১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৫:৪০:০২
logo
logo banner
HeadLine
শেষ পর্যন্ত দফারফার কর্মসূচি * চাই দলীয় সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের নতুন ইতিহাস * বিএনপির ১৭৩ প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত, জোটের খসড়া তালিকা প্রকাশ * ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষনার দিন নির্ধারণ আজ * দলীয় সরকারের অধীনেও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব - টিআইবি * নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেডের সরকারী চাকুরীতে কোটা থাকছে না * সময়মতো এবং সুষ্ঠুভাবেই নির্বাচন হবে: ড. গওহর * ড্রাইভারের লাইসেন্স না থাকলে স্টার্ট নেবে না গাড়ি, হেলমেট ছাড়া মোটরবাইক * যাকে খুশি তাকে ভোট নয়: শাহরিয়ার কবির * লঘু অপরাধে আটকরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুক্তি পাচ্ছে * সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকার গঠন অসাংবিধানিক: ওবায়দুল কাদের * আসনভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করবে আওয়ামীলীগ * জনগণ আবারও নৌকায় ভোট দেবে: শেখ হাসিনা * চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগে অসন্তোষ, হাইব্রিড ও নব্যদের কারণে অবহেলিত পরীক্ষিত নেতারা * এশিয়া কাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচ, প্রতিশোধ নয় লংকানদের বিপক্ষে জয় চান টাইগাররা * 'প্রবৃদ্ধি ছাড়াবে ৮ শতাংশ' * মানব উন্নয়ন সূচকে তিন ধাপ অগ্রগতি বাংলাদেশের * মুক্তিযোদ্ধারা বছরে পাঁচটি উৎসব ভাতা পাবেন * এমপিকে দেখে উপজেলা পরিষদের সভা বর্জন করলেন ইউপি চেয়ারম্যানরা * ভোটারের চোখে শেখ হাসিনাই বিশ্বস্ত * দেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী * সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনকে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিবে : শেখ হাসিনা * শেয়ার বাজারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ৭ দফা সুপারিশ * পৃথিবীর সব দেশের রাজধানীতে যানজটের সমস্যা রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী * একনেকের সভায় ১৭ হাজার ৭৮৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মোট ১৮ প্রকল্প অনুমোদন, অল্প সময়ের মধ্যে সন্দীপের সব জনগণ বিদ্যুত পাবে * বর্তমান ঋণখেলাপী ২ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮, ১০০ জনের তালিকা দিলেন অর্থমন্ত্রী * আমার ছোট আপা * উচ্চ শিক্ষা নিয়ে কেউ যেন অভিজাত বেকারে পরিণত না হয় * ইন্টারনেটের গুজব শনাক্তকরণ ও নিরসন কেন্দ্র * ভরসা রাখুন শেখ হাসিনায় *
     03,2018 Saturday at 07:46:03 Share

দুর্নীতির দান কবুল হবে?

দুর্নীতির দান কবুল হবে?

দুর্নীতি মানুষের সহজাত কুপ্রবৃত্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য এই ছয়টি রিপু মানুষকে দুর্নীতির দিকে ধাবিত করে এবং মানবজীবনে অন্যায় অত্যাচার, পাপাচার, ব্যভিচার, নির্মমতা, পাশবিকতা, ধন-সম্পদের লোভ-লালসা, আত্মসাৎ প্রবণতা, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ড, সুদ, ঘুষ, হিংসা-বিদ্বেষ, অনৈক্য ইত্যাদি উদ্ভব ঘটায়। দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে ক্ষমতা বা সুযোগের অপব্যবহার। ক্ষমতার সঙ্গে দুর্নীতির ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে। এ ক্ষমতা হতে পারে ব্যক্তি পর্যায়ে, পারিবারিক পর্যায়ে, সামাজিক পর্যায়ে, রাজনৈতিক পর্যায়ে ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, এমনকি আর্থিকও। যাদের হাতে ক্ষমতা আছে তারা সকলে দুর্নীতি করে, তা বলা না গেলেও তবে যারা দুর্নীতি করে, তারা কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতাকে ব্যবহার করে থাকে।


