২৫ এপ্রিল ২০১৮ ৭:৪:৩১
logo
logo banner
HeadLine
দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ * গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ খেতাব পাচ্ছেন শেখ হাসিনা * টরেন্টোয় পথচারীদের ওপর গাড়ি চালিয়ে ১০ জনকে হত্যা, সন্দেহভাজন আটক * একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি বেলাল চৌধুরীর আর নেই * ২৬ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী * সন্দ্বীপে পৃথক অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীসহ গ্রেফতার ২ * দেশে ফিরলেন প্রধাণমন্ত্রী * সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যে ৮ দিনের সরকারি সফর শেষে আজ সকালে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী * বিএনপি-জামায়াতের অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী * দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সেঁজুতির চিঠির জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী * আজ বিশ্ব ধরিত্রী দিবস * ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে * রাজাকারের সন্তানদের চাকরিতে অযোগ্য ঘোষণার দাবি * শিশু ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ডের আইন করছে ভারত * সন্দ্বীপে জামাত নেতাসহ ২ পলাতক আসামী গ্রেফতার * হালদায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ, চলছে ডিম আহরণ ও রেণু ফোটানোর প্রক্রিয়া * হাজার হাজার কোটি টাকা রেমিটেন্স হিসেবে বিদেশী কর্মীরা নিয়ে যাচ্ছে * রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিন , রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহারে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী অপরাধীদের বিচার করতে হবে -কমনওয়েলথ * আসছে মাসে এলএনজি পাবেন গ্রাহকরা * কোটা নিয়ে কথকতা! * সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার শেখ হাসিনা * খুলেছে শ্রমবাজার, কর্মী নিয়োগে শীঘ্রই চাহিদাপত্র পাঠাবে আমিরাত * অতিক্রান্ত নববর্ষ ॥ সামনে সতর্কতা * সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে * সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত * এশীয় অঞ্চলের ভবিষ্যতের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীলতা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা * ৮-৪-৪-৪-৪-৮ * আমাদের উন্নয়ন ও স্বাধীনতার শত্রু-মিত্র * ঋণ জালিয়াতির মামলায় ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তার ৬৮ বছরের কারাদণ্ড * মুজিবনগর দিবসের স্মৃতিকথা *
     03,2018 Saturday at 07:46:03 Share

দুর্নীতির দান কবুল হবে?

দুর্নীতির দান কবুল হবে?

দুর্নীতি মানুষের সহজাত কুপ্রবৃত্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য এই ছয়টি রিপু মানুষকে দুর্নীতির দিকে ধাবিত করে এবং মানবজীবনে অন্যায় অত্যাচার, পাপাচার, ব্যভিচার, নির্মমতা, পাশবিকতা, ধন-সম্পদের লোভ-লালসা, আত্মসাৎ প্রবণতা, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ড, সুদ, ঘুষ, হিংসা-বিদ্বেষ, অনৈক্য ইত্যাদি উদ্ভব ঘটায়। দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে ক্ষমতা বা সুযোগের অপব্যবহার। ক্ষমতার সঙ্গে দুর্নীতির ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে। এ ক্ষমতা হতে পারে ব্যক্তি পর্যায়ে, পারিবারিক পর্যায়ে, সামাজিক পর্যায়ে, রাজনৈতিক পর্যায়ে ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, এমনকি আর্থিকও। যাদের হাতে ক্ষমতা আছে তারা সকলে দুর্নীতি করে, তা বলা না গেলেও তবে যারা দুর্নীতি করে, তারা কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতাকে ব্যবহার করে থাকে।


দুর্নীতি মানবজীবনের জন্য একটি অন্তহীন সমস্যা। এর ক্ষতির পরিমাণ ও পরিধি এতো ব্যাপক যে, এর কালো থাবা থেকে কেউ রেহাই পায় না। দুর্নীতি একটি সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন, সুস্থ ও সহনশীল রাজনৈতিক বিশ্বাস ও স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। দুর্নীতি মানবজীবনে একটি প্রাচীন সমস্যা। দুর্নীতি দারিদ্র্য ও সবধরনের অবিচার বাড়ায়। দুর্নীতি মানুষের মানুষে বৈষম্য সৃষ্টি করে। এর ফলে মানুষ তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। দুর্নীতি সমাজে অপরাধ প্রবণতা ও মানুষে অসন্তুষ্টি বৃদ্ধি করে। দুর্নীতি সমাজ বিকাশের ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেয়, এগুলোকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে দেয় না।


দুর্নীতির কালো থাবা থেকে তারাই পরিত্রাণ পেয়েছেন, যারা রাসুলের প্রবর্তিত নীতি ও নৈতিকতার আদর্শ অনুসরণ করেছেন। সুতরাং কোনো দেশ ও জাতীকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হলে মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধের স্ফূরণ ঘটাতে হবে। নবী-রাসুলগণ নীতি-নৈতিকতার যে শিক্ষা দিয়েছেন তার প্রচার ও প্রসার ঘটাতে হবে। কোনো নবী-রাসুল মানুষকে দুর্নীতি ও অনৈতিকতা শিক্ষা দেন নি। সপ্তম শতকে সারা বিশ্ব যখন জাহিলিয়াতের নিকষ কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত, পাশবিকতায় যখন সাড়া বিশ্ব আচ্ছন্ন, তখন ইসলামের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরব উপদ্বীপের পথভ্রষ্ট মরুচারী বেদুঈন সমাজে নীতি-নৈতিকতা ও সততার যে খিলাফত কায়েম করেন তার উদাহরণ পৃথিবী আর দ্বিতীয় প্রত্যক্ষ করেনি। খিলাফতের কোথাও দুর্বৃত্ত ও দুরাচারের এতটুকুও অবিশিষ্ট ছিল না। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিলো অলঙ্ঘনীয়। মানুষ ছিল মানুষের জন্য। কোথাও ছিল না শোষণ নির্যাতনের লেশমাত্র। দুর্নীতি, এ কোনো নতুন কিংবা দরিদ্র দেশের সমস্যা নয়। সমগ্র মানবজাতির জন্যই এটি একটি কঠিন সমস্যা। পৃথিবীর সব দেশেই দুর্নীতি কম-বেশি আছে। সমূলে দুর্নীতি উচ্ছেদ করা হয়তো সম্ভব নয়, কিন্তু সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা কোনো কঠিন কাজ নয়। দরকার সদিচ্ছার।


 


আধুনিক রাষ্ট্রে জাতীয় সংসদ জনগণের পক্ষ হয়ে সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা করার দায়িত্ব পালন করে। এই সংসদ যদি দুর্নীতি আর কালো টাকার প্রভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে কখনই দুর্নীতিকেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভার হবে না। তাই যেসব দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ গঠিত, সেসব দেশের নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে কালো টাকা ও দুর্নীতির প্রভাব দূর করা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। তারও আগে দরকার জনগণকে শিক্ষিত ও সচেতন করে তোলা। শিক্ষিত, সচেতন ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বলীয়ান নাগরিকরাই কেবল পারে দুর্নীতিকে ‘না’ বলতে। দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রে ‘না’ বলতে হলে সে দেশের সংসদ, বিচার বিভাগ ও জনপ্রশাসনের সাথে সাথে ব্যবসায়ী সমাজ ও বড় বড় কোম্পানিগুলোকেও দুর্নীতিকে না বলতে হবে। ব্যবসায়ীরা দুর্নীতিকে ‘না’ বললে অন্যদের ‘হ্যাঁ’ বলার সুযোগ থাকে না। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকেই দুর্নীতি পরিপুষ্ট লাভ করে থাকে।


দুর্নীতি দ্বারা যা অর্জন করা হয়, চাই তা অর্থ-বিত্ত হোক কিংবা মানমর্যাদা হোক অথবা ক্ষমতা হোক, ইসলামে সম্পূর্ণরূপে হারাম। ইসলাম যেমন মন্দ ও দুর্নীতিকে নিষিদ্ধ করেছে, তেমনি মন্দ বা দুর্নীতি দ্বারা প্রাপ্ত সম্পদ ভোগ করাও নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।


মহান রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিছু অংশ জেনে-শুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের কাছে পেশ করো না।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৮)।


হজরত আনাস (রা.) থেকে  বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে গ্রামের উৎপাদিত পণ্য এককভাবে খরিদ করে নিয়ে শহুরেদের কাছে বিক্রয় অবৈধ সিন্ডিকেট বা ব্যবসায়িক দুষ্টু চক্র ব্যবস্থা তৈরি করতে নিষেধ করা হয়েছে।’ (বুখারি :  ২১৬১)।


অপর এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘কোনো শহরবাসী এককভাবে অবৈধ সিন্ডিকেট বা ব্যবসায়িক দুষ্টু চক্র করে গ্রামবাসীর পণ্য বিক্রি করবে না। মানুষকে ছাড় দাও; যাতে তারা একে অপরের মধ্যে স্বাধীন লেনদেন করে রিজিক হাসিল করতে পারে।’ (তিরমিজি : ১২২৩)।


কেউ যদি মনে করে থাকে যে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ থেকে দান খয়রাত কিংবা মসজিদ বানিয়ে তার কাফফারা বা প্রায়শ্চিত্ত করবো তারও সুযোগ নেই। কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ মানুষদের সম্পর্কে কঠিন হুশিয়ারি বাণী উচ্চারণ করেছেন। অনেক দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক ব্যক্তি, চাকুরীজীবী, আমলা, ব্যবসায়ী দুর্নীতি করছে আর ভাবছে কিছু দান-খয়রাত করলে কিংবা মসজিদ মাদরাসা, স্কুল, কলেজ, এতিমখানায় টাকা দিলেই তা মাফ হয়ে যাবে, সঙ্গে সঙ্গে দাতা হিসেবে স্বীকৃতিও লাভ করা যাবে। এসবই মহাভুল। মহাবিপদ ডেকে আনা ছাড়া কিছুই নয়। মহান রাব্বুল আলামিন এসব লোকদের দিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ করবেন না। অনেক ক্ষেত্রে এই ভুল অনুধাবন এবং মহাবিপদ প্রত্যক্ষ করার জন্য আখেরাত বা পরজীবন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না, পৃথিবীর জীবনই তা শুরু হয়ে যায়। দুর্নীতি হচ্ছে অমানুষের জীবন; তা কথায় হোক কিংবা কাজে হোক। দুর্নীতি মানুষকে হেয় করে, আর মনুষ্যত্বের স্তর থেকে তাকে করে বিচ্যুত। মানবসমাজে সে বসবাসের অনুপযুক্ত। মানুষ তার দ্বারা হয় প্রতারিত ও বঞ্চিত। দুর্নীতিকে ‘না’ বলার মধ্যেই নিহিত রয়েছে ইহকালের সফলতা আর পরকালের মুক্তি।


লেখক : মুফতি আহম্মদ আব্দুল্যাহ, শিক্ষক, বাইতুন নূর মাদরাসা ঢাকা

User Comments

  • ধর্ম ও নৈতিকতা