১৫ নভেম্বর ২০১৮ ১৬:৫৮:৪০
logo
logo banner
HeadLine
সম্প্রচার কমিশন গঠনে আইনের খসড়া অনুমোদন * ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনসহ সাত দফা দাবি সম্পাদক পরিষদের * ভ্রুন হত্যা বন্ধে জিরো টলারেন্স ও হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার কড়া নির্দেশ, তদন্তে গড়িমসি করলে শাস্তি * অসহায় বিএনপির ঐক্য প্রক্রিয়াই শেষ ভরসা * কামালের নেতৃত্বে ঐক্য বিএনপি-জামাতের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র : মান্না-মাহি চৌধুরীর ফোনালাপ ফাঁস * খুনীদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন ড. কামাল হোসেন গং, - পদ্মাসেতু র কর্মযজ্ঞ দেখতে গিয়ে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী * দেশে মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ * সেতুর নামফলক উন্মোচন ও রেলসংযোগ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করতে আজ পদ্মাসেতু এলাকায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী * বৃষ্টি আর জোয়ারে চট্টগ্রামের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা * পাহাড় ও দেয়াল ধ্বসে চট্টগ্রামে নিহত ২ * বি চৌধুরীকে বাদ দিয়ে বিএনপির সঙ্গে নিয়ে কামাল-মান্নার জোট * সমুদ্রবন্দরসমূহে ৩ নং সতর্ক সংকেত বহাল, দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস * বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত * সেনাপ্রধান সম্পর্কে স্মরণকালের ভয়াবহ আজগুবি মিথ্যা তথ্য হাজির করেছেন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী * বিশ্ব জুড়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকতে পারে ইন্টারনেট * বৃষ্টিসহ দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা, ৩ নং সতর্ক সংকেত * তফসিলের প্রস্তাব নিয়ে বঙ্গভবনে যাচ্ছে ইসি * ৮০ ভাগ ট্যাপের পানিতে ক্ষতিকর ই-কোলাই ব্যাক্টেরিয়া * আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তি, ৩ নং সতর্ক সংকেত * ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে তিতলি, বন্দরসমূহে সংকেত কমিয়ে ৩ * ড. কামাল এখন তারেকের গডফাদার * জনপ্রিয়রাই পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন, বাদ পড়বে অর্ধশত মন্ত্রী-এমপি * ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তারেকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি * উড়িষ্যা ও অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় 'তিতলি * ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় : বাবর পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড, তারেক হারিচসহ ১৭ জনের যাবজ্জীবন * আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তি, ঘূর্ণিঝড় 'তিতলি' র প্রভাবে সমুদ্র বন্দরে ৪ নম্বর সর্তকতা * ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আজ * ঘূর্ণিঝড় 'তিতলি'র প্রভাবে সাগর উত্তাল, ২ নং দূরবর্তী হুঁশিয়ারী সংকেত * একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় কাল * কার্যকর হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ ৬টি বিল, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর *
     21,2018 Tuesday at 09:24:21 Share