দুর্নীতি মানবজীবনের জন্য একটি অন্তহীন সমস্যা। এর ক্ষতির পরিমাণ ও পরিধি এতো ব্যাপক যে, এর কালো থাবা থেকে কেউ রেহাই পায় না। দুর্নীতি একটি সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন, সুস্থ ও সহনশীল রাজনৈতিক বিশ্বাস ও স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। দুর্নীতি মানবজীবনে একটি প্রাচীন সমস্যা। দুর্নীতি দারিদ্র্য ও সবধরনের অবিচার বাড়ায়। দুর্নীতি মানুষের মানুষে বৈষম্য সৃষ্টি করে। এর ফলে মানুষ তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। দুর্নীতি সমাজে অপরাধ প্রবণতা ও মানুষে অসন্তুষ্টি বৃদ্ধি করে। দুর্নীতি সমাজ বিকাশের ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেয়, এগুলোকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে দেয় না।


দুর্নীতির কালো থাবা থেকে তারাই পরিত্রাণ পেয়েছেন, যারা রাসুলের প্রবর্তিত নীতি ও নৈতিকতার আদর্শ অনুসরণ করেছেন। সুতরাং কোনো দেশ ও জাতীকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হলে মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধের স্ফূরণ ঘটাতে হবে। নবী-রাসুলগণ নীতি-নৈতিকতার যে শিক্ষা দিয়েছেন তার প্রচার ও প্রসার ঘটাতে হবে। কোনো নবী-রাসুল মানুষকে দুর্নীতি ও অনৈতিকতা শিক্ষা দেন নি। সপ্তম শতকে সারা বিশ্ব যখন জাহিলিয়াতের নিকষ কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত, পাশবিকতায় যখন সাড়া বিশ্ব আচ্ছন্ন, তখন ইসলামের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরব উপদ্বীপের পথভ্রষ্ট মরুচারী বেদুঈন সমাজে নীতি-নৈতিকতা ও সততার যে খিলাফত কায়েম করেন তার উদাহরণ পৃথিবী আর দ্বিতীয় প্রত্যক্ষ করেনি। খিলাফতের কোথাও দুর্বৃত্ত ও দুরাচারের এতটুকুও অবিশিষ্ট ছিল না। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিলো অলঙ্ঘনীয়। মানুষ ছিল মানুষের জন্য। কোথাও ছিল না শোষণ নির্যাতনের লেশমাত্র। দুর্নীতি, এ কোনো নতুন কিংবা দরিদ্র দেশের সমস্যা নয়। সমগ্র মানবজাতির জন্যই এটি একটি কঠিন সমস্যা। পৃথিবীর সব দেশেই দুর্নীতি কম-বেশি আছে। সমূলে দুর্নীতি উচ্ছেদ করা হয়তো সম্ভব নয়, কিন্তু সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা কোনো কঠিন কাজ নয়। দরকার সদিচ্ছার।


 


আধুনিক রাষ্ট্রে জাতীয় সংসদ জনগণের পক্ষ হয়ে সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা করার দায়িত্ব পালন করে। এই সংসদ যদি দুর্নীতি আর কালো টাকার প্রভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে কখনই দুর্নীতিকেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভার হবে না। তাই যেসব দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ গঠিত, সেসব দেশের নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে কালো টাকা ও দুর্নীতির প্রভাব দূর করা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। তারও আগে দরকার জনগণকে শিক্ষিত ও সচেতন করে তোলা। শিক্ষিত, সচেতন ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বলীয়ান নাগরিকরাই কেবল পারে দুর্নীতিকে ‘না’ বলতে। দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রে ‘না’ বলতে হলে সে দেশের সংসদ, বিচার বিভাগ ও জনপ্রশাসনের সাথে সাথে ব্যবসায়ী সমাজ ও বড় বড় কোম্পানিগুলোকেও দুর্নীতিকে না বলতে হবে। ব্যবসায়ীরা দুর্নীতিকে ‘না’ বললে অন্যদের ‘হ্যাঁ’ বলার সুযোগ থাকে না। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকেই দুর্নীতি পরিপুষ্ট লাভ করে থাকে।


