অধিক * এ বছর ফিতরা জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২,১৩০ ও সর্বনিম্ন ৭০ টাকা * সুরক্ষায় মিলছে করোনা সার্টিফিকেট * ২০ এপ্রিল ২০২১ : ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত ৪৫৫৯, মৃত ৯১, সুস্থ ৬৮১১ জন * ভ্যাকসিনের চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্তৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর * ১৯ এপ্রিল ২০২১ : দেশে করোনায় একদিনে মৃত ১১২, যা দৈনিক সর্বোচ্চ * মামুনুল হকের ৭ দিনের রিমান্ড * মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ফ্লাইট ছাড়া ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ * চলমান চলাচল বিধিনিষেধ ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত * হেফাজত নেতা মামুনুল হক গ্রেফতার * দেশের সবচেয়ে বড় কোভিড হাসপাতাল উদ্বোধন * ৫১ আলেম-ওলামার বিবৃতি,'হেফাজতে ইসলাম দেশে ফেতনা সৃষ্টিকারী ফাসেকের দল' *
     18,2021 Sunday at 05:01:03 Share

আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল

আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এদিনে বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ প্রাকৃতিক ঘূর্ণিঝড় দক্ষিণ–পূর্ব উপকূলে আঘাত হানে। সেই ভয়াল রাতে সন্দ্বীপ, কক্সবাজার, মহেশখালী, বাঁশখালী, কুতুবদিয়া এবং হাতিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের উপর দিয়ে  ২৫০ কি.মি/ ঘণ্টা বেগে ‘ম্যারি এন’ নামে এ ভয়ংকর  ঘূর্ণিঝড়টি বয়ে যায়।

এই ঘূর্ণিঝড়ের ফলে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত করে এবং প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার লোক প্রাণ হারায় । সর্বস্ব হারায় আরও এক কোটি মানুষ । সেদিনের ঘটনায় এমনও পরিবার ছিলো যারা সবাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, অথবা  বেশির ভাগ সদস্যই প্রাণ হারান।  সন্দ্বীপ, মহেশখালী এবং হাতিয়ায় নিহতের সংখ্যা ছিল বেশি।

লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় পূরো উপকূল। স্মরণকালের ভয়াবহ এ ঘূর্ণিঝড়ে ও জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৪২ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে এর সংখ্যা আরো বেশি। এই ঘূর্ণিঝড়ে শুধু সন্দ্বীপেই মারা গিয়েছিলেন প্রায় ২৩ হাজার মানুষ।  মারা যায় ২০ লাখ গবাদিপশু। গৃহহারা হয় হাজার হাজার পরিবার। ক্ষতি হয়েছিল ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ। উপকূলবাসী আজও ভুলতে পারেনি সেই রাতের দুঃসহ স্মৃতি।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের পর নিহত মানুষের লাশ পড়েছিল উপকূলজুড়ে। শতাব্দীর প্রলয়ঙ্করি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বৃহত্তর চট্টগ্রাম এবং দেশের উপকূলীয় অঞ্চল মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। ধ্বংস স্তূপে পরিণত হয় কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ। প্রলয়ঙ্করি এই ধ্বংসযজ্ঞের ২৬ বছর পার হতে চলেছে। এখনো স্বজন হারাদের আর্তনাদ থামেনি। ঘরবাড়ি হারা অনেক মানুষ এখনো মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিতে পারেনি।


নিহতের সংখ্যা বিচারে স্মরণকালের ভয়াভহতম ঘূণিঝড়গুলোর মধ্যে ১৯৯১ সালের এই ঘূর্ণিঝড় অন্যতম।এই ভয়াল ঘটনা এখনও দুঃস্বপ্নের মতো তাড়িয়ে বেড়ায় উপকূলবাসীকে। ঘটনার এত বছর পরও স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে পারছেন না সেই দুঃসহ সময়গুলো। 

ধারণা করা হয়, এই ঘুর্ণিঝড়ের কারণে প্রায় ১ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। সাগর ও নদীর উপকূল প্লাবিত হয়। কর্ণফুলি নদীর তীরে কংক্রিটের বাঁধ থাকলেও এটি জলোচ্ছ্বাসে ধ্বংস হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের ১০০ টন ওজনের একটি ক্রেন ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে স্থানচ্যুত হয় এবং আঘাতের কারণে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। বন্দরে নোঙর করা বিভিন্ন ছোট বড় জাহাজ, লঞ্চ ও অন্যান্য জলযান নিখোঁজ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অনেক যানও ছিল।

এছাড়া প্রায় ১০ লাখ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ২৯ এপ্রিল রাতে এটি চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ২৫০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে, যা ক্যাটাগরি-৪ ঘূর্নিঝড়ের সমতুল্য। স্থলভাগে আক্রমণের পর এর গতিবেগ ধীরে ধীরে হ্রাস পায় এবং ৩০ এপ্রিল এটি বিলুপ্ত হয। 

এদিকে ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের দীর্ঘ ২৬ বছর অতিবাহিত হলেও  উপকূলের বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে এখনো সাগরের লোনা পানি ঢুকে পড়ছে। সন্দ্বীপ উপজেলাসহ পুরা দক্ষিন উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়ীবাঁধ সংস্কার করা হয়নি।এ কারণে আমাবস্যা পূর্ণিমার জোয়ারে, ফসলের মাঠ, চিংড়ি ঘের, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চলাচল রাস্তা তলিয়ে যায়। পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ প্রতি বর্ষা মৌসুম আসলেই আরো একটি ২৯শে এপ্রিলের ছোবল আতঙ্কে থাকেন। শিগগিরই অরক্ষিত এ বেড়ীবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানান স্থানীয়রা। এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় পর্যান্ত আশ্রয়কেন্দ্র নেই। জানা যায়, ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক প্রাণহানির পর আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার অর্থায়নে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয় যা পর্যাপ্ত নয়।

সন্দ্বীপ পৌরসভা মেয়র জাফর উল্যা টিটু বলেন, সন্দ্বীপে যে আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে সন্দ্বীপের মানুষকে বাঁচানোর জন্য আরো আশ্রয়কেন্দ্রের প্রয়োজন। এ ছাড়া জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানি থেকে ফসল এবং প্রাণহানি রক্ষার জন্য বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের মাঝে সংষ্কার করা বেড়ীবাঁধগুলো পুনঃসংষ্কার অত্যান্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।  

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শনিবার স্মরণ করবে এই দিনটিকে। সন্দ্বীপ এসৌসিয়েশন, চট্টগ্রাম এ উপলক্ষে আজ বিকেলে চট্টগ্রামের নয়াবাজার মাতৃভূমি কমিউনিটি সেন্টারে নিহতদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী সন্দ্বীপবাসীদের সংগঠন, সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন, আবুধাবীও। আজ শনিবার রাত ৯:৩০ মিনিটে আবুধাবীর সেন্ড ম্যারিন রেস্টুরেন্টে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।

User Comments

  • সন্দ্বীপের সুখ দুঃখ