২০ মার্চ ২০১৯ ১৭:৫৬:৫৩
logo
logo banner
HeadLine
পদ্মাসেতুর রোডওয়েতে স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু, ২১ মার্চ বসছে নবম স্প্যান * ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি শুরু, দোয়া প্রার্থনা * নিউজিল্যান্ডের পর অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণেও সতর্কতা জারি করল বাংলাদেশ * বাকশাল ছিলো সর্বোত্তম পন্থা, বাকশাল থাকলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতো না - প্রধানমন্ত্রী * নিউ জিল্যান্ডে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ * নির্বাচন শেষে ফেরার পথে বাঘাইছড়িতে গুলিতে প্রিজাইডিং অফিসারসহ নিহত ৬ * '৩০ সেকেন্ড এদিক-ওদিক হলেই আমাদের লাশ দেশে ফিরতো' * বাংলাদেশের বিপ্লব, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং জাতির পিতার নেতৃত্ব * যেখানে জনক তুমি মৃত্যুঞ্জয়ী * বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা * বাঙালির একমাত্র মহানায়ক * ক্রাইস্টচার্চে হামলায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক এবং নিন্দা, সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার * ক্রাইস্টচার্চে হামলায় ৩ বাংলাদেশীসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ * বিশ্বজুড়ে ফেইসবুক ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছে * একদিনে চার রকম কথা বললেন নুর * রোহিঙ্গাদের কোথায় রাখা হবে তা বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয় * শিক্ষার জন্য শিশুদের অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়: প্রধানমন্ত্রী * ওবায়দুল কাদেরের অবস্থার আরও উন্নতি, আইসিইউ থেকে নেয়া হয়ছে কেবিনে * ডাকসু নির্বাচন : ভিপি নুর, জিএস রাব্বানী * সিইসির খন্ডিত বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক করা উচিত নয় - মাহবুব-উল আলম হানিফ * প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচন: আ.লীগ ৫৫, অন্যান্য ২৩, স্থগিত ৯ * আহমদ শফীকে নিয়ে মেননের বক্তব্য একপাঞ্জ চাইলেন কাজী ফিরোজ রশীদ * ডাকসু নির্বাচন কাল: একনজরে প্যানেল পরিচিতি * আত্মত্যাগ ছাড়া কোনো কিছু অর্জন সম্ভব না : প্রধানমন্ত্রী * লাইফটাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট পদক পেলেন শেখ হাসিনা * চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ঘিরে উন্নয়ন মহাযজ্ঞ, খুলে যাচ্ছে বিনিয়োগের অফুরান দুয়ার * ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ চেয়ে সৌদির সাথে বিদ্যুত, জ্বালানি ও জনশক্তিসহ কয়েকটি এবং সমঝোতা স্মারক সই * কৃত্রিম সাপোর্ট ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে ওবায়দুল কাদেরের হৃদপিন্ড * ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর আত্মপ্রত্যয়ের স্বরূপ * ওবায়দুল কাদেরের অবস্থার কিছুটা উন্নতি, করা হবে বাইপাস সার্জারি *
     12,2018 Thursday at 07:19:20 Share

কোটা নিয়ে সংসদে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

কোটা নিয়ে সংসদে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি থাকারই দরকার নাই বলে মন্তব্য করে প্রধাণমন্ত্রী বলেছেন, কোটা পদ্ধতিই বাতিল। পরিষ্কার কথা। গতকাল জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে  তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন পর তো আবার আরেক দল এসে বলবে, আবার সংস্কার চাই। তো কোটা থাকলেই সংস্কার। আর না থাকলে সংস্কারের কোনও ঝামেলাই নাই। কাজেই কোটা পদ্ধতি থাকারই দরকার নাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষ বারবার কষ্ট পাবে কেন? এই বারবার কষ্ট বন্ধ করার জন্য আর বারবার এই আন্দোলন-ঝামেলা মেটানোর জন্য কোটা পদ্ধতিই বাতিল। পরিষ্কার কথা। আমি এটাই মনে করি, সেটা হলেই ভালো।’
