১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৫:৩৯:৪৩
logo
logo banner
HeadLine
শেষ পর্যন্ত দফারফার কর্মসূচি * চাই দলীয় সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের নতুন ইতিহাস * বিএনপির ১৭৩ প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত, জোটের খসড়া তালিকা প্রকাশ * ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষনার দিন নির্ধারণ আজ * দলীয় সরকারের অধীনেও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব - টিআইবি * নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেডের সরকারী চাকুরীতে কোটা থাকছে না * সময়মতো এবং সুষ্ঠুভাবেই নির্বাচন হবে: ড. গওহর * ড্রাইভারের লাইসেন্স না থাকলে স্টার্ট নেবে না গাড়ি, হেলমেট ছাড়া মোটরবাইক * যাকে খুশি তাকে ভোট নয়: শাহরিয়ার কবির * লঘু অপরাধে আটকরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুক্তি পাচ্ছে * সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকার গঠন অসাংবিধানিক: ওবায়দুল কাদের * আসনভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করবে আওয়ামীলীগ * জনগণ আবারও নৌকায় ভোট দেবে: শেখ হাসিনা * চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগে অসন্তোষ, হাইব্রিড ও নব্যদের কারণে অবহেলিত পরীক্ষিত নেতারা * এশিয়া কাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচ, প্রতিশোধ নয় লংকানদের বিপক্ষে জয় চান টাইগাররা * 'প্রবৃদ্ধি ছাড়াবে ৮ শতাংশ' * মানব উন্নয়ন সূচকে তিন ধাপ অগ্রগতি বাংলাদেশের * মুক্তিযোদ্ধারা বছরে পাঁচটি উৎসব ভাতা পাবেন * এমপিকে দেখে উপজেলা পরিষদের সভা বর্জন করলেন ইউপি চেয়ারম্যানরা * ভোটারের চোখে শেখ হাসিনাই বিশ্বস্ত * দেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী * সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনকে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিবে : শেখ হাসিনা * শেয়ার বাজারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ৭ দফা সুপারিশ * পৃথিবীর সব দেশের রাজধানীতে যানজটের সমস্যা রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী * একনেকের সভায় ১৭ হাজার ৭৮৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মোট ১৮ প্রকল্প অনুমোদন, অল্প সময়ের মধ্যে সন্দীপের সব জনগণ বিদ্যুত পাবে * বর্তমান ঋণখেলাপী ২ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮, ১০০ জনের তালিকা দিলেন অর্থমন্ত্রী * আমার ছোট আপা * উচ্চ শিক্ষা নিয়ে কেউ যেন অভিজাত বেকারে পরিণত না হয় * ইন্টারনেটের গুজব শনাক্তকরণ ও নিরসন কেন্দ্র * ভরসা রাখুন শেখ হাসিনায় *
     04,2018 Wednesday at 18:32:43 Share

পহেলা এপ্রিল চাঁদপুরে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণরুপ

পহেলা এপ্রিল চাঁদপুরে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণরুপ

রোববার পহেলা এপ্রিল চাঁদপুর স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। সন্দ্বীপ নিউজের পাঠকদের উদ্দেশ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিন্মে তুলে দেউয়া হলঃ  



“উপস্থিত চাঁদপুরবাসী ভাই ও বোনেরা আমার, মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা। উপস্থিত অভিভাবকগণ এবং আমাদের চাঁদপুরের সকল শ্রেণির ভাই ও বোনেরা, আস্সালামুলাইকুম। সবাইকে আমার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ভাই ও বোনেরা আমার, বক্তব্যের শুরুতে আমি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিুর রহমানকে। যাঁর নেতৃত্বে তেইশ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এবং নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। আমি শ্রদ্ধা জানাই জাতীয় চার নেতার প্রতি, শ্রদ্ধা জানাই ত্রিশ লাখ শহীদের প্রতি, শ্রদ্ধা জানাই দুই লাখ মা-বোনের প্রতি।


আজকে ভাই ও বোনেরা আপনাদের সামনে এসেছি, আমি খালি হাতে আসিনি। আপনাদের জন্য, চাঁদপুরবাসীর জন্য ইতিমধ্যে অনেক উন্নয়ন করেছি। তবে আজকে কিছু উন্নয়নের উদ্বোধন করলাম আর আগামী দিনে যে কাজগুলো করবো তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম। প্রায় ৪৭টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আপনাদের জন্য উপহার। এই ৪৭টি প্রকল্পের নাম বলতে গেলে অনেক সময় লাগবে। আমি জানি এ গরমে আপনাদের কষ্ট হচ্ছে। নামগুলো দেয়া আছে, যারা চান আপনারা দেখে নিতে পারেন। তবে কোনো কিছু বাদ রাখিনি, এই চাঁদপুরের সার্বিক উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সব কিছুরই উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগ, এই আওয়ামী লীগকে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। আমরা আপনাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। আর নৌকায় ভোট দিলে কেউ খালি হাতে ফিরে না। এই নৌকায় ভোট দিয়েই এ দেশের মানুষ মাতৃভাষায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। এই নৌকায় ভোট দিয়েই মানুষ এ দেশের স্বাধীনতা পেয়েছে। আর এই নৌকা যখন ক্ষমতায় আসে তখনই উন্নয়ন হয়, আমরা উন্নয়নে বিশ্বাস করি। আর সেই উন্নয়ন গ্রাম পর্যায় থেকে, সেই উন্নয়ন সাধারণ মানুষের উন্নয়ন। সে দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের একটাই লক্ষ্য যে, বাংলার মানুষ শান্তিতে থাকবে। কিন্তু আপনারা জানেন, এই বিএনপি-জামাত জোট যখনই ক্ষমতায় আসে দেশের মানুষের ওপর যেমন অত্যাচার করে, নির্যাতন করে, লুটপাট করে, দুর্নীতি করে, মানি লন্ডারিং করে, দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে। জনগণের ঘর-বাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য সবই কেড়ে নেয়, লুটে খাওয়াটাই ওদের চরিত্র। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা ওরা এগুলোতে পারদর্শী। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা এটাই তাদের আন্দোলন।


