১৬ নভেম্বর ২০১৮ ৯:৫২:৩৮
logo
logo banner
HeadLine
সন্দ্বীপে জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু * দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্য নির্বাচন উৎসব নয়, পরীক্ষা * সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ২য় টেস্ট জয়ে সিরিজে সমতা * 'ষড়যন্ত্র চলছে সবাই সতর্ক থাকুন, বিদ্রোহী হলে আজীবন বহিষ্কার' - মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী * বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় 'গাজা', ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত * এক আসনেই ৫২ মনোনয়ন,৭টিতে ১টি করে, আওয়ামীলীগের মোট ফরম বিক্রি ৪০২৩ * বংগবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে সন্দ্বীপের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একত্র হয়ে ফরম জমা দিলেন * আওয়ামী লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাতকার কাল * ৭ দিন পেছালো নির্বাচন, ৩০ ডিসেম্বর ভোট * অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা সরকারের উদ্দেশ্য - প্রধানমন্ত্রী * আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম নেয়া ও জমা শেষ হচ্ছে আজ , ১৪ নভেম্বার সকালে সাক্ষাতকার * শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচনে সব দল ও জোট, স্বাগত জানালেন তিনি * সাকিবকে খেলা চালিয়ে যেতে বললেন প্রধানমন্ত্রী * ৬৮ শতাংশ তরুণ ভোটার শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট * মনোনয়ন না পেলে করণীয় নিয়ে অঙ্গীকার নিচ্ছে আওয়ামীলীগ,চলছে ফরম উৎসব, দুইদিনে ফরম কিনলেন ৩২০০ জন * ভোটে যাচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট : বিএনপিসহ বৈঠকে সিদ্ধান্ত, আজ দুপুরে প্রেসক্লাবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা * আওয়ামী লীগ সংসদীয় বোর্ডের সভা আজ * নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি, ঘোষণা আজকালের মধ্যেই * বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু * আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু আজ, সরগরম সভানেত্রীর কার্যালয় * নির্বাচন সামনে রেখে হার্ডলাইনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী , অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবেলায় কঠোর ব্যবস্থা * সরকার শুধু রুটিনওয়ার্ক করতে পারবে , আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নেবে কমিশন * ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহন * চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের সাড়ে ৩ হাজার সন্ত্রাসী : বাঁশখালি ও সন্দ্বীপে রয়েছে অস্ত্র তৈরির একাধিক কারখানা , শীঘ্রই বিশেষ অভিযান * সৈয়দ আশরাফের সুস্থতা কামনায় আগামীকাল বাদআছর দেশব্যাপী দোয়া মাহফিল * খালেদা তারেকের অধ্যায় শেষ, সুস্থ ধারার পথে রাজনীতি * আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করবো: মির্জা ফখরুল * তফসিল ঘোষণা কাল সন্ধ্যা ৭টায় * সংলাপ শেষ তবে আলোচনা হতে পারে, নির্বাচন পেছানো ও উপদেস্টা নিয়োগের প্রস্তাব নাকচ - কাদের * আজ গনভবনে ফের সংলাপে যাচ্ছেন ঐক্যফ্রন্টের ১১ নেতা *
     12,2018 Monday at 07:58:44 Share

