৩ জুন ২০২০ ১৬:৩০:৪৯
logo
logo banner
HeadLine
২ জুন : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২০৬ * জনগণের কল্যাণের কথাই সরকার সবচেয়ে বেশি চিন্তা করছে : প্রধানমন্ত্রী * ২ জুন :দেশে আজ শনাক্ত ২৯১১, মৃত ৩৭ * ১ জুন : চট্টগ্রামে আজ শনাক্ত আরও ২০৮ * আক্রান্ত ও মৃত্যু অনুযায়ী সারা দেশকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা * সচিবালয়ে ২৫ শতাংশের বেশি কর্মকর্তার অফিস নয় * ১ জুন :দেশে আজ শনাক্ত ২৩৮১, মৃত ২২ * করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ২ হাজার কোটি টাকা সুদ মওকুফের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর * ৩১ মে :দেশে সর্বোচ্চ শনাক্তের সাথে আজ মৃতও সর্বোচ্চ, শনাক্ত ২৫৪৫ মৃত ৪০ * এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৮২.৮৭ * এখনই খুলছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : প্রধানমন্ত্রী * ভাড়া বাড়ছে না রেলের, সব টিকিট অনলাইনে * ৩০ মে: চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২৭৯ * বসলো ৩০তম স্প্যান, দৃশ্যমান হলো পদ্মাসেতুর সাড়ে ৪ কিলোমিটার * স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মাঠে থাকছে ভ্রাম্যমান আদালত * করোনা প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের আরও সম্পৃক্তির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর * ৩০ মে : দেশে আজ শনাক্ত আরও ১৭৬৪, মৃত ২৮ * স্বাস্থ্যবিধি মতো পরিস্থিতি মানিয়ে চলার ওপর গুরুত্ব সরকারের * সব হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ * ২৯ মে : পরীক্ষার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমন, দেশে আজ শনাক্ত আরও ২৫২৩ * করোনা পরীক্ষার অনুমতি পেল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় * ২৮ মে: চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২২৯ * এ পর্যন্ত ৬ কোটি মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে সরকার * সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল, বৃষ্টিপাত থাকতে পারে আরও ৩ দিন * ২৮ মে : দেশে আজ শনাক্ত আরও ২০২৯, মৃত ১৫ * ১৫ শর্তে ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত চলাচল সীমিত করে অফিস ও গণপরিবহন চালু * চট্টগ্রাম সিটিতে ১২টি করোনা টেস্টিং বুথ বসানোর উদ্যোগ মেয়রের * ২৭ মে : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২১৫ * ২৭ মে : দেশে আজ শনাক্ত আরও ১৫৪১, মৃত ২২ * সহসাই অনলাইন সংবাদ পোর্টালের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার হবে : তথ্যমন্ত্রী *
     03,2018 Sunday at 08:54:39 Share

চলমান মাদকবিরোধী অভিযান : টেকনাফের ৩ পরিবারের ২৬ সদস্য আত্মগোপনে

চলমান মাদকবিরোধী অভিযান : টেকনাফের ৩ পরিবারের ২৬ সদস্য আত্মগোপনে

টেকনাফের হ্যাট্রিক বিজয়ী পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তোলপাড় চলছে। নিহত একরামের স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে দাবি করেছেন। পাশাপাশি একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছেন। যেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন একরামের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোন অভিযোগ পাওয়া না গেলেও ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করবে একজন ম্যাজিস্ট্রেট। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। শনিবার ঢাকায় পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেতুমন্ত্রী একরাম নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানান।


উল্লেখ্য, ২৬ মে টেকনাফ পৌর মেয়র একরামুল হক র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন এবং তিনি একজন মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে র‌্যাবের পক্ষ থেকে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগম দাবি করেছেন, অন্যায়ভাবে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে।


প্রসঙ্গত একরাম নিহত হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলে আসার পর এটি ভাইরাল হয়েছে। কন্যার সঙ্গে একরামের মোবাইল ফোনে কথাবার্তা এবং স্ত্রী আয়েশার পক্ষে উপর্যুপরি স্বামীর খোঁজখবর নেয়ার কথপোকথন সচেতন সব শ্রেণী ও পেশার মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকার পক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ঘটনা নিয়ে তদন্তসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান দিলেন।


