২৩ এপ্রিল ২০১৮ ০:৩:৫০
logo
logo banner
HeadLine
আজ বিশ্ব ধরিত্রী দিবস * বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন তারেক রহমান! * ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে * রাজাকারের সন্তানদের চাকরিতে অযোগ্য ঘোষণার দাবি * শিশু ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ডের আইন করছে ভারত * সন্দ্বীপে জামাত নেতাসহ ২ পলাতক আসামী গ্রেফতার * হালদায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ, চলছে ডিম আহরণ ও রেণু ফোটানোর প্রক্রিয়া * হাজার হাজার কোটি টাকা রেমিটেন্স হিসেবে বিদেশী কর্মীরা নিয়ে যাচ্ছে * রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিন , রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহারে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী অপরাধীদের বিচার করতে হবে -কমনওয়েলথ * আসছে মাসে এলএনজি পাবেন গ্রাহকরা * কোটা নিয়ে কথকতা! * সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার শেখ হাসিনা * খুলেছে শ্রমবাজার, কর্মী নিয়োগে শীঘ্রই চাহিদাপত্র পাঠাবে আমিরাত * অতিক্রান্ত নববর্ষ ॥ সামনে সতর্কতা * সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে * সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত * এশীয় অঞ্চলের ভবিষ্যতের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীলতা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা * ৮-৪-৪-৪-৪-৮ * আমাদের উন্নয়ন ও স্বাধীনতার শত্রু-মিত্র * ঋণ জালিয়াতির মামলায় ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তার ৬৮ বছরের কারাদণ্ড * মুজিবনগর দিবসের স্মৃতিকথা * বাংলাদেশ সরকারের জন্ম কাহিনী * মুজিবনগর দিবস আজ * সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী * ৮ দিনের সরকারী সফরের প্রক্কালে দাম্মাম পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী * স্বাধীন মত প্রকাশ বন্ধে ডিজিটাল আইন করা হয়নি: জয় * টঙ্গীতে কমিউটার ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত ৫ আহত ৩৫ * বিতর্কিত এমপিদের তালিকা তৈরি করছে আওয়ামী লীগ * স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আসছে সব নাগরিক * আজ পবিত্র শবে মেরাজ *
     04,2018 Wednesday at 18:32:43 Share

পহেলা এপ্রিল চাঁদপুরে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণরুপ

পহেলা এপ্রিল চাঁদপুরে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণরুপ

রোববার পহেলা এপ্রিল চাঁদপুর স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। সন্দ্বীপ নিউজের পাঠকদের উদ্দেশ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিন্মে তুলে দেউয়া হলঃ  



“উপস্থিত চাঁদপুরবাসী ভাই ও বোনেরা আমার, মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা। উপস্থিত অভিভাবকগণ এবং আমাদের চাঁদপুরের সকল শ্রেণির ভাই ও বোনেরা, আস্সালামুলাইকুম। সবাইকে আমার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ভাই ও বোনেরা আমার, বক্তব্যের শুরুতে আমি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিুর রহমানকে। যাঁর নেতৃত্বে তেইশ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এবং নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। আমি শ্রদ্ধা জানাই জাতীয় চার নেতার প্রতি, শ্রদ্ধা জানাই ত্রিশ লাখ শহীদের প্রতি, শ্রদ্ধা জানাই দুই লাখ মা-বোনের প্রতি।


