২৭ মার্চ ২০১৯ ৯:২৯:৫৩
logo
logo banner
HeadLine
স্বাধীনতার ঘোষণা , বঙ্গবন্ধুর স্বকণ্ঠে * মুজিব কান্ট্রি হতে বাংলাদেশ * সেই কালরাত আজ, আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশের * কিছু ফ্রাঙ্কেনস্টাইন শেখ হাসিনার অর্জনকে ধ্বংস করে দেবে, এদের রুখতে হবে - নাসিম * দৃষ্টির সীমা ছাড়িয়ে চলে গেলেন শাহ্‌নাজ রহমত উল্লাহ * বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ * বিশ্ব আবহাওয়া দিবস আজ * ওবায়দুল কাদের সম্পূর্ণ সুস্থ * উন্নয়নের কাজে মানুষের যেন ক্ষতি না হয় - প্রধাণমন্ত্রী * ভাসানচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনকে স্বাগত জানালো ইউএনএইচসিআর * ওটি থেকে আইসিইউতে ওবায়দুল কাদের * মাথাপিছু আয় বেড়ে ১৯০৯ ডলার * আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সকল পরীক্ষা তুলে দেওয়ার নির্দেশ * পদ্মাসেতুর রোডওয়েতে স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু, ২১ মার্চ বসছে নবম স্প্যান * ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি শুরু, দোয়া প্রার্থনা * নিউজিল্যান্ডের পর অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণেও সতর্কতা জারি করল বাংলাদেশ * বাকশাল ছিলো সর্বোত্তম পন্থা, বাকশাল থাকলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতো না - প্রধানমন্ত্রী * নিউ জিল্যান্ডে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ * নির্বাচন শেষে ফেরার পথে বাঘাইছড়িতে গুলিতে প্রিজাইডিং অফিসারসহ নিহত ৬ * '৩০ সেকেন্ড এদিক-ওদিক হলেই আমাদের লাশ দেশে ফিরতো' * বাংলাদেশের বিপ্লব, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং জাতির পিতার নেতৃত্ব * যেখানে জনক তুমি মৃত্যুঞ্জয়ী * বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা * বাঙালির একমাত্র মহানায়ক * ক্রাইস্টচার্চে হামলায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক এবং নিন্দা, সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার * ক্রাইস্টচার্চে হামলায় ৩ বাংলাদেশীসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ * বিশ্বজুড়ে ফেইসবুক ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছে * একদিনে চার রকম কথা বললেন নুর * রোহিঙ্গাদের কোথায় রাখা হবে তা বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয় * শিক্ষার জন্য শিশুদের অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়: প্রধানমন্ত্রী *
     10,2018 Thursday at 19:20:40 Share

ভ্যাটের চালান না দিলে যা করবেন

ভ্যাটের চালান না দিলে যা করবেন

ক্রেতারা ঠিকই ভ্যাট দিয়ে দোকান থেকে পণ্য কিনছেন। কিন্তু রাষ্ট্রের কোষাগারে এর একটা বড় অংশই জমা পড়ছে না। ক্রেতাদের ভ্যাটের চালান জমা না দিয়ে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী নানা কৌশলে ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হচ্ছে না। এ কারণে নাগরিকদের ভ্যাট দেওয়ার পর আগে ভ্যাটের চালান সংগ্রহ করতে পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।


এ প্রসঙ্গে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা দক্ষিণের কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভ্যাটযুক্ত পণ্য কেনার পর কোনও দোকানদার যদি ভ্যাটের চালান না দেয়, তাহলে ক্রেতা ইচ্ছে করলে ওই পণ্যের দাম না দিয়েও চলে আসতে পারেন। কারণ, আইন অনুযায়ী দোকানদার ক্রেতাকে চালান দিতে বাধ্য।’


