২০ মার্চ ২০১৯ ১৮:০:৩৯
logo
logo banner
HeadLine
পদ্মাসেতুর রোডওয়েতে স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু, ২১ মার্চ বসছে নবম স্প্যান * ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি শুরু, দোয়া প্রার্থনা * নিউজিল্যান্ডের পর অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণেও সতর্কতা জারি করল বাংলাদেশ * বাকশাল ছিলো সর্বোত্তম পন্থা, বাকশাল থাকলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতো না - প্রধানমন্ত্রী * নিউ জিল্যান্ডে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ * নির্বাচন শেষে ফেরার পথে বাঘাইছড়িতে গুলিতে প্রিজাইডিং অফিসারসহ নিহত ৬ * '৩০ সেকেন্ড এদিক-ওদিক হলেই আমাদের লাশ দেশে ফিরতো' * বাংলাদেশের বিপ্লব, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং জাতির পিতার নেতৃত্ব * যেখানে জনক তুমি মৃত্যুঞ্জয়ী * বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা * বাঙালির একমাত্র মহানায়ক * ক্রাইস্টচার্চে হামলায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক এবং নিন্দা, সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার * ক্রাইস্টচার্চে হামলায় ৩ বাংলাদেশীসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ * বিশ্বজুড়ে ফেইসবুক ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছে * একদিনে চার রকম কথা বললেন নুর * রোহিঙ্গাদের কোথায় রাখা হবে তা বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয় * শিক্ষার জন্য শিশুদের অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়: প্রধানমন্ত্রী * ওবায়দুল কাদেরের অবস্থার আরও উন্নতি, আইসিইউ থেকে নেয়া হয়ছে কেবিনে * ডাকসু নির্বাচন : ভিপি নুর, জিএস রাব্বানী * সিইসির খন্ডিত বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক করা উচিত নয় - মাহবুব-উল আলম হানিফ * প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচন: আ.লীগ ৫৫, অন্যান্য ২৩, স্থগিত ৯ * আহমদ শফীকে নিয়ে মেননের বক্তব্য একপাঞ্জ চাইলেন কাজী ফিরোজ রশীদ * ডাকসু নির্বাচন কাল: একনজরে প্যানেল পরিচিতি * আত্মত্যাগ ছাড়া কোনো কিছু অর্জন সম্ভব না : প্রধানমন্ত্রী * লাইফটাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট পদক পেলেন শেখ হাসিনা * চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ঘিরে উন্নয়ন মহাযজ্ঞ, খুলে যাচ্ছে বিনিয়োগের অফুরান দুয়ার * ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ চেয়ে সৌদির সাথে বিদ্যুত, জ্বালানি ও জনশক্তিসহ কয়েকটি এবং সমঝোতা স্মারক সই * কৃত্রিম সাপোর্ট ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে ওবায়দুল কাদেরের হৃদপিন্ড * ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর আত্মপ্রত্যয়ের স্বরূপ * ওবায়দুল কাদেরের অবস্থার কিছুটা উন্নতি, করা হবে বাইপাস সার্জারি *
     04,2018 Sunday at 09:50:17 Share

সংলাপের আড়ালে সংদের চেহারা

সংলাপের আড়ালে সংদের চেহারা

অজয় দাশগুপ্ত :: দেশের মতো বিদেশেও টানটান উত্তেজনা প্রবাসী বাংলাদেশীদের মনে। তারাও রাতভর বা দিনভর এই সংলাপ বিষয়ে মনোযোগী ছিল। কারণ, অনেক সময় ধরে প্রায় নির্জীব আর একপেশে রাজনীতির পানিতে কিছুটা ঢেউ জাগিয়েছে এই ঘটনা। আখেরে কার লাভ, কার লোকসান তার হিসাব হবে সময়ে। কিন্তু একটা ব্যাপার নিশ্চিত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইমেজই আবার বড় হয়ে উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছিল, তিনি বা তাঁর দল এবার রাজি হবেন না সংলাপে। যার মূল কারণ দলছুট আওয়ামী নেতা ড. কামাল হোসেন। দীর্ঘকাল দলের বাইরে থাকা আইনজীবী ড. কামাল হোসেন নানা কারণে বিতর্কিত। তবে তাঁর একটা ভদ্রজনোচিত ইমেজ আছে। যেটা আর যাই হোক বিএনপির সঙ্গে যায় না। যখন দল ছাড়লেন তখন তিনি যেমন এখনও তাই। নিজে দল করতে চাইলে পারেন না। বা করলেও টেকে না। মজার ব্যাপার হলো, দেশের বাম রাজনীতির একগাদা ত্যাগী-অত্যাগী নেতা তাঁকে সামনে রেখে গণফোরাম নামে একটি দল গঠন করেছিলেন। সে দল এখন কোথায় বা কারা আছেন কারা নেই তার হদিস মেলে না। যেমনটি আসম রবের বেলায়ও সত্য। এরশাদের স্তাবকতা আর দালালি করে কপ নামের যে বিরোধী জোট তার শরিক দলগুলো কবে মরে ভূত হয়ে গেছে তারপরও রবের আস্ফালন কমেনি। ফলে এই দুই একদা ছাত্রলীগার আর আওয়ামী লীগারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকন্যা বসবেন কি-না তা নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছিল। শেষতক প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রজ্ঞা আর মেধায় সায় দিয়ে মূলত এদের ব্যক্তি ক্রোধকে সাইজ করে দিয়েছেন।


তবে আওয়ামী লীগ জিতেছে না হেরেছে সে আলোচনার সময় এখনও আসেনি। প্রবাসে আরও বহু মানুষের মতো আমার মনেও একটা প্রশ্ন জেগেছে। ড. কামাল হোসেন বসে আছেন তাঁর পুরনো নেত্রীর মুখোমুখি এবং প্রধান হিসেবে। এটা কি মানায়? বলব, লজ্জাটা ড. কামাল হোসেনেরই হওয়ার কথা। জীবনভর তিনি যা বললেন বা করলেন শেষ বয়সে এক শ’ আশি ডিগ্রী লাফ দিয়ে আরেক কাতারে যাওয়া কি তাঁকে মানিয়েছে? খালেদা জিয়ার রাজনীতি বা বিএনপির রাজনীতি কামাল হোসেন বোঝেন আদৌ? যে মানুষগুলো তাঁর সঙ্গে গিয়েছিল যাদের হয়ে তিনি ওকালতি করলেন তারা কি আসলেই তাঁর বিশ্বাসভাজন? যদি তা হয় তাহলে তো রাজনীতি শুধু না দুনিয়াতেই আর ন্যায়-অন্যায় বলে কিছু থাকবে না। এই ভদ্রলোককে নিয়ে এত লেখা এত কথা তাই বিশেষ কিছু বলব না। আজ আমাদের সবার মনে এক প্রশ্ন, একাধিক জিজ্ঞাসা। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছিল পাকহানাদার বাহিনী। সে ছবি সে খবরের সত্যতা আছে। তাঁকে কারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানে? কিভাবেই বা তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ফিরেছিলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর আজ যেন অনেকটাই প্রকাশ্য। আমরা আওয়ামী লীগের কর্মী না। আমাদের প্রশ্ন বিবেকের। যে মানুষটিকে নিয়ে মানুষ জেনারেল জিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল আজ তিনি মির্জা ফখরুল-মওদুদের পাশে বসে চিজ কেক খাচ্ছেন এটা কেমন জানি সন্দেহের। শুধু ব্যক্তি রাগ বা ক্রোধ থেকে কেউ এটা করতে পারে?


বাজারে অনেক গুজব। কেউ বলেছে তিনি বিক্রীত। কারও মতে বিকৃত। কোন্টা সত্য তার জবাব দেবে সময়। কিন্তু এই সংলাপে আমরা বা দেশবাসী কি পেলেন? একটা লাভ হয়েছে, পরস্পর বিবদমান দুটি শক্তি মুখোমুখি বসে কথা বলতে পেরেছে। তাছাড়া তারা নৈশভোজও করেছে একসঙ্গে। এই ভোজ নিয়ে কত ট্রল আর কত খবর। যার মূল হোতা ফ্রন্টের নেতারা। তারা কেন খাবেন আর কেন খাবেন না সেটা তারা না বললেও পারতেন। বাচ্চাদের মতো খাব না খাব না করে শেষ পর্যন্ত তারা খেয়ে প্রমাণ করলেন কথা ও কাজে মিল না থাকলেও নেতা হওয়া যায়। তাও মন্দের ভাল তারা খেয়ে ফিরেছেন। মজার ব্যাপার, এই সংবিধানের বাইরে পা না রাখার ব্যাপারে অটল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তাদের কি বক্তব্য তা কিন্তু জানা যায়নি।


সামনে যে নির্বাচন তাতে কি এই সংলাপের প্রভাব পড়বে আদৌ? গ্রাম-গঞ্জের মানুষ কি আসলেই এসব নেতাদের চেনেন? বয়সী মানুষদের কাছে জাতির প্রত্যাশা ম্যাচিওরিটি। সেটা তাঁরা সংলাপে যাওয়া ছাড়া আর কোনভাবে দেখাতে পারেননি। সবাই জানেন দফা দিলেই তা পূরণ হয় না। দফা বহুবার দেয়া হয়েছে। এমনকি ছয় দফার মতো অবিনাশী দফাগুলোও পাকিরা মানেনি। কিন্তু নিজ দেশের সরকার পরিবর্তন বা জাতীয় নির্বাচনের আগে এভাবে দফা রফা করা নিতান্তই গোলমেলে। বাংলাদেশের রাজনীতির দুর্ভাগ্য, আমজনতা কিংবা সাধারণ মানুষের নেতারা এখন আর লাইমলাইটে আসতে পারেন না। ক’দিন ধরে তারস্বরে মাইক ফাটিয়ে বেড়ানো রব বা মান্নার কি কাজ ছিল বিগত বছরগুলোতে? লাখ লাখ নতুন ভোটারের ক’জন তাদের চেনে? তাদের কথা, ভাষা বা আচরণ কি আধুনিক আদৌ? সংলাপের নামে গণভবনে যাওয়া খাওয়া বা মিডিয়ায় ছবি হতে পারা এক বিষয় আর মানুষের আস্থা ধারণ করতে পারা ভিন্ন। কাজেই আমার মতো মানুষের জন্য এটি এক রাত বা সন্ধ্যার বিনোদন ছাড়া তেমন কিছু বলে মনে হয় না।


শেখ হাসিনা তাঁর উন্নয়ন কর্মকা- আর দেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে যাদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন তাদের উত্তর দেয়ার ভাষা ছিল না। আমি বলব, এ জায়গায় জাতীয় পার্টিই বরং এগিয়ে আছে। আজ থেকে অনেক বছর পর মানুষ যখন বাংলাদেশের আর্থিক প্রগতি ও ডিজিটালায়নের ইতিহাস জানাবে তারা দেখবে জাতীয় পার্টিই ছিল এর শরিক দল। এদেশের যোগাযোগ থেকে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের বিষয়ে গৃহীত কাজের ভাগিদার ছিলেন তারা। সংসদ মানে কি এক দল? সেখানে বিরোধী দলেরও হিসসা আছে। জাতীয় পার্টির যেসব নেতা নানা কমিটিতে থেকে উন্নয়ন বা অগ্রগতিতে কাজ করেছেন তাদের ইতিহাসের পাশাপাশি বিএনপির বিরোধিতাও নিশ্চয় লিপিবদ্ধ থাকবে মানুষের মনে। আজ যারা ভোটের অধিকার চাইতে গণভবনে গিয়ে খাবার খেয়ে নিউজ হলেন তাদের দায় তারা কিভাবে এড়াবেন? একমাত্র জবাবদিহিতাহীন সমাজেই তা সম্ভব। নিজের পায়ে কুড়াল মারা বিএনপি এবার যদি নির্বাচনে না যায় এবং বিদেশে পলাতক নেতা বা হাজতবাসী নেত্রীর জন্য গো ধরে থাকে তাদের ভবিষ্যত আবারও অন্ধকারে ঢেকে যাবে।


আমাদের যেটা চোখে লেগেছে বঙ্গবন্ধু কন্যার মুখোমুখি বসা ড. কামাল হোসেন। যা দেখার আগে বিদায় নেয়া নেতারা দেখলে হয়ত নিজেরাই মূর্ছা যেতেন। রঙ্গভরা বঙ্গদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার মহাসচিবকে বগলে করে নিয়ে আসা ড. কামাল হোসেন ইতিহাসে কিভাবে চিহ্নিত হবেন অনুমান করা কঠিন কিছু না। জিয়াউর রহমান যেভাবেই থাকুক টিকে আছে কিন্তু মোশতাককে মানুষ মাফ করেনি। মনে রাখে একজন জাতীয় বেঈমান আর মীরজাফর হিসেবে। সে ঘৃণার দায়ভার নেয়া দলছুট মানুষরা যখন চট্টগ্রামে গিয়ে জনসভায় ঘোষণা দেয় শেখ হাসিনার কি শাস্তি হতে পারে তা নাকি চিন্তাও করা যাবে না। তখন মনে হয় প্রধানমন্ত্রী দুধকলা দিয়ে আপ্যায়ন করলেও সাপ ছোবল মারতে ছাড়বে না।


হায় সংলাপ! তুমি কি সংদের আসল চেহারা তুলে ধরবে না?

User Comments

  • কলাম