আজকে ভাই ও বোনেরা আপনাদের সামনে এসেছি, আমি খালি হাতে আসিনি। আপনাদের জন্য, চাঁদপুরবাসীর জন্য ইতিমধ্যে অনেক উন্নয়ন করেছি। তবে আজকে কিছু উন্নয়নের উদ্বোধন করলাম আর আগামী দিনে যে কাজগুলো করবো তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম। প্রায় ৪৭টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আপনাদের জন্য উপহার। এই ৪৭টি প্রকল্পের নাম বলতে গেলে অনেক সময় লাগবে। আমি জানি এ গরমে আপনাদের কষ্ট হচ্ছে। নামগুলো দেয়া আছে, যারা চান আপনারা দেখে নিতে পারেন। তবে কোনো কিছু বাদ রাখিনি, এই চাঁদপুরের সার্বিক উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সব কিছুরই উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগ, এই আওয়ামী লীগকে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। আমরা আপনাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। আর নৌকায় ভোট দিলে কেউ খালি হাতে ফিরে না। এই নৌকায় ভোট দিয়েই এ দেশের মানুষ মাতৃভাষায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। এই নৌকায় ভোট দিয়েই মানুষ এ দেশের স্বাধীনতা পেয়েছে। আর এই নৌকা যখন ক্ষমতায় আসে তখনই উন্নয়ন হয়, আমরা উন্নয়নে বিশ্বাস করি। আর সেই উন্নয়ন গ্রাম পর্যায় থেকে, সেই উন্নয়ন সাধারণ মানুষের উন্নয়ন। সে দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের একটাই লক্ষ্য যে, বাংলার মানুষ শান্তিতে থাকবে। কিন্তু আপনারা জানেন, এই বিএনপি-জামাত জোট যখনই ক্ষমতায় আসে দেশের মানুষের ওপর যেমন অত্যাচার করে, নির্যাতন করে, লুটপাট করে, দুর্নীতি করে, মানি লন্ডারিং করে, দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে। জনগণের ঘর-বাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য সবই কেড়ে নেয়, লুটে খাওয়াটাই ওদের চরিত্র। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা ওরা এগুলোতে পারদর্শী। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা এটাই তাদের আন্দোলন।


আপনারা দেখেছেন ২০১৩, ১৪, ১৫তে প্রায় সাড়ে তিন হাজারের মতো মানুষকে আগুনে পুড়িয়েছে, পাঁচশ'র মতো মানুষ মারা গেছে। সাড়ে তিন থেকে চার হাজার গাড়ি, বাস, ট্রাক, লঞ্চ, রেল, সিএনজি সব আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। মনে হচ্ছে ধ্বংস করাটাই তাদের চরিত্র। আওয়ামী লীগ গড়ে তোলে, উন্নয়ন করে, মানুষের মনে শান্তি দেয়, নিরাপত্তা দেয়। কারণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই আওয়ামী লীগ সংগঠন গড়ে তোলেন। তিনি এ দেশ স্বাধীন করে গেছেন। আমাদের লক্ষ্য স্বাধীনতার সুফল বাংলার ঘরে ঘরে পেঁৗছাতে হবে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করি। আপনারা দেখেছেন বছরের পহেলা জানুয়ারি আমরা বই দিয়েছি ছাত্র-ছাত্রীদের। আমাদের বাবা-মার বই কেনার টাকা খরচ করতে হয় না, সেই খরচের দায়িত্ব আওয়ামী লীগ সরকার নিয়েছে। আমরা ৩৫ লক্ষ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিনামূল্যে আপনাদের ছেলে-মেয়েদের হাতে তুলে দিয়েছি। আমরা চাই আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেনো পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। সেই লক্ষ্য রেখে আমরা বৃত্তি দিচ্ছি। প্রাইমারিতে বৃত্তি দেই, মাধ্যমিকে বৃত্তি দেই, আমরা উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত বৃত্তি দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহয়তা ট্রাস্ট ফান্ড করেছি। তার মাধ্যমে আমরা উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত বৃত্তি দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের মায়েরা যাদের ছেলে-মেয়েরা প্রাইমারী স্কুলে পড়ে তাদের জন্য বৃত্তির টাকা মায়ের নামে মোবাইল ফোনে সরাসরি পৌঁছে যায়। ১ কোটি তেইশ লাখ মায়ের নামে মোবাইল ফোনে সরাসরি আমরা টাকা পৌঁছে দিচ্ছি। আপনারা দেখেছেন বিশ লাখ মায়ের হাতে মোবাইল ফোন ছিলো না, সেই মোবাইল ফোন আমরা কিনে দিয়েছিলাম। আজকে মোবাইল ফোন সকলের হাতে হাতে। আপনারা কোথা থেকে পেয়েছেন মোবাইল ফোন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসেছে তখনই এই মোবাইল ফোন আমরা উন্মুক্ত করে দিয়েছি। আজকে সকলের হাতে হাতে মোবাইল ফোন, আপনারা যোগাযোগ করতে পারেন দেশে এবং প্রবাসে আপনার আত্মীয়-স্বজন যারা