২০ নভেম্বর ২০১৭ ৭:৫৮:২৪
logo
logo banner
HeadLine
দেশে ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত * ৫৭ ছক্কায় ৪৯০ রানের অবিশ্বাস্য রেকর্ড ! * 'রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকারের মৌলিক লঙ্ঘন' * বিরোধিতার রাজনীতি এবং বিএনপি নেত্রীর ভাষণ * আজ থেকে শুরু হচ্ছে পিইসি-সমাপনী পরীক্ষা * এবারের বিশ্বসুন্দরী ভারতের মানুষী চিল্লার * 'বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবো, এটাই হোক আজকের প্রতিজ্ঞা'- প্রধানমন্ত্রী * সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে যাত্রীভোগান্তি কমাতে ৪৭ কোটি টাকার জেটি নির্মাণ কাজের উদ্ভোধন * ১৬২ পোশাক কারখানার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে অ্যালায়েন্স * তারই জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত * ৭ মার্চের ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতি উদযাপনে নাগরিক সমাবেশ আজ, সোহরাওয়ার্দীতে প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা * গতবারের তুলনায় রেমিটেন্স বেড়েছে ৬.৯ শতাংশ * গত অর্থবছরে দেশে খাদ্য উৎপাদন কমেছে সাড়ে ৯ লাখ মেট্রিক টন * নিম্নচাপ কেটে গেছে * বাংলাদেশী মাহমুদা 'নাসা'র বর্ষসেরা উদ্ভাবক * হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর এপিসি খাদে, নিহত ২ * সন্দ্বীপে অপহরনের পর মুক্তিপণ দাবী, পুলিশি আভিযানে অপহৃত উদ্ধার ও এক মহিলাসহ ৪ অপহরণকারী গ্রেফতার * মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কমিটিতে ১৩৫/১০ ভোটে প্রস্তাব পাস * আজ মওলানা ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী * জাতিসংঘের দুর্বলতার কারণ অযৌক্তিক ভেটো * কাজ করছে না অ্যান্টিবায়োটিক, ভয়ানক বিপদে বাংলাদেশের মানুষ * নিন্মচাপের প্রভাবে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার সৃষ্টি, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত * এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেয়া হল মহিউদ্দিন চৌধুরীকে * লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিনত, বৃষ্টি হতে পারে আজও * মাদকবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে - মাশরাফি * খালেদার মানুষ বানানো ও রংপুরের ঘটনা -স্বদেশ রায় * লঘুচাপের প্রভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা * ধুমপানের কারনে দেশে ৮০ লাখ মানুষ সিওপিডি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগে আক্রান্ত * প্রধান বিচারপতি নিয়োগে সময়ের কোন বাধ্যবাধকতা নেই: আইনমন্ত্রী * আজ পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা *
     12,2017 Tuesday at 10:27:36 Share

বর্মী অভিযান বিস্তৃত হল বন্দর শহর আকিয়াবে

বর্মী অভিযান বিস্তৃত হল বন্দর শহর আকিয়াবে

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের তিন জেলা- মংডু, বুচিদং, রাচিদং শহরে জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা, গুম ও বিতাড়নের চূড়ান্ত মিশন শেষ পর্যায়ে এনে এখন বন্দর শহর সিটওয়েতে (সাবেক আকিয়াব) একই কায়দায় নারকীয় তান্ডব শুরু হয়েছে। যাকে ‘অপারেশন সিটওয়ে’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এ বন্দর শহরটিতেও রয়েছে রোহিঙ্গাদের আধিক্য। সোমবার টেকনাফ থেকে সীমান্তের ওপারের বিভিন্ন এলাকায় আগুনের লেলিহান শিখা প্রত্যক্ষ করেছে এপারের লোকজন। আন্তর্জাতিক মহলগুলো নিন্দাবাদ-প্রতিবাদ, অনুনয়-বিনয়, আহ্বান কোন কিছুই মিয়ানমার সরকার আমলে নিচ্ছে না। রাখাইন রাজ্যে আটক হয়েছে এক পাকিস্তানী টিভি সাংবাদিক। রোহিঙ্গাদের বিদ্রোহী সংগঠন ‘আরসা’ এক মাসের জন্য যে অস্ত্রবিরতি ঘোষণা দিয়েছে তা মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অপরদিকে সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ঘটনাকে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলে চেষ্টা বলে অবহিত করা হয়েছে। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে ঢাকা থেকে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকদের কক্সবাজার নেয়া হচ্ছে বুধবার।


এদিকে, সীমান্তের ওপার থেকে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল পেরিয়ে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু দল কেবলই আসছে। রোহিঙ্গা ভারে টেকনাফ থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যন্ত বিপর্যয় সৃষ্টি হয়ে আছে। বিশেষ করে উখিয়া টেকনাফের জনপদ এখন রোহিঙ্গা ভারে একেবারেই জর্জরিত। আবার এর মধ্যে উখিয়া অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।


গত ২৪ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাবিরোধী নিষ্ঠুর ও বর্বর সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের যে ঢল নেমেছে তা যেন থামছেই না। তবে স্থল ও নাফ নদের তুলনায় সমুদ্রপথেই এখন বেশি আসছে। বিভিন্ন ধরনের নৌযানযোগে এরা আসছে। সঙ্গে ভেসে আসছে সারি সারি লাশ। বহু লাশ ইতোমধ্যে পচে-গলে সাগরের পরিবেশকেও দূষিত করে তুলেছে।