স্বখাতসলিলে বিএনপি নেতৃত্ব

স্বখাতসলিলে বিএনপি নেতৃত্ব

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী  :: বেগম খালেদা জিয়ার জেল গমন নিয়ে আমি গতকালই (শনিবার) ঢাকার অন্য একটি কাগজে একটি কলাম লিখেছি। নিজের কর্মফল এবং অন্ধ সন্তান বাত্সল্য থেকে কী করে একজন রাজনৈতিক নেত্রীর জীবনে বিপর্যয় ঘটতে পারে, ভারতের ইন্দিরা গান্ধীর উদাহরণ টেনে সেকথা উল্লেখ করেছি। ইন্দিরা গান্ধী অত্যন্ত উঁচু মাপের রাজনৈতিক নেত্রী ছিলেন। তারপরও কনিষ্ঠ পুত্র সঞ্জয় গান্ধীর সকল দুর্বৃত্তপনাকে মাতৃস্নেহে প্রশ্রয় দিতে গিয়ে এবং তাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে বসানোর স্বপ্ন দেখতে গিয়ে ইন্দিরা নিজের রাজনৈতিক জীবনে একবার বিরাট বিপর্যয় ডেকে আনেন। এক অখ্যাত লোকের কাছে নির্বাচনে পরাজিত হন এবং ক্ষমতা হারিয়ে জেলে পর্যন্ত গিয়েছিলেন।


বাংলাদেশের বেগম খালেদা জিয়া ইন্দিরা গান্ধীর মতো অত উঁচু মাপের নেত্রী নন। ছিলেন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ভাগ্যক্রমে রাজনীতিতে আসেন, এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। দেশ পরিচালনার কোনো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তার ছিল না। যদি তিনি দলের প্রবীণ এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নেতাদের পরামর্শ শুনতেন, তাহলে আজকের বিপর্যয় তার জীবনে হয়ত ঘটত না। প্রথম ক্ষমতায় এসে অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতাদের পরামর্শ তিনি শুনেছিলেন এবং বিএনপি’কে গণতান্ত্রিক দল হিসেবে পুনর্গঠনও করেছিলেন। তারপর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার অভাবে তিনি পথভ্রষ্ট হন। পরিবার, বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান, তোষামোদকারী ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের খপ্পরে পড়ে যান।


তারেক রহমান যত দিন সাবালক হননি, ততদিন খালেদা জিয়ার ও বিএনপি’র চরিত্রে একটা গণতান্ত্রিকতার ছাপ ছিল। বিএনপিতে স্বাধীনতার আদর্শে বিশ্বাসী কিছু প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার কর্তৃত্ব ছিল। কিন্তু তারেক রহমান সাবালক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা গেল তিনি ভারতের সঞ্জয় গান্ধীর মতো মায়ের মাথার উপর ছড়ি ঘোরাতে চান। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু সব কর্তৃত্ব কেন্দ্রীভূত হয়েছিল তারেক রহমানের হাতে এবং তার হাওয়া ভবনে। তারেক এমন সব বন্ধুদের এনে মন্ত্রী পদে বসিয়েছিলেন যাদের কারো কারো পুলিশের খাতায় দাগি আসামি হিসেবে নাম ছিল। কেউ কেউ ছিলেন খুনের মামলার আসামি।


একজন জেনারেল ক্যান্টনমেন্টে বসে যে রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন তাকে প্রথমে গণতান্ত্রিক চরিত্র দান করেছিলেন বেগম জিয়া। এই চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিএনপি যদি তার অবস্থান ধরে রাখতে পারত, তাহলে দু’টি বড় গণতান্ত্রিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে কেন্দ্র করে দেশে সুস্থ দ্বিদলীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি গড়ে উঠত। দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির ব্যাপারে পার্থক্য থাকত এবং এই কর্মসূচিভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলত। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের মূলমন্ত্রের ব্যাপারে দুই দলেরই থাকত অভিন্ন আনুগত্য। তাহলে বাংলাদেশে ব্রিটেন ও আমেরিকার মতো সুস্থ দ্বিদলীয় গণতন্ত্র গড়ে উঠতে কোনো বাধাই ছিল না।


কিন্তু খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে থাকা অবস্থাতেই বিএনপি’র চরিত্র বদলের ফলে দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকাশ ঘটতে পারেনি। তারেক রহমান মায়ের আঁচল ধরে দলের কর্তৃত্বে আসার সঙ্গে সঙ্গে দলটির চরিত্র বদল শুরু হয়। দলের শুধু মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক প্রবীণ নেতাদের নয়, দলের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদেরও পর্যায়ক্রমে দল থেকে বিতাড়ন শুরু হয়। শুরু হয় স্বাধীনতাবিরোধী শিবির— বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে জোট বাঁধা। তারেক রহমান ঘোষণা করেন ‘বিএনপি ও জামায়াত একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত’।