লাপাত্তা তিন পরিবারের ২৬ শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী ॥ ৯০ দশকের শুরু থেকে মিয়ানমারে উৎপাদিত মাদক ইয়াবার চালান বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করে। চালানের পর চালান হজম হতে থাকায় মিয়ানমারে চালু রয়েছে ৩৭টি ইয়াবা উৎপাদনকারী কারখানা। শুরু থেকে টেকনাফের আলোচিত তিন পরিবারের ২৬ জন ইয়াবা চোরাকারবারে শীর্ষ পর্যায়ে স্থান করে নেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রণীত এ লিস্টে রয়েছে, আলোচিত টেকনাফের সাইফুল করিম, জাফর চেয়ারম্যান, জিয়াউর রহমান, আবদুর রহমানসহ শীর্ষস্থানীয় ইয়াবা চোরাকারবারির নাম। স্থানীয় এমপি আবদুর রহমান বদির নামও ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ওই নাম বাদ পড়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মনে করেন, এমপিই ইয়াবা চোরাচালানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তার ইশারা ইঙ্গিত এবং বখরাপ্রাপ্তি ছাড়া মিয়ানমার থেকে ইয়াবার কোন চালান বাংলাদেশে আনার সুযোগ তিরোহিত। একদিকে তিনি ধনাঢ্য, অন্যদিকে সরকার দলীয় রাজনীতির স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতা। সঙ্গত কারণে আইন তাকে স্পর্শ করতে পারে না এবং পাশাপাশি তার নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়াবা পাচারকারীদেরও কেশাঘ্র স্পর্শ করা যায়নি। তবে এরা গত ৪ মে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর লাপাত্তা হয়ে গেছে। এমপি বদিও চলে গেছেন সৌদি আরবে ওমরা হজ পালনে। সেলফি দিয়ে তার অনুগতরা বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে দিয়েছে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রণীত লিস্টে দেখা যায়, বদি পরিবারের ৫ সহোদরসহ ১৫, জাফর চেয়ারম্যান পবিরারের ৫, সাইফুল করিম পরিবারের আবদুল্লাহসহ ৬ জন শীর্ষস্থানীয় ইয়াবা চোরাকারবারি হিসেবে চিহ্নিত করা আছে। উল্লেখ্য, আবদুল্লাহ টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। মূলত মিয়ানমার থেকে টেকনাফে স্থলপথ ও সমুদ্রপথই ইয়াবার চালান আসে। এ দুপথে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের ঘুমধুম স্থল সীমান্ত দিয়ে অসংখ্য চালান আন হয়েছে। সাইফুল করিম ওরফে ইউয়াবা সাইফুল ওরফে হাজী সাইফুল করিম মূলত চট্টগ্রাম থেকেই ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের রয়েছেন। এদের অনেকের বিরুদ্ধে চোরাচালান সংক্রান্তি একাধিক মামলাও রয়েছে।


উপজেলা টেকনাফের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাডারদের দিয়ে ইয়াবার চালান সর্র্বপ্রথম বাংলাদেশে নিয়ে আসে সাইফুল করিম। তৎকালীন বিএনপির সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ ও তার সহোদর আবদুর রহমান এবং জিয়াউর রহমান জড়িয়ে পড়ে ইয়াবা চোরাচালানে। চেয়ারম্যান জাফর আলম, তার তিনপুত্র মোস্তাক, শাহজাহান ও দিদার, হৃলার নুর মাহাম্মদ, টেকনাফের যোবাইর, মোজাম্মেলন, যুবদল নেতা আবদুল্লাহ, রেজাউল করিম রেজু, হাসান আলীসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি গ্রুপ ইয়াবা পাচার কাজে জড়িত হয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় এমপি আবদুর রহমান বদি পরিবারের ৫ ভাই (সৎ) আবদুস শুক্কুর, মৌলভী মজিবুর রহমান, আবদুল আমিন, শফিক ও ফয়সাল, ভাগিনা নিপুণ, বদির ফুফুতো ভাই সৈয়দ আলম, হায়দার আলী ও তার পুত্রসহ ১৫ সদস্য ইয়াবা চোরাচালান কারবারে যুক্ত হন। বদির সহোদর আবদুস শুক্কুর ও শফিকের বিরুদ্ধে ইয়াবা চোরাচালান সংক্রান্তে একাধিক মামলা রয়েছে। গত ৪ মে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পরও এদের অনেককে প্রকাশ্যে দেখা যায়। কিন্তু অভিযান জোরদার হতে থাকায় পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এরা সকলেই গা ঢাকা দিয়েছে। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রণজিত বড়–য়া শনিবার জানান, মাদক স¤্রাটরা যাবে কোথায়। আজ বা কাল হোক একদিন না একদিন এরা এলাকায় আসবে। মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাব ও পুলিশের অভিযান কখনও একক কখনও যৌথভাবে চলমান থাকবে। জনকন্ঠ।


 

User Comments

  • আরো