বুধবার (১১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য নানকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশে হিসেবে আমরা কার্যক্রম চালাচ্ছি। যখন একটি দেশ উন্নত হয়, শিক্ষিত সমাজ হিসেবে গড়ে ওঠে। তাই আমরা শিক্ষার ওপর সবসময় গুরুত্ব দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের যা যা দরকার, করে যাচ্ছি। বিভিন্ন জেলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বহুমুখী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে দিয়েছি। দেশ-বিদেশে কর্মক্ষেত্র প্রসারিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। উচ্চ শিক্ষায় যেন সহযোগিতা পায়, বৃত্তি পায় তার ব্যবস্থা করেছি। প্রাইমারি থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা পয়সায় বই দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।বৃত্তির ব্যবস্থা করেছি। বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। কেন করছি? কারণ, আমরা চাই সবাই লেখাপড়া শিখবে, মনুষের মতো মানুষ হবে। এরাই ভবিষ্যতের কর্ণধার হবে, দেশকে পরিচালনা করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুব দুঃখ লাগে যখন দেখলাম, হঠাৎ কোটা চাই না। কোট সংস্কারের আন্দোলন। আন্দোলনটা কী? সমস্ত লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়ে রাস্তায় বসে থাকা। রাস্তা চলাচলা বন্ধ করা। এমনকি হাসপাতালে রোগী যেতে পারছে না। কর্মস্থলে মানুষ যেতে পারছে না। লেখাপড়া–পরীক্ষা বন্ধ করে বসে আছে। এই ঘটন যেন সমস্ত জায়গায় ছড়িয়ে পড়লো। ডিজিটাল বাংলাদেশ আমিই গড়ে তুলেছিলাম। আজকে ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউব যা কিছুই ব্যবহার হচ্ছে, সেগুলো তো আমাদেরই করা। আধুনিক যে প্রযুক্তি শিক্ষা, তার ব্যবস্থা আমি করেছি। সবকিছু আমাদের করা। কিন্তু গঠনমূলক কাজে ব্যবহার না হয়ে সেটা গুজব ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। একটা ছেলের মাথায় আঘাত লেগেছে। হঠাৎ একজন স্টাটাস দিয়ে দিলো, সে মারা গেছে। সঙ্গে সঙ্গে ছেলে-মেয়েরা সব বেরিয়ে গেলো।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে সব বেরিয়ে গেলো, এমনকি মেয়েরাও। আমরা ছাত্র ছিলাম, কিন্তু এমন দেখিনি। রাত ১টার সময় হলের গেট ভেঙে মেয়েরা বেয়ে পড়েছে রাস্তায়। শুধু একটা গুজবের ওপর। সেই ছেলে যখন বললো যে আমি মরি না, আমি বেঁচে আছি, তখন তাদের মুখটা থাকলো কোথায়? তাহলে এই স্ট্যাটাসটি কে দিলো এরকম মিথ্যা গুজব ছড়ানোর জন্য? এটা কেন দেওয়া হলো। এই যে মেয়েরা বেরিয়ে এসেছে, এরপর যদি কোনও অঘটন ঘটত, তার দায়-দায়িত্ব কে নিত? এটা কি একবারও কেউ চিন্তা করেছে?’
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক ঘটনা হলো ভিসির বাড়িতে আক্রমণ। আমরা তো ঢাকা বিম্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলাম। বাংলাদেশের সব আন্দোলনে সেখানে আমরা গিয়েছি। স্কুল থেকে, কলেজ থেকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি আন্দোলন করতে। কখনও কোনও ভিসির বাড়িতে যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বা ছাত্রীরা আক্রমণ করতে পারে, ভাঙচুর করতে পারে— আমরা ভাবিনি। আর সেই ভাঙচুরটা কী? ভিসির বাড়ির ওই ছবি দেখে আমার মনে পড়ছিল ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের ৩২ নম্বর বাড়িতে যেভাবে ভাঙচুর করেছিল, ঠিক একই কায়দায়। এমনকি সব লকার খুলে গহনা চুরি করা, টাকা-পয়সা চুরি করা থেকে শুরু করে বাথরুমের কমোড খুলে রাখা, সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দেওয়া। ভিসি ছিলেন, তার স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন যারা ছিল, তাদের ভয়ে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে। ভিসি সামনে এসেছিলেন, তার ওপর আঘাত পর্যন্ত করতে গেছে। যদিও অন্য ছেলেরা তাকে বাঁচিয়েছে। একতলা, দোতলা সব একেবারে তছনছ। শুধু তাই নয়, সেখানে সিসি ক্যামেরা লাগানো ছিল, তারা ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সেই ক্যামেরা ভেঙেছে এবং ক্যামেরা রেকর্ডার বক্স যেটা আছে, সেটা পর্যন্ত সরিয়ে নিয়ে গেছে। কত পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার উপযুক্ত না। বা তারা ওখানকার ছাত্র বলে আমি মনে করি না। কারণ কোনও শিক্ষার্থী তার শিক্ষককে এভাবে অপমান করতে পারে না, আঘাত করতে পারে না। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। সবচেয়ে জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে। এর তীব্র নিন্দা আমরা জানাচ্ছি যে এটা কী ধরেনের কথা!’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা দাবি জানিয়েছে। আমরাও বসে নেই। সোমবার কেবিনেট মিটিং ছিল। সেখানে আলোচনা করলাম। সিদ্ধান্ত দেওয়া হলো— সিনিয়র মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। সেইসঙ্গে আমি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিলাম, বিষয়টি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে যা কিছু দরকার, তা করা হবে। মন্ত্রী গেলেন, আলোচনায় বসলেন। একটা সমঝোতা হলো। তাদের বলা হলো, কীভাবে কী করা হবে, দেখা হচ্ছে। জনপ্রশাসন সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা বলেও দিলেন, আমি এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু কেউ কেউ মানলো না। তারা সারারাত টিএসসিতে থেকে গেলো। আলোচনা হচ্ছে, কথা হচ্ছে; কিন্তু এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে! ক্যাম্পাসে আগুন দেওয়া, ভিসির বাড়ি ভাঙচুর করা, চারুকলায় মঙ্গল শোভাযাত্রার জিনিসপত্রগুলো পুড়িয়ে দেওয়া— এগুলোর কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে।’
আন্দোলনের কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলন করতে গিয়ে মেয়েরা হল থেকে বেরিয়ে এলো। আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনি। তাদের কিছু একটা হয়ে গেলে কে দায়িত্ব নিতো? তাদের চিন্তায় আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনি। পরে আমি জাহাঙ্গীর কবির নানককে পাঠিয়েছি। তিনি গেলেন, সবার সঙ্গে কথা বললেন, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেন। তাদের ফিরে যাওয়ার কথা বলা হলো। কিন্তু তারা কিছুই মানলো না। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তো বটেই, ঢাকার বাইরেও সবাই রাস্তায় নেমে গেছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নীতি দিয়ে দেশ পরিচালিত হয়। এখন যারা আন্দোলন করছে, তারা তো আমাদেরই ছেলেমেয়ে। অনেকেই আছে যারা আমার নাতির বয়সী। কী করলে তাদের ভালো হবে, সেটা কি আমরা বুঝি না? ১৯৭২ সাল থেকে কোটা পদ্ধতি চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ে এর সংস্কার করা হয়েছে। তবে কোটা পদ্ধতিতে যাই থাকুক, যখনই নিয়োগে কোটা পূরণ না হয়, আমরা মেধাতালিকা থেকে চাকরি দিয়ে দেই।’ এ সময় ৩৩তম, ৩৫তম ও ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত নিয়োগ মেধা কোটা থেকে হওয়ার পরিসংখ্যানও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটার জন্য মেধাবীরা কেউ নিয়োগ থেকে বাদ পড়েনি। আগে কোটায় প্রার্থী না পাওয়া গেলে হয়তো সেই জায়গা পূরণ হতো না। কিন্তু আমি বলে দিলাম, যেখানে কোটায় কাউকে পাওয়া যাবে না, সেখানে মেধাতালিকা থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে। অনেকদিন থেকেই এই নিয়ম মেনে আসা হচ্ছে। আমি জানি না, তারা (আন্দোলনকারীরা) এই খবর রাখে কিনা। যারা বিসিএস দেয়, তারা তো সবাই মেধাবী। কেউ তো মেধার বাইরে নয়। কোটায় যারা আসে, তারাও তো মেধাবী। তাদেরও তো লিখিত পরীক্ষা পাস করেই আসতে হয়, তারপর চাকরি দেওয়া হয়। তাহলে আপত্তি কোন জায়গায়? তাদের কথা তো স্পষ্ট না।’
