১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ২১:১৫:৫৮
logo
logo banner
HeadLine
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ * ১৪ বছর পর শেষ হল বিচার কাজ, একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ১০ অক্টোবর * জিডিপি ৭.৮৬, মাথাপিছু আয় ১৭৫১ ডলার * শেষ পর্যন্ত দফারফার কর্মসূচি * চাই দলীয় সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের নতুন ইতিহাস * বিএনপির ১৭৩ প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত, জোটের খসড়া তালিকা প্রকাশ * ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষনার দিন নির্ধারণ আজ * দলীয় সরকারের অধীনেও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব - টিআইবি * নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেডের সরকারী চাকুরীতে কোটা থাকছে না * সময়মতো এবং সুষ্ঠুভাবেই নির্বাচন হবে: ড. গওহর * ড্রাইভারের লাইসেন্স না থাকলে স্টার্ট নেবে না গাড়ি, হেলমেট ছাড়া মোটরবাইক * যাকে খুশি তাকে ভোট নয়: শাহরিয়ার কবির * লঘু অপরাধে আটকরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুক্তি পাচ্ছে * সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকার গঠন অসাংবিধানিক: ওবায়দুল কাদের * আসনভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করবে আওয়ামীলীগ * জনগণ আবারও নৌকায় ভোট দেবে: শেখ হাসিনা * চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগে অসন্তোষ, হাইব্রিড ও নব্যদের কারণে অবহেলিত পরীক্ষিত নেতারা * এশিয়া কাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচ, প্রতিশোধ নয় লংকানদের বিপক্ষে জয় চান টাইগাররা * 'প্রবৃদ্ধি ছাড়াবে ৮ শতাংশ' * মানব উন্নয়ন সূচকে তিন ধাপ অগ্রগতি বাংলাদেশের * মুক্তিযোদ্ধারা বছরে পাঁচটি উৎসব ভাতা পাবেন * এমপিকে দেখে উপজেলা পরিষদের সভা বর্জন করলেন ইউপি চেয়ারম্যানরা * ভোটারের চোখে শেখ হাসিনাই বিশ্বস্ত * দেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী * সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনকে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিবে : শেখ হাসিনা * শেয়ার বাজারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ৭ দফা সুপারিশ * পৃথিবীর সব দেশের রাজধানীতে যানজটের সমস্যা রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী * একনেকের সভায় ১৭ হাজার ৭৮৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মোট ১৮ প্রকল্প অনুমোদন, অল্প সময়ের মধ্যে সন্দীপের সব জনগণ বিদ্যুত পাবে * বর্তমান ঋণখেলাপী ২ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮, ১০০ জনের তালিকা দিলেন অর্থমন্ত্রী * আমার ছোট আপা *
     10,2018 Sunday at 08:11:15 Share

বিশ্ব নেতৃত্বে দেশরত্ন শেখ হাসিনা

বিশ্ব নেতৃত্বে দেশরত্ন শেখ হাসিনা

মোতাহার হোসেন সুফী :: বিশ্ব নেতৃত্বে সমাসীন দেশরতœ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। সারা বিশে^ দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হয়ে রাষ্ট্রনায়ক যাঁরা বিশ^নেতৃত্বেও গৌরবের অধিকারী হয়েছেন তাঁদের অন্যতম দেশরতœ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তাঁর সুচিন্তিত পরিকল্পনা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে জাতিসংঘ ও বিশ^ব্যাংক বাংলাদেশকে তৃতীয় বিশে^র উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। নিম্ন আয়ের চিহ্নিত আমাদের দেশ এখন পরিণত হয়েছে মধ্যম আয়ের দেশে। সোয়া পাঁচ কোটি মানুষ উন্নীত হয়েছে নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে। জাতীয় প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৭-এর ওপরে। এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে বাংলাদশ। নির্ধারিত সময়ের আগে জাতিসংঘ ঘোষিত এস.ডি.জি. (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল) অর্জনে বিশে^ বিপুলভাবে প্রশংসিত বাংলাদেশ। মানুষের মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩.৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। সারা বিশে^র এটি অন্যতম রেকর্ড। বিশ^ব্যাংকের সাহায্য ছাড়াই দ্রুত এগিয়ে চলেছে বিশে^র তৃতীয় বৃহত্তম পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। এগিয়ে চলেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রেরও কাজ। দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করতে শেখ হাসিনা গ্রহণ করেছেন ‘ভিশন-২০২১’ ও ‘ভিশন-২০৪১’ যুগান্তকারী কর্মসূচী। ২০১৮ সালের ১২ মে মহাশূন্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের উল্লেখযোগ্য ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে মহাকাশ বিজ্ঞানের যুগে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনুধাবন করেছিলেন বহির্বিশে^র সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগ রক্ষা করতে না পারলে অগ্রগতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। স্বাধীনতার মাত্র তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৪ জুনে গাজীপুরে বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপনে স্বপ্নের যে বীজ বপন করেছিলেন তার সফল বাস্তবায়ন হলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে। সাফল্যের মাইলফলকে এটি নজিরবিহীন বিরল ইতিহাস। বিশ^জুড়ে অভিনন্দিত হচ্ছে দেশরতœ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাফল্য ও অর্জন। বিশ^নেতৃত্বে সফল রাষ্ট্রনায়কদের শীর্ষস্থানে অন্যতম আসনের অধিকারী হয়ে শেখ হাসিনা দেশ ও জাতিকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের বিশ^ নাগরিক মর্যাদায় করেছেন গৌরবান্বিত।


শেখ হাসিনার জীবদ্দশায় তাঁর সাফল্য ও অর্জন সম্পর্কে আলোকপাত প্রয়োজন। ১৯৪৭ সালের ইংরেজ রাজত্বের সমাপ্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর সেপ্টেম্বর মাসের ২৮ তারিখে গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা। শৈশবে পিতার রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রাম নিরলসভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন, উপলব্ধি করেছেন ও উজ্জীবিত হয়েছেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে দেশের রাজনীতি ও ইতিহাস সম্পর্কে তিনি সচেতন। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন ইডেন কলেজে ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সহ-সভাপতি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি সপরিবারে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করলে এক অন্ধকার যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। এরপর দীর্ঘ ৬ বছর লন্ডন ও দিল্লীতে চরম প্রতিকূল পরিবেশে তাঁদের নির্বাসিত জীবনযাপন করতে হয়। ১৯৮১ সালের ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি ইডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রয়োদশ জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত করা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৎকালীন নেতৃবৃন্দের এটি ছিল এক দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। ১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রবল ঝড় ও বৃষ্টিপাতের বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও তাঁকে স্বাগত জানাতে লাখো মানুষের ঢল নামে ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে। সেদিন দেশবাসীর অকৃত্রিম ভালবাসায় সিক্ত হয়ে আবেগ আপ্লুতকণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সব হারিয়ে আজ আপনারাই আমার আপনজন।... বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি এসেছি। আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার জন্য আমি আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।’


মানিক মিয়া এ্যাভিনিউর গণসংবর্ধনায় ভাষণদানকালে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ঘোষিত দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচী বাস্তবায়ন ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমি জীবন উৎসর্গ করে দিতে চাই। আমার আর কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই। সব হারিয়ে আমি এসেছি আপনাদের পাশে থেকে বাংলার মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য।’ তাঁর দৃঢ় সংকল্প পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে দেশের মানুষের মুখে তিনি হাসি ফোটাবেন। প্রয়োজনে পিতার মতো তিনি জীবন দান করবেন কখনও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আপোস করবেন না। তিনি তাঁর প্রথম কর্তব্য হিসেবে নতুন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর আওয়ামী লীগ অন্য কয়েকটি দলের সঙ্গে জোট গঠন করে সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে। ১৯৯০ এর গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান হয়, বিজয় হয় গণতন্ত্রের। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট বিজয় অর্জন করে এবং সরকার গঠন করে জনগণের কল্যাণে গ্রহণ করে নানামুখী কর্মসূচী। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সাধারণ নির্বাচনে বিজয় লাভ করে শাসনক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা সরকার পরিচালনা করছেন। তাঁর দূরদৃষ্টি, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমে সুশাসন, স্থিতিশীল অর্থনীতি, শিক্ষার প্রসার, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসেছে সফলতা।


১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন কেবল একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করার উদ্দেশে নয়, জাতীয় রাজনীতির হাল ধরতে, জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারী সেনাশাসনের কবল থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশকে। দেশের মাটিতে ফিরে আসার পর থেকে শুরু হয় তাঁর নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামী জীবন সাড়ে তিন দশকের অধিক সময় যার পরিধি। তিনি দেশে ফিরে না এলে অবসান হতো না ক্ষমতার মদমত্ততার ও আত্মম্ভরিতার এবং পুনরুদ্ধার হতো না গণতন্ত্র। শেখ হাসিনা আমাদের জন্য প্রতি মুহূর্তে রেখে চলেছেন রাষ্ট্র, সমাজ, দেশ ও বিশ^ সম্পর্কে তাঁর চিন্তাধারা ও কর্মপরিকল্পনা। বিশ^নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে শেখ হাসিনা মর্যাদার আসনের অধিকারী। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিক্ষেত্র, বিদ্যুত উৎপাদন, নারীর ক্ষমতায়ন, রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবেলা ও মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে সাফল্য অর্জন করেছেন দেশরতœ শেখ হাসিনা। শিক্ষা জাতির মেরুদ-। দেশের অগ্রগতি ও উন্নতির অন্যতম প্রধান শর্ত শিক্ষার প্রসার। দেশরতœ শেখ হাসিনা জনকল্যাণমুখী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তাঁর জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার উন্নীত হয়েছে ৯৯ শতাংশে। স্বপ্লোন্নত দেশগুলোর মধ্যে শিশুশিক্ষা নিশ্চিত কল্পে শিশুদের স্কুলে পাঠানোর ক্ষেত্রে বিশে^র ১৬টি দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে বাংলাদেশ। সাক্ষরতার হার বেড়েছে। বছর শুরুর প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে প্রায় ৩৪ কোটি বই বিতরণ একটি অনন্য সাফল্য। উচ্চশিক্ষা বিস্তারে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন এবং মানসম্মত শিক্ষাদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষা বিকাশে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিজ পোর্টের অনারারি ‘ডক্টর অব হিউম্যান লেটার্স’ পদক ২০০০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রদান করা হয়েছে।


কৃষিপ্রধান দেশ বাংলাদেশ। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি তাদের প্রধান জীবিকা। দেশে কৃষিক্ষেত্রে সাধিত হয়েছে বিপ্লব। খাদ্য ঘাটতির দেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। নানা ধরনের ফসল উৎপাদনে এসেছে সাফল্য। সারা বছর ধরে উৎপাদিত হয় নানা ধরনের ফসল। কৃষিক্ষেত্রে ফসল উৎপাদনে সফলতা অর্জনের মধ্যদিয়ে এশিয়ার অন্যতম খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা দেশে রূপান্তরিত হয়েছে বাংলাদেশ। বিগত আড়াই দশকে দারিদ্র্যের হার ৫৭.৬ শতাংশ ২৪.৪ শতাংশে নামিয়ে এনে বাংলাদেশ রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ২০১৩ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফ.এ.ও) দারিদ্র্য ও অপুষ্টি দূর করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করায় ‘ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।


বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিগত কয়েক বছরে মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যুর হার কমানোর লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। একটি জাতির সামগ্রিক সামাজিক অগ্রগতির অন্যতম সূচক মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হার। আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সুস্থ মা ও সুস্থ শিশুর বিকল্প নেই যা পরোক্ষভাবে ভবিষ্যতের জন্য একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি গঠনে পালন করবে সহায়ক ভূমিকা। ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ে মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনের প্রতি দৃষ্টি রেখে নতুন নতুন হাসপাতাল স্থাপন, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে রাখছে বলিষ্ঠ ভূমিকা। সারাদেশে ১৩ হাজার ৫০০টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে তৃণমূলে ৬ কোটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে, স্বাস্থ্য, পরিবারকল্যাণ ও পুষ্টিসেবা। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে (ঝ.উ.এ.) জাতিসংঘ কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশের সাফল্য। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (ঝ.উ.এ.) অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের সারিতে অন্তর্ভুক্ত করতে শেখ হাসিনার সরকার সংকল্পবদ্ধ।


বাংলাদেশে বিদ্যুত উৎপাদন ও বিদ্যুত ব্যবহারে সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বল্প সময়ের মধ্যে সঠিক ও সাহসী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৩২০০ মেগাওয়ার্ট থেকে ১৬ হাজারের বেশি মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের ক্ষমতা অর্জন করে বাংলাদেশ বিশে^ রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাত বছরে বিদ্যুতের আওতায় আসা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে বাংলাদেশে। এই সময়ে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ বেড়েছে বিদ্যুতের গ্রাহক। যা আগের যে কোন সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। এতে বিশে^ দ্রুত বিদ্যুত সংযোগ প্রদানকারী ২০টি দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের নাম। গত সাত বছরে প্রথমবারের মতো দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষের পরিবার বিদ্যুতের আলোয় হয়েছে আলোকিত। ২০১৬ সালের শেষে বিদ্যুত সংযোগ পেয়েছে দেশের ৭৬ শতাংশ মানুষ। বর্তমানে বিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে দেশের ৯০ ভাগ মানুষের ঘরে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বিদ্যুত সংযোগ দেওয়া হয়েছে নতুন এক কোটি ৭৯ লাখ গ্রাহককে। ২০০৯ সালে সারাদেশে বিদ্যুত পেত এক কোটি আট লাখ গ্রাহক যা ২০১৮ সালে এসে বেড়েছে দুই কোটি ৮৭ লাখ। দেশের প্রায় ৯ শতাংশ মানুষ অফ-গ্রিড বিদ্যুত সংযোগ তথা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সৌর বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল বিশে^ যা সর্বোচ্চ।


নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার প্রচার ও প্রসার, কৃষিক্ষেত্রে ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশে^ রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ’দ্য স্ট্যাটিসটিক্স’ নিজস্ব প্রতিবেদন বিশে^র দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছেন শেখ হাসিনাকে। নারী শিক্ষা ও নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রগতি অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ’গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’ এর পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে প্রদান করা হয়েছে ’গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ’ এ্যাওয়ার্ড। জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের সভায় নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ’প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ এবং ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ এ্যাওয়ার্ড’ নামক দুই গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার প্রদানে অভিষিক্ত করা হয়েছে শেখ হাসিনাকে। নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকারের জন্য ২০১৪ সালে তিনি ইউনেস্কোর ’পিস ট্রি’ পুরস্কার অর্জন করেছেন। গ্রামীণ নারী, নারী উদ্যোক্তা মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা, চাকরিতে নারীর অধিকার, রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি প্রভৃতি ক্ষেত্রে সাফল্যের নমুনা দেখিয়ে চলেছেন শেখ হাসিনা। সরকারের গৃহীত ব্যবস্থায় এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিশেষ সুবিধাযুক্ত ১০% সুদে ঋণ পাচ্ছে নারী উদ্যোক্তাগণ। চাকরিতে মেয়েদের কোটা ১০% শতাংশ নির্ধারণ করায় ৩৪ শতাংশ নারীর হয়েছে কর্মসংস্থান।


নারীর সম্পত্তিতে সমান অধিকার ও ব্যবসায়ে সমান সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১১ সালে সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি অনুমোদন করেছে। এতে নারীদের সম্পদের ওপর সমù

User Comments

  • কলাম