১৭ জানুয়ারি ২০২০ ২০:৩৪:৫০
logo
logo banner
HeadLine
আরও ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে * ২৫ জানুয়ারী থেকে সব কোচিং সেন্টার এক মাস বন্ধ * আইটি খাতের আয় পোশাক খাতকে ছাড়িয়ে যাবে : জয় * বসলো ২১তম স্প্যান, দৃশ্যমান ৩১৫০ মিটার * মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১ কোটি গাছের চারা বিতরণ করবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয় * আবুধাবি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী * প্রধানমন্ত্রী আবুধাবি যাচ্ছেন আজ * জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : বিজয়ের পরিপূর্ণতা অর্জন * মুজিববর্ষ : কাউন্টডাউন শুরু বাঙালী জাতি ও স্বাধীনতা নতুন করে আবিষ্কার করবে * ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের তাৎপর্য * মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী * বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে আজ মসজিদে মসজিদে দোয়া * বঙ্গবন্ধুর দেশে ফেরার দিনই মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা শুরু, প্রতীকী উপস্থাপনা * সত্য মিথ্যা যাচাই ছাড়া ইন্টারনেটে কিছু শেয়ার করবেন না * বস্ত্র রপ্তানী বৃদ্ধির লক্ষ্যে পণ্যের বহুমুখীকরণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর * মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রক্রিয়া চলছে - বিজিবি * মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা মাহেন্দ্রক্ষণ কাল * বর্তমান সরকারের ১ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ * আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশ : 'তলাবিহীন ঝুড়ি' এখন উন্নয়নের বিস্ময় * 'পুলিশকে জনতারই হতে হবে' - প্রধানমন্ত্রী * সহযোগিতা চেয়ে পুলিশের কাছে কেউ যেন বিড়ম্বনায় না পড়ে ॥ রাষ্ট্রপতি * পুলিশ ভীতি যেন জনমনে না থাকে: প্রধানমন্ত্রী * পুলিশকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি - প্রধানমন্ত্রী * ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ দায়িত্ব পেলেন জায়-লেখক * ছাত্রলীগের সংগ্রাম ও সাফল্যের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ * আরও সাফল্যের আশা : দল ও সরকার আলাদা করলেন প্রধানমন্ত্রী * আসছে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ, সম্ভাবনা রয়েছে বৃষ্টির * বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা সমার্থক * বই উৎসব : বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে ৩৫ কোটি বই * ফিরে দেখা ২০১৯ : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় *
     20,2018 Thursday at 12:31:22 Share

নিক্কেই এশিয়ান রিভিউর প্রতিবেদন : সামান্য বৈদেশিক সাহায্য নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে সাফল্য বাংলাদেশের

নিক্কেই এশিয়ান রিভিউর প্রতিবেদন : সামান্য বৈদেশিক সাহায্য নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে সাফল্য বাংলাদেশের

রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়েও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এশিয়ার প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ তার এক প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করে বলেছে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে একটি ট্রাজেডির দেশ হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত হয়েছে বাংলাদেশ। দারিদ্র্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে এ দেশের মানুষের লড়াই অনেক আগে থেকে হলেও সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সঙ্কটের সঙ্গে লড়াই করছে দেশটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এত প্রতিকূলতার পরেও সামান্য বৈদেশিক সাহায্য নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের অর্থনীতিতে অন্যতম সফলতার নিদর্শন স্থাপন করেছে। আর এর পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের উৎপাদন খাতের অবদান। বর্তমানে রফতানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাত। পোশাক রফতানিতে দেশটির আগে রয়েছে শুধু চীন। গত এক দশক ধরেই বাংলাদেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬ শতাংশের বেশি। যেটি এই বছরে জুনে প্রায় ৭.৮৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।


১৯৭৪ সালে দেশটিতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের পরেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশটি সাড়ে ১৬ কোটি জনগণের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি অর্জন করেছে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১৭৫০ ডলার। দেশটিতে দারিদ্র্যের হারও বেশ কমে এসেছে। ২০০৯ সালে যেটি ছিল ১৯ শতাংশ তা বর্তমানে মাত্র ৯ শতাংশ এবং এ দেশে যেসব মানুষ খুব দরিদ্র তাদেরও দৈনিক আয় গড়ে প্রায় ১.২৫ ডলার।


এই বছরের শুরুতেই বাংলাদেশ জাতিসংঘের দেয়া শর্তগুলো পূরণ করে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বেরিয়ে আসে এবং বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে দেশটি ২০২৪ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে হিসেবে আবির্ভূত হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উন্নয়নকে দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বলে জানিয়েছেন।