পুরনো কাসুন্দি ঘাটতে যাব না। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির আঁতাতের এক পর্যায়ে দেখা গেছে, বিএনপি’র কোনো আর্থ-সামাজিক বিকল্প কর্মসূচি নেই। তাদের একমাত্র কর্মসূচি— মুক্তিযুদ্ধের সকল মূল্যবোধের বিনাশ, জাতির পিতার অবমাননা, স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি এবং পাকিস্তানের লেজুড়বৃত্তি। কারণে-অকারণে ভারত বিদ্বেষ প্রচার এবং ভারতের পূর্বাঞ্চলে দেশটির বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে প্রক্সি ওয়ার চালানো।


জামায়াতের সহযোগিতায় তারেক রহমান দেশে সন্ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করেন। আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতাসহ একাধিক শীর্ষ বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়। শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য তার জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। দেশ দুর্নীতির পঙ্কে ডুবে যায়। বিএনপি আমলের প্রত্যেকটি বড় সন্ত্রাস ও দুর্নীতির ঘটনায় তারেক রহমান ও তার সহযোগীদের সংশ্লিষ্টতা ধরা পড়ে। স্বাভাবিকভাবে পুত্রের ক্রিয়াকর্মের সঙ্গে মাতার নামও জড়িয়ে পড়ে। সঞ্জয় গান্ধীর দুর্বৃত্তপনার জন্য ইন্দিরা গান্ধীর মতো (যার সম্পর্কে বলা হতো ইন্ডিয়া ও ইন্দিরা অভিন্ন) নেত্রীকে দাম দিতে হয়েছে, সেখানে পুত্রের কার্যকলাপে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে বেগম জিয়া ভর্তুকি না দিয়ে কী করে বাঁচেন? এখানে উল্লেখযোগ্য যে, ভারতের সঞ্জয় গান্ধীর কার্যকলাপও বাংলাদেশে তারেক রহমানের মতো এত ভয়াবহ ছিল না। এটা বিস্ময়কর ব্যাপার যে, রাজনীতি সম্পর্কে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে নেমেই বিরাট জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং দলকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত করেন। এটা কম কৃতিত্বের কথা নয়। এরশাদের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ খেতাবেও ভূষিত হন। কিন্তু নিজের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা এবং পুত্রের দুর্বৃত্তপনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বাধীনতাবিরোধী চরমপন্থি জামায়াতের সঙ্গে হাত মেলানোর ফলে তিনি তার এই অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি। পুত্র এখন মাতাকে বাঘের সামনে ঠেলে দিয়ে নিজে মূষিকের মতো বিদেশে আত্মগোপন করে আছেন।


বেগম জিয়াকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দলের নেত্রী হয়েও আজ যে দুর্নীতির দায়ে আর্জেন্টিনার ইসাবেলা পেরনের মতো জেলে যেতে হলো (ইসাবেলা প্রায় ১২ বছর আর্জেন্টিনায় স্বৈরশাসন চালিয়েছিলেন), তার মূল কারণ, তার নিজের কর্মফল এবং অন্ধ পুত্রস্নেহ। এজন্যে আওয়ামী লীগ সরকারের উপর দোষ চাপিয়ে লাভ নেই। বেগম খালেদা জিয়া এবং তার পুত্রদের বিরুদ্ধে এই মামলা আওয়ামী লীগ করেনি। করে গেছে আগেকার সেনা পরিচালিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যদি পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চেয়ে থাকে, তাহলে তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু আছে কি? বিএনপি দলটি আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ। তাকে যে কোনো ভাবে জব্দ করাই তো হবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির কৌশল। আজ যদি বিএনপি ক্ষমতায় থাকত এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এই ধরনের মামলায় অভিযুক্ত হতেন, তাহলে বিএনপির আচরণটা কী হতো?


