১৭ জুন ২০১৯ ১৯:১৭:৫৪
logo
logo banner
HeadLine
টিকে থাকার ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে লিটন * ব্যাংকে টাকা আছে তবে লুটে খাওয়ার টাকা নেই: সংসদে প্রধানমন্ত্রী * সামনে দেশী-বিদেশী নানা চক্রান্ত ষড়যন্ত্র, ওসব মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকুন - প্রধানমন্ত্রী * চট্টগ্রামে বিশ্বমানের সেবা নিয়ে আজ যাত্রা শুরু করছে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল * ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে না আনলে কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারি * পত্রিকা-টিভির মালিকদের ঋণের খবর নিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী * অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর * ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি যুবকের কর্মসংস্থান করা হবে * নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী 'আমার গ্রাম আমার শহর' বাস্তবায়নে ৬৬২৩৪ কোটি টাকা * এই বাজেটে ধনী ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করছে সরকার: বিএনপি * এ বাজেট জনকল্যাণমুখী: বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী * ২০১৯-২০ বাজেট বক্তৃতায় দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের ইতিবাচক কিছু তথ্য * একনজরে স্বাধীন বাংলাদেশের সকল বাজেট : ৭৮৬ কোটি থেকে ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা * যুবদের 'ব্যবসা উদ্যোগ' সৃষ্টিতে ১০০ কোটি টাকা * পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত আয়সীমা দ্বিগুন হল * পোশাক শিল্পে প্রণোদনা ২৮২৫ কোটি টাকা * আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে * বাজেটে সবার জন্য পেনশন ব্যবস্থা * মুক্তিযোদ্ধাসহ ভাতা বাড়ল যাদের * করমুক্ত আয়ের সীমা থাকছে আগের মতোই * প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮ দশমিক ২০ * করদাতার সংখ্যা শিগগির এক কোটিতে নেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী * বাজেট কর্মমুখী, আছে কিছু হতাশাও * এডিপির জন্য বরাদ্দ ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা * ১৮ বছরের কম বয়সীদের এনআইডি দেয়া হবে * এবারও সর্বোচ্চ বরাদ্দ শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে * এই প্রথম প্রবাসীদের জন্য বীমা ও ২% প্রণোদনা * কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বেড়েছে আরও * বিকেলে বাজেট-উত্তর প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন * বেতন-ভাতা-ভর্তুকি, সুদে বরাদ্দ ৬০ শতাংশ, উন্নয়নে ৪০ *
     17,2019 Sunday at 09:35:55 Share

কৌশলে রাজনীতিতে থাকতে চাইছে জামায়াত, পুরনো বোতলে নতুন মদ

কৌশলে রাজনীতিতে থাকতে চাইছে জামায়াত, পুরনো বোতলে নতুন মদ

রাজনীতিতে টিকে থাকতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আসছে জামায়াত। এ জন্য একাধিক বিকল্প পথে এগিয়ে যেতে চাচ্ছে তারা। প্রথমত একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়ে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে জামায়াত নামে রাজনীতি করা যায় কি না। দ্বিতীয়ত দলের নীতি-আদর্শে আমূল সংস্কার করে নতুন নামে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন গ্রহণ। অন্যথায় কোন সামাজিক সংগঠনের প্লাটফর্মে গোপনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া।


সূত্র জানায়, বর্তমান ধারার রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করে জামায়াত দেশের মাটিতে আর রাজনীতি করতে পারবে না এমনটি আঁচ করেই কৌশল পরিবর্তন করে দলটি। এ জন্য প্রথমেই নানা মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে একাত্তরের ভূমিকার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে জামায়াত নামেই রাজনীতি করা যায় কিনা সে চেষ্টা করবে। কিন্তু এ চেষ্টায় সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পর আদালতের রায়েও দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ হচ্ছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে। আবার কেউ বলছে বড় ধরনের সমাবেশ ডেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলে সে ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার এবং স্বাধীনতাকামী মানুষ ক্ষমা করেও দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতেরই রাজনৈতিক ও নীতিগত পরাজয় হবে।


দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে জামায়াত দলের নীতি-আদর্শে আমূল সংস্কার এনে নতুন নামে দলের নিবন্ধন নেয়ার চেষ্টা করবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আধুনিক ইসলামী দলগুলোর অনুসরণে দলের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করবে। এছাড়া এখন আর তারা স্বাধীনতার বিপক্ষের রাজনৈতিক দল নয় তা প্রমাণ করতে বিভিন্ন সময়োপযোগী কর্মসূচী পালন করবে। দলের অধিকাংশ তরুণ নেতা এমনটিই চায় বলে জানা গেছে। তবে পর্যবেক্ষক মহলের মতে যা কিছুই করুক না কেন অতীত কর্মকা-ের জন্য জামায়াত দেশের মানুষের কাছ থেকে কখনও সহানুভূতি পাবে না।