ডিসেম্বর মাসে নিক্কেই এশিয়ান রিভিউকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে হাসিনা বলেন, নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়া আমাদের কিছু শক্তি এবং আত্মবিশ্বাস দিয়েছে যেটি শুধু রাজনীতিবিদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ না জনগণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, আপনি যখন নিম্ন পর্যায়ে থাকবেন স্বাভাবিকভাবে তখন কোন কর্মসূচী অথবা প্রজেক্ট নিতে গেলে আপনাকে অবশ্যই অন্যের দয়ার ওপর চলতে হবে। কিন্তু যখনই আপনার উন্নয়ন হবে তখন আপনার কারও ওপর নির্ভর করতে হবে না। কারণ আপনার নিজের অধিকার আছে।


ওই সাক্ষাতকারে হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের এই শক্তিশালী অর্থনীতি শুধু অব্যাহতই থাকবে না এটির গতি আরও বাড়বে। এই বিষয়ে হাসিনা বলেন, পরবর্তী ৫ বছরে আমরা আশা করছি যে আমাদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৯ থেকে বেশি হবে এবং আমরা আশা করছি ২০২১ সাল থেকে এটি ১০’র বেশি হবে। এ সময় প্রতিবেদকের সঙ্গে হাসির ছলে হাসিনা বলেন, আমি সবসময় বেশি আশা করি। কেন আমি কম আশা করব।


কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি সরকারের লক্ষ্যকেও ছাড়িয়েছে। এই বছরের জুন নাগাদ ৩৬.৭ বিলিয়ন ডলার পোশাক রফতানি করেছে বাংলাদেশ। পোশাক শিল্পে এমন উন্নতি অব্যাহত থাকলে ২০১৯ সালে পোশাক রফতানি করে ৩৯ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য পূরণ করবে । এছাড়া পোশাক শিল্পে উন্নয়ন দেখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সাল অর্থাৎ বাংলাদেশের ৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের আগে পোশাক রফতানির আয় যেন ৫০ বিলিয়ন ডলার হয় সে আহ্বান জানিয়েছেন।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ প্রবাসে থাকে যাদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশটির অন্যতম মূল চালিকা শক্তি। ২০১৮ সালের হিসাব নাগাদ বার্ষিক আয়ের প্রায় ১৮ শতাংশ রেমিটেন্স থেকে আসে যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু শেখ হাসিনা জানে যে এই প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের শিল্পকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাই তিনি দেশের রাজনৈতিক এবং ব্যবসায়ী নেতাদের রেমিটেন্স এবং আন্তর্জাতিক সাহায্যের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে কম মূল্যে পণ্য উৎপাদন করার তার যে ইচ্ছা সেটির কথা জানিয়েছেন।


২০০৯ সালে ক্ষমতা নেয়ার পর হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশে নামে একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। যেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরের উন্নয়নের কথা বলা হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বেশ এগিয়ে গেছে দেশটি। রাজধানী ঢাকা খুব ছোট শহর হলেও সেখানে টেকনোলোজি সেক্টর গড়ে উঠছে। আর সেসব সেক্টরের সিইওরা প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফার্মাসিউটিক্যাল দ্রব্য যেটি ভারতের থেকে অন্যতম প্রধান রফতানি দ্রব্য সেটিতেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।


বাংলাদেশের সরকার বর্তমানে পুরো বিশ্বে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার মধ্যে ১১টির কাজ প্রায় সম্পন্ন এবং ৭৯টির কাজ চলছে। এছাড়া দেশের অধিক জনসংখ্যাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশের সরকার। দেশের জনসংখ্যার ঘনত্বকে লভ্যাংশ উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফায়সাল আহমেদ জানান, আমাদের দেশের অধিক জনসংখ্যা ঘনত্ব ও সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনা যেমন মাইক্রোফিনেন্স এবং কম খরচে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার পরিকল্পনার করার জন্য আমাদের সাহায্য করেছে। কিন্তু আমাদের পতিত জমি কিভাবে আরও ভালভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং এই জন্য আমাদের খুব ভাল শিল্প পার্ক এবং বিশেষ শিল্প এলাকা গঠন করতে হবে।


তবে এই অভূতপূর্ব সাফল্য এবং লক্ষ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য বিরক্তিকর বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অবকাঠামো এবং তার থেকেও বাজে বাধা রাজনৈতিক বিভক্তি। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার পাশাপাশি সর্বদা কর্তৃত্ব ধরে রেখেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যার সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির। এই দুই নেতাই পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেছেন এবং কারাবরণ করেছে বিগত কয়েক দশকে। জনকণ্ঠ ।


 

User Comments

  • ব্যবসা ওঅর্থনীতি