২৪ জুন ২০১৮ ২২:৪৪:৩৪
logo
logo banner

Warning: Invalid argument supplied for foreach() in /home/sandwipnews/public_html/header_menu.php on line 154
HeadLine
     09,2018 Saturday at 04:49:13 Share

ভাইবার হোয়াটসএ্যাপ ইমোয় ভয়েস কলে চার্জ আসছে

ভাইবার হোয়াটসএ্যাপ ইমোয় ভয়েস কলে চার্জ আসছে

বিনা টাকায় কথা বলার দিন শেষ হচ্ছে। ভাইবার, হোয়াটসএ্যাপ, ইমোর মতো স্মার্টফোন এ্যাপ ব্যবহার করে ভয়েস কল করলে টাকা গুণতে হবে। সরকারের রাজস্ব বাড়াতে এবারের বাজেটে ফেসবুক, ইউটিউব ও গুগলকে করের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিটিআরসি গত বছরই বিনা টাকায় কথা বলার এ্যাপগুলো ব্যবহারের নীতিমালা তৈরির প্রস্তাব করেছিল। মোবাইল ফোনে এ ধরনের ‘ওভার দ্য টপ’ (ওটিটি) এ্যাপ ব্যবহার করে ভয়েস কলের সুবিধা নিচ্ছে ব্যবহারকারীরা। বিটিআরসি বলেছে, ভাইবার, হোয়াটসএ্যাপ ও ইমোর ব্যবহার নিয়ে দুনিয়া জুড়েই চিন্তা করা হচ্ছে।


এবারের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রস্তাব করেছেন, ফেসবুক, ইউটিউব ও গুগলকে করের আওতায় আনা। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৩৫ শতাংশ উৎসে কর দিতে বলা হলেও কীভাবে তা আদায় করা হবে তা প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়নি। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ভার্চুয়াল ও ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে অনেক বিদেশী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিপুল অর্থ আয় করছে। এ সত্ত্বেও তাদের কাছ থেকে আমরা তেমন একটা কর পাচ্ছি না। ভার্চুয়াল ও ডিজিটাল লেনদেনের বিষয়টি তুলনামূলক নতুন হওয়ায় এসব লেনদেনকে করের আওতায় আনার মতো পর্যাপ্ত বিধান এতদিন আমাদের কর আইনে ছিল না। এবার তাই ভার্চুয়াল ও ডিজিটাল খাত যেমন- ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব ইত্যাদির বাংলাদেশে অর্জিত আয়ের ওপর করারোপের জন্য আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে প্রয়োজনীয় আইনী বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করা হলো।


অন্যদিকে এ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিংয়ের (উবার, চলো, পাঠাও ইত্যাদি) ভাড়ার ওপর ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। সেবা গ্রহীতাকে এই কর গুণতে হবে। তবে এ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসে কর দিতে হবে। যারা এসব সেবায় তাদের গাড়ি দেবেন তাদের টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টি-ফিকেশন নম্বর) থাকতে হবে।


এদিকে, অবৈধ ভিওআইপি কলের কারণে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। আবার ভাইবার, হোয়াটসএ্যাপ, ইমোর মতো স্মার্টফোন এ্যাপে ভয়েস কল সুবিধার কারণে আন্তর্জাতিক ফোনকল ব্যবসায় বাংলাদেশ মার খাচ্ছে। অবৈধ ভিওআইপি বন্ধের নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু স্মার্টফোন এ্যাপগুলো কোন কিছু করা হচ্ছে না। বিশ্বব্যাপী এসব এ্যাপ কিভাবে ব্যবহার হবে তা নিয়ে চিন্তা করে যাচ্ছে। ডাটার ওপর ভিত্তি করে বিনা টাকায় কথা বলার বিষয়টি বিশ্বব্যাপীই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এখান থেকেও কিভাবে ‘রেভিনিউ’ আনা যায় এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে ভয়েস কল বলতে আর কিছু থাকবে না। সব ডাটা ভিত্তিক হয়ে যাবে। তখন টুজি, থ্রিজি নেটওয়ার্কগুলো দারুণভাবে মার খাবে। হোয়াটসএ্যাপ, ইমো, ভাইবার মাইপিপল এ্যাপগুলোর মাধ্যমে শুধু বিদেশ থেকে কল করা হচ্ছে না, দেশের মধ্যেও এখন ডাটা ব্যবহার করে ভিডিও ও ভয়েস কল করা হচ্ছে। ইন্টারনেট কানেকশন থাকলেই এ্যাপগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক কল কমছে। সরকারের রাজস্ব বাড়াতে এসব এ্যাপগুলোও থেকে অর্থ আদায় করতে হবে।


বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন রেট বাড়ানোর আগে বৈধ পথে গড়ে প্রতিদিন ১২ কোটি মিনিট ইনকামিং কল দেশে আসত। ২০১৫ সালের আগস্টে কল টার্মিনেশন রেট দেড় সেন্ট থেকে বাড়িয়ে দুই সেন্ট করার পর এখন তা দৈনিক গড়ে সাড়ে ৬ থেকে ৭ কোটি মিনিটে নেমে এসেছে। বিদেশ থেকে ইনকামিং কল কমার জন্য দাম বাড়ানোকেই মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে না। এখানে আরও অনেক কারণেই কল কমে আসছে। ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় স্কাইপ, ভাইবার, হোয়াটসএ্যাপ, ইমোর মতো ভিওআইপি এ্যাপের মাধ্যমে ভয়েস কলের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। এই সুবিধা ভয়েস কমার আরও একটি কারণ। এ বিষয়ে একটি নীতিমালা করা জরুরী হয়ে পড়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সারা দুনিয়ায় স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৩ শ’ ৯০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। ফলে মানুষ খুব সহজেই ইন্টারনেট সংযোগ পাচ্ছে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই এসব এ্যাপ ব্যবহার করা যাচ্ছে। শতকরা ৪৫ ভাগ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ওটিটি এ্যাপ ব্যবহার করছেন। ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বে স্মার্টফোন ওটিটির ব্যবসার আকার দাঁড়াবে ৬২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তখন ভয়েস কল বহু গুণ কমে যাবে। বিশ্বের অনেক দেশই ফোরজি (চতুর্থ জেনারেশন) চালু করেছে। এ বছর দেশেও ফোরজি চালু করা হবে। ফোরজি চালু হলে তো ডাটাই ব্যবহার হবে। এরপর ফাইভজি চলে আসবে। ফাইভজি মানে মেশিন টু মেশিন। ডাটা ছাড়া আর কিছু থাকবে না। কোন আইজিডাব্লিউ (ইন্টারনেট গেটওয়ে) ও আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) এসব থাকবে না। উন্নত দেশগুলোতে আইজিডাব্লিউ নেই। কল আদান-প্রদানে আইজিডাব্লিউ-এর কোন প্রয়োজন নেই। মাঝখান থেকে আইজিডাব্লিউগুলো সুবিধা ভোগ করছে।


উল্লেখ্য, দেশে জঙ্গী তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার কারণে গত বছর জানুয়ারিতে সরকার ভাইবার, ট্যাঙ্গো, হোয়াটসএ্যাপসহ কয়েকটি ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং ও ভিওআইপি এ্যাপ্লিকেশন বন্ধ করে দিয়েছিল। অল্প কিছু দিন পর সরকার তা আবার খুলে দেয়। জনকন্ঠ।


 

User Comments

  • বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি