১৯ জানুয়ারি ২০১৯ ৪:৩৫:০৮
logo
logo banner
HeadLine
এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের * সাভারে ধর্ষণ মামলার মুল আসামির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার * 'সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে, এখন দুর্নীতি করলে ছাড় দেওয়া হবে না' * প্রধানমন্ত্রীর নামে ৬টি ভুয়া ফেসবুক পেইজসহ ৩৬টি পেইজ চালাতেন ফারুক * কোচিং বাণিজ্য বন্ধসহ ৫ নির্দেশনা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী * নির্বাচন নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত - তথ্যমন্ত্রী * টিআইবির প্রতিবেদন ভিত্তিহীন - সিইসি * সরকারের শুরুতেই সুশাসন প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু * বিশ্বের বৃহত্তম দোসা বানালেন চেন্নাইয়ের একদল রাঁধুনি * কমোডের চেয়েও বেশি জীবাণু স্মার্টফোনে! * সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু * অস্থির বাজারেও চালের দাম কমছে খাতুনগঞ্জে * ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নবম ওয়েজবোর্ডের প্রজ্ঞাপন জারি: তথ্যমন্ত্রী * মালিক-শ্রমিক-সরকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, ৬ গ্রেডে বেতন বাড়ল পোশাকশ্রমিকদের * দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে: প্রধানমন্ত্রী * সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা, কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এলাকা আটকানোর পরিকল্পনা * গণতন্ত্রের স্বার্থে সংসদে আসা উচিত : প্রধানমন্ত্রী * নতুন সরকার ও দল শক্তিশালী করতে করণীয় নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আজ প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক * আগামী ৫ দিন দেশব্যাপী বইবে মৃদু থেকে মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ থাকবে কুয়াশাও * ওরা যেন আর ফিরে না আসে - নির্বাচনে অগ্নিসন্ত্রাসীদের প্রত্যাখ্যান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী * জাতির পিতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা সদস্যদের শ্রদ্ধা * আজ জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস * পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত, অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ, বিজিবি মোতায়েন * একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে ৩০ জানুয়ারি * সন্দ্বীপে গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা মনির নিহত * নতুন বাংলাদেশ গড়তে দৃঢ় প্রত্যয়ী প্রধানমন্ত্রী * ৮৭ হাজার গ্রামকে উন্নয়নের মূল ধারায় আনার লক্ষ্যেই সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষনার প্রস্তুতি * শপথ নিলেন মন্ত্রিপরিষদের ৪৭ সদস্য * চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা * বাংলাদেশ পুরো বিশ্বে সফল দেশ হিসেবে পরিচিত - হর্ষবর্ধন শ্রিংলা *
     10,2018 Thursday at 19:20:40 Share

ভ্যাটের চালান না দিলে যা করবেন

ভ্যাটের চালান না দিলে যা করবেন

ক্রেতারা ঠিকই ভ্যাট দিয়ে দোকান থেকে পণ্য কিনছেন। কিন্তু রাষ্ট্রের কোষাগারে এর একটা বড় অংশই জমা পড়ছে না। ক্রেতাদের ভ্যাটের চালান জমা না দিয়ে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী নানা কৌশলে ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হচ্ছে না। এ কারণে নাগরিকদের ভ্যাট দেওয়ার পর আগে ভ্যাটের চালান সংগ্রহ করতে পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।


এ প্রসঙ্গে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা দক্ষিণের কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভ্যাটযুক্ত পণ্য কেনার পর কোনও দোকানদার যদি ভ্যাটের চালান না দেয়, তাহলে ক্রেতা ইচ্ছে করলে ওই পণ্যের দাম না দিয়েও চলে আসতে পারেন। কারণ, আইন অনুযায়ী দোকানদার ক্রেতাকে চালান দিতে বাধ্য।’


তিনি বলেন, ‘কোনও হোটেল যদি চালান না দেয়, তাহলে খাবার খেয়ে আসবেন, কিন্তু টাকা দেবেন না। তবে কোনও প্রতিষ্ঠান যদি পণ্য বিক্রি করে গ্রাহককে ভ্যাট চালান না দেয়, তাহলে যেকোনও ভ্যাট অফিসে অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ আছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘এনবিআরের মেইল এড্রেসের মাধ্যমেও অভিযোগ দেওয়া যায়। আবার ফোন করেও অভিযোগ দেওয়া যায়। কেউ অভিযোগ দিলে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই। এছাড়া এনবিআরের মেইল এড্রেসের মাধ্যমেও অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ আছে। চালান না দেওয়ার বিষয়ে ভ্যাট অফিসগুলোতে প্রতিদিনই অভিযোগ আসে। আমরা প্রত্যেকটি অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিই।’


কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ এই চার বিভাগ মিলে নিবন্ধনকৃত হোটেলের সংখ্যা ১০০০ ও রেস্টুরেন্টের সংখ্যা ৪ হাজার ১৮৭টি। নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে আরও হাজারো হোটেল-রেস্টুরেন্ট।


সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কিছু বড় হোটেল-রেস্টুরেন্ট বাদে অধিকাংশগুলোয় ইসিআর (ইলেকট্রনিক ক্যাশ রিডার)ব্যবহার করা হয় না। যদিও ইসিআর এ বিল নেওয়া বাধ্যতামূলক। ভ্যাট ফাঁকি দিতেই ইসিআর ব্যবহারে অনুৎসাহী ব্যবসায়ীরা।


ছোট ও মাঝারি রেস্তোরাঁগুলোয়ও ইসিআরে বিল নেওয়া হয় না। অধিকাংশ দোকানে তাদের নিজস্ব প্যাডে বিল কাটা হচ্ছে। যেখানে কোনও ভ্যাট নেওয়া হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বছরের কিছু নির্দিষ্ট সময়ে তাদের বিক্রিতে মন্দাভাব থাকে। এছাড়া, রাজনৈতিক হয়রানি, চাঁদাবাজিসহ নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে ব্যবসা করতে হয়। পুলিশকে খুশি করা, দলীয় নেতাকর্মী, রাজস্ব কর্মকর্তা, এমনকি ক্রেতার গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে হয়। আর দোকানে আসা ক্রেতারা সবসময় ভ্যাট দিতে রাজিও হন না। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানে ভ্যাট নেওয়া হয় তারা জানান, ব্যবসায় বিনিয়োগের সব খরচ মিটিয়ে ভ্যাটের পুরো টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয় না।


রাজধানীর বেশক’জন হোটেল, রেস্তোরাঁ মালিক জানান, যদি হয়রানি, চাঁদাবাজি বন্ধ করা যায় তবে ভ্যাটের পুরো টাকাই সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া সম্ভব।


এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সারাদেশে ২৫ লাখ দোকান আছে। এরমধ্যে ঢাকায় রয়েছে সাড়ে ৩ লাখেরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ইসিআর মেশিন ব্যবহার করে এক হাজার দোকান।’


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ভ্যাট দেন মাত্র ৬০ হাজার দোকান মালিক। বাকি  দোকানিরা কৌশলে ভ্যাট ফাঁকি দেন। এই ভ্যাট ফাঁকি বন্ধে সারাদেশের সব দোকানে ইসিআর ও পিওএস মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। দোকান মালিকদের, তাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে ইসিআর মেশিন স্থাপন নিশ্চিত করতে বলেছে এনবিআর।


মূসক নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক এএফএম আবদুল্লাহ খান বলেন, ‘যদি কোনও পণ্য কেনেন, তাহলে তারা চালান দিতে বাধ্য। কোনও প্রতিষ্ঠান চালান দিতে না চাইলে জোর করে নেবেন। তারপরও কেউ না দিলে এনবিআরে অভিযোগ করতে পারেন। রাজধানীর চারটি কমিশনারেট অফিস আছে। যে দোকান যে এলাকার মধ্যে পড়বে, সে ওই এলাকার অফিসে অভিযোগ দিতে পারবে। মূসক গোয়েন্দা অফিসেও অভিযোগ দেওয়া যাবে। এনবিআরকে জানাতে পারেন।’


