২১ জানুয়ারি ২০১৮ ২০:৩৮:২৭
logo
logo banner
HeadLine
অ্যাজমা বা হাঁপানি : কেন হয়? লক্ষন ও চিকিৎসা * শেষ হল ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা * নব্য সুশীলদের অযাচিত বিরোধিতা বনাম উন্নয়নের রাজনীতি * স্বপ্ন পূরণ করেন শেখ হাসিনা * সক্ষমতা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে না, বর্তমান প্রবৃদ্ধি ৭.২৮ শতাংশ * অনিয়ম, প্রতারণা, জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে ৭ হজ এজেন্সীকে মন্ত্রাণালয়ে তলব * গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে গান বাজানোর প্রতিবাদ করায় প্রতিবেশী বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা * পণ্যের গুণগতমান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতির আহবান * জেনে-বুঝে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করুন : অর্থমন্ত্রী * মার্কিন সিনেটে বাজেট বিল ব্যর্থ হওয়ায় সরকার কার্যক্রম অচল * পদ্মা সেতুর মূল কাজের অগ্রগতি ৫৬ শতাংশ * একবার রক্ত পরীক্ষায় শনাক্ত হবে সব ধরনের ক্যান্সার * চট্টগ্রামেও সক্রিয় একাধিক কিশোর গ্যাং * বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা * ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা লড়াই আজ * বিশ্ব এজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু * রেলের টিকিটে যাত্রীর নাম লিখার সুপারিশ * আমার সাহস ও কাজ বিএনপির কাছে বড় সমস্যা * বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল * ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচন স্থগিত * আওয়ামী লীগ: ২০১৮'র বাস্তবতা বুঝতে পারছে কি? * সংসদীয় আসনপ্রতি ১০ মাধ্যমিক স্কুলের উন্নয়নসহ ১৮ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকার ১৪ প্রকপ্ল একনেকে অনুমোদন * রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল * জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জননেত্রী শেখ হাসিনা * শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি আস্থা কেন? * ২০১৮ সাল ॥ নির্বাচনের বছর * কাদের জন্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড? * ২৩ জানুয়ারী থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু * বিএনপি কেন বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনে আসবে? * জয় দিয়ে বছর শুরু করল টাইগাররা *
     08,2018 Monday at 09:50:13 Share

আবারও আরসা হামলা, প্রত্যাবাসন প্রশ্নে ধোঁয়াশা

আবারও আরসা হামলা, প্রত্যাবাসন প্রশ্নে ধোঁয়াশা

প্রত্যাবাসনে চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যানবাহনের ওপর আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার পর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে অধিকার আদায়ের নামে সক্রিয় থাকা সংগঠনগুলো প্রকৃতপক্ষে রোহিঙ্গা সমস্যার সুরাহা চায় কিনা। সমস্যা জিইয়ে রেখে এই সংগঠনটির নেতারা নিজেদের স্বার্থরক্ষায় তৎপর কিনা সে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। কেননা, নতুন করে এ হামলায় আবারও রাখাইন প্রদেশে সেনা নির্যাতনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। যদি তাই হয়, তাহলে শুধু প্রত্যাবাসনে অনিশ্চয়তাই নয়, বাংলাদেশ অভিমুখে অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের স্রোতও সৃষ্টি হতে পারে। এদিকে, রোহিঙ্গা সংগঠন আরসা’র নেতা আতাউল্লাহ টুইটারে হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন, এটি তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। এমন হামলা আরও চালানো হবে।


বিবিসি জানিয়েছে, টুইটারে হামলার দায় স্বীকার করা আতাউল্লাহ বলেছে, মিয়ানমার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছাড়া তাদের সামনে আর কোন পথ খোলা নেই। এ যুদ্ধ রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আদায়ের যুদ্ধ। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে এ ধরনের হামলা পুরো পরিকল্পনাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিতে পারে, এমনই আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার সেনাদের নির্যাতনের মুখে অধিকাংশ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসার পর রাখাইনে তাদের শক্তি কমে গেলেও কিছু সন্ত্রাসী যে রয়ে গেছে সেটিই প্রমাণ করে এ হামলা। এমন অবস্থায় মিয়ানমারে যদি ফের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান শুরু হয় তাহলে আবারও রোহিঙ্গার চাপ আসতে পারে বাংলাদেশ সীমান্তে।


এদিকে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে এ ধরনের হামলা উদ্দেশ্যমূলকও হতে পারে, এমন বিশ্লেষণও উঠে আসছে। প্রশ্ন উঠেছে, রোহিঙ্গাদের কিছু উগ্রবাদী সংগঠনের নেতারা আসলেই সমস্যার সমাধান চায় কিনা। কেননা, আরসাসহ সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের কেউই মিয়ানমারে থাকে না। তারা অবস্থান করে পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে। একটি ঘটনা ঘটাতে পারলেই রোহিঙ্গাদের সাহায্য, সহানুভূতি এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সহযোগিতার নামে এ নেতাদের হাতে বিভিন্ন উৎস থেকে চলে আসে বিপুল পরিমাণ অর্থ। অধিকাংশ রোহিঙ্গা অত্যন্ত দরিদ্র এবং অসহায় হলেও নেতাদের অবস্থা তেমন নয়। সে কারণেই তারা চায় না, শান্তিপূর্ণ কোন সমাধান হোক। এর আগে জাতিসংঘের গঠিত আনান কমিশনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক একটি রিপোর্ট পেশের ছয় ঘণ্টার মধ্যেই মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে ৩০টি পুলিশ ও সেনা পোস্টের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই হামলারও দায় স্বীকার করে নিয়েছিল এই আরসা।


গত বছরের ২৫ আগস্ট গভীর রাতে আরসা রাখাইনের উত্তরাংশে আইন শৃংখলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ৩০টি স্থাপনায় চোরাগুপ্তা হামলা চালায়। এতে ১৪ জন সরকারি বাহিনীর সদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় ৪শ’ জনের মতো আরসা সন্ত্রাসী নিহত হয় বলে মিয়ানমার দাবি করেছে। এ ঘটনার পর থেকে আরসা অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে আড়ালে চলে যায়। ঘটনার পর মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর যৌথ নির্যাতনে অসংখ্য নিরীহ, বেসামরিক রোহিঙ্গা হতাহত হয়। ধর্ষিত হয় শত শত রোহিঙ্গা নারী। জ্বালিয়ে ছারখার করা হয় ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা গ্রাম। রাখাইনে দুস্থ নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ ৫৭ হাজার রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, সেক্রেটারি নুর মোহাম্মদ সিকদার, পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরীসহ স্থানীয় সচেতন মহল ও রোহিঙ্গাদের একটি পক্ষ বলছে অন্য কথা। তাদের মতে– রোহিঙ্গা চরমপন্থী আরসার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর নতুন করে হামলার ঘটনা একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও নাটকীয়তার অংশমাত্র। কারণ গুলতি, দা, কুড়াল, কাটা বন্দুক দিয়ে একটি দেশের নিয়মিত সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধের ঘোষণা সম্পূর্ণ অমূলক ও কাল্পনিক। তাছাড়া আরসার সাথে অধিকাংশ রোহিঙ্গার তেমন কোন সম্পর্কও নেই। এরা সাধারণ রোহিঙ্গা থেকে বিচ্ছিন্ন। অধিকাংশ রোহিঙ্গা আরসা সদস্যদের চেনে না। এছাড়াও মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সেনাবাহিনীর সাথে নিয়মিত সম্মুখ লড়াইয়ে টিকে থাকার মত শক্তি, সামর্থ কোনটাই তাদের রয়েছে বলে জানা নেই। ফলে গত শুক্রবার রাখাইনের সেনাবাহিনীর ওপর কথিত অতর্কিত হামলার ঘটনার সাথে আরো অন্য পক্ষ জড়িত থাকতে পারে বলে মিয়ানমার গণমাধ্যম জানিয়েছে। কারণ রাখাইনে মংডু জেলার শহর থেকে অন্তত ৩০ কিলোমিটার উত্তরে পাহাড় ঘেরা কেয়ান চং গ্রামের পাশে সড়কের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। যেটির অবস্থান ছিল একটি আরাকানিজ গ্রামের পাশে। বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, আরসার পক্ষ থেকে হামলার ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। রাখাইনে সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারার কারণে ঘটনার নিরপেক্ষ কোন বর্ণনাও পাওয়া যাচ্ছে না। তবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে, একদল সশস্ত্র জঙ্গি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রোগীদের বহনকারী সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে হামলা চালায়। এতে দু’জন সৈন্য এবং একজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়। মিয়ানমার সরকারের তরফ থেকে এদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও দেশটির সেনাবাহিনী তাদেরকে আরসা বলে উল্লেখ করেছে। কোন কোন সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে, সেখানে বোমা হামলাও হয়েছে। আবার কোথাও বলা হয়েছে সেনাবাহিনীর গাড়িটি ল্যান্ড মাইনের উপর পড়ে গেলে বোমাটি বিস্ফোরিত হয় এবং তখন একদল সশস্ত্র জঙ্গি তাদের উপর হামলা চালায়। গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে মংডু, বুচিডং এলাকায় আরাকান আর্মির সাথে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একাধিক লড়াইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত ঘটনাবলীর সাথে আরসা ও আরাকান আর্মির মধ্যে যোগসাজশ থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠছে। এছাড়াও রোহিঙ্গা চরমপন্থী আরসার সাথে আরএসও, এআরএনও, আরআইইএফসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের মাধ্যমে অন্যান্য ইসলামিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সাথে গোপন সম্পর্ক রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেলেও আরসা বরাবরের মত সে অভিযোগ অস্বীকার করে যাচ্ছে। উক্ত সচেতন মহলের মতে যখন বাংলাদেশ ও মিয়ানমার পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যার্পনের ব্যাপারে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছতে যাচ্ছে ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আরসা সন্ত্রাসীদের দিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর হামলার নাটক রচনা করা হয়েছে। তারা জানান, রোহিঙ্গাদের সেবায় নিয়োজিত এসব মহল শুরু থেকেই বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা ফেরতের উদ্যোগ বানচালের অদৃশ্য ষড়যন্ত্র করে আসছে। সরকারের বিভিন্ন ফোরামে এ ধরনের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ফেরতের ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে সম্মতি, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন ও কার্যকর কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য আগামী ১৫ জানুয়ারি মিয়ানমারে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পূর্বে এধরনের হামলার ঘটনা কি বুঝাতে চায় তা সহজে অনুমান করা যায়।


এদিকে মিয়ানমার অভ্যন্তরে মংডুতে দেশটির সেনাবাহিনীর গাড়িতে সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের হামলার ঘটনার জের ধরে ফের রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের স্রোত আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে মংডু শহরের অদূরে স্থল মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় ৫ সেনা সদস্য গুরুতর জখম হয়েছে। নৌবাহিনীর সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেছে এক সন্ত্রাসী রোহিঙ্গা যুবককে। মিয়ানমার প্রশাসনের ভাষ্য হচ্ছে, আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) সেনা গাড়ি চলাচলের পথে মাইন পুঁতে রেখেছিল। সেনারা আহত হওয়ার পর পাহাড়ের কাছাকাছি অবস্থান করে গাড়িতে হামলা করেছে আরসা ক্যাডাররা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিয়ানমার থেকে হাজারও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য মংডু দংখালী সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। শনি ও রবিবার ভোরে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ ঘোলা পাড়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। এদিন ৫২ জন রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উত্তর রাখাইনে সেনাবাহিনীর গাড়িতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হামলে পড়ার পেছনে কারণ হিসেবে রোহিঙ্গা ফেরত প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা বলে মন্তব্য করেছেন সীমান্তের অধিবাসীরা।


আগামী ১৫ জানুয়ারি রোহিঙ্গা ফেরতের বিষয় নিয়ে দু’ দেশের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের কথা রয়েছে। রোহিঙ্গা ফেরতের বিষয়ে মিয়ানমার রাজি হওয়ার বিষয় নিয়ে চরম নাখোশ আরাকান বিদ্রোহীরা। সীমান্ত এলাকায় ও বিভিন্ন স্থানে ঘাপটি মেরে থাকা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের (আরএসও) সদস্যরা তা বানচাল করতে পরিকল্পিতভাবে মিয়ানমারে ওই হামলার ঘটনা ঘটিয়ে দেশটির প্রশাসনকে রাগান্বিত করে তুলছে বলে সীমান্তের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গার অনেকে পালিয়ে আসতে জড়ো হচ্ছে বলে জানা গেছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, শাহপরীর দ্বীপ পয়েন্ট দিয়ে শনিবার ১৬ পরিবারে ৫২ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। বাংলাদেশ কোস্টগার্ড তাদের আটক করে টেকনাফ সাবরাং হারিয়াখালী সেনা বাহিনীর ত্রাণকেন্দ্রে নিয়ে যায়। অনুপ্রবেশকারী প্রতিটি পরিবারকে চাল, ডাল, সুজি, চিনি, তেল, লবণসহ ত্রাণ সহায়তা দিয়ে গাড়িযোগে টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে।


মিয়ানমারে হামলা চালিয়ে দুই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নাফ নদী হয়ে নৌকাযোগে পালিয়ে যাওয়ার সময় মিয়ানমার নৌবাহিনী তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে মারা যায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী।


মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়ার বিষয়ে উখিয়ার বালুখালী ও কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে চারদিন ধরে মফিজুর রহমান নামে ভয়ঙ্কর এক রোহিঙ্গা জঙ্গী বৈঠকে উপস্থিত থেকে সাধারণ রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে না যাওয়ার প্ররোচনা দিচ্ছে বলে জানা গেছে।


উল্লেখ্য, আগামী ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ থেকে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া যাতে কেউ বানচাল করতে না পারে সে ব্যাপারে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে দেশি–বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে উক্ত সচেতন মহলটি।

User Comments

  • আন্তর্জাতিক