যদি বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকার এই মামলার বিচার প্রভাবিত করে বেগম জিয়াকে অন্যায়ভাবে জেলে পাঠিয়েছেন, তাহলে বলতে হয় তার অকাট্য প্রমাণটা কোথায়? ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’ তো বললেই হবে না। এক এগারোর সরকারের সময়ে যখন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়, তখন তার আচরণ দেখেই তো সকলের মনে হয়েছিল, এই অভিযোগগুলো সাজানো নয়। তা না হলে তিনি নিজের কৃতকর্মের জন্য বিবৃতি দিয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইবেন কেন?


এই সময় বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকাই-বা কী ছিল? তিনি যদি শেখ হাসিনার মতো লড়াকু নেত্রী হতেন, মনে অপরাধ বোধ না থাকত এবং সত্যি সাহসী এবং আপসহীন নেত্রী হতেন তাহলে সেনা-তাঁবেদার সরকারের সকল নিপীড়নের মুখে লড়তেন। তিনি তা না করে দুই পুত্রকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার শর্তে এক-এগারোর সরকারের সঙ্গে আপস করেন। নিজেও  সৌদি আরবে চলে যেতে রাজি হন। এখন তিনি দাবি করছেন, তিনি তত্কালীন সরকারের প্রচণ্ড চাপের মুখেও সৌদি আরবে যেতে রাজি হননি।


বাস্তব পরিস্থিতি ছিল তিনি সৌদি আরবে চলে যেতে রাজি হয়েছিলেন। তার অনেক বাক্স পেটরা সৌদি আরবে চলে গিয়েছিল। তাকে রিয়াদে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিমানও অপেক্ষা করছিল। সাংবাদিকেরা ঢাকা বিমান বন্দরে তাকে বিদায় জানানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জানা গেল, সৌদি গভর্নমেন্ট তাকে ভিসা দিতে রাজি হয়নি। তাকে উগান্ডার ইদি আমিনের পরিণতি থেকে রক্ষার জন্য এটা ছিল সম্ভবত সৌদি বাদশাহের রাজনৈতিক কৌশল।


বিএনপির আজকের পরিণতির জন্য দায়ী নেতৃত্বের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা, নেত্রীর অন্ধ পুত্রস্নেহ, তার সব অপকর্মকে প্রশ্রয় দান, স্বাধীনতাবিরোধী ও মৌলবাদী চক্রের সঙ্গে জোট বাঁধার নীতি এবং জনসমর্থনভিত্তিক রাজনীতির পরিবর্তে ক্যান্টনমেন্টভিত্তিক রাজনীতি অনুসরণ। ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর তিনি জামায়াতের সমর্থনের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। জামায়াতের কোনো গণতান্ত্রিক রাজনীতি নেই। আছে সন্ত্রাসের রাজনীতি। এই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিএনপি তার জনসমর্থনের ভিত্তি আরো হারায়। বিএনপি নেতারা এখন যাই বলুন, তাদের শাসনামলের দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কোনো তুলনা হয় না। কথায় বলে, পাপ বাপকেও ছাড়ে না। বাংলাদেশে প্রবাদটি আবারও সঠিক প্রমাণিত হলো।