তিনি বলেন, ‘ভ্যাটযুক্ত পণ্য বিক্রি করলে অবশ্যই ক্রেতাকে চালান দিতে হবে। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন থাকতে হবে। চালানে ওই রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকতে হবে। ক্রেতার দেওয়া ভ্যাট সরকারের কোষাগারে পৌঁছালো কিনা তা জানারও সুযোগ আছে। ক্রেতা কতটাকা টাকা ভ্যাট দিলেন আর সরকারের কোষাগারে কতটাকা গেল সেটাও জানার সুযোগ আছে। যে কোনও ভ্যাট অফিসে গিয়ে অনলাইনেই ভ্যারিফাই করা যায়।’


জানা গেছে, এনবিআরের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি এনবিআরের অধীনে সারাদেশের ভ্যাট কমিশনারেটের ওয়েবসাইট, মেইলে অভিযোগ জানানোর সুযোগ আছে।


কোনও এলাকার আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে দেখতে যেমন পুলিশ বিভাগের জন্য থানা আছে, তেমনি কোনও এলাকার ভ্যাট আদায়ের জন্যও একটি লোকাল সার্কেল অফিস আছে। সার্কেল অফিস ডিভিশন অফিসের অধীনে কাজ করে। সার্কেল ও ডিভিশন অফিসের নিয়ন্ত্রক হলো কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট। সেখানে জানালেও দ্রুত ফল পাওয়া যায়। পুলিশের যেমন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আছে, তেমনি ভ্যাটের বিশেষ ও ব্যতিক্রমী কাজ করতে মূসক গোয়েন্দা রয়েছে।


বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সবাইকে গুরুত্ব দেয়। কেউ চাইলে এনবিআর, ভ্যাট কমিশনারেটসমূহ ও মূসক গোয়েন্দার ফেসবুক পেজে ছবিসহ অভিযোগ দিতে পারেন। প্রত্যেক এলাকার ভ্যাট ইউনিটের পৃথক নিবন্ধন নম্বর রয়েছে।


প্রসঙ্গত, ২০০৯ থেকে নির্দিষ্ট ১১টি ব্যবসায় ইসিআর চালান প্রদান বাধ্যতামূলক। ১১টি ব্যবসা হলো- হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান, ফার্নিচারের শোরুম, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমলের দোকান, সুপারশপ, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, জেনারেল স্টোর, জুয়েলার্স। একটি যথার্থ ইসিআর চালানের প্রিন্ট কপিতে যা উল্লেখ থাকতে হবে:


 ১।প্রতিষ্ঠানের মূসক নিবন্ধন নম্বর, নাম, ঠিকানা


 ২।চালান ইস্যুর তারিখ, সময়


 ৩।চালানের সিরিয়াল নম্বর


 ৪।সার্ভিস চার্জসহ যোগফলের ওপর ১৫% ভ্যাটের পরিমাণ


 ৫।ভ্যাটসহ মূল্য হলে ‘ভ্যাট ইনক্লুসিভ’


 ৬।ফিসক্যাল শব্দের উদ্ধৃতি


 ৭।‘মূসক ১১ক’ লেখা থাকতে হবে।


করণীয়:।


ইসিআর জেনারেটেড চালানে ওপরের তথ্যগুলো না দেখতে পেলে,.


১।ভ্যাট নিবন্ধনপত্র দেখতে চান,


২।ভ্যাট কমিশনারেট থেকে প্রদত্ত ইসিআর মেশিন ব্যবহারের অনুমতিপত্র দেখতে চান,.৪


৩।ইসিআর মেশিনে পূর্ববতী দিনগুলোর বিক্রয়ের হিসাব আছে কিনা দেখতে চান!


।বাংলা ট্রিবিউন।

User Comments

  • ব্যবসা ওঅর্থনীতি