আপনারা দেখেছেন ২০১৩, ১৪, ১৫তে প্রায় সাড়ে তিন হাজারের মতো মানুষকে আগুনে পুড়িয়েছে, পাঁচশ'র মতো মানুষ মারা গেছে। সাড়ে তিন থেকে চার হাজার গাড়ি, বাস, ট্রাক, লঞ্চ, রেল, সিএনজি সব আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। মনে হচ্ছে ধ্বংস করাটাই তাদের চরিত্র। আওয়ামী লীগ গড়ে তোলে, উন্নয়ন করে, মানুষের মনে শান্তি দেয়, নিরাপত্তা দেয়। কারণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই আওয়ামী লীগ সংগঠন গড়ে তোলেন। তিনি এ দেশ স্বাধীন করে গেছেন। আমাদের লক্ষ্য স্বাধীনতার সুফল বাংলার ঘরে ঘরে পেঁৗছাতে হবে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করি। আপনারা দেখেছেন বছরের পহেলা জানুয়ারি আমরা বই দিয়েছি ছাত্র-ছাত্রীদের। আমাদের বাবা-মার বই কেনার টাকা খরচ করতে হয় না, সেই খরচের দায়িত্ব আওয়ামী লীগ সরকার নিয়েছে। আমরা ৩৫ লক্ষ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিনামূল্যে আপনাদের ছেলে-মেয়েদের হাতে তুলে দিয়েছি। আমরা চাই আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেনো পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। সেই লক্ষ্য রেখে আমরা বৃত্তি দিচ্ছি। প্রাইমারিতে বৃত্তি দেই, মাধ্যমিকে বৃত্তি দেই, আমরা উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত বৃত্তি দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহয়তা ট্রাস্ট ফান্ড করেছি। তার মাধ্যমে আমরা উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত বৃত্তি দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের মায়েরা যাদের ছেলে-মেয়েরা প্রাইমারী স্কুলে পড়ে তাদের জন্য বৃত্তির টাকা মায়ের নামে মোবাইল ফোনে সরাসরি পৌঁছে যায়। ১ কোটি তেইশ লাখ মায়ের নামে মোবাইল ফোনে সরাসরি আমরা টাকা পৌঁছে দিচ্ছি। আপনারা দেখেছেন বিশ লাখ মায়ের হাতে মোবাইল ফোন ছিলো না, সেই মোবাইল ফোন আমরা কিনে দিয়েছিলাম। আজকে মোবাইল ফোন সকলের হাতে হাতে। আপনারা কোথা থেকে পেয়েছেন মোবাইল ফোন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসেছে তখনই এই মোবাইল ফোন আমরা উন্মুক্ত করে দিয়েছি। আজকে সকলের হাতে হাতে মোবাইল ফোন, আপনারা যোগাযোগ করতে পারেন দেশে এবং প্রবাসে আপনার আত্মীয়-স্বজন যারা থাকেন তাদের সাথে, কথা বলতে পারেন, দেখতে পারেন সেই সুযোগ আমরা করে দিয়েছি। আধুনিক প্রযুক্তিতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। দেশে-বিদেশে কাজ পাবে। কম্পিউটার শিক্ষাকে আমরা বাধ্যতামূলক করেছি। আমরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দিয়েছি। প্রায় পঞ্চাশ হাজার স্কুলে আমরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দিয়েছি। আমরা কম্পিউটার ল্যাব করে দিয়েছি এবং আমাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য আমরা যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলবো বলেছিলাম, সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ আজকে আমরা গড়ে তুলেছি। ৫ হাজার ২শ' ৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার, ছেলে-মেয়েরা সেখানে কাজের সুযোগ পাচ্ছে, নিজের ঘরে বসে কাজ পাচ্ছে। একটা সেন্টার থেকে আরো বিশ/পঁচিশ জনের কাজের ব্যবস্থা হচ্ছে।


কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা সমগ্র বাংলাদেশে ইন্টারনেট সার্ভিস করেছি। এখন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করছি, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হবে। উন্নত প্রযুক্তি সবাই ব্যবহার করতে পারবে, আমরা জেলায় জেলায় আইটি পার্কও করে দিচ্ছি। আমরা চাই আমাদের ছেলে-মেয়েরা এগিয়ে যাক। আমাদের লক্ষ্য দেশের দারিদ্র্য বিমোচন করা। যারা বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, এক সময় পরিবারের কাছে তাদের কোনো মূল্যই থাকতো না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধীদের ভাতা এমনকি দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা তাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছি। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা আমরা বৃদ্ধি করে দিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে-মেয়ে এবং তাদের সন্তান সন্তানাদি, নাতি-পুতি তারাও যেনো চাকরির সুযোগ পায় তার জন্য চাকুরির বিশেষ কোটার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কারণ একটা কথা মনে রাখতে হবে, এই মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ করে, অনেকে জীবন দিয়ে গেছেন, অনেকে পঙ্গু হয়ে আছেন। তাদের সম্মান করা, তাদের পরিবারকে সম্মান করা এটা আমাদের কর্তব্য বলে আমরা মনে করেছি, তাই ব্যবস্থা করেছি। একটা পরিবারও যেনো দরিদ্র না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রেখে একটি বাড়ি-একটি খামার প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। এই প্রকল্পের দ্বারা আমরা সমিতি করে ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কেবল ঋণের ব্যবস্থাই না, যে একশ' টাকা জমা করতে পারে তার জন্য আরো একশ' টাকা দুই বছর পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়, যেনো তার কিছু মূলধন হয়, পরমুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে না হয়, নিজের ব্যবসা নিজে করতে পারবে। সেইভাবে প্রত্যেকটা পরিবার যাতে সচ্ছল হয় সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। আর সেই টাকার জন্য পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আমরা করে দিয়েছি। আমাদের যুবসমাজ তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক করে দিয়েছি, কোনো জামানত লাগবে না। বিনা জামানতে দুই লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবে, জামানতে আরো ঋণ নিতে পারবে। নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে কাজ করতে পারবে, অন্যদেরও কাজ দিতে পারবে সেই সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে। আমরা স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পেঁৗছে দিচ্ছি। প্রত্যেক উপজেলায় আমরা হাসপাতালগুলোতে বেড সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছি। আমরা জেলা হাসপাতালগুলোতে যেগুলো একশ' বেডের ছিলো আড়াইশ' বেডে করে দিয়েছি। আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক করেছি। প্রায় আঠারো হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে বিনা পয়সায় ত্রিশ প্রকার ঔষধসহ চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি, যাতে কেউ যেনো বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়। সবাই যেন চিকিৎসাসেবা পায়। আমরা চিকিৎসা সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছি। বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। প্রতি বছর বন্যা, নদী ভাঙ্গন হয়। নদী ভাঙ্গনরোধ করার জন্য বাঁধ করে দিচ্ছি। আবার নদী ভাঙ্গনের ফলে যারা ঘর-বাড়ি হারায় তাদের ঘর করে দিয়েছি।


আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত-বাংলাদেশের একটা মানুষও গৃহহারা থাকবে না। যাদের জমি নেই, ভিটেমাটি নেই তাদেরকে আমরা ঘর করে দিচ্ছি আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে। জাতির পিতা শুরু করেছিলেন গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প। আমরা তারই পথ অনুসরণ করে গুচ্ছগ্রাম, আদর্শগ্রাম, আশ্রয়ন প্রকল্প এবং গৃহায়ন তহবিল থেকে টাকা দিয়ে সকলকে ঘর করে দিচ্ছি। কুড়ে ঘরে কেউ বাস করবে না, নিদেনপক্ষে একখানা টিনের ঘর আমরা করে দেবো-সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ, সব মানুষ মানুষের মতো বাস করবে। আমরা চাই না আমার দেশের মানুষ ভিক্ষা করে চলুক। কারণ ভিক্ষুক জাতির কোনো ইজ্জত নেই, এটা জাতির পিতা বলে গেছেন। কাজই আমরা প্রত্যেকটা জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছি। আর এই উদ্যোগটা নিয়েছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক। যখন আমরা সকলের বেতন বাড়িয়ে দিলাম, তখন তারা সিদ্ধান্ত নিলেন একদিনের বেতন দিয়ে তারা একটা ফান্ড তৈরি করবেন। প্রশাসন এবং আমাদের পুলিশ প্রশাসন সকলে মিলে তারা টাকা দিয়ে ফান্ড করে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে কাজ শুরু করেন। আমি মনে করি প্রতি জেলায় জেলায় করলে পরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে যদি আমি আরো টাকা দেই, সেভাবে সমস্ত বাংলাদেশ হবে ভিক্ষুকমুক্ত। প্রত্যেকটা মানুষ ভালোভাবে বাঁচবে কারো কাছে হাত পেতে নয়। ঠিক তেমনিভাবে বাঙালি জাতি হিসেবে জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি। বিজয় জাতি হিসেবে আমরা বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলবো, মাথা নিচু করে নয়। কারো কাছে হাত পেতে না, কারো কাছে ভিক্ষা চেয়ে না। আর স্ইে লক্ষ্য নিয়ে আমরা দেশকে পরিচালনা করে যাচ্ছি। আপনারা জানেন, আমাদের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়। বারবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ওই একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আইভি রহমানসহ ২২ জন নেতা-কর্মী মারা গেছেন। আপনাদের এই চাঁদপুরেরও আমাদের একজন কর্মী মারা গেছেন। বারবার এইভাবে আঘাত করার চেষ্টা করেছে, আল্লাহর রহমত বেঁচে গেছি। আমার লক্ষ্য একটাই, এই বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আর সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছি বলেই জাতির পিতা স্বাধীনতার পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ করে দিয়ে গেছেন। আর আজকে ৪৩ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হয়েছে। বিশ্ব দরবারে আমাদের মাথা উঁচু হয়েছে। ৭ই মার্চ '৭১ সালে জাতির পিতা যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেই ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি পেয়েছে।


কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের। আপনারা জানেন, '৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। আমি হারালাম আমার মাকে, আমার ভাই কামাল-জামাল ছোট্ট ১০ বছরের রাসেলসহ আমাদের পরিবারের ১৮ জন সদস্য, তাদেরকে হারিয়েছি। একইদিনে আমাদের বাড়ি যেমন আক্রমণ করেছে, আমার বড় ফুফুর বাড়ি আক্রমণ করেছে, সেঝো ফুফুর বাড়ি আক্রমণ করেছে, ছোট ফুফুর বাড়ি আক্রমণ করেছে। প্রত্যেক পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এবং আমার ছোটবোন বিদেশে ছিলাম, তাই বেঁচে গিয়েছিলাম। ছয় বছর দেশে আসতে পারি নি, আমাদেরকে দেশে আসতে দেয় নি। অবৈধভাবে, সংবিধান লঙ্ঘন করে জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় আসে, নিজেকে রাষ্ট্রপতি অবৈধভাবে ঘোষণা দিয়ে ওই খুনিদেরকে বিদেশী দূতাবাসে চাকুরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। শুধু তাই না, যারা একাত্তর সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দোসর ছিলো আমার মা-বোনকে তুলে দিয়েছিলো পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হাতে, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিলো, সারা বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছিলো, লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিলো, যারা রাজাকার বাহিনী, আলবদর বাহিনী, আলশামস বাহিনী গড়ে তুলে ওই হানাদার বাহিনীর পা চাটা লেজুড়বৃত্তি করেছিলো, তাদেরকেই পঁচাত্তরের পর ক্ষমতায় বসিয়েছিলো। যে যুদ্ধপরাধীদের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামী সেই বিচার বন্ধ করে দিয়ে তাদেরকে মুক্ত করে তাদেরকে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বানিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলো সামাজিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে। আর ইতিহাস বিকৃতি করেছিলো। জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম নিষিদ্ধ, এমনভাবে ইতিহাস তারা বিকৃতি করেছিলো। আমরা ক্ষমতায় আসার পর সেই যুদ্ধপরাধীদের বিচার আমরা করে যাচ্ছি, বিচারের রায়ও আমরা কার্যকর করেছি। আমি ধিক্কার জানাই ওই বিএনপি এবং খালেদা জিয়াকে। ওই যুদ্ধাপরাধী, যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যারা সাজাপ্রাপ্ত, যে সাজার রায় কার্যকর করা হয়েছে তাদের হাতে তুলে দিয়েছিলো আমার লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা। এর থেকে লজ্জার আর কিছু থাকতে পারে না। তো ওদের লজ্জা-শরম একটু কম, লজ্জা-শরম এ কারণে কম, আমি বলবো তারাতো স্বাধীনতাই বিশ্বাস করে না। ওরাতো বাংলাদেশের সৃষ্টিতেই বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এটাই যেনো তারা মেনে নিতে পারে না। তাইতো আপনারা দেখেন, আপনারা তুলনা করে দেখেন, '৭৫-এর পর থেকে যারা ক্ষমতায় ছিলো ওই জিয়া বলেন, এরশাদ বলেন, খালেদা জিয়া 

User Comments

  • রাজনীতি