থাকেন তাদের সাথে, কথা বলতে পারেন, দেখতে পারেন সেই সুযোগ আমরা করে দিয়েছি। আধুনিক প্রযুক্তিতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। দেশে-বিদেশে কাজ পাবে। কম্পিউটার শিক্ষাকে আমরা বাধ্যতামূলক করেছি। আমরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দিয়েছি। প্রায় পঞ্চাশ হাজার স্কুলে আমরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দিয়েছি। আমরা কম্পিউটার ল্যাব করে দিয়েছি এবং আমাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য আমরা যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলবো বলেছিলাম, সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ আজকে আমরা গড়ে তুলেছি। ৫ হাজার ২শ' ৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার, ছেলে-মেয়েরা সেখানে কাজের সুযোগ পাচ্ছে, নিজের ঘরে বসে কাজ পাচ্ছে। একটা সেন্টার থেকে আরো বিশ/পঁচিশ জনের কাজের ব্যবস্থা হচ্ছে।


কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা সমগ্র বাংলাদেশে ইন্টারনেট সার্ভিস করেছি। এখন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করছি, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হবে। উন্নত প্রযুক্তি সবাই ব্যবহার করতে পারবে, আমরা জেলায় জেলায় আইটি পার্কও করে দিচ্ছি। আমরা চাই আমাদের ছেলে-মেয়েরা এগিয়ে যাক। আমাদের লক্ষ্য দেশের দারিদ্র্য বিমোচন করা। যারা বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, এক সময় পরিবারের কাছে তাদের কোনো মূল্যই থাকতো না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধীদের ভাতা এমনকি দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা তাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছি। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা আমরা বৃদ্ধি করে দিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে-মেয়ে এবং তাদের সন্তান সন্তানাদি, নাতি-পুতি তারাও যেনো চাকরির সুযোগ পায় তার জন্য চাকুরির বিশেষ কোটার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কারণ একটা কথা মনে রাখতে হবে, এই মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ করে, অনেকে জীবন দিয়ে গেছেন, অনেকে পঙ্গু হয়ে আছেন। তাদের সম্মান করা, তাদের পরিবারকে সম্মান করা এটা আমাদের কর্তব্য বলে আমরা মনে করেছি, তাই ব্যবস্থা করেছি। একটা পরিবারও যেনো দরিদ্র না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রেখে একটি বাড়ি-একটি খামার প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। এই প্রকল্পের দ্বারা আমরা সমিতি করে ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কেবল ঋণের ব্যবস্থাই না, যে একশ' টাকা জমা করতে পারে তার জন্য আরো একশ' টাকা দুই বছর পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়, যেনো তার কিছু মূলধন হয়, পরমুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে না হয়, নিজের ব্যবসা নিজে করতে পারবে। সেইভাবে প্রত্যেকটা পরিবার যাতে সচ্ছল হয় সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। আর সেই টাকার জন্য পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আমরা করে দিয়েছি। আমাদের যুবসমাজ তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক করে দিয়েছি, কোনো জামানত লাগবে না। বিনা জামানতে দুই লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবে, জামানতে আরো ঋণ নিতে পারবে। নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে কাজ করতে পারবে, অন্যদেরও কাজ দিতে পারবে সেই সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে। আমরা স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পেঁৗছে দিচ্ছি। প্রত্যেক উপজেলায় আমরা হাসপাতালগুলোতে বেড সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছি। আমরা জেলা হাসপাতালগুলোতে যেগুলো একশ' বেডের ছিলো আড়াইশ' বেডে করে দিয়েছি। আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক করেছি। প্রায় আঠারো হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে বিনা পয়সায় ত্রিশ প্রকার ঔষধসহ চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি, যাতে কেউ যেনো বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়। সবাই যেন চিকিৎসাসেবা পায়। আমরা চিকিৎসা সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছি। বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। প্রতি বছর বন্যা, নদী ভাঙ্গন হয়। নদী ভাঙ্গনরোধ করার জন্য বাঁধ করে দিচ্ছি। আবার নদী ভাঙ্গনের ফলে যারা ঘর-বাড়ি হারায় তাদের ঘর করে দিয়েছি।


আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত-বাংলাদেশের একটা মানুষও গৃহহারা থাকবে না। যাদের জমি নেই, ভিটেমাটি নেই তাদেরকে আমরা ঘর করে দিচ্ছি আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে। জাতির পিতা শুরু করেছিলেন গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প। আমরা তারই পথ অনুসরণ করে গুচ্ছগ্রাম, আদর্শগ্রাম, আশ্রয়ন প্রকল্প এবং গৃহায়ন তহবিল থেকে টাকা দিয়ে সকলকে ঘর করে দিচ্ছি। কুড়ে ঘরে কেউ বাস করবে না, নিদেনপক্ষে একখানা টিনের ঘর আমরা করে দেবো-সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ, সব মানুষ মানুষের মতো বাস করবে। আমরা চাই না আমার দেশের মানুষ ভিক্ষা করে চলুক। কারণ ভিক্ষুক জাতির কোনো ইজ্জত নেই, এটা জাতির পিতা বলে গেছেন। কাজই আমরা প্রত্যেকটা জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছি। আর এই উদ্যোগটা নিয়েছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক। যখন আমরা সকলের বেতন বাড়িয়ে দিলাম, তখন তারা সিদ্ধান্ত নিলেন একদিনের বেতন দিয়ে তারা একটা ফান্ড তৈরি করবেন। প্রশাসন এবং আমাদের পুলিশ প্রশাসন সকলে মিলে তারা টাকা দিয়ে ফান্ড করে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে কাজ শুরু করেন। আমি মনে করি প্রতি জেলায় জেলায় করলে পরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে যদি আমি আরো টাকা দেই, সেভাবে সমস্ত বাংলাদেশ হবে ভিক্ষুকমুক্ত। প্রত্যেকটা মানুষ ভালোভাবে বাঁচবে কারো কাছে হাত পেতে নয়। ঠিক তেমনিভাবে বাঙালি জাতি হিসেবে জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি। বিজয় জাতি হিসেবে আমরা বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলবো, মাথা নিচু করে নয়। কারো কাছে হাত পেতে না, কারো কাছে ভিক্ষা চেয়ে না। আর স্ইে লক্ষ্য নিয়ে আমরা দেশকে পরিচালনা করে যাচ্ছি। আপনারা জানেন, আমাদের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়। বারবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ওই একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আইভি রহমানসহ ২২ জন নেতা-কর্মী মারা গেছেন। আপনাদের এই চাঁদপুরেরও আমাদের একজন কর্মী মারা গেছেন। বারবার এইভাবে আঘাত করার চেষ্টা করেছে, আল্লাহর রহমত বেঁচে গেছি। আমার লক্ষ্য একটাই, এই বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আর সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছি বলেই জাতির পিতা স্বাধীনতার পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ করে দিয়ে গেছেন। আর আজকে ৪৩ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হয়েছে। বিশ্ব দরবারে আমাদের মাথা উঁচু হয়েছে। ৭ই মার্চ '৭১ সালে জাতির পিতা যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেই ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি পেয়েছে।


কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের। আপনারা জানেন, '৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। আমি হারালাম আমার মাকে, আমার ভাই কামাল-জামাল ছোট্ট ১০ বছরের রাসেলসহ আমাদের পরিবারের ১৮ জন সদস্য, তাদেরকে হারিয়েছি। একইদিনে আমাদের বাড়ি যেমন আক্রমণ করেছে, আমার বড় ফুফুর বাড়ি আক্রমণ করেছে, সেঝো ফুফুর বাড়ি আক্রমণ করেছে, ছোট ফুফুর বাড়ি আক্রমণ করেছে। প্রত্যেক পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এবং আমার ছোটবোন বিদেশে ছিলাম, তাই বেঁচে গিয়েছিলাম। ছয় বছর দেশে আসতে পারি নি, আমাদেরকে দেশে আসতে দেয় নি। অবৈধভাবে, সংবিধান লঙ্ঘন করে জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় আসে, নিজেকে রাষ্ট্রপতি অবৈধভাবে ঘোষণা দিয়ে ওই খুনিদেরকে বিদেশী দূতাবাসে চাকুরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। শুধু তাই না, যারা একাত্তর সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দোসর ছিলো আমার মা-বোনকে তুলে দিয়েছিলো পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হাতে, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিলো, সারা বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছিলো, লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিলো, যারা রাজাকার বাহিনী, আলবদর বাহিনী, আলশামস বাহিনী গড়ে তুলে ওই হানাদার বাহিনীর পা চাটা লেজুড়বৃত্তি করেছিলো, তাদেরকেই পঁচাত্তরের পর ক্ষমতায় বসিয়েছিলো। যে যুদ্ধপরাধীদের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামী সেই বিচার বন্ধ করে দিয়ে তাদেরকে মুক্ত করে তাদেরকে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বানিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলো সামাজিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে। আর ইতিহাস বিকৃতি করেছিলো। জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম নিষিদ্ধ, এমনভাবে ইতিহাস তারা বিকৃতি করেছিলো। আমরা ক্ষমতায় আসার পর সেই যুদ্ধপরাধীদের বিচার আমরা করে যাচ্ছি, বিচারের রায়ও আমরা কার্যকর করেছি। আমি ধিক্কার জানাই ওই বিএনপি এবং খালেদা জিয়াকে। ওই যুদ্ধাপরাধী, যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যারা সাজাপ্রাপ্ত, যে সাজার রায় কার্যকর করা হয়েছে তাদের হাতে তুলে দিয়েছিলো আমার লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা। এর থেকে লজ্জার আর কিছু থাকতে পারে না। তো ওদের লজ্জা-শরম একটু কম, লজ্জা-শরম এ কারণে কম, আমি বলবো তারাতো স্বাধীনতাই বিশ্বাস করে না। ওরাতো বাংলাদেশের সৃষ্টিতেই বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এটাই যেনো তারা মেনে নিতে পারে না। তাইতো আপনারা দেখেন, আপনারা তুলনা করে দেখেন, '৭৫-এর পর থেকে যারা ক্ষমতায় ছিলো ওই জিয়া বলেন, এরশাদ বলেন, খালেদা জিয়া বলেন বাংলাদেশের তো কোনো উন্নতি করতে পারে নাই। আপনারা চাঁদপুরের উন্নয়ন দেখেন, কী উন্নয়ন তারা করেছে। হ্যাঁ তাদের উন্নতি একটা আছে-সে উন্নতিটা কী, দুর্নীতির উন্নতি। তারা বাংলাদেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছে। বাংলাদেশের মাথা হেড করেছে বিশ্বের দরবারে। নিজেরা লুটপাট করেছে, টাকা পাচার করেছে বিদেশে। আমার কথা না খালেদা জিয়ার বড় ছেলের টাকা ধরা পড়েছে, ছোট ছেলের টাকা ধরা পড়েছে। ঘুষ নিয়েছে ধরা পড়েছে, কোথায় আমেরিকার ফেডারেল কোর্টে ধরা পড়েছে। সিঙ্গাপুরে ধরা পড়েছে কীভাবে টাকা পাচার করেছে। কিছু টাকা জনগণের টাকা আমরা ফিরিয়েও এনেছি। এভাবে যেমন একদিকে লুট করেছে, সেখানেই ক্ষান্ত হয় নাই। এতিমখানার জন্যে টাকা এসেছে, এতিমখানায় টাকা দিবে এতিমখানা বানাবে বলে। বিদেশ থেকে টাকা দেয়া হয়েছে এতিমদের জন্যে, একটা টাকাও এতিমের হাতে যায় নাই। সেই টাকা সব লুটপাট করে চুরি করে খেয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামলা দিয়েছে। আজকে সেই এতিমের টাকা চুরির দায়ে মামলায় সাজা ভোগ করছে ওই খালেদা জিয়া। আর তার জন্যে নাকি আবার আন্দোলন করে। আপনারা জানেন, কোরআন শরীফে বলা আছে যে, 'এতিমের হক কেড়ে নিও না। এতিমের হক এতিমকে দেও। এতিমের সম্পদ তোমরা চুরি করো না, লুট করো না'-এটাতো কোরআন শরীফেরই বিধান। অথচ সেই অপকর্মটাও করতে তারা পিছপা হয় নাই। তাদের লোভ এতো বেশি যে, লোভের মাত্রা তারা ছাড়িয়ে গেছে।


আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দুঃস্থ মানুষের জন্যে সেবা করে। আওয়ামী লীগ জনগণের জন্যে দেয়, আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে থাকে, আওয়ামী লীগ জনগণের জন্যে কল্যাণ করে। এটাই আওয়ামী লীগের নীতি, এটাই আওয়ামী লীগের আদর্শ। আর আমরা সেই কাজই করে যাচ্ছি। আজকে আমরা প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক করে দিয়েছি। কেনো? আমি দেখেছি যারা প্রবাসে চাকুরি করতে যায় ঘর-বাড়ি বিক্রি করে, জমি-জিরাত বন্ধক রাখে। সেটা যেনো করতে না হয়। ওই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে যেতে পারবে আর ওই ব্যাংকে আবার ঋণ ফেরৎ দিতে পারবে। সে ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। জমি-জমা বিক্রি করার প্রয়োজন নাই। এক বছরে ১০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা বিদেশে আমরা করতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। শিল্প-কলকারখানা গড়ে তোলা, বিনিয়োগের ব্যবস্থা করেছি। যে বিদ্যুতের জন্যে হাহাকার ছিলো, কত এলাকায় বিদ্যুৎ যেতোই না। আমি যখন '৯৬ সালে সরকার গঠন করি মাত্র ১৬শ' মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, বিদ্যুৎ নাই। আমি ব্যবস্থা নিলাম, ১৬শ' থেকে সাড়ে ৪ হাজার ৩শ' মেগাওয়াটে বৃদ্ধি করলাম। দুর্ভাগ্য, আপনারা জানেন, ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারি নাই। কারণ, আমাদের দেশের গ্যাস আমেরিকা কোম্পানি বিক্রি করবে ভারতের কাছে। আমি রাজি হই নাই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেছিলো, আমি রাজি হই নি। আমার দেশের সম্পদ, দেশের মানুষের অধিকার। দেশের মানুষের কাজে লাগবে, আমি বেচতে পারি না। আর অপরদিকে খালেদা জিয়া কী করেছিলো। আমি যখন বলে আসলাম গ্যাস বিক্রি করতে পারবো না, পঞ্চাশ বছরের রিজার্ভ থাকবে। দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ হবে। তারপর যদি অতিরিক্ত হয় বেচার কথা ভাববো। আর ওইদিকে খালেদা জিয়া মুচলেকা দিয়ে দিলো ক্ষমতায় গেলে সব গ্যাস বেচে দিবে। বেচবে আমেরিকার কোম্পানী, কিনবে ভারত। ভারতের কাছে গ্যাস বেচার মুচলেকা দিয়ে তারপর সে ক্ষমতায় আসলো। আমি তখন বলেছিলাম, আল্লাহ লোক বুঝে ধন দেয়। তারা গ্যাস দিতে পারবে না ওটা আল্লাহই ব্যবস্থা নিবে। তাই হয়েছে, তারা গ্যাস দিতে পারে নাই। আমরা দেশকে ভালোবাসি, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্যে রাজনীতি করি। যেটা আমার বাবা শিখিয়েছে।


আমরা সেভাবেই কাজ করতে চাই। ইতিহাসকে তারা বিকৃতি করতে চেয়েছিলো, জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলো। আজকে সেই ভাষণ ইউনিস্কো ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রামাণ্য দলিলে স্থান করে নিয়েছে। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে কখনো চাপা দেয়া যায় না। এটা বিএনপি-জামাতের নেতা-কর্মীদের শিক্ষা নেয়া উচিত, জানা উচিত। আজকে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আজ বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। আজকের বাংলাদেশ আধুনিক বাংলাদেশ। আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নের বাংলাদেশ। আমরা উন্নয়ন করে যাচ্ছি। বিএনপির আমলে বাজেট যেখানে মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকা ছিলো, আজকে আমরা বাজেট দিচ্ছি ৪ লাখ কোটি টাকার বাজেট। বিএনপি সরকারের আমলে উন্নয়নের বাজেট, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাজেটে খরচ করা হয়েছিলো মাত্র ১৯ হাজার কোটি টাকা। আর আজকে আমরা ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি, যার সুফল আপনারা পাচ্ছেন। এই চাঁদপুরের নদীভাঙ্গা থেকে শুরু করে নানা সমস্যা ছিলো। এমনকি এই ব্রীজ যোগাযোগ ব্যবস্থা সবগুলো আওয়ামী লীগ আমলেই করে দেয়া। আওয়ামী লীগ আসলেই করে, নৌকায় ভোট দিলেই করে। এটাই আপনাদের জানা উচিত, এটাই আপনারা জানবেন। আর ওরা করে কী? লুটপাট-দুর্নীতি-মানুষ পোড়ানো। আপনারা একবার চিন্তা করে দেখেন কোনো সুস্থ মানুষ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে? পারে না। অথচ ওই খালেদা জিয়া তার অফিসে ৯২ দিন বসে থেকে হুকুম দিয়ে দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। মা দেখে তার মেয়ে পুড়ে মারা যাচ্ছে, স্ত্রী দেখে তার স্বামী পুড়ে মারা যাচ্ছে, বাবা দেখে তার ছেলে পুড়ে মারা যাচ্ছে, ছেলে দেখে তার বাবা পুড়ে মারা যাচ্ছে। এরকম নৃশংস ঘটনা তারা বাংলাদেশে ঘটিয়েছে। আমরা চাই না এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা আর ঘটুক। এগুলো সব সন্ত্রাসী ঘটনা। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি আপনাদেরকে আহ্বান জানাবো, এখানে শিক্ষকরা আছেন, মসজিদের ইমাম সাহেবরা, অভিভাবকরা, বাবা-মা এমনকি আমাদের ছেলে-মেয়ে যারা লেখাপড়া করে সকলের কাছে আমার আবেদন, অভিভাবক এবং শিক্ষক সবার কাছে বলবো, আপনাদের ছেলে-মেয়ে কী করে, কোথায় যায়, কার সাথে মিশে দেখেন। তারা যেনো মাদকাসক্ত না হয়, তারা যেনো জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত না হয়। তারা যেনো ভুল পথে না চলে যায় । মানুষ হত্যা করে কেউ বেহেস্তে যেতে পারে না, নিরীহ মানুষ হত্যা করলে তাকে দোজখের আগুনে পুড়তে হয়। এটাতো আমাদের নবী করীম (সাঃ)ই বলে গেছেন, এটাতো আমাদের কোরআন শরীফের কথা। আমরা দেশের শান্তি চাই। ছেলে-মেয়েরা সু পথে চলবে, লেখাপড়া শিখবে, মানুষের মতো মানুষ হবে আমরা সেটাই চাই। আমি মনে করি সমাজের সকল মুরুব্বীরা আপনারা সবসময় সচেতন থাকবেন কেউ যেনো ওই মাদক জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের পথে কেউ যেনো না যায়। সেটা আপনাদের কাছে আমার আহ্বান থাকল। আমাদের কৃষকরা কৃষকদের সমস্যা দূর করবার জন্য আপনারা জানেন সারের দাম তিন দফা কমিয়ে দিয়েছি। যে সারের জন্য বিএনপির আমলে মানুষ খুন করা হয়েছিলো। ১৮জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছিলো এই বিএনপি। আজকে সার কৃষকের কাছে চলে যায়। মাত্র দশ টাকায় কৃষকরা ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারে, তার ভুর্তকির টাকা সরাসরি আমরা ব্যাংক একাউন্টে পেঁৗছে দেই। আমরা কৃষি উপকরণ কার্ড দিয়েছি। প্রায় দুই কোটি কৃষক কৃষি উপকরণের কার্ড পায়। আমাদের মৎস্যচাষীরা, যেমন ইলিশ মাছ বা জাটকা ধরা বন্ধ। সেই মৎস্য চাষীদের আমরা চলি্লশ কেজি করে চাল দেই। আর খাঁচায় করে যাতে মাছ চাষ করতে পারে ট্রেনিং দিয়ে সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। তারা যেনো বেকার না থাকে, না খেয়ে যেনো কষ্ট না পায় সেটার ব্যবস্থাও আমরা করে দিয়েছি বিশেষ করে ইলিশের মওসুমে। ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছি, নিষিদ্ধ করার সাথে সাথে যারা ইলিশ মাছ ধরে সেই মৎস্যজীবী তাদের জন্য আমরা চলি্লশ কেজি করে চাল দিচ্ছি এবং খাঁচায় মাছ চাষ এবং অন্যান্য কাজও যেনো করতে পারে সেটার ব্যবস্থাও আমরা করে দিয়েছি। মানুষকে আমরা সমস্যায় ফেলি না, সাথে সাথে সমস্যাটারও আমরা সমাধান করে দেই। আমি প্রথমে ক্ষমতায় এসে বর্গাচাষীরা আগে ঋণ পেতো না। আমরা কৃষি ব্যাংকের মাধ্যামে বিনা জামানতে বর্গাচাষীদের কৃষি ঋণ দিচ্ছি, সে ব্যবস্থাও আমরা করে দিয়েছি। এভাবেই আমরা প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগ জনগণের সেবক, আমরা যা যা ওয়াদা দিয়েছিলাম প্রত্যেকটা ওয়াদা আমরা রক্ষা করেছি। পাশাপাশি তার চেয়েও বেশি কাজ করেছি। আজকে আমরা ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি।...


এই চাঁদপুরে আমি বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত তৈরি করে দিয়েছি। আরো নূতন একটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে। যেখানে বিদ্যুতের লাইন নাই, সেখানে সোলার প্যানেলে আমরা বিদ্যুৎ দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমরা বায়োগ্যাস, সোলার প্যানেলসহ নানামুখী কর্মসূচি নিয়ে আমরা বিদ্যুৎ দিচ্ছি। আজকে ৯০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। ইনশাল্লাহ কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না, প্রতি ঘরে আমরা আলো জ্বালাবো-এটাই আমাদের লক্ষ্য। আমি আপনাদের কাছে শুধু এটাই চাইবো, আপনারা জানেন, ২০০৮-এর নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিলাম। যে সকল উন্নয়নের প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করেছি। ২০১৪তে খালেদা জিয়া নির্বাচন ঠেকানোর জন্যে মানুষ পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছিলো। ৫শ' ৮২টি স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছিলো, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে হত্যা করেছিলো, আহত করেছিলো। ২৭ জন পুলিশ হত্যা করেছিলো। বহু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যকে তারা আহত করেছিলো। তারপরও জনগণ ভোট দিয়েছে। আপনারা ভোট দিয়েছেন। চাঁদপুরবাসী ভোট দিয়ে প্রত্যেকটা সীটে নৌকা মার্কাকে আপনারা জয়যুক্ত করেছেন। আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা চাই এ দেশের উন্নয়ন, ওই হত্যাকা- খুন-খারাপি না। শান্তি যাতে পায় মানুষ সেই ব্যবস্থা আমরা করতে চাই। ২০১৪-এর নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিলাম বলেই আজকে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা আছে বলেই আজকে সেই উন্নয়নের সুফল আপনারা দেখতে পারছেন এবং আপনারা উপলব্দি করছেন। আজকে আমি এই উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রেখে ২০২১ সালে আমরা আমাদের স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী পালন করবো। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন করবো। আমরা কী চাই, আমরা চাই ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই। তাই যদি হয়, তাহলে সরকারের ধারাবাহিকতা থাকা দরকার। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না, যারা জাতির পিতার খুনিদের পুরষ্কৃত করে, বিভিন্ন দূতাবাসে চাকুরি দেয়, ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে বসায়, যারা যুদ্ধাপরাধী সাজাপ্রাপ্ত আসামী, সেই যুদ্ধাপরাধীদের হাতে যারা আমার লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা তুলে দেয়, তারা এ দেশের কোনো উন্নয়নে বিশ্বাস করে না, উন্নয়ন করেনি কোনোটিতে ভবিষতেও করবে না। তাই আপনাদের কাছে আমার আহ্বান যে, নৌকা মার্কা আপনাদের মার্কা। এই নৌকা মার্কা সবসময় মানুষের উন্নয়ন করে। নূহ নবীর নৌকা মানব জাতি মানুষ ও পশুপাখি সব রক্ষা করেছিলো। এই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনারা স্বাধীনতা পেয়েছেন। তাই আগামীতে যে নির্বাচন হবে, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন ঘোষণা করেছেন ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন হবে। আমি যেনো উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আপনাদের উন্নয়ন করতে পারি, উন্নয়নের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য আমি আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। আপনারা ভোট দিবেন কিনা দুই হাত তুলে ওয়াদা করেন। আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। চাঁদপুরে একটা কথাই বলব, চাঁদপুরের উন্নয়নে আপনাদের কোনো দাবি করা লাগবে না। আমরা হাসপাতাল করে দিয়েছি আড়াইশ' বেডের। ইনশাল্লাহ, এই চাঁদপুরে আমরা একটি মেডিকেল কলেজ করে দেবো। কারণ, আপনাদের সংসদ সদস্য নিজেই একজন ডাক্তার। কাজেই সে দাবি করেছে, তার জন্যে আমি একটি মেডিকেল কলেজ এখানে করব। আর এই চাঁদপুরে আমি আজকে যখন আসি আপনার জানেন হাইমচরে সেখানে আমি গিয়েছিলাম। এই চাঁদপুরে বিশেষ একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল আমি করে দিব। যেখানে বিনিয়োগ হবে, কলকারখানা গড়ে উঠবে এবং উন্নয়ন হবে এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। সেই সাথে সেখানে পর্যটনের সুযোগ আমরা করে দেব। বিশেষ করে নৌ-ভ্রমণের জন্যে এ জায়গা সবচাইতে সুন্দর। পদ্মা-মেঘনা যেখানে সঙ্গমস্থল দেখার মতো জায়গা, ছোট বেলায় যখন আমি স্টিমারে আসতাম ওই জায়গাটা আমরা দেখতাম। কাজেই আমরা এই অঞ্চলটিকে একদিকে পর্যটন, অপর দিকে আমরা বিনিয়োগের ব্যবস্থা, আর বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার সাথে সাথে আপনারা জানেন, একটা নৌ বন্দর এখানে করে দিতে হবে। নইলে এখানে উৎপাদিত পণ্য কীভাবে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় যাবে, সেই ব্যবস্থা ইনশাল্লাহ আমরা করে দেবো। নদীভাঙ্গা রোধের জন্যে ইতিমধ্যে আমরা প্রকল্প নিয়েছি। রাস্তাঘাট সমগ্র বাংলাদেশে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে প্রকল্পগুলো পাস হয়ে গেছে। আস্তে আস্তে সেগুলো কার্যকর হবে। আপনারা নৌকায় ভোট দেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। এই আবেদন করে আবারো আপনাদেরকে এই রোদের মধ্যে কষ্ট করে এই সমাবেশে উপস্থিত থাকার জন্যে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।
খোদা হাফেজ, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
আবার দেখা হবে”।
(চাদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের অধক্ষ্য রতন কুমার মজুমদারের সৌজন্যে)

User Comments

  • রাজনীতি