আগেই বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকাকে সামরিক অপারেশন জোন ঘোষণা করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে রোহিঙ্গাবিরোধী যে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সোমবার নতুন করে রোহিঙ্গাদের আরও কয়েকটি পাড়া জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা হত্যাও অব্যাহত রয়েছে।


রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা বসতিতে সোমবারও অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে। রবি ও সোমবার সকালে টেকনাফ থেকে পরিষ্কারভাবে আগুনের ওই লেলিহান শিখা দেখা গেছে টেকনাফের এপার থেকে। সকাল থেকে মিয়ানমারের উপকূলীয় এলাকায় ভয়াবহ আগুনের কুন্ডলী ছিল লক্ষণীয়। রাখাইন রাজ্যে এখনও অবস্থানগত রোহিঙ্গাদের দেশ ছাড়তে সামরিক বাহিনী মাইকিং করে আল্টিমেটাম দিয়েছিল আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত। কিন্তু তার আগেই নতুন করে সেনাসদস্যদের দমন-নিপীড়ন শুরু হয়ে গেছে। ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে ঢেঁকিবুনিয়া এবং মংডুর উকিলপাড়া এবং মগনীপাড়ায় নতুন করে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর।


রবিবার বিকেলে ও সোমবার সকালে নতুন করে জ্বালানো শুরু করেছে মসজিদ-মক্তব ছাড়াও সিটওয়ে (সাবেক আকিয়াব) এলাকার রোহিঙ্গাদের বসতি পল্লীতে। সেখানকার নাজিরপাড়া ও চ্যাক্কিপাড়ার বাড়িঘর সোমবার দাউ দাউ করে আগুন জ্বলেছে।


এদিকে, রোহিঙ্গাদের বিদ্রোহী সংগঠন আরসার (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) পক্ষ থেকে গত রবিবার এক মাসের জন্য যে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়েছিল মিয়ানমার সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারি সূত্রে উদ্ধৃতি দিয়ে সেখানকার বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, আরসা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা মিয়ানমারের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। তাদের সঙ্গে কোন ধরনের বৈঠক করবে না মিয়ানমার সরকার। আরসার পক্ষ থেকে অস্ত্রবিরতির যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তা নিয়ে তাতে কোন মাথাব্যথা নেই। অর্থাৎ আরসার ঘোষণাকে মিয়ানমার সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। এ অবস্থায় সোমবার পর্যন্ত আরসার পক্ষ থেকে নতুন করে কোন ঘোষণা মেলেনি। ওপার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা যুবকদের দেখামাত্র গুলি অব্যাহত রয়েছে। শুধু তাই নয় গুলি করে রোহিঙ্গাদের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। রবি ও সোমবার সকাল থেকে রাখাইন আকাশে হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দেখা গেছে সেখানকার পোয়াখালী, নাইচাদং, সিকদারপাড়া, নাইচাপ্রু, হাতিপাড়ায় রোহিঙ্গা বসতিতে নতুন করে আগুন দেয়া হয়েছে। দাউ দাউ করে আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে আরও অসংখ্য বসতি। প্রাণ হারিয়েছে আরও বহু রোহিঙ্গা নর-নারী ও শিশু।


রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের (আরসা) সংগঠনের অস্ত্রবিরতির ঘোষণায় সেনাবাহিনী বা মিয়ানমার সরকারের কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে মিয়ানমারের নেত্রী আউং সান সুচির এক মুখপাত্র গণমাধ্যমকে বলেছেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা করার মতো কোন সিদ্ধান্ত নেই তাদের। মিয়ানমারের দাবি রয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী আরসাকে প্রতিরোধ করতে ক্লিয়ারেন্স অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির নেত্রী আউং সান সুচির নেতৃত্বাধীন সরকার আরসাকে আগেই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।


বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ২২টি পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সদস্যরা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশে সরাসরি বাধা দিচ্ছে না। এ সুযোগে রোহিঙ্গারা দলে দলে এপারে চলে আসছে। এরপরও সীমান্তের জিরো পয়েন্টগুলোতে রোহিঙ্গাদের অপেক্ষমাণ ঢল রয়েছে। অনিশ্চিত অবস্থায় একমাত্র বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ছাড়া তাদের কোন গত্যন্তর নেই। অনেকে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও মিয়ানমারের যৌথ বাহিনীর আক্রমণে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। অধিকাংশ রোহিঙ্গা উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, নতুন গড়ে ওঠা বালুখালী ঢালার মুখ, থাইনখালী হাকিমপাড়া, তেলখোলার তাজনিরমার খোলা, বাঘঘোনা বস্তিতে আশ্রয় গ্রহণ করছে।


গত ২৫ আগস্টের পর এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে বলে বেসরকারী পরিসংখ্যা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এ সংখ্যা তিন লক্ষাধিক বলে স্বীকার করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে এখনও পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট করা যায়নি। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন শুরু হয়েছে। এরপরই সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে বলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের আর বসবাস করার সুযোগ রাখা হবে না। এ লক্ষ্য নিয়ে ক্রমাগতভাবে সামরিক অভিযান বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ অভিযানে ইতোমধ্যে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নর-নারী ও শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অনেকের হয়েছে গণকবর। সুত্রঃজনকন্ঠ

User Comments

  • আন্তর্জাতিক