তিনি বলেন, ‘তাদের দাবিতে এক জায়গায় যে বলা আছে, কোটায় প্রার্থী না পাওয়া গেলে মেধাতালিকা থেকে পূরণ করতে হবে, এটা তো আমরা বহু আগে থেকেই কার্যকর করেছি। এটাও কি তারা জানে না? আমার দুঃখ লাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও কোনও অধ্যাপক বা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও কোনও অধ্যাপক, তারাও তাদের সঙ্গে একই সুরে কথা বলছেন। তারা দেখেনই না যে মেধাতালিকাকে অগ্রাধিকার দিয়েই আমরা নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছি। তা না হলে ৭৭ ভাগ বা ৭০ ভাগ কিভাবে মেধাতালিকা থেকে নিয়োগ পেত?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি আমার কাছে এলো। তিন দিন ধরে তারা ঘুমাতে পারছে না। ওদিকে, চৈত্র মাসের এই সময়ে তারা রাস্তায় বসে আন্দোলন করছে। তারা তো অসুস্থ হয়ে পড়বে। তারা রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে। এমনিতেই যানজট, তা আরও বাড়ছে। রোগীরা হাসপাতালে যেতে পারছে না। অফিস আদালতে মানুষ যেতে পারছে না, কাজকর্ম করতে পারছে না। জেলার জন্য কোটা সুবিধা আছে। অথচ জেলায় জেলায় তারা রাস্তায় নেমে গেছে। যারা বিভিন্ন জেলার, তারাও কোটা চায় না। কেউই যখন এই কোটা চায় না, তাহলে আর কোটার দরকার কী? আমি বলে দিলাম, কোটাই থাকবে না। কোটার দরকার নাই। ঠিক আছে, বিসিএস যেভাবে পরীক্ষা হবে, মেধা থেকে নিয়োগ হবে। কারও কোনও আপত্তি থাকার দরকার নেই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনও শ্রেণি যেন বঞ্চিত না হয়, সেইটা সংবিধানে বলা আছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, নারী, প্রতিবন্ধী— তারা যেন বঞ্চিত না হয়। সেদিকে লক্ষ্য রেখে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য কোটা রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য কোটা করেছি। আমি যখন ১৯৯৬ সালে সরকারে আসি, তখন কি একজনও নারী সচিব ছিলেন? কোনও সরকারি উচ্চ পদে নারীরা চাকরি পেতেন? পুলিশের উচ্চ পদে চাকরি পেতেন? হাইকোর্টে কি একজনও নারী জজ ছিলেন? কোথাও ছিল না, স্পিকার। পাকিস্তান আমলে একসময় জুডিশিয়ারি সার্ভিসে নারীরা ঢুকতে পারত না— এমন আইন ছিল। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা আইন করে সেই অবস্থার পরিবর্তন করেছেন। চাকরিতে নারীদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা চালু করেন। নির্যাতিত নারীদের ব্যাপারেও তিনি বলেন। সেই মেয়েরাও নেমে গেছে। কোটা সংস্কার, কোটা চায় না। এটাকে আমি ধরে নেবো, তারাও কোটা চায় না। যখন আলোচনা হয়েছে, আমাদের সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে, মেয়ে প্রতিনিধিরা বলে দিয়েছে স্পষ্ট, তারা কোটা চায় না, পরীক্ষা দিয়ে চলে আসবে। এটা শুনে আমি খুশি। নারীর ক্ষমতায়নে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি আমি। আজ সব জায়গায় নারী। প্রতিটি জায়গায় আমি বেছে বেছে দিয়েছি। সেই তারাও যখন কোটা চায় না, তখন কোটা পদ্ধতিরই দরকার নেই।’