কুরবানি কি ? কুরবানির গুরত্বপূর্ণ মাসয়ালা মাসায়েল

কুরবানি কি ? কুরবানির গুরত্বপূর্ণ মাসয়ালা মাসায়েল

কুরবানি শব্দের উৎপত্তি কারিবুন শব্দ থেকে। কুরবান শব্দের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে নৈকট্য, সান্নিধ্য বা উৎসর্গ।
জিলহজ মাসের ৯ তারিখ হজ পালন করে ১০ তারিখ কুরবানির মাধ্যমে ঈদুল আজহা পালন করা হয়। এদিন ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা সবাই ঈদগাহে সমবেত হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দু’রাকাত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে ঈদের সকাল শুরু হয়।
হজ, কুরবানি আর মেহমানদারির মাধ্যমে খুশির উৎসবই হচ্ছে ঈদুল আজহা।
মানব সভ্যতার বিকাশে মুসলমানের ত্যাগ ও কুরবানির গুরুত্ব অপরিসীম। ত্যাগ ব্যতীত কোনো সমাজে সভ্যতা বিনির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সাফল্যের পেছনেও থাকে কারো না কারো ত্যাগ-তিতিক্ষা। তেমনি পিতা-মাতার ত্যাগ ও কুরবানির বদৌলতেই সন্তান প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে। যেকোনো সমাজের সফলতা ও ব্যর্থতা নির্ভর করে ত্যাগ ও কুরবানির ওপর। ঈদ আমাদের শুধু আনন্দই দেয় না বরং সব হিংসাবিদ্বেষ এবং ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার শিক্ষা দেয়। ঈদুল আজহা মুসলমানকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে ত্যাগ ও কুরবানির আদর্শে উজ্জীবিত করে। মানুষের সব বৈষম্য দূর করে একটি শোষণমুক্ত সমাজ কি নির্মাণের জন্য অনুপ্রেরণা দেয়। ঈদুল আজহার শিক্ষা নিয়ে আমরা সবাই বাস্তব জীবনে ইসলামি আদর্শ অনুসরণ করতে পারলেই কেবল এই ঈদের আসল উদ্দেশ্য সার্থক হবে। ঈদের আনন্দের পাশাপাশি মহান আল্লাহর বাণী আমাদের স্মরণ রাখা প্রয়োজন। 
‘হে নবী! তুমি বলো আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মৃত্যু সব কিছুই সারা জাহানের মালিক আল্লাহ তায়ালার জন্য।’ (সূরা আনআম : ১৬২)
কুরবানির মহান আদর্শ নিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের দ্বারে দ্বারে সমাগত হয়। ত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই বাস্তব জীবনে ইসলামি আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করতে পারি তবেই আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব। যারা সত্য পথের পথিক তারা কেবলমাত্র সত্যকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। কারণ সত্যই সুন্দর; সুন্দরই সত্য। আমরা আল্লাহ্ নবী-রাসূল ও সাহাবিদেরকে দেখিনি। কিন্তু তাঁদের ত্যাগ ও কুরবানির ইতিহাস আমরা কম-বেশি সবাই জানি। আল্লাহর নৈকট্য, আত্মত্যাগ, আত্মোৎসর্গ, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যরে সহজ পথ হচ্ছে কুরবানি। এই কুরবানির প্রচলন শুরু হয় আমাদের আদি পিতা আদম আ: ও তাদের পুত্র হাবিল-কাবিলের মাধ্যমে। কাহিনীটি সূরা মায়েদার ২৭ নম্বর আয়াতে বর্ণিত আছে।


ঘটনাটি হলো
যখন হজরত আদম আ: ও বিবি হাওয়া রা: পৃথিবীতে আগমন করেন তখন বংশ বিস্তারের লক্ষ্যে আল্লাহ তায়ালা তাদের যমজ সন্তান দান করেন। প্রতি গর্ভে একটি পুত্র ও একটি করে কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তখন ভাইবোন ছাড়া আদম আ:-এর আর কোনো সন্তান ছিল না। অথচ ভাইবোন পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না। তখন আল্লাহ তায়ালা সময়ের প্রয়োজনে আদম আ: কে এক নির্দেশ জারি করেন যে, একই গর্ভ থেকে যে যমজ পুত্র ও কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করবে তারা পরস্পর ভাইবোন হিসেবে গণ্য হবে। তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম হবে। কিন্তু পরবর্তী গর্ভ হতে জন্মগ্রহণকারী পুত্রের জন্য প্রথম জন্মগ্রহণকারিণী সহোদরা বোন গণ্য হবে না। তাদের পরস্পর বিবাহ বৈধ হবে। ঘটনাচক্রে কাবিলের সহোদরা বোনটি ছিল পরমা সুন্দরী, তার সাথে বিবাহ হয় হাবিলের আর হাবিলের সহোদরা সহজাত বোনটি ছিল অপেক্ষাকৃত অসুন্দর। তার সাথে বিবাহ হয় কাবিলের। এই নিয়ে কাবিল অসন্তুষ্ট হয়ে হাবিলের শত্রুতে পর্যবসিত হয়ে পড়ে। এই মতভেদ দূর করার জন্য হজরত আদম আ: শরিয়ত মোতাবেক দুই পুত্রকে আল্লাহর নামে কুরবানি পেশ করতে নির্দেশ দেন। হাবিল ভেড়া, দুম্বা পালন করত। সে একটি উৎকৃষ্ট মানের দুম্বা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানি করল। আর কাবিল করত কৃষিকাজ। সে কিছু শস্য, গম কুরবানির উদ্দেশ্যে পেশ করল। নিয়মানুযায়ী আকাশ থেকে অগ্নিশিখা এসে হাবিলের কুরবানিটি ভস্মীভূত করে দিলো আর কাবিলের কুরবানি যেমন ছিল তেমনি পড়ে রইল। অর্থাৎ আল্লাহর তরফ থেকে হাবিলের কুরবানি গ্রহণ করা হলো। কারণ তিনি মনোযোগ ও ভালোবাসার সহিত কুরবানি করেছিলেন। অন্য দিকে কাবিলের কুরবানির ব্যাপারে কোনো প্রকার মনোযোগ বা ভালোবাসা ছিল না। তাই তার কুরবানিও আল্লাহ্ তায়ালার দরবারে কবুল হয়নি।
দ্বিতীয়বার মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম আ:-এর সুমহান আত্মত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ধর্মীয় রীতি-নীতি ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটায়। ঠিক তেমনি মুসলমান জাতির জন্য ঈদুল আজহা একটি ঐতিহাসিক দিন। আরবি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে সারাবিশ্বে যথাযোগ্য মর্যদায় ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ পালিত হয়ে থাকে। এ কুরবানির ঈদের একটি সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে।
কুরবানির ঈদের প্রেক্ষাপটটি হচ্ছে ইব্রাহিম আ: মহান আল্লাহ্ তায়ালার নির্দেশ মেনে প্রেম ভালোবাসা, ইচ্ছা-আকাক্সক্ষা কুরবানির জন্য প্রস্তুত করেন। বহুকাল তিনি নিঃসন্তান থাকার পর বার্ধক্যে উপনীত হন। তারপর ও আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও আস্থার ফলে একটি সন্তান লাভের আশায় তাঁর দরবারে হাত তোলেন। তিনি তার দোয়া কবুল করেন ও একটি সন্তান দান করেন। যাঁর নাম রাখা হলো ইসমাঈল আ:। পুত্রের প্রতি পিতার গভীর ভালোবাসা দেখে আল্লাহ্ তায়ালা পরীক্ষার জন্য স্ত্রী হাজেরাসহ শিশু পুত্র ইসমাঈলকে মক্কায় নির্বাসন দিতে আদেশ দেন। সুতরাং মহান আল্লাহ্ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য স্ত্রী-পুত্রকে মক্কায় জনমানবহীন মরুভূমিতে নির্বাসন দিয়ে আসেন। কিন্তু সন্তানের প্রতি পরম মমত্ববোধের কারণে নবী ইব্রাহিমের অন্তর সর্বদা ব্যাকুল থাকত। আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর প্রিয় বন্ধুর অন্তরের ব্যাকুলতা দেখে আবার আরেকটি পরীক্ষায় ফেললেন। আল্লাহর তরফ থেকে নির্দেশ এলো প্রাণপ্রিয় সন্তানকে আল্লাহর রাস্তায় কুরবানি করার। নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইব্রাহিম আ: ছুটে গেলেন মক্কায়। গিয়ে দেখলেন পুত্র তার শৈশব থেকে কৈশোরে পদার্পণ করেছে। পিতার কাজে সহযোগিতা করার মতো উপযুক্ত হয়েছে। এত সুন্দর পুত্রকে দেখে ইব্রাহিম আ:-এর চক্ষুযুগল শীতল হয়ে আসে। তাঁর মন চাচ্ছিল পুত্রকে সারাক্ষণ কাছে রেখে বহু কিছু শেখাবেন। কিন্তু বিধি বাম। মহান সৃষ্টিকর্তা যিনি এই পুত্র সন্তান তাঁকে দান করেছেন তাঁর নির্দেশেই তাকে কুরবানি করার মনস্থির করেছেন। পুত্রের মতামত জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন, হে আমার পিতা আপনি আপনার নির্দেশ মতো কাজ করুন, আমাকে আপনি ধৈর্যশীলদের মধ্যেই পাবেন। আল্লাহর প্রতি ইব্রাহিম আ:-এর কতটা গভীর ভালোবাসা থাকলে এ ধরনের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকা যায়।
আল্লাহ্ তায়ালা শুধু এইটুকু দেখতে চেয়েছেন এবং তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে জান্নাত থেকে একটি পশু পাঠিয়ে কুরবানির ব্যবস্থা করালেন। ইব্রাহিম আ: তাঁর অন্তরে একমাত্র আল্লাহপ্রেম ছাড়া অন্য কিছুই স্থান দেননি। তাই তিনি এমন কঠিনতম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পেরেছিলেন। ইব্রাহিম আ:-এর কুরবানি ছিল ত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কুরবানির মাধ্যমে আমাদের মনের পশুত্বকে হত্যা করে সঠিক ত্যাগ স্বীকার করে কুরবানি দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
হজরত মুহাম্মদ সা: মদিনায় হিজরতের পরই আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরবানির আদেশ পান। এই আদেশ পাবার পর তিনি দশ বছর বেঁচেছিলেন এবং ওই দশ বছরই তিনি কুরবানি দেন।
‘আল্লাহর কাছে কখনো কুরবানির গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না। বরং তাঁর কাছে তোমাদের তাকওয়াটুকুই পৌঁছায়।’ 
(সূরা হাজ : ৩৭)