দুর্নীতি দ্বারা যা অর্জন করা হয়, চাই তা অর্থ-বিত্ত হোক কিংবা মানমর্যাদা হোক অথবা ক্ষমতা হোক, ইসলামে সম্পূর্ণরূপে হারাম। ইসলাম যেমন মন্দ ও দুর্নীতিকে নিষিদ্ধ করেছে, তেমনি মন্দ বা দুর্নীতি দ্বারা প্রাপ্ত সম্পদ ভোগ করাও নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।


মহান রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিছু অংশ জেনে-শুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের কাছে পেশ করো না।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৮)।


হজরত আনাস (রা.) থেকে  বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে গ্রামের উৎপাদিত পণ্য এককভাবে খরিদ করে নিয়ে শহুরেদের কাছে বিক্রয় অবৈধ সিন্ডিকেট বা ব্যবসায়িক দুষ্টু চক্র ব্যবস্থা তৈরি করতে নিষেধ করা হয়েছে।’ (বুখারি :  ২১৬১)।


অপর এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘কোনো শহরবাসী এককভাবে অবৈধ সিন্ডিকেট বা ব্যবসায়িক দুষ্টু চক্র করে গ্রামবাসীর পণ্য বিক্রি করবে না। মানুষকে ছাড় দাও; যাতে তারা একে অপরের মধ্যে স্বাধীন লেনদেন করে রিজিক হাসিল করতে পারে।’ (তিরমিজি : ১২২৩)।


কেউ যদি মনে করে থাকে যে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ থেকে দান খয়রাত কিংবা মসজিদ বানিয়ে তার কাফফারা বা প্রায়শ্চিত্ত করবো তারও সুযোগ নেই। কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ মানুষদের সম্পর্কে কঠিন হুশিয়ারি বাণী উচ্চারণ করেছেন। অনেক দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক ব্যক্তি, চাকুরীজীবী, আমলা, ব্যবসায়ী দুর্নীতি করছে আর ভাবছে কিছু দান-খয়রাত করলে কিংবা মসজিদ মাদরাসা, স্কুল, কলেজ, এতিমখানায় টাকা দিলেই তা মাফ হয়ে যাবে, সঙ্গে সঙ্গে দাতা হিসেবে স্বীকৃতিও লাভ করা যাবে। এসবই মহাভুল। মহাবিপদ ডেকে আনা ছাড়া কিছুই নয়। মহান রাব্বুল আলামিন এসব লোকদের দিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ করবেন না। অনেক ক্ষেত্রে এই ভুল অনুধাবন এবং মহাবিপদ প্রত্যক্ষ করার জন্য আখেরাত বা পরজীবন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না, পৃথিবীর জীবনই তা শুরু হয়ে যায়। দুর্নীতি হচ্ছে অমানুষের জীবন; তা কথায় হোক কিংবা কাজে হোক। দুর্নীতি মানুষকে হেয় করে, আর মনুষ্যত্বের স্তর থেকে তাকে করে বিচ্যুত। মানবসমাজে সে বসবাসের অনুপযুক্ত। মানুষ তার দ্বারা হয় প্রতারিত ও বঞ্চিত। দুর্নীতিকে ‘না’ বলার মধ্যেই নিহিত রয়েছে ইহকালের সফলতা আর পরকালের মুক্তি।


লেখক : মুফতি আহম্মদ আব্দুল্যাহ, শিক্ষক, বাইতুন নূর মাদরাসা ঢাকা

User Comments

  • ধর্ম ও নৈতিকতা