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় বেগম জিয়ার সাজা হলে বিএনপি দেশে প্রবল গণআন্দোলন শুরু করবে বলে হুঙ্কার দিয়েছিল। কিন্তু এই ধরনের আন্দোলন করতে হলে যে জনসমর্থন ও জন সহানুভূতির প্রয়োজন সেটা যে তাদের নেই এটা তো বেগম জিয়াকে জেলে পাঠানোর সময়ই বোঝা গেছে। এসময় বিএনপি যে বিরাট শো-ডাউন করবে, গণঅভ্যুত্থান ঘটাবে বলে হুঙ্কার দিয়েছিল, তা যে অসার—তা প্রমাণিত হয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী যে বিক্ষোভ প্রদর্শনের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল তাও ব্যর্থ হয়েছে। মানুষকে রাস্তায় নামানো যায়নি। বিএনপি’র মুষ্টিমেয় কর্মীরা দু’এক জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করেছে; পুলিশ খুব সহজেই তাদের হটিয়ে দিয়েছে। অথচ  চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে (সদ্যপ্রয়াত) যখন গ্রেফতার করা হয়েছিল, তখন লক্ষাধিক সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে চট্টগ্রাম শহর অচল করে দিয়েছিল এবং লক্ষাধিক ভোটে তাকে মেয়র পদে পুনর্নির্বাচিতও করেছিল পরে।


আপসহীন নেত্রীর জেল গমনের সময় এই ঘটনাটি ঘটেনি। বিএনপি’র আন্দোলন করার শক্তি নেই। সুতরাং আন্দোলন করে বেগম জিয়াকে তারা কারামুক্ত করবেন সে আশা নেই। তবু তার সাজার বিরুদ্ধে আপিল করা হলে হাইকোর্টের সদয় বিবেচনায় বেগম জিয়া জামিনে মুক্ত হবেন এটা আশা করা যায়। আপিল মামলায় তিনি যদি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে তো সমস্যা থাকবে না। তা যদি নাও হয় জামিনে মুক্ত থাকা অবস্থায় তিনি দলকে নির্বাচনে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। দল নির্বাচনে জয়ী হলে তার পক্ষে বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমা থেকে মুক্ত হওয়া, চাই কি ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনও অসম্ভব ব্যাপার হবে না।


সুতরাং “বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাব না” এই ধুয়া তুলে বিএনপি যদি নির্বাচনে না যায়, তাহলে তা হবে গতবারের নির্বাচন বর্জনের চাইতেও বড় আত্মঘাতী নীতি। নির্বাচনে গেলেই মাত্র দলের ঐক্য ও অস্তিত্ব টিকবে। নইলে দল ভাগ হবে। দলের গঠনতন্ত্রের সাত নম্বর ধারা বাতিল করে দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা উচিত হয়নি। বিদেশে পালিয়ে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হবে না। দলের একটা বড় অংশ যারা বহুদিন যাবত্ তার উপর অসন্তুষ্ট তারা তার নেতৃত্ব মানবে না। বিএনপি দাবি করছে, আওয়ামী লীগ সরকার তাদের দল ভাঙার চেষ্টা করছে। বাস্তবতা হলো, আওয়ামী লীগকে সে চেষ্টা করতে হবে না। তারেক রহমানের নেতৃত্বই আওয়ামী লীগের ইপ্সিত কাজটি করে দেবে।


একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দণ্ড যেমন দেশে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনি, বেগম জিয়ার কারাদণ্ডও তেমনই কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে বলে মনে হয় না। এই বাস্তবতা সামনে রেখে বিএনপি নেতারা যদি ঠান্ডা মাথায় তাদের ভবিষ্যত্ কর্মপন্থা নির্ধারণ করেন, ঐক্যবদ্ধ থাকেন, হিংসা ও উত্তেজনা সৃষ্টির পথে পা না বাড়ান, তাহলে যে স্বখাতসলিলে তারা ডুবেছেন, তা থেকে উদ্ধার হওয়ার পথ খুঁজে পাবেন। অন্যথায় বেগম জিয়ার কারাদণ্ডের ইস্যুটিকে নিয়ে দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে তারা সফল হবেন না। বরং দলের সর্বনাশ করবেন, দেশেরও ক্ষতি করবেন।


[ লন্ডন, ১০ ফেব্রুয়ারি, শনিবার, ২০১৮ ]

User Comments

  • আরো