কোটা না থাকলেও সরকার এখন কোটা সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর জন্য চাকরির ব্যবস্থা করতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা প্রতিবন্ধী, যারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য— তাদের জন্য অন্যভাবে আমরা চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারব। তারাও জয়েন করতে পারবে। কিন্তু কোটা নিয়ে এই যে আন্দোলন, আমি ছাত্রদের বলব, তাদের আন্দোলন তারা করেছে, যথেষ্ট। এখন তারা ক্লাসে ফিরে যাক।’
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভিসির বাড়ি কারা ভেঙেছে, লুটপাট কারা করেছে, লুটের মাল কোথায় আছে, কার কার কাছে আছে— ওই ছাত্রদেরই তা খুঁজে বের করে দিতে হবে। সেই সঙ্গে যারা এই ভাঙচুর-লুটপাটের সঙ্গে জড়িত, তাদের অবশ্যই বিচার হতে হবে। এরই মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাকে আমরা নামিয়েছি। এটা তদন্ত করে বের করতে হবে এবং সেই ক্ষেত্রে আমি শিক্ষক-ছাত্র তাদেরও সহযোগিতা চাই। কারণ, এত বড় অন্যায় আমরা কোনোমতে মেনে নিতে পারি না।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখনও আমাদের শিক্ষক যারা বেঁচে আছেন, তাদের যখন দেখি, আমরা তাদের সম্মান করি। আমি প্রধানমন্ত্রী হই বা যাই হই, যখন আমি শিক্ষকের কাছে যাই তখন আমি তার ছাত্রী। সেইভাবেই তাদের সাথে আচরণ করি। গুরুজনকে অপমান করে শিক্ষা লাভ করা যায় না। সেটা প্রকৃত শিক্ষা হয় না। হয়তো একটা ডিগ্রি হতে পারে, কিন্তু সেটা প্রকৃত শিক্ষা হয় না।’ প্রত্যেককেই একটা শালীনতা বজায় রেখে আইন ও নিয়ম মানতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র একটি নীতিমালার ভিত্তিতে চলে বলেই আজ স্বাক্ষরতার হার বেড়েছে, যা একসময় মাত্র ৪৫ শতাংশ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল। আমি আসার পর কঠোর হস্তে দমন করেছি। একটা নিয়মিত শিক্ষাব্যবস্থা করে দিয়েছি। শুধু তাই নয়, শিক্ষা পদ্ধতি আমরা আধুনিক করেছি। আমাদের দেশ থেকে বিএ পাস করলেও একসময় বিদেশে গিয়ে আবার ইন্টারমিডিয়েট পড়তে হতো। আমরা সেখানেও পরিবর্তন এনে দিয়েছি। সেমিস্টার সিস্টেম করে দিয়েছি। কে করেছে? সব কিন্তু আমার হাতে করা। প্রথম যখন সরকারে ছিলাম, তখনই করে দিয়েছি। গ্রেডিংয়ে নম্বর পাওয়া, সেটাও আমরা করে দিয়েছি। আধুনিকভাবে করে দিয়েছি যেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের শিক্ষার সামঞ্জস্য থাকে। আমাদের এখান থেকে বিএ পাস করে ওখানে গিয়ে যেন আবার ইন্টারমিডিয়েট পাস না করতে হয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন হল থেকে শুরু করে যত উন্নয়ন হয়েছে, তা আমাদের সরকার করে দিয়েছে, আমরা করেছি। ছাত্রদের জন্য শিক্ষার একটা সুযোগ তৈরি করা, সবই করে দিয়েছি। তারপরও তারা কিছু মানে না। আলোচনা হলো, একটা সুনির্দিষ্ট তারিখ দিলো, কেবিনেট সেক্রেটারিকে আমি দায়িত্ব দিলাম, তারা সেই সময়টা দিলো না। একদল মানি না, মানব না বলে তারা যখন বসে গেল, আস্তে আস্তে তারা সব ওদের সঙ্গে যুক্ত হলো।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুব ভালো কথা, সংস্কার সংস্কার করতে গেলে কয়েকদিন পর তো আবার আরেক দল এসে বলবে, আবার সংস্কার চাই। তো কোটা থাকলেই সংস্কার। আর না থাকলে সংস্কারের কোনও ঝামেলাই নাই। কাজেই কোটা পদ্ধতি থাকারই দরকার নাই। আর যদি দরকার হয়, আমাদের কেবিনেট সেক্রেটারি তো আছেই। তাকে তো আমি বলেই দিয়েছি, সংশ্লিষ্ট যাদের নিয়ে বসে ওই কমিটি কাজ করবে এবং সেখান থেকে তারা বিষয়টি দেখবে। কিন্তু আমি মনে করি, এই ধরনের আন্দোলন বারবার হবে। বারবার শিক্ষার সময় নষ্ট হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই যে পরীক্ষা নষ্ট হলো। যেখানে আজ পর্যন্ত সেশন জট ছিল না, অল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে পাস করে তারা চাকরি পেত। সব বেসরকারি খাত উন্মুক্ত করে দিয়েছি, সেখানে চাকরির সুযোগ আছে। অথচ এই কয়েকদিন ধরে সমস্ত ই

User Comments

  • জাতীয়