২২ আগস্ট ২০১৮ ২:৭:৩৮
logo
logo banner
HeadLine
সন্দ্বীপবাসীকে ইদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন মেয়র * খালেদা-তারেক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সরাসরি জড়িত: প্রধানমন্ত্রী * কাল পবিত্র ইদ উল আযহা * কুরবানি কি ? কুরবানির গুরত্বপূর্ণ মাসয়ালা মাসায়েল * ২১ আগস্ট, রক্তাত্ত ২১ আগস্ট * তাকবীরে তাশরীক কি এবং কখন পড়তে হয় * বিমান বহরে যুক্ত হল বোয়িং ৭৮৭ 'আকাশবীণা' * কুরবানির জন্য সুস্থ ও ভালো পশু চেনার উপায় * আজ হজ, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাত ময়দান * সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সায়মা ওয়াজেদের কোনো আইডি নেই * চক্রান্ত চলছে, গোপন বৈঠক হচ্ছে, আমরাও প্রস্তুত আছি - কাদের * হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু : মিনায় যাচ্ছেন হাজিরা * খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের সমাবেশ প্রাক্কালে সন্ত্রাসীদের গুলি, নিহত ৬ * কফি আনান আর নেই * মোটা তাজা কোরবানির পশু ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি * গুজবই ভরসা , সরকার হটাতে বিরোধীদের অপচেষ্টা * নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বেশ কিছু নির্দেশনা * ডাক্তাররা রোগীকে মেরে ফেলতে চান না, তারা অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন:প্রধানমন্ত্রী * জিলহজ মাসের আমলসমূহ * ডিসেম্বারের শেষ সপ্তাহে সংসদ নির্বাচন, তফসিল নবেম্বরের প্রথমে * সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনায় সন্দ্বীপের এক পিতা ৩ কন্যাসহ নিহত, মাতা ও ১ পুত্র আহত * বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহতের সঙ্গে জিয়া জড়িত ছিল : শেখ হাসিনা * বাংলাদেশে আর কোনদিন খুনীদের রাজত্ব আসবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা * হেলিকপ্টারে পদ্মা সেতুর অগ্রগতি দেখছেন প্রধানমন্ত্রী * ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির মৃত্যু * দেশীয় গরুতে কোরবানি * বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য * সাগরে মৌসুমী নিম্নচাপ, ৩ নং সতর্ক সংকেত * সৌদি আরবে আরও ৫ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু * বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা *
     06,2018 Wednesday at 16:49:51 Share

ইতিকাফের বিধান, গুরত্ব ও ফযিলত

ইতিকাফের বিধান, গুরত্ব ও ফযিলত

আরবি ইতিকাফ শব্দের আভিধানিক অর্থ অবস্থান করা, স্থির থাকা, কোনো স্থানে আটকে পড়া বা আবদ্ধ হয়ে থাকা। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় রমজান মাসের শেষ দশ দিন অথবা অন্য কোনো দিন জাগতিক কাজকর্ম ও পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইবাদতের নিয়তে মসজিদে বা ঘরে নামাজের স্থানে অবস্থান করা ও স্থির থাকাকে ইতিকাফ বলে। ইতিকাফ করার মূল উদ্দেশ্য হলো— মসজিদে বসে আল্লাহর আনুগত্য করা এবং সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ লাভ, সওয়াব অর্জন ও লাইলাতুল কদর লাভ করার আশা করা। আর এজন্য প্রত্যেক ইতিকাফকারীর আল্লাহর জিকির, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, নামাজ-রোজা, জিকির-আজকার, দোয়া-দরুদ, মোরাকাবা-মোশাহেদা ও অন্যান্য ইবাদতে ব্যস্ত থাকা এবং পার্থিব বিষয়ে কথাবার্তা ও আলাপ-আলোচনা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।


মা হযরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রমজানের শেষ দশক উপনীত হওয়ার পর আল্লাহর রাসুল (সাঃ) সংসার ধর্ম পালন ক্ষেত্রে সংযম অবলন্বন করতেন এবং ইবাদতের জন্য কোমর বেঁধে নিতেন। সারারাত জেগে কাটাতেন এবং পরিবারের সবাইকে জাগ্রত থাকতে বলতেন। (বোখারী ও মুসলিম)  রমজানের  পবিত্রতম দিনগুলিতে পাপমুক্তি ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মহানেয়ামত অর্জিত হয় শেষ দশকের ইতিকাফের মাধ্যমে। ইবনে কায়িম (রহঃ) বলেন, মহান আল্লাহর সঙ্গে আত্মার সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। সব ব্যস্ততামুক্ত হয়ে আল্লাহর ধ্যানমগ্ন হওয়া। পার্থিব সব ধরনের সংশ্রব ত্যাগ করে একমাত্র আল্লাহর সান্নিধ্যে এসে তাঁর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন। একলাস খাঁটি নিয়ত ও আন্তরিকতাপুর্ণ ইতিকাফ অবশ্যই সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত-এতে এতটুকু সন্দেহ নেই। কারণ, ইতিকাফ জগতের তাবত মায়াজাল ছিন্ন করে নিজেকে মহান আল্লাহর হাতে সমর্পণ করতে হয়। একমাত্র তারই ধ্যানে মগ্ন হতে হয়। তাঁর দুয়ারে পড়ে থাকতে হয়। ইতিকাফের গুরুত্ব তাৎপর্য ও ফজিলত অপরিসীম। ইতিকাফ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে-আমি ইব্র্র্র্র্র্রাহিম ও ইসমাইলকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু সিজদাকারীর জন্য আমার ঘর (বাইতুল্লাহ) পবিত্র রাখতে আদেশ করে ছিলাম। (সুরা বাকারা -১২৫)। ইতিকাফের অশেষ সওয়াব ও সওয়াব সম্পর্কে হাদিস শরীফে এরশাদ হয়েছে-ইতিকাফকারী সব গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে। সফল সৎ কর্মশীল যত ধরনের সৎ কর্ম করে থাকে, ইতিকাফকারীর জন্য সেসবের অনুরূপ সওয়াব লেখা হয়। (যদি ও সে ইতিকাফের কারণে অনেক নেক কাজ করতে পারেন না)।


ইতিকাফ তিন প্রকার ওয়াজিব সুন্নত নফল। ইতিকাফ মানত করলে তা ওয়াজিব হয়ে যায়। রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কেফায়া। কিছু লোক আদায় করলে দায়মুক্ত হবে। যে কোন সময় অল্প- অধিক যতটুকু সময়ের জন্য হোক ইচ্ছামত মসজিদে প্রবেশের সময় ইতিকাফের নিয়াত করলে নফল ইতিকাফ হয়ে থাকে। এর কোন নির্ধারিত সময়কাল নেই। যে কোন সময় মসজিদে প্রবেশকালে নফল ইতিকাফের নিয়ত করলে মসজিদে অবস্থানের পর নফল ইতিকাফের সওয়াব পাওয়া যাবে। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। ওফাত পর্যন্ত তিনি ইতিকাফ করে গেছেন। ওফাতের পর তার সহধর্মীনিরা ইতিকাফ করতেন। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, হযরত রসুল (সাঃ) রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু ওফাতের বছর ২০ দিন ইতিকাফ করে গেছেন।


রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফের মহান লক্ষ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে। শবে কদরের অনুসন্ধান। কেবল ২৭ রমজান রাতে শবে কদর হওয়া সুনিশ্চিত নয়। শেষ দশকের বেজোড় পাঁচ রাতে শবে কদর নিহিত রয়েছে। একজন মানুষ যতক্ষণ ইতিকাফে থাকে তার পুরো সময়টা ইবাদত হিসাবে গণ্য হয়। যারা ইতিকাফে থাকেন তারা ইবাদতের প্রতি অধিক মনোযোগী হয়ে থাকেন। ফলে যে রাতে শবে কদর হয় শেষ দশকে ইতিকাফকারীরা তার ফজিলত পেয়ে থাকেন। শবে কদরের খোঁজে রসুল (সাঃ) ইবাদত করতে বলে হাদিসে উল্লেখ পাওয়া যায়। ইতিকাফের একটি বিশেষ উপকারিতা হচ্ছে মসজিদে অবস্থানের মাধ্যমে সব গোনাহ থেকে আত্মরক্ষা করা। হাদিসেও রয়েছে ইতিকাফকারীরা গোনাহ থেকে বিরত থাকে। ইতিকাফ যেন গোনাহ ও পাপ থেকে আত্মরক্ষার মজবুত বর্ম।


