২২ জানুয়ারি ২০১৮ ৮:১:০৮
logo
logo banner
HeadLine
অ্যাজমা বা হাঁপানি : কেন হয়? লক্ষন ও চিকিৎসা * শেষ হল ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা * নব্য সুশীলদের অযাচিত বিরোধিতা বনাম উন্নয়নের রাজনীতি * স্বপ্ন পূরণ করেন শেখ হাসিনা * সক্ষমতা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে না, বর্তমান প্রবৃদ্ধি ৭.২৮ শতাংশ * অনিয়ম, প্রতারণা, জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে ৭ হজ এজেন্সীকে মন্ত্রাণালয়ে তলব * গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে গান বাজানোর প্রতিবাদ করায় প্রতিবেশী বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা * পণ্যের গুণগতমান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতির আহবান * জেনে-বুঝে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করুন : অর্থমন্ত্রী * মার্কিন সিনেটে বাজেট বিল ব্যর্থ হওয়ায় সরকার কার্যক্রম অচল * পদ্মা সেতুর মূল কাজের অগ্রগতি ৫৬ শতাংশ * একবার রক্ত পরীক্ষায় শনাক্ত হবে সব ধরনের ক্যান্সার * চট্টগ্রামেও সক্রিয় একাধিক কিশোর গ্যাং * বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা * ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা লড়াই আজ * বিশ্ব এজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু * রেলের টিকিটে যাত্রীর নাম লিখার সুপারিশ * আমার সাহস ও কাজ বিএনপির কাছে বড় সমস্যা * বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল * ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচন স্থগিত * আওয়ামী লীগ: ২০১৮'র বাস্তবতা বুঝতে পারছে কি? * সংসদীয় আসনপ্রতি ১০ মাধ্যমিক স্কুলের উন্নয়নসহ ১৮ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকার ১৪ প্রকপ্ল একনেকে অনুমোদন * রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল * জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জননেত্রী শেখ হাসিনা * শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি আস্থা কেন? * ২০১৮ সাল ॥ নির্বাচনের বছর * কাদের জন্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড? * ২৩ জানুয়ারী থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু * বিএনপি কেন বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনে আসবে? * জয় দিয়ে বছর শুরু করল টাইগাররা *
     11,2017 Monday at 08:33:41 Share

মানবিকতার পাশাপাশি কঠোর হও হে বাংলাদেশ

মানবিকতার পাশাপাশি কঠোর হও হে বাংলাদেশ

অজয় দাশগুপ্ত  : রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখন আর রাখ ঢাকের জায়গা নেই। একটি জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূলের চক্রান্ত যেমন অসহনীয় তেমনি আপন জান বাঁচানোও ফরজ। আমি আজ যা লিখব তাতে কথিত সমঝোতা বা মিনমিন করার কোন সুযোগ নেই। গোড়াতেই বলি, বাংলাদেশের যে কোন এলাকার মানুষের চাইতে আমরাই এদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতম। আমার জন্মভূমি চট্টগ্রামের লাগোয়া অঞ্চলের বসবাসকারী এই রাখাইন বা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে পরিচয় দীর্ঘকালের। আপনি যদি কক্সবাজার যান আপনি নিশ্চয়ই জানবেন সেখানকার সান্ধ্য বাজারের দোকানগুলোর বেশিরভাগ চালায় এদের চেহারার মানুষেরা। কর্মঠ মহিলারা সন্ধ্যার পর কাজ করে পুরুষগুলো বাড়িতে বাচ্চা রাখে কিংবা ঘুরে বেড়ায়। এই মানুষগুলো আমাদের। কিন্তু আজ যারা দলে দলে ঢুকছে তাদের আপন করার নামে যে ষড়যন্ত্র আর রাজনীতি সেটা আমাদের নয়। আগেই বলেছি আমরা শেফালী ঘোষের গান শুনে বড় হওয়া মানুষ যেখানে, ও শ্যাম রেঙ্গুন যাইও বলে আর্তি করা হয়েছে। রেঙ্গুন ছিল একসময়ের সোনার বাজার। ছিল কাঠ বনজ সম্পদের মূল জায়গা। দলে দলে চাটগাঁর লোক যেমন সেখানে যেত বিয়ে করে ফিরে আসত না তেমনি তারাও আসতেন আমাদের দেশে। সেই সুসম্পর্ক বহুকাল আগের স্মৃতি। এখন পরিবর্তিত বিশ্বে রাজনীতি সবকিছু পাল্টে দিয়েছে।