মাসয়ালা মাসায়েলঃ


মাসআলা : ১. প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।


আর নিসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্ত্তর ক্ষেত্রে নিসাব হল এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্ত্ত মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।-আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫


নেসাবের মেয়াদ


মাসআলা ২. কুরবানীর নেসাব পুরো বছর থাকা জরুরি নয়; বরং কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দিন থাকলেই কুরবানী ওয়াজিব হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২


কুরবানীর সময়


মাসআলা : ৩. মোট তিনদিন কুরবানী করা যায়। যিলহজ্বের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তবে সম্ভব হলে যিলহজ্বের ১০ তারিখেই কুরবানী করা উত্তম। -মুয়াত্তা মালেক ১৮৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৮, ২৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৫


নাবালেগের কুরবানী


মাসআলা : ৪. নাবালেগ শিশু-কিশোর তদ্রূপ যে সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন নয়, নেসাবের মালিক হলেও তাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। অবশ্য তার অভিভাবক নিজ সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষে কুরবানী করলে তা সহীহ হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৬


মুসাফিরের জন্য কুরবানী


মাসআলা : ৫. যে ব্যক্তি কুরবানীর দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে (অর্থাৎ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে) তার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। -ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৪, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫


নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী


মাসআলা : ৬. নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী দেওয়া অভিভাবকের উপর ওয়াজিব নয়; বরং মুস্তাহাব।-রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৫; ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫


দরিদ্র ব্যক্তির কুরবানীর হুকুম


মাসআলা : ৭. দরিদ্র ব্যক্তির উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়; কিন্তু সে যদি কুরবানীর নিয়তে কোনো পশু কিনে তাহলে তা কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায়। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯২


কুরবানী করতে না পারলে


মাসআলা : ৮. কেউ যদি কুরবানীর দিনগুলোতে ওয়াজিব কুরবানী দিতে না পারে তাহলে কুরবানীর পশু ক্রয় না করে থাকলে তার উপর কুরবানীর উপযুক্ত একটি ছাগলের মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি পশু ক্রয় করে ছিল, কিন্তু কোনো কারণে কুরবানী দেওয়া হয়নি তাহলে ঐ পশু জীবিত সদকা করে দিবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৪, ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫


প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে


মাসআলা : ৯. যেসব এলাকার লোকদের উপর জুমা ও ঈদের নামায ওয়াজিব তাদের জন্য ঈদের নামাযের আগে কুরবানী করা জায়েয নয়। অবশ্য বৃষ্টিবাদল বা অন্য কোনো ওজরে যদি প্রথম দিন ঈদের নামায না হয় তাহলে ঈদের নামাযের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম দিনেও কুরবানী করা জায়েয।-সহীহ বুখারী ২/৮৩২, কাযীখান ৩/৩৪৪, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮


রাতে কুরবানী করা


মাসআলা : ১০. ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত রাতেও কুরবানী করা জায়েয। তবে দিনে কুরবানী করাই ভালো। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ১৪৯২৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/২২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, কাযীখান ৩/৩৪৫, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩


কুরবানীর উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত পশু সময়ের পর যবাই করলে


মাসআলা : ১১. কুরবানীর দিনগুলোতে যদি জবাই করতে না পারে তাহলে খরিদকৃত পশুই সদকা করে দিতে হবে। তবে যদি (সময়ের পরে) জবাই করে ফেলে তাহলে পুরো গোশত সদকা করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে গোশতের মূল্য যদি জীবিত পশুর চেয়ে কমে যায় তাহলে যে পরিমাণ মূল্য হ্রাস পেল তা-ও সদকা করতে হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০-৩২১


কোন কোন পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে


মাসআলা : ১২. উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয। এসব গৃহপালিত পশু ছাড়া অন্যান্য পশু যেমন হরিণ, বন্যগরু ইত্যাদি দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫


নর ও মাদা পশুর কুরবানী


মাসআলা : ১৩. যেসব পশু কুরবানী করা জায়েয সেগুলোর নর-মাদা দুটোই কুরবানী করা যায়। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫


কুরবানীর পশুর বয়সসীমা


মাসআলা : ১৪. উট কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে, দেখতে ১ বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয। অবশ্য এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস বয়সের হতে হবে।


উল্লেখ্য, ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানী জায়েয হবে না। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫-২০৬


এক পশুতে শরীকের সংখ্যা


মাসআলা : ১৫. একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা শুধু একজনই কুরবানী দিতে পারবে। এমন একটি পশু কয়েকজন মিলে কুরবানী করলে কারোটাই সহীহ হবে না। আর উট, গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাত জন শরীক হতে পারবে। সাতের অধিক শরীক হলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না। -সহীহ মুসলিম ১৩১৮, মুয়াত্তা মালেক ১/৩১৯, কাযীখান ৩/৩৪৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭-২০৮


সাত শরীকের কুরবানী


মাসআলা : ১৬. সাতজনে মিলে কুরবানী করলে সবার অংশ সমান হতে হবে। কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম হতে পারবে না। যেমন কারো আধা ভাগ, কারো দেড় ভাগ। এমন হলে কোনো শরীকের কুরবানীই সহীহ হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭


মাসআলা : ১৭. উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কুরবানী করা জায়েয। -সহীহ মুসলিম ১৩১৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭


কোনো অংশীদারের গলদ নিয়ত হলে


মাসআলা : ১৮. যদি কেউ আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কুরবান

User Comments

  • ধর্ম ও নৈতিকতা