২৫ এপ্রিল ২০১৮ ৭:০:৫০
logo
logo banner
HeadLine
দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ * গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ খেতাব পাচ্ছেন শেখ হাসিনা * টরেন্টোয় পথচারীদের ওপর গাড়ি চালিয়ে ১০ জনকে হত্যা, সন্দেহভাজন আটক * একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি বেলাল চৌধুরীর আর নেই * ২৬ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী * সন্দ্বীপে পৃথক অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীসহ গ্রেফতার ২ * দেশে ফিরলেন প্রধাণমন্ত্রী * সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যে ৮ দিনের সরকারি সফর শেষে আজ সকালে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী * বিএনপি-জামায়াতের অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী * দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সেঁজুতির চিঠির জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী * আজ বিশ্ব ধরিত্রী দিবস * ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে * রাজাকারের সন্তানদের চাকরিতে অযোগ্য ঘোষণার দাবি * শিশু ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ডের আইন করছে ভারত * সন্দ্বীপে জামাত নেতাসহ ২ পলাতক আসামী গ্রেফতার * হালদায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ, চলছে ডিম আহরণ ও রেণু ফোটানোর প্রক্রিয়া * হাজার হাজার কোটি টাকা রেমিটেন্স হিসেবে বিদেশী কর্মীরা নিয়ে যাচ্ছে * রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিন , রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহারে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী অপরাধীদের বিচার করতে হবে -কমনওয়েলথ * আসছে মাসে এলএনজি পাবেন গ্রাহকরা * কোটা নিয়ে কথকতা! * সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার শেখ হাসিনা * খুলেছে শ্রমবাজার, কর্মী নিয়োগে শীঘ্রই চাহিদাপত্র পাঠাবে আমিরাত * অতিক্রান্ত নববর্ষ ॥ সামনে সতর্কতা * সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে * সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত * এশীয় অঞ্চলের ভবিষ্যতের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীলতা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা * ৮-৪-৪-৪-৪-৮ * আমাদের উন্নয়ন ও স্বাধীনতার শত্রু-মিত্র * ঋণ জালিয়াতির মামলায় ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তার ৬৮ বছরের কারাদণ্ড * মুজিবনগর দিবসের স্মৃতিকথা *
     17,2017 Sunday at 10:17:58 Share

সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ : গুরত্ব ও তাৎপর্য

সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ : গুরত্ব ও তাৎপর্য

মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী : মহান আল্লাহ আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। আমাদের পূর্বে আরো অনেক উম্মত এই পৃথিবীতে ছিলেন, আমরা সর্বশেষ উম্মত। এরপরও আমরা শ্রেষ্ঠ কেননা আমরা সর্বশেষ্ঠ নবীর উম্মত। সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে আমাদের উপর অনেক দায়িত্বও রয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মত করেছেন বেশ কিছু দায়িত্ব দিয়ে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি দায়িত্ব হলো সৎ কাজের আদেশ করা আর অসৎ কাজে নিষেধ করা।


মহান আল্লাহ পবিত্র কালামে পাকে ইরশাদ করেন:


كُنتُم خَيرَ أُمَّةٍ أُخرِجَت لِلنّاسِ تَأمُرونَ بِالمَعروفِ وَتَنهَونَ عَنِ المُنكَر)سورة آل عمران﴾


-তোমরা সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত, যারা সৎকাজের আদেশ করবে, আর অসৎ কাজের নিষেধ করবে। (সূরা আল ইমরান, আয়াত:১১০)


আয়াত হতে বুঝা যাচ্ছে সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করার শর্তে মহান আল্লাহ আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মত বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এর বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। যিনি যে অবস্থানে আছেন সে অবস্থান থেকে তার অধীনস্থদেরকে সৎ কাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজে বাধা দেওয়া অবশ্য কর্তব্য।


আল্লাহ তা’আলা নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিচয় দিতে গিয়ে তাঁকে সৎকাজের আদেশকারী এবং অসৎকাজের নিষেধকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যেমন কুরআনে এসেছেÑ


الَّذينَ يَتَّبِعونَ الرَّ‌سولَ النَّبِىَّ الأُمِّىَّ الَّذى يَجِدونَهُ مَكتوبًا عِندَهُم فِى التَّور‌ىٰةِ وَالإِنجيلِ يَأمُرُ‌هُم بِالمَعر‌وفِ وَيَنهىٰهُم عَنِ المُنكَرِ‌