তিনি বলেন, ‘কোনও হোটেল যদি চালান না দেয়, তাহলে খাবার খেয়ে আসবেন, কিন্তু টাকা দেবেন না। তবে কোনও প্রতিষ্ঠান যদি পণ্য বিক্রি করে গ্রাহককে ভ্যাট চালান না দেয়, তাহলে যেকোনও ভ্যাট অফিসে অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ আছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘এনবিআরের মেইল এড্রেসের মাধ্যমেও অভিযোগ দেওয়া যায়। আবার ফোন করেও অভিযোগ দেওয়া যায়। কেউ অভিযোগ দিলে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই। এছাড়া এনবিআরের মেইল এড্রেসের মাধ্যমেও অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ আছে। চালান না দেওয়ার বিষয়ে ভ্যাট অফিসগুলোতে প্রতিদিনই অভিযোগ আসে। আমরা প্রত্যেকটি অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিই।’


কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ এই চার বিভাগ মিলে নিবন্ধনকৃত হোটেলের সংখ্যা ১০০০ ও রেস্টুরেন্টের সংখ্যা ৪ হাজার ১৮৭টি। নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে আরও হাজারো হোটেল-রেস্টুরেন্ট।


সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কিছু বড় হোটেল-রেস্টুরেন্ট বাদে অধিকাংশগুলোয় ইসিআর (ইলেকট্রনিক ক্যাশ রিডার)ব্যবহার করা হয় না। যদিও ইসিআর এ বিল নেওয়া বাধ্যতামূলক। ভ্যাট ফাঁকি দিতেই ইসিআর ব্যবহারে অনুৎসাহী ব্যবসায়ীরা।


ছোট ও মাঝারি রেস্তোরাঁগুলোয়ও ইসিআরে বিল নেওয়া হয় না। অধিকাংশ দোকানে তাদের নিজস্ব প্যাডে বিল কাটা হচ্ছে। যেখানে কোনও ভ্যাট নেওয়া হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বছরের কিছু নির্দিষ্ট সময়ে তাদের বিক্রিতে মন্দাভাব থাকে। এছাড়া, রাজনৈতিক হয়রানি, চাঁদাবাজিসহ নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে ব্যবসা করতে হয়। পুলিশকে খুশি করা, দলীয় নেতাকর্মী, রাজস্ব কর্মকর্তা, এমনকি ক্রেতার গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে হয়। আর দোকানে আসা ক্রেতারা সবসময় ভ্যাট দিতে রাজিও হন না। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানে ভ্যাট নেওয়া হয় তারা জানান, ব্যবসায় বিনিয়োগের সব খরচ মিটিয়ে ভ্যাটের পুরো টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয় না।


রাজধানীর বেশক’জন হোটেল, রেস্তোরাঁ মালিক জানান, যদি হয়রানি, চাঁদাবাজি বন্ধ করা যায় তবে ভ্যাটের পুরো টাকাই সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া সম্ভব।


এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সারাদেশে ২৫ লাখ দোকান আছে। এরমধ্যে ঢাকায় রয়েছে সাড়ে ৩ লাখেরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ইসিআর মেশিন ব্যবহার করে এক হাজার দোকান।’


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ভ্যাট দেন মাত্র ৬০ হাজার দোকান মালিক। বাকি  দোকানিরা কৌশলে ভ্যাট ফাঁকি দেন। এই ভ্যাট ফাঁকি বন্ধে সারাদেশের সব দোকানে ইসিআর ও পিওএস মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। দোকান মালিকদের, তাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে ইসিআর মেশিন স্থাপন নিশ্চিত করতে বলেছে এনবিআর।


মূসক নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক এএফএম আবদুল্লাহ খান বলেন, ‘যদি কোনও পণ্য কেনেন, তাহলে তারা চালান দিতে বাধ্য। কোনও প্রতিষ্ঠান চালান দিতে না চাইলে জোর করে নেবেন। তারপরও কেউ না দিলে এনবিআরে অভিযোগ করতে পারেন। রাজধানীর চারটি কমিশনারেট অফিস আছে। যে দোকান যে এলাকার মধ্যে পড়বে, সে ওই এলাকার অফিসে অভিযোগ দিতে পারবে। মূসক গোয়েন্দা অফিসেও অভিযোগ দেওয়া যাবে। এনবিআরকে জানাতে পারেন।’


