২৪ জুন ২০১৮ ২২:৪১:৩৩
logo
logo banner
HeadLine
প্রতিষ্ঠার সত্তর বছরে স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ভবন পেল আওয়ামীলীগ * দ্বন্দ্ব কোন্দল দ্রুত নিরসন করুন, অনুপ্রবেশ ঠেকান তৃণমূল নেতাদের দাবি * নৌকাতে ঐক্যবদ্ধ থাকুন - শেখ হাসিনা * বড় জয়ে শেষ ষোলোতে বেলজিয়াম * বাঁচা মরার ম্যাচে জয় পেল জার্মানি * দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জয়, শেষ ষোলোতে মেক্সিকো * আব্দুল কাদের মিয়া যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত * ঐতিহ্য, সংগ্রাম আর সাফল্যের ৬৯ বছর, আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্মদিন * আজ পলাশী দিবস * সাম্পাওলির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বুরুচাগা * নাইজেরিয়াকে হারালেই দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনা * ঘুরে দাঁড়াল সুইজারল্যান্ড * স্বপ্ন জিইয়ে রাখলেন মুসা * অবশেষে ব্রাজিলের জয় * ফখরুল-তারেক বৈঠকের সিদ্ধান্ত এবং বিএনপির রাজনীতি * ডিসেম্বরেই শতভাগ গ্রামে বিদ্যুৎ * ক্রোয়েশিয়া ঝড়ে বিধ্বস্ত আর্জেন্টিনা * ডেনমার্ক-অস্ট্রেলিয়া ড্র * পেরুকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ফ্রান্স * আর্টিলারী রোডে সুমনকে খুন করে ওরা ১১ জন! * সন্ধ্যার পর কিশোর-শিক্ষার্থী আড্ডা দিলে গ্রেফতার * মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আসছে মাদক আইন - প্রধানমন্ত্রী * সৌদি-মিশরের বিদায়, নকআউটপর্বে উরুগুয়ে-রাশিয়া * ইরানের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় পেল স্পেন * মরক্কোর বিপক্ষে পর্তুগালের ঘাম ঝরানো জয় * বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট আসছেন পহেলা জুলাই * আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস * ওয়ানডে'তে ৪৮১ রানের বিশ্ব রেকর্ড * রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত * রাশিয়ার বিপক্ষে মিশরের হার *
     09,2018 Saturday at 03:46:50 Share

চিকিৎসার আড়ালে অস্ত্র ব্যবসা, ডাক্তার দম্পতি গ্রেফতার

চিকিৎসার আড়ালে অস্ত্র ব্যবসা, ডাক্তার দম্পতি গ্রেফতার

পেশায় চিকিৎসক অথচ নেশা অস্ত্র ব্যবসা। চিকিৎসকের কাজ হচ্ছে মানুষ বাঁচানো। অথচ তিনি এমনই এক চিকিৎসক যার নেশাই হচ্ছে মানুষ খুন করা। তাও আবার চিকিৎসার সময় ওষুধ বা বিষ প্রয়োগ করে নয়, রীতিমতো আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করাই যেন তার ধ্যান জ্ঞান। আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালিয়ে মানুষ খুনের এমন মানসিকতা গড়ে উঠেছে ছাত্র জীবন থেকেই। এ কাজে তাকে মানসিক সাহস যুগিয়ে আসছেন তারই স্ত্রী। তিনি নিজেও স্বামীর এমন ভাবনা সমর্থন করেন। শুধু তাই নয়, নিজের কাছেও রীতিমতো অস্ত্রগোলাবারুদ রাখতেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের হাতে এক ডাক্তার ও তার স্ত্রী বিপুল আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়ার পর বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই চিকিৎসক দেশের যেসব এলাকায় জামায়াত-শিবির বা জঙ্গীদের তৎপরতা রয়েছে সেসব এলাকায় চিকিৎসা সেবা দিতেন। আটক চিকিৎসকের কাছ থেকে অনেক জঙ্গী অস্ত্রগোলাবারুদ কিনেছেন বা সংগ্রহ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে সুবাদে এই চিকিৎসকের সঙ্গে জঙ্গী কানেকশন থাকতে পারে ধারণা করছে তদন্তকারীরা।


বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের ১৫ মে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডাঃ জাহিদুল আলমকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় দুটি অত্যাধুনিক বিদেশী পিস্তল ও ৮ রাউন্ড তাজা বুলেট। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে তার স্ত্রীর কাছেও অস্ত্রগোলাবারুদ থাকার তথ্য।