পুরুষদের মত মহিলারা ইতিকাফ করতে পারেন। বাসায় বাড়ীতে নামাযের নির্ধারিত স্থান তাদের ইতিকাফ স্থল। রসুল (সাঃ)এর সহধর্মীনিরা নিজ হুজরায় ইতিকাফ করতেন। রমজানে অধিক নেক আমল করা যতনা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, পাপকাজ থেকে  বেঁচে থাকা অধিক গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। আর সে উদ্দেশ্য সফলে ইতিকাফ মুখ্য ভুমিকা রাখে। শবে কদর প্রাপ্তি রমজানের প্রভুত রহমত বরকত ও মাগফিরাত ও নাজাত। অশেষ সওয়াব লাভ এবং পাপ থেকে আত্মরক্ষার জন্য হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সাহাবায়ে কেরামসহ যুগে যুগে পীর আওলীয়া তাদের মুরিদ, ভক্ত অনুরক্ত সর্বোপরি পরহিযগার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইতিকাফ করেছেন আশা আগ্রহ নিয়ে। অফুরন্ত সওয়াব অবারিত রহমত লাভের সুবর্ণ সুযোগটি আমাদের কাজে লাগানো দরকার। 


ইতিকাফ তিন প্রকার এর মধ্যে ওয়াজিব ইতিকাফ : ওয়াজিব ইতিকাফ হল, নযর মান্নতের ইতিকাফ এ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি মনস্থ করে যে, আমার অমুক কাজ সমাধান হলে বা অমুক আশা পূরন হলে আমি ইতিকাফ করব। অথবা নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত ইতিকাফের নিয়ত করে। তবে তার উপর ইতিকাফ ওয়াজিব হয়ে যায়। এবং নিয়তকৃত মেয়াদপুর্ণ করা তার জন্য কর্তব্য।


সুন্নত ইতিকাফ : রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ এ শ্রেনীর অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ)  এ দিনগুলিতে ইতিকাফ করেছেন। রমজানের বিশ তারিখ সন্ধ্যা অর্থাৎ সুর্যাস্তের সময় থেকে তা শুরু করতে হয় এবং ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত এর মেয়াদ। এই ইতিকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদা- এ - কেফায়া।


মুস্তাহাব বা নফল ইতিকাফ : ওয়াজিব ও সুন্নত ইতিকাফ ছাড়া  সব ইতিকাফ মুস্তাহাব। বছরের সকল দিনে এ ইতিকাফ পালন করা যায়।


স্বল্প মেয়াদের জন্য হলে ও সকলের ইতিকাফে যাওয়া জরুরী। ইতিকাফের মধ্যে অনেক সওয়াব রয়েছে। খোদ আল্লাহর রসুল ইতিকাফের ব্যাপারে যতœবান ছিলেন। ইতিকাফের দ্বারা নির্ঝঞ্ঝাটের মধ্যে থেকে এক নিবিষ্ট চিত্তে  আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা যায়। এ সময়টি মধ্যে কায়মনো বাক্যে কোরআন পাঠ, নফল নামায, যিকির-ফিকির তছবীহ তাহলীল, মুনাজাত ইত্যাদির মধ্য দিয়ে একজন লোক আত্মশুদ্ধির এক এক মহত্তর স্তরে নিজেকে পৌছাতে পারে।  রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, রমজান মাসে একটি নফল ইবাদত অন্য মাসে একটি ফরজের সমতুল্য এবং এ মাসের একটি ফরজ অন্য মাসের সত্তরটি ফরজের সমতুল্য। এসব কিছু নির্ভর করে ইবাদতকালে একাগ্রচিত্রতার উপর। ইতিকাফ মুর্হুতে যেহেতু এ প্রবল  থাকে তাই সওয়াব বেশী হওয়া স্বাভাবিক।  রমজানে তারাবীহ, নফল নামায, কুরআন অধ্যয়ন,যিকির ফিকির, তাসবীহখানি ইত্যাদি কাজ হুকুমের দিক থেকে অপরিহার্যতার পর্যায়ভুক্ত না হলেও আরও নানান দিকের বিচারে এগুলোর সওয়াবের পরিমাণ রমযান মাসে অধিক হয়ে থাকে। যেমন পবিত্র কুরআনে প্রিয় বান্দার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, তারা আপন প্রভুর উদ্দেশ্যে নামাযে দন্ডায়মান এবং সিজদার মধ্য দিয়ে রাত্রি যাপন করে। আমার নিকট এ বলে  প্রার্থনা করো যে,  “হে প্রভু  আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে দুরে রাখ” কুরআন মজীদের অন্যত্র মহানবীর প্রতি এরশাদ হয়েছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে রাত্রে ঘুম থেকে জাগা কুপ্রবৃত্তি দমনের একটি কঠোর পন্থা। এবং বক্তব্য হিসেবে সুদৃঢ়।  দিনের বেলা তোমার অনেক ব্যস্ততা থাকে। সুতরাং রাতের বেলা  তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করো এবং সকল কিছুর সম্পর্ক ছিন্ন করে একমাত্র তাঁর দিকেই রুজু হয়ে যাও। 


উল্লেখ্য যে, মহানবীর দিনের বেলায় কর্মতৎপরতা নবুয়তী কাজের বাইরে ছিল না। তারপরও রাতের গভীরে আল্লাহর প্রতি সম্পুর্ণ রুজু হওয়ার নির্দেশ থেকে একান্ত আল্লাহর ধ্যানের গুরুত্বই স্পষ্ট  হয়ে ওঠে। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের এ মহৎ কাজগুলো মাহে রমজানের মধ্যে বিশেষ করে রাতের অংশে এবং ইতিকাফে ও মহিমান্বিত শবে কদরে অধিক কল্যাণবাহী হয়ে থাকে। আর এমনি করে রোজার অপরিসীম সওয়াব প্রাপ্তিতে ও লক্ষ্য অর্জনে সোনায় সোহাগার মত কাজ করে থাকে। ইতিকাফ খোদাপ্রেমিক রোজাদারের মর্যাদা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়া হয়। এভাবে ফরজ, ওয়াাজিব, সুন্নত ও নফল ইত্যাদি আমলের সওয়াবের অধিকারী ব্যাক্তি  সম্পর্কেই সে শুভ সংবাদ প্রযোজ্য হয় যেখানে বলা হয়েছে যে ব্যক্তি রমজানের রোজা যথারীতি  পালন করবে সে যেন সদ্য জন্ম নিষ্পাপ শিশুর ন্যায় মাসুম-বেগুনাহ বান্দায় পরিণত হয়। ইতিকাফের উদ্দেশ্য তাৎপর্য হল, আল্লাহর ইচ্ছার সাথে নিজেকে একাকার করে নেয়া। ইতিকাফকারী সব ভুলে গিয়ে প্রভু প্রেমে এত বিভোর হয়ে পড়ে যে, তার সকল ধ্যান ধারণা, চিন্তা ভাবনা একমাত্র  আল্লাহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। সংসারের সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা। এ সম্পর্ক ভালবাসা তার কবরের সঙ্গী-সাথীহীন অবস্থার সহায়ক হবে। ইতিকাফকারীর শয়ন -স্বপ্ন সব কিছু ইবাদতের মধ্যে গণ্য হবে। তিনি সর্বক্ষণ আল্লাহর নৈকট্য লাভে ধন্য হন।  হাদিস শরীফে আছে, যে আমার প্রতি এক বিঘত অগ্রসর হয় আমি তার পানে এক হাত অগ্রসর হই। যে আমার দিকে হেঁটে আসে আমি তার দিকে দৌড়ে যাই।


এক নজরে ইতিকাফের সময় কি কি কাজ করা যাবে এবং কি কি কাজ করা যাবে না এবং কি করলে ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবেঃ


ইতিকাফের মধ্যে যেসব কাজ করা জায়েজ বা করা যাবে
১. পেশাব পায়খানার জন্যে বাইরে যাওয়া জায়েয। মনে রাখতে হবে এসব প্রয়োজন এমন স্থানে পূরণ করতে হবে যা মসজিদের নিকটে হয়।
২. ফরয গোসলের জন্যেও এতেকাফের স্থান থেকে বাইরে যাওয়া জায়েয। তবে মসজিদেই গোসল করার ব্যবস্থা থাকলে সেখানেই গোসল করতে হবে।
৩. খানা খাওয়ার জন্য মসজিদের বাইরে যাওয়া যায় যদি খানা নিয়ে আসর কোনো লোক না থাকে। খানা আনার লোক থাকলে মসজিদে খাওয়াই জরুরী।
৪. জুমা ও ঈদের নামাযের জন্যেও বাইরে যাওয়া জায়েয।
৫. যদি কোথাও আগুন লাগে, অথবা কেউ পানিতে পড়ে ডুবে যাচ্ছে অথবা কেউ কাউকে মেরে ফেলছে অথবা মসজিদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয় তাহলে এসব অবস্থায় এতেকাফের স্থান থেকে বাইরে যাওয়া শুধু জায়েযই নয় বরঞ্চ জরুরী।
৬. জুমার নামায আদায়ের জন্য বা কোনো জরুরত পুরণ করার জন্যে বের হলো এবং এ সময়ে সে কোনো রোগীর সেবা করলো অথবা জানাযায় শরীক হলো তাহলে তাতে কোনো দোষ হবে না।
৭. যে কোনো প্রাকৃতিক অথবা শরীয়াতের প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েয।
৮. যদি কেনাবেচার কোনো লোক না থাকে এবং বাড়ীতে খাবার কিছু না থাকে তাহলে প্রয়োজনমত কেনাবেচা করা ইতিকাফকারীর জায়েয।
৯. আযান দেয়ার জন্যে মসজিদের বাইরে যাওয়া জায়েয।
১০. ইতিকাফ অবস্থায় কাউকে দীন সম্পর্কে পরামর্শ অথবা চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ দেয়া জায়েয। বিয়ে করা, ঘুমানো এবং আরাম করা জায়েয।


 ইতিকাফে যেসব কাজ করা না জায়েজ বা অবৈধ
১. ইতিকাফ অবস্থায় যৌনক্রিয়া করা এবং স্ত্রীকে আলিঙ্গন করা হলে ইতিকাফ নষ্ট হবে।
২. ইতিকাফ অবস্থায় কোনো দুনিয়ার কাজে লিপ্ত হওয়া মাকরূহ তাহরিমী। বাধ্য হয়ে করলে জায়েয হবে।
৩. ইতিকাফ অবস্থায় একেবারে চুপচাপ বসে থাকা মাকরূহ তাহরিমী। যিকির ফিকির, তেলাওয়াত প্রভৃতিতে লিপ্ত থাকা উচিত।
৪. মসজিদে বেচাকেনা করা। লড়াই-ঝগড়া করা, গীবত করা অথবা কোনো প্রকার বেহুদা কথা বরা মাকরূহ।
৫. কোনো প্রাকৃতিক ও শরয়ী প্রয়োজন ব্যতিরেকে মসজিদের বাইরে যাওয়া অথবা প্রাকৃতিক ও শরয়ী প্রয়োজনে বাইরে গিয়ে সেখানেই থেকে যাওয়া জায়েয নয়। তাতে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে।


কী কী কারণে ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যায়
১. স্বেচ্ছায় বিনা প্রয়োজনে মাসজিদ থেকে বের হলে
২. কোন শির্ক বা কুফরী কাজ করলে।
৩. পাগল বা বেঁহুশ হয়ে গেলে।
৪. নারীদের হায়েয-নিফাস শুরু হয়ে গেলে।
৫. স্ত্রীসহবাস বা যে কোন প্রকার যৌন সম্ভোগ করলে।

User Comments

  • ধর্ম ও নৈতিকতা