-সেসমস্ত লোক, যারা আনুগত্য অবলম্বন করে এ রসূলের, যিনি উম্মী নবী, যাঁর সম্পর্কে তারা নিজেদের কাছে রক্ষিত তওরাত ও ইঞ্জিলে লেখা দেখতে পায়, তিনি তাদেরকে নির্দেশ দেন সৎকর্মের, বারণ করেন অসৎকর্ম থেকে (সূরা আ’রাফ: ১৫৭)।


এখন ভালো বা মন্দ কাজ কিসের ভিত্তিতে ঠিক হবে? নিশ্চয়ই এর ভিত্তি হল ইসলাম। ইসলামে যে কাজ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে তাই সৎকাজ আর যা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে তাই অসৎকাজ। যেমন সবচেয়ে নিন্দনিয় গর্হিত কাজ হলো মহান আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা।


হযরত হাসান বসরী (রাঃ) বলেন-


من أمر بالمعروف أو نهى عن المنكر فهو خليفة الله في أرضه وخليفة رسوله وخليفة كتابه


-যারা সৎকাজের আদেশ করে এবং অসৎকাজে নির্দেশ করে তারা জমীনেআল্লাহর প্রতিনিধি।


অসৎকাজে নিষেধ করা বা বাধা দেয়ার ব্যাপারে হাদীসের অনেক বর্ণনা পাওয়া যায়। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত-


قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من رأى منكم منكرا فليغيره بيده ، فإن لم يستطع فبلسانه ، فإن لم يستطع فبقلبه ، وذلك أضعف الإيمان ) رواه مسلم(


-তিনি বলেন আমি রাসূল (সঃ) কে ইরশাদ করতে শুনেছি তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোন মন্দ কাজ দেখে তবে সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা প্রতিহত করে । আর যদি সে তা করতে অসমর্থ হয় তবে মুখ দ্বারা যেন এর প্রতিবাদ করে। এতেও যদি সে সমর্থ না হয় তবে সে যেন তা অন্তর থেকে ঘৃণা করে। আর এটা ঈমানের সর্বনিম্ন ধাপ। (মুসলিম)


এই হাদীস থেকে আমরা এটা বুঝতে পারি যে অসৎ কাজে বাধা দেওয়ার তিনটি ধাপ। যথা-


১. হাত দ্বারা প্রতিহত করা।


২. মুখ দ্বারা প্রতিবাদ করা।


৩. অন্তর দ্বারা ঘৃণা করা।


 


১. হাত দ্বারা প্রতিহত করা:


যদি মন্দ কাজকারীকে হাত দ্বারা প্রতিহত করা সম্ভব হয় তবে তাই করতে হবে। যেমন মহানবী (সা) এর কাছে এক লোক স্বর্ণের আংটি পরিহিত অবস্থায় আসলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাতে তার আংটি টি খুলে ফেলেন।


এ ক্ষেত্রে যিনি এ কাজ করেন তার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির সম্পর্ক ও আস্থার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। কেননা অপরিচিত বা স্বল্প পরিচিত ব্যাক্তি যার সাথে আগে থেকে ভালো জানা শুনা নেই তাকে হাত দ্বারা সংশোধন করতে গেলে অপ্রীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। পিতা মাতা তাঁর সন্তানকে বা শিক্ষক তাঁর ছাত্রের ক্ষেত্রে বা এ জাতীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা করতে পারেন।


২. মুখ দ্বারা প্রতিবাদ করা:


যদি হাত দ্বারা প্রতিহত করা সম্ভব না হয় তাহলে মুখে প্রতিবাদ করা।


৩. অন্তর দ্বারা ঘৃণা করা:


যদি কেউ হাত ও মুখ দ্বারা অন্যায়-অসৎ কাজ প্রতিহত করতে অক্ষম হয় তবে অন্ততপক্ষে সে এ কাজকে মন থেকে ঘৃণা করবে। যদি কেউ মন থেকেও ঘৃণা না করে তবে তার ঈমান নিয়েই সংশয় তৈরী হয়। আর অন্তর থেকে ঘৃণা করাটা দুর্বল ঈমানের লক্ষণ। বর্ণিত আছেÑ আল্লাহ তাআলা বণী ইসরাইলের এক কওমকে ধ্বংসের নির্দেশ দিলে জিবরীলে আমীন বললেন, হে আল্লাহ তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছে যে এক মুহূর্তের জন্য আপনার অবাধ্য হয় নি। আল্লাহ তাআলা বললেন,


فقال : اقلبها عليه وعليهم فإن وجهه لم يتمعر في ساعة قط


-তাকে দিয়ে শুরু করো, কেননা (আমার অবাধ্যতার কারণে) তার চেহারার কখনো কোনো পরিবর্তন হয়নি।


সৎকাজের আদেশ করা সকল মুমিনের উপর অবশ্য কর্তব্য। আমরা সকলে জনি যে শিশু এবং পাগল শরীয়তের সকল হুকুমের বাইরে। অর্থাৎ তাদের কোন আমলনামা নাই। অথচ সেই শিশু বা পাগলকেও যদি কেউ কোন মন্দ কাজ করতে দেখে তবে তাকে বাধা দিতে হবে। এটাই শরীয়তের বিধান। আমরা এর মাধ্যমে অসৎকাজ থেকে বাধা দেওয়ার গুরুত্বের তীব্রতা অনুধাবন করতে পারি।


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসে ইরশাদ করেন:


عن أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم -أفضل الجهاد كلمة عدل عند سلطان جائر). أورد أبو داود(


-হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলাই সর্বোত্তম জিহাদ। (আবু দাউদ)


এখন বর্তমান সময়ে শাসক শ্রেণীর বিপক্ষে কিছু বলতে গেলে তো প্রাণের ভয়ও থাকে। তাহলে আপনি কী করবেন? এ বিষয়ে হযরত হাসান বসরী (রা.) এর অভিমত হলো আমাদের ততক্ষণ পর্যন্ত সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ করা উচিত যতক্ষণ না প্রাণ হারানোর ভয় থাকে। সাঈদ ইবনে জুবায়ের হযরত ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করেছিলেনÑ


آمر السلطان بالمعروف وأنهاه عن المنكر؟ قال : إن خفت أن يقتلك فلا


-আমি কি কোনো শাসককে সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধ করবো? তিনি বললেন, যদি তোমাকে সে হত্যা করার সম্ভাবনা থাকে তাহলে তুমি তা করবে না।


যখনই প্রাণের শংকা থাকে তখনই অসৎ কাজটিকে অন্তর থেকে ঘৃণা করার ব্যাপারটি সামনে আসে। কোন মানুষের যদি সবার সাথেই ভালো সম্পর্ক থাকে, কোন কিছুতেই বিকার না থাকে, মন্দ কাজ হতে দেখলে অন্তত চেহারা মলিন না হয় তবে বুঝতে হবে যে তার মাঝে ঈমানী চেতনার অভাব রয়েছে। সকলের সাথে ভালো সম্পর্ক না রেখে আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যই কারোর সাথে বিরোধিতা রাখাই পকৃত ঈমানদারের লক্ষণ।


পিতা-মাতা কোন গর্হিত কাজ করলে তাদেরকে সৎ উপদেশ দেয়া যাবে। তবে এক্ষেত্রে আদব রক্ষা করতে হবে। হযরত হাসান বসরী (রা.) কে একজন প্রশ্ন করলেনÑ


يا أبا سعيد الرجل يأمر والديه بالمعروف وينهاهما عن المنكر قال يأمرهما إن قبلا ، وإن كرها سكت عنهما


-হে আবূ সাঈদ কোনো ব্যক্তি কি তার পিতা-মাতাকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করতে পারবে? তিনি বলেন- তারা যদি কবূল করেন তবে তা করবে না হলে নীরব থাকবে।


আমরা এটা বুঝতে পারলাম যে সৎকাজের আদেশ আর অসৎ কাজের নিষেধ আমাদের অবশ্য কর্তব্য। আমরা আমাদের অধীনস্থদের এবং অন্য মুসলমান ভাইদেরকেও সৎকাজের আদেশ দিব অসৎ কাজে বাধা দিব। তবে এক্ষেত্রে আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে এই সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করতে হলে আমাদের মাঝে ৪টি গুণ থাকা আবশ্যক-


১. নিয়তের বিশুদ্ধতা:


সৎকাজের আদেশ বা অসৎ কাজের নিষেধকারীর নিয়ত শুদ্ধ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৎকাজের আদেশ আর অসৎ কাজের নিষেধ যেন হয় আমার ভাইকে সংশোধন করার উদ্দেশ্যে, তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে নয়। আমরা কাউকে যদি কোন ভুল ধরিয়ে দিতে চাই তার কল্যাণের জন্য তাহলে আমরা অবশ্যই তাকে তার ভুলের ব্যপারে তার সাথে ব্যাক্তিগত ভাবে কথা বলব তাকে মানুষের সামনে বিব্রত করব না। আর কেউ যদি তার ভাইকে জন সম্মুখে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে সৎকাজের আদেশ করতে থাকে তবে তা হবে খুব গর্হিত কাজ। উম্মে দারদা (রা.) বলেনÑ من وعظ أخاه سرا فقد زانه ، ومن وعظه علانية فقد شانه


-যে তার ভাইকে গোপনে নসীহত করে সে তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করলো, আর যে প্রকাশ্যে নসীহত করে সে তাকে লজ্জিত করলো।


২. জ্ঞান:


যে বিষয়ে আদেশ বা নিষেধ দেওয়া হবে সে সম্পর্কে আদেশ বা নিষেধকারীর পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকা আবশ্যক। না জেনে না বুঝে কেবল নিজের মন থেকে কিছু বলে কাউকে সৎকাজের আদেশ বা অসৎকাজে নিষেধ করতে গেলে অনেক সময় বিপরীত ফলাফল আসতে পারে। যেমন শরীয়ত নির্ধারিত ও সর্বজনবিদিত গর্হিত কাজে বাধা যে কেউ দিতে পারে। তবে যে বিষয়ে আলেমদের মাঝে ইখতিলাফ রয়েছে সে ব্যাপারে কথা বলতে সতর্ক থাকতে হবে। যেমন বিভিন্ন মাসআলায় ইমামদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। সকলের পক্ষে দলীলও রয়েছে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। এখন ফিকহী কোন ভিন্নমতের কারণে প্রতিবাদ-প্রতিকার বা ঘৃণা থাকতে পারেনা। কেননা দুটি মতের কোনটিই মুন্কার (অন্যায্য) নয়। যেমন আমাদের সমাজে ইমামের পিছনে ক্বিরাত পড়া বা আমীন উচু স্বুের বলা নিয়ে অনেকেই ফিতনা সৃষ্টির করে আবার এটিকে উত্তমও মনে করে। আমরা বলতে পারি শরীয়ত সম্পর্কে অল্প জানে এমন কোন লোক যদি এসে বড় কোন আলেম বা কোন মাযহাবের ভুল ধরতে থাকে তবে তা নিশ্চিত ভাবেই সৎকাজের আদেশ না হয়ে গুমরাহী হবে।


৩. নম্রতা ও দয়া:


ভালো কাজের আদেশ আর মন্দ কাজের নিষেধ এর উদ্দেশ্যই হলো মানুষকে ভালোর দিকে আহবান করা। এজন্য যাকে ভালোর দিকে আহ্বান করা হচ্ছে তার সাথে ন¤্র ভাবে কথা বলা এবং তার প্রতি দয়া প্রদর্শন করতে হবে। একথা আমরা সবাই জানি যে কোন কিছু কাউকে রূঢ়ভাবে বললে অথবা চাপিয়ে দিলে তা থেকে ভালো ফলাফল আশা করা খুব অযৌক্তিক। সুতরাং আমাদেরকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে যে কাকে কিভাবে বললে সে কাজটি করবে অথবা ছেড়ে দিবে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। আমরা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আমল থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা পাই।একবার হযরত ওমর (রা.) কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- ‘হে ওমর! তুমি তো খুব শক্তিশালী মানুষ।’ একথা শুনে হযরত ওমর (রা.) অনেক খুশি হয়ে গেলেন। আর তখনই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন –- ‘ভীড়ের সময় তুমি হাজারে আসওয়াদ এর পাশে যেয়ো না কারণ তোমার শক্তির কারণে মানুষ বঞ্চিত হবে।’ আমরা সবাই জানি যে সাহবী (রা)গন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সর্বো”্চ শ্রদ্ধা করতেন আর তাঁর আদেশ সব সময় দ্বীধাহীন চিত্তে মেনে নিতেন। তার পরও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে শক্তিশালী বলে খুশি করেছেন যেন তাঁর পরবর্তি কথায় ওমর (রা.) এর মন খারাপ হয়ে না যায়।


হাদীস শরীফে এসেছে-


عن معاذ بن جبل رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أخذ بيده وقال : يامعاذ! والله إني لأحبك، أوصيك يا معاذ لا تدَعَنَّ في دبر كل صلاة تقول: اللهم أعني على ذكرك وشكرك وحسن عبادتك) رواه أبو داود(


-হযরত মুয়ায ইবন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা তাঁর (বর্ণনাকারীর) হাত ধরলেন আর বললেন- হে মুয়ায! আল্লাহর শপথ আমি তোমাকে ভালোবসি। আমি তোমাকে ওসীয়ত করছি যে তুমি সকল নামাযের পর (এই দোআ পড়া) ছাড়বেনা- : اللهم أعني على ذكرك وشكرك وحسن عبادتك ’হে আল্লাহ আমার যিকির, শুকুর ও ইবাদত সুন্দরভাবে করার জন্য আপনি আমাকে সাহায্য করুন।’


৪. বিপদে ধৈর্য ধারণ :


মানুষকে সৎকাজে আদেশ দিতে গেলে কিংবা অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকতে বললে অনেক সময় বিপদ এর সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং বিপদ আসতে পারে একথা মাথায় রেখে বিপদে ধৈর্য ধারণ করার মানসিকতা সৎকাজের আদেশকারীর থাকতে হবে। হযরত লোকমান (আঃ) তাঁর সন্তান কে ধৈর্যধারন করার উপদেশ দিয়েছিলেন তা পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে


يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الأُمُور. (سورة لقمان(


-হে আমার বৎস! নাামজ কায়েম কর, সৎকাজের আদেশ কর অসৎ কাজের নিষেধ কর, বিপদে ধৈর্য ধারন কর। নিশ্চয়ই এটা সাহসিকতার কাজ। (সূরা লুকমান, আয়াত- ১৭)


পরিপূর্ণ আমলকারী না হলেও সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করতে অসুবিধা নেই। কেননা এরূপ হলে সৎকাজের আদেশ এর কাজ এক হয়ে যাওয়ার আশংকা বিদ্যমান। তাইতো নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনÑ


مروا بالمعروف وإن لم تعملوا به كله ، وانهوا عن المنكر وإن لم تناهوا عنه كله


তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও যদিও তোমরা এর উপর পরিপূর্ণ আমল না কর, অসৎ কাজে বাধা দাও যদিও তোমরা তা পরিপূর্ণ ভাবে ত্যাগ না কর।


তদুপোরি সৎকাজের আদেশ আর অসৎ কাজের নিষেধদাতার আরো কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরী-


হযরত হাসান বসরী (রা.) বলেনÑ


إذا كنت ممن يأمر بالمعروف فكن من آخذ الناس به وإلا هلكت ، وإذا كنت ممن ينهى عن المنكر فكن من أترك الناس له وإلا هلكت.


-তুমি যখন সৎকাজের আদেশ করবে তুমি সে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আমলকারী হও, না হলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যখন তুমি অসৎ কাজের নিষেধকারী করতে চাও তখন তুমি সবচেয়ে বেশি সে বিষয়ের ত্যাগকারী হও না হলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।


যায়দ ইবন আসলাম (রা.) বলেন, আল্লাহর কাছে পানাহ চাই যে আমরা মানুষকে পূণ্যের আদেশ দিব আর নিজেকে ভুলে যাব। অত:পর তিনি তিলাওয়াত করেন- أتأمرون الناس بالبر وتنسون أنفسكم


- তোমরা কি মানুষকে সৎর্কমরে নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভূলে যাও (সূরা বাকারা: ৪৪)


 


সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ ত্যাগ করার পরিণতি:


কোন জাতির মাঝে যদি একটি দল না থাকে যারা সৎকাজের আদেশ দিবে অসৎ কাজে নিষেধ করবে তবে সে জাতির জন্য বিপর্যয় অতি নিকটবর্তী। কোন জাতি যদি পাপাচারে নিমজ্জিত হয়ে যায় তবে তাদের জন্য ধ্বংস নেমে আসে। তখন যারা পাপাচারে লিপ্ত

User Comments

  • ধর্ম ও নৈতিকতা