সিডনিতেও প্রচুর রোহিঙ্গা আছে। মানবতার বাইরে আপনি যদি বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন এরা নৌপথে পালিয়ে আসা এক ধরনের আপদ। আপদ বললাম এই কারণে, মুষ্টিমেয় ক্ছিু ছাড়া বাকিরা না কাজে আগ্রহী না তাদের আছে কোন স্কিল। আমি এখানকার ক্যামপ্সি এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এদের যে ঝগড়া ও মারমুখী মনোভাব দেখেছি তা দেখলে আপনার এই ভাব বা আবেগ উধাও হয়ে যাবে। বলে রাখি, আমাকে শরণার্থী বিরোধী ভাবলে ভুল করবেন। একটি জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূল করার কোন কারণ নেই। তাদের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণের বিরুদ্ধে আমরা। কিন্তু যারা করছে তাদের সঙ্গে লড়াই করার মতো বা তাদের সঙ্গে ঝগড়ায় যাওয়ার মতো জায়গায় নেই বাংলাদেশ।


আপনি বিশ্বরাজনীতি মানবেন না, বৈশ্বিক অবস্থান বুঝবেন নাÑ খালি ধর্মের জিকির তুলে আবেগে বুক ভাসাবেন তাতে কি লাভ হবে? রোহিঙ্গাদের কি সমস্যা বা কেন তারা আজ নির্যাতিত সে আলোচনায় যাব না। কিন্তু কোন দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা যদি আমাদের বুকে এসে লাগে রুখে দাঁড়ানোর বিকল্প কোথায়?


আমার মতে এই সমস্যা জিয়ার আমলে প্রথম শুরু হলেও তারা তার দিকে নজর দেয়নি। মিনি পাকিস্তান বানানোর স্বপ্নে বিভোর নেতারা এসব নিয়ে ভাবতেন না। এরপর এরশাদের সেনাশাসনে ইচ্ছামতো ঢুকে পড়া রোহিঙ্গারা তাদের সেফ হেভেন বানায় আমাদের দেশকে। তখন আমি সে এলাকায় কাজ করতাম। নিজের চোখে দেখেছি টেকনাফ থেকে রামু অবধি বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা ক্যাম্প আর শরণার্থী বসতি। কালক্রমে সেগুলো হয়ে ওঠে মাদক আর অস্ত্রের আখড়া। যারা জানেন তারা বিশ্বাস করেন রামুর সহিংসতায় এদের জড়িত থাকার কথা। শত শত বছর ধরে একসঙ্গে বসবাসরত বাংলাদেশী মুসলমান ও বৌদ্ধরা যা করেনি এরা তাই করে দুনিয়ায় আমাদের কলঙ্কিত করে ফেলেছিল। সেই দাগ মোছার আগেই আবার শুরু হয়েছে শরণার্থীর স্র্রোত। এখন আমরা কি করব? দুনিয়ায় বাংলাদেশ এখন আর আগের ভূমিকায় নেই। তার উন্নয়ন তার অগ্রযাত্রা বহুদেশের জন্য উদাহরণ। তার গায়ে লেগেছে নতুন হাওয়া। এই বদলে যাওয়া দেশের চেহারা প্রতিবেশীদের ভাল লাগার কথা নয়। ভারত ও তাদের নেতারা স্বাভাবিকভাবেই নিজের সমস্যা নিজের স্বার্থের বাইরে পা ফেলবেন না। ঘটনা শুরুর পর পরই নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমারে ছুটে গেছেন। দেখলাম টুইট বার্তায় সেখানকার বাগান নামের শহরে আনন্দ বিরাজিত চেহারায় ছবি দিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তানও নাকি রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে। আমেরিকা বরাবর দ্বৈত। একদিকে বাংলাদেশের পিঠ চাপড়ে বলছে, ভাল কাজ করছে। অন্যদিকে মিয়ানমারের সঙ্গে তার অস্ত্র ব্যবসা আর মদদও চলছে সমানতালে। চীন মিয়ানমারকে ঘাটাবে না। তাহলে বাকি থাকল কে? এই পরিবেশে আপনি বা আপনারা যারা বাংলাদেশের সরকারকে ভয়াবহ বাস্তবতায় ঠেলে দিতে উস্কানি দিচ্ছেন আপনাদের আসলে কোন দেশপ্রেম আছে? সব জায়গায় খালি ধর্ম। আরবে ইয়েমেনে মুসলমানরা মুসলমানদের মারছে, একেকটি আরব দেশ আরেকটি দেশের জন্য টাইমবোম। তখন আপনারা কিছু বলেন না কেন? এখন নিরীহ বাংলাদেশের দায় রোহিঙ্গাদের ভেতরে এনে জামাই আদরে আপ্যায়ন করা? পরিস্থিতি কতটা খারাপ হলে সরকারকে বিবৃতি দিয়ে বলতে হয় বিবাহ করা যাবে না। বিয়ের জন্য বা তাদের বিয়ে করে যারা দেশে রাখতে ইমানী দায়িত্ব পালন করছে তারা কি নিজেদের মেয়ে বা বোনকে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বিয়ে দেবেন? এসব ফালতু বিবৃতির কোন মানে নেই।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাই সামলান সবকিছু। তাঁর সরকারের ওপর মানুষের যেটুকু বিশ্বাস বা আস্থা সেটা তাঁর কারণে অটুট। তাঁকে এই কঠিন সমস্যা মোকাবেলায় সময় দিতে হবে। এখন এটি শাঁখের করাত। রোহিঙ্গাদের ঢোকা বন্ধ বা আশ্রয় না দিলে আম ভোটাররা বিএনপি ও জামায়াতের মদদে আরও বিগড়ে যাবে। আরেকদিকে এদের স্থায়ীভাবে ঢুকতে দেয়া একদিকে যেমন অবৈধ আরেকদিকে আওয়ামী ও প্রগতিশীলতার জন্য আত্মহত্যার নামান্তর। যারা চাটগাঁর লোক তারা খুব ভাল জানেন এদের পথভ্রষ্ট কিশোর-কিশোরী-তরুণরা মাদকে নিমজ্জিত। মাদক-ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। এমনও শুনি আওয়ামী লীগের বহু নামকরা নেতা বা তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা এই ব্যবসার কারণে এদের ঢুকতে দিতে এদের নিয়ে নোংরা রাজনীতি করতে আগ্রহী। টেকনাফের সেই বিখ্যাত ইয়াবা বদি এখন কোথায়? আন্তর্জাতিক রাজনীতি দেশজ রাজনীতি ও উন্নয়ন কোনটাই আসলে আমাদের এই ঢালাও আশ্রয় নীতিকে সমর্থন করে না। সবকিছুর ওপরে পরিণাম। এদের পরিণাম কি? মিয়ানমারকে যারা চেনেন তারা জানেন, এরা ফেরত যেতে পারবে না। তাই যদি হয় এদের ভরণপোষণ ও চাকরি দেবে কে? যারা আবেগে এদের জন্য মিছিল করে সেøাগান দিচ্ছেন ইসলামী সমাজ চাই তাদের কাছে এর উত্তর আছে? পারবেন আপনাদের পরিবারে একজন করে আশ্রয় দিতে? যদি না পারেন কি সমাজ চান আর কি আপনাদের চাওয়া সেটা আসলেই মূল্যহীন। বাংলাদেশের ওপর এক অমানবিক সমস্যা ও দুর্গতি চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। ঢাকা বা দেশের যে এলাকার লোকেরা চোখে দেখতে পান না তাদের আবেগ বা যারা সম্প্রদায়গত পরিচয়ে আকুল হচ্ছেন তাদের বলি একাত্তরে আমি নিজে কলকাতায় শরণার্থীবিরোধী মিছিল দেখেছি যতদিন তারা না জেনেছিল আমরা ফিরে যাব আমাদের ভয়ের চোখে দেখত। আমরা এমন কি মহান আর উদার হলাম যে সব দায় আমাদেরই নিতে হবে?