সেই তথ্যের ভিত্তিতেই গত ৩ জুন গাবতলী থেকে তার স্ত্রী মাসুমা আক্তারকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি বিদেশী পিস্তল ও ৪ রাউন্ড তাজা বুলেট। মাসুমাও রিমান্ডে তার স্বামীর কাছে আরও অস্ত্রগোলাবারুদ থাকার তথ্য দেয়। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই আবারও ডাঃ জাহিদুল আলমকে রিমান্ডে আনা হয়। ডাঃ জাহিদ তার কাছে অবৈধ অস্ত্রের মজুদ থাকার কথা স্বীকার করে।


সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার ভোর চারটায় ময়মনসিংহ জেলা সদরের বাঘমারা এলাকায় থাকা ডাঃ জাহিদুল আলম কাদিরের ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেই ফ্ল্যাট থেকে আরও বারোটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৬শ’ ১০ রাউন্ড তাজা বুলেট উদ্ধার হয়। সবমিলিয়ে স্বামী স্ত্রীর কাছ থেকে ১৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৬শ’ ২২ রাউন্ড তাজা বুলেট উদ্ধার হয়। ময়মনসিংহ থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও তাজা বুলেটগুলো তার ফ্ল্যাটে বিশেষভাবে তৈরিকৃত একটি স্টিল কেবিনেটের পেছনে লুকিয়ে রাখা ছিল।


উদ্ধারকৃত অস্ত্রগোলাবারুদের মধ্যে পয়েন্ট ২২ বোরের তিনটি রাইফেল, পয়েন্ট থ্রি নট থ্রি একটি রাইফেল, পয়েন্ট ৩২ বোরের চারটি রিভলবার, পয়েন্ট ২২ বোরের একটি রিভলবার, সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ বোরের ৫ পিস্তল, পয়েন্ট টু ফাইভ বোরের একটি পিস্তল রয়েছে। আর উদ্ধারকৃত বুলেটের মধ্যে রয়েছে থ্রি নট থ্রি রাইফেলের ১১০ তাজা বুলেট, পয়েন্ট টু টু বোরের রাইফেলের ১১শ’ তাজা বুলেট, পয়েন্ট থ্রি টু বোরের রিভলবারের ৩৫৮ তাজা বুলেট ও পয়েন্ট টু ফাইভ বোরের পিস্তলের ৫৪ তাজা বুলেট।


ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলছেন, একজন চিকিৎসক ও তার স্ত্রীর কাছে এত অস্ত্র থাকার বিষয়টি রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ডাঃ জাহিদুল চিকিৎসা পেশার আড়ালে পেশাদার অস্ত্র ব্যবসায়ী। সে পেশাদার কিলার বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এই চিকিৎসক সিলেটের এক এমপিকে হত্যার টার্গেট করেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে ওই এমপির নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। শুধু তাই নয়। ডাঃ জাহিদুল অস্ত্র সম্পর্কে বিস্তর জ্ঞান রাখেন। বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি, মেরামতেও তিনি পারদর্শী। চট্টগ্রামের বড় বড় অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এই চিকিৎসকের যোগাযোগ ছিল। সে নিজেও পেশাদার কিলার হওয়ার পাশাপাশি অস্ত্র বেচাকেনায় জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। যদিও জিজ্ঞাসাবাদে ডাঃ কাউকে হত্যা করেছে কী না বা এখন পর্যন্ত কতজনকে হত্যা করেছে, তা স্পষ্ট করেনি।


মনিরুল ইসলাম আরও জানান, ছাত্র জীবন থেকেই ডাঃ জাহিদুল আলম কাদিরের অস্ত্র চালনা, ব্যবহার, মেরামত ও তৈরি করার প্রতি আগ্রহ জন্মায়। তারই ধারাবাহিকতায় সে অন্ধকার জগতে প্রবেশ করে। অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সর্ম্পক গড়ে তোলে। তিনি ২০০২ সালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে। চিকিৎসক হওয়ার পরেও তিনি সরকারী বা স্থায়ী কোন চাকরি করত না। তিনি গ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চাকরি করত। মাঝে মধ্যে প্র্যাকটিস করত। তাও হাতে গোনা।


তিনি চিকিৎসা পেশার আড়ালে বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে লাইসেন্সবিহীন বিদেশী অস্ত্র সংগ্রহ করতেন। সেইসব অস্ত্র আন্ডারওয়ার্ল্ডের কাছে বিক্রি করতেন। তার অস্ত্র ক্রেতার তালিকায় রাজনীতিবিদ, সন্ত্রাসীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ রয়েছে। এটি তার অবৈধ রোজগারের একটি উৎস। সস্তায় অস্ত্র কিনে বেশি দামে বিক্রি করত। এসব অস্ত্র নিজেই মেরামত ও তৈরিতেও পারদর্শী। এতে করে অস্ত্র নষ্ট বা বিকল হয়ে গেলে তার কাছ থেকেই মেরামত করে নিত। অনেকে তৈরিও করে নিতেন। ফলে সহজেই বিষয়টি প্রকাশ পায়নি। অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে অস্ত্রের আকার আকৃতি পরিবর্তন এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিও করতে সক্ষম তিনি। পেশাদার কিলার হিসেবে সে বেশ কয়েক জায়গায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগেই গ্রেফতার হয়েছে। ডাঃ জাহিদুল আলমের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সন্ত্রাসী ও পেশাদার কিলারদের সখ্যতার প্রমাণ মিলেছে। অনেক বৈধ অস্ত্র ব্যবহারকারীরাও তার কাছে অবৈধ অস্ত্র বিক্রি করেছেন। সেইসব বিক্রেতাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। জাহিদুল আলমের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানাধীন পোড়াদহ এলাকার বাবুপাড়া গ্রামে। তার পিতার নাম হাবিবুর রহমান।


পুলিশের কাউন্টার টেররিজম এ্যান্ড ট্রান্সনাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের উপকমিশনার প্রলয় কুমার জোয়ার্দ্দারের বলেন, ছাত্র জীবন থেকেই ডাঃ জাহিদুল আলমের অস্ত্রগোলাবারুদের প্রতি ভীষণ ঝোঁক। এমবিবিএস পাস করার পর তিনি কোন সরকারী বা স্থায়ী চাকরি করেননি। তিনি কুমিল্লা, লাকসাম, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কক্সবাজার, উখিয়াসহ দেশের যেসব এলাকায় সাধারণত জামায়াত-শিবির ও জঙ্গীদের তৎপরতা কিছুটা বেশি, সেইসব এলাকার বিভিন্ন ক্লিনিকে চাকরি করেছেন। ডাঃ জাহিদুল পেশাদার কিলার এবং বড় মাপের অস্ত্র ব্যবসায়ী। ধারণা করা হচ্ছে, চাকরির আড়ালে তিনি স্বাধীনতাবিরোধী ও জঙ্গীদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতেন। অনেক জঙ্গী ও সস্ত্রাসী তার কাছ থেকে অস্ত্রগোলাবারুদ সংগ্রহ বা কিনেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ জন্য ধারণা করা হচ্ছে, ডাঃ জাহিদুল আলমের জঙ্গী কানেকশন থাকাটাই স্বাভাবিক।


তিনি আরও জানান, ডাঃ জাহিদুল আলম বিউটি বেগম নামের একজন চিকিৎসক নারীকে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পরেও ডাঃ জাহিদ অস্ত্র ব্যবসা, আন্ডারওয়ার্ল্ডসহ অন্ধকার জগতের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেননি। উপরন্তু নতুন করে স্বামী-স্ত্রী চিকিৎসক হিসেবে বাড়তি সুযোগ নিয়ে পুরোদমে অবৈধ অস্ত্র বেচাকেনা ও স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেয়। এ ধারা অব্যাহত থাকায় তার সঙ্গে স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধ হয়। শেষ পর্যন্ত চার বছর আগে আগের চিকিৎসক স্ত্রী ডাঃ জাহিদুল আলমকে ডিভোর্স দেয়। ওই ঘরে একটি পুত্র সন্তানও আছে। তাতেও অন্ধকার জগত থেকে সরে যায়নি ডাঃ জাহিদুল আলম। পুরোদমে তার অন্ধকার জগতের কারবার চালিয়ে যেতে থাকেন। অন্ধকার জগতে চলাফেরার সূত্র ধরেই পরিচয় হয় মাসুমার সঙ্গে। পরে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে তাকে বিয়ে করে। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েও অবৈধ অস্ত্রের কারবার চালিয়ে আসছিল।


সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম এ্যান্ড ট্রান্সনাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের উপকমিশার প্রলয় কুমার জোয়ার্দ্দার ছাড়াও কাউন্টার টেররিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের উপকমিশনার মহিবুল ইসলাম খান, ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান ও সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার ছানোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। জনকন্ঠ।

User Comments

  • অপরাধ ও দুর্নীতি