তিনি বলেন, ‘ভ্যাটযুক্ত পণ্য বিক্রি করলে অবশ্যই ক্রেতাকে চালান দিতে হবে। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন থাকতে হবে। চালানে ওই রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকতে হবে। ক্রেতার দেওয়া ভ্যাট সরকারের কোষাগারে পৌঁছালো কিনা তা জানারও সুযোগ আছে। ক্রেতা কতটাকা টাকা ভ্যাট দিলেন আর সরকারের কোষাগারে কতটাকা গেল সেটাও জানার সুযোগ আছে। যে কোনও ভ্যাট অফিসে গিয়ে অনলাইনেই ভ্যারিফাই করা যায়।’


জানা গেছে, এনবিআরের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি এনবিআরের অধীনে সারাদেশের ভ্যাট কমিশনারেটের ওয়েবসাইট, মেইলে অভিযোগ জানানোর সুযোগ আছে।


কোনও এলাকার আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে দেখতে যেমন পুলিশ বিভাগের জন্য থানা আছে, তেমনি কোনও এলাকার ভ্যাট আদায়ের জন্যও একটি লোকাল সার্কেল অফিস আছে। সার্কেল অফিস ডিভিশন অফিসের অধীনে কাজ করে। সার্কেল ও ডিভিশন অফিসের নিয়ন্ত্রক হলো কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট। সেখানে জানালেও দ্রুত ফল পাওয়া যায়। পুলিশের যেমন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আছে, তেমনি ভ্যাটের বিশেষ ও ব্যতিক্রমী কাজ করতে মূসক গোয়েন্দা রয়েছে।


বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সবাইকে গুরুত্ব দেয়। কেউ চাইলে এনবিআর, ভ্যাট কমিশনারেটসমূহ ও মূসক গোয়েন্দার ফেসবুক পেজে ছবিসহ অভিযোগ দিতে পারেন। প্রত্যেক এলাকার ভ্যাট ইউনিটের পৃথক নিবন্ধন নম্বর রয়েছে।


প্রসঙ্গত, ২০০৯ থেকে নির্দিষ্ট ১১টি ব্যবসায় ইসিআর চালান প্রদান বাধ্যতামূলক। ১১টি ব্যবসা হলো- হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান, ফার্নিচারের শোরুম, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমলের দোকান, সুপারশপ, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, জেনারেল স্টোর, জুয়েলার্স। একটি যথার্থ ইসিআর চালানের প্রিন্ট কপিতে যা উল্লেখ থাকতে হবে:


 ১।প্রতিষ্ঠানের মূসক নিবন্ধন নম্বর, নাম, ঠিকানা


 ২।চালান ইস্যুর তারিখ, সময়


 ৩।চালানের সিরিয়াল নম্বর


 ৪।সার্ভিস চার্জসহ যোগফলের ওপর ১৫% ভ্যাটের পরিমাণ


 ৫।ভ্যাটসহ মূল্য হলে ‘ভ্যাট ইনক্লুসিভ’


 ৬।ফিসক্যাল শব্দের উদ্ধৃতি


 ৭।‘মূসক ১১ক’ লেখা থাকতে হবে।


করণীয়:।


ইসিআর জেনারেটেড চালানে ওপরের তথ্যগুলো না দেখতে পেলে,.


১।ভ্যাট নিবন্ধনপত্র দেখতে চান,


২।ভ্যাট কমিশনারেট থেকে প্রদত্ত ইসিআর মেশিন ব্যবহারের অনুমতিপত্র দেখতে চান,.৪


৩।ইসিআর মেশিনে পূর্ববতী দিনগুলোর বিক্রয়ের হিসাব আছে কিনা দেখতে চান!


।বাংলা ট্রিবিউন।

User Comments

  • ব্যবসা ওঅর্থনীতি