রোহিঙ্গা সমস্যা যদি এই এলাকায় আরেকটি কাশ্মীর বা ফিলিস্তিন সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে তাতে বাংলাদেশের সঙ্কট আর ভয়াবহ পরিণাম ব্যতীত কিছুই থাকবে না। আজ আওয়ামী লীগ কাল যেই আসুক সরকারে তাদের কাছে এই সমস্যাই হবে বিষফোঁড়া। আপাতত জান বাঁচাতে তাদের আশ্রয় দেয়ার কাজটি করতে হবে। কিন্তু সঙ্গে এও জানা চাই, এর পরিণাম বা শেষ কোথায়? আন্তর্জাতিক ও মানবিক সব সংগঠন সংস্থা আর জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছে যাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশকে এখন শক্ত হতেই হবে। আসলে দেশ ও জনগণের উচিত আগে নিজেদের ভবিষ্যত ও আগামী দিন নিরাপদ রাখা। মানবিকতার প্রশ্নে কারও মায়াকান্না কারও বিরোধিতা বা কারও সমর্থন এতে কিছুই আসে যায় না। সমস্যা যার ঘাড়ে সেই জানে এই বোঝা কত কঠিন।


বাংলাদেশ তুমি মানবিক হওয়ার পাশাপাশি সমস্যা সমাধানে কঠোর হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।


লেখক : সিডনি প্রবাসী কলামিস্ট, দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত

User Comments

  • কলাম