শেষ পর্যন্ত বর্তমান নামে কিংবা নতুন নামে নিবন্ধন নিয়ে রাজনীতি করতে না পারলে জামায়াত কোন সামাজিক সংগঠনের নিবন্ধন নিয়ে ওই প্ল্যাটফর্মে গোপনে রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করবে। তবে এ ক্ষেত্রেও তারা আগের মতো আর সুসংগঠিত থেকে কাজ করতে পারবে না বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছে। কারণ, জামায়াত নেতাকর্মীদের কর্মকা-ের প্রতি কঠোর নজরদারি থাকবে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার।


শনিবার ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে নিষিদ্ধের দ্বারপ্রান্তে থাকা জামায়াতে ইসলামী নতুন নামে আসার কৌশলও হতে পারে। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি ৪৩ বছর পর ক্ষমা চাওয়ার পর্যায়ে কেন এলো? সেটাও কোন কৌশল কি না ভেবে দেখতে হবে। তবে জামায়াত একাত্তরের ভূমিকায় ক্ষমা চাইলেও যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচার চলছে এটা কিন্তু বন্ধ হবে না। জামায়াত ক্ষমা চাইলে আওয়ামী লীগ সাধুবাদ জানাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনও তারা ক্ষমা চায়নি। এটা স্পেকুলেশন পর্যায়ে, আলোচনার পর্যায়ে, গুজব-গুঞ্জনের পর্যায়ের মধ্যে সীমিত আছে। এখনও তারা অফিসিয়ালি ক্ষমা (এ্যাপোলাজ) চায়নি। তাই তারা ক্ষমা চাওয়ার আগে আমাদের কোন মন্তব্য করা সমীচীন নয়।


দীর্ঘ ২০ বছর ধরে জামায়াত বিএনপির সঙ্গে জোট করে রাজনীতি, এমনকি রাষ্ট্র ক্ষমতার অংশীদার হলেও আগে বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে এ নিয়ে কথা বলেননি। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিএনপির কোন কোন নেতা এখন জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেছেন। জামায়াত বিলুপ্ত হওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে বিএনপির পক্ষ থেকেও কোন কোন নেতা এ দলটিকে ’৭১ এর ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা শুরু করছেন বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছে। অতিসম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাতকার দিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ’৭১ এর ভূমিকার জন্য জামায়াতকে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি বলেন, জামায়াত নিজেদের লাভের জন্য বিএনপির সঙ্গে জোটে এসেছে, বিএনপির জামায়াতকে কোন প্রয়োজন নেই। বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ’৭১ এ জামায়াত স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাই এ দলটিকে ’৭১ এর ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত।


সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াত এখন কোন পথে যেতে চাচ্ছে এ নিয়ে এখন সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে চলছে ব্যাপক জল্পনাকল্পনা। কেউ বলছে আইনী প্রক্রিয়ায় দলটি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, কেউ বলছে এটি এখন সামাজিক সংগঠন হতে যাচ্ছে আবার কেউ কেউ বলছেন বিভিন্ন কৌশলে নির্বাচন কমিশনে নতুন নামে নিবন্ধিত হয়ে আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।


এদিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের পদত্যাগের একদিন পর দলটির মজলিসে শুরা সদস্য মজিবুর রহমান মনজুকে বহিষ্কারের ঘটনায় জামায়াতের রাজনীতিকে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, স্বাধীনতাবিরোধী দলটি সময়োপযোগী কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে বার বার নিজেদের নিরাপদ রাখার সুযোগ পেয়েছে। কখন কি কৌশল নিলে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে সেটি জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভালভাবেই রপ্ত করতে পেরেছে। আর এ কারণেই রাজনৈতিকভাবে নাজেহাল হওয়ার পরিবর্তে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে রেখেছে। তবে যুদ্ধাপরাধের বিচারে দলটির সিনিয়র নেতাদের ফাঁসি হওয়ার পর রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা ও নির্বাচন কমিশনে দলের নিবন্ধন হারানোর পর প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে না পারলেও গোপনে দলীয় কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।


বিভিন্ন সূত্র জানায়, জামায়াত এখন বুঝতে পেরেছে আদালতের রায়েও তাদের দলটি নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা আসছে। আর এ কারণেই তারা এখন নতুন কৌশলে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে কেউ পদত্যাগ ও কাউকে বহিষ্কার করে দলটি জনদৃষ্টি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করছে। তবে বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে আবার যখন অনুকূল পরিবেশ মনে করবে তখন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে।


জামায়াত বিলুপ্ত হয়ে গেলেও এ দলের নেতাকর্মীরা গোপনে রাজনীতি চালিয়ে যাবে। তবে এ জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম থাকলে সুবিধা হয় বিধায় তারা এখন হয় নতুন নামে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন না হয় কোন সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে থাকতে চাচ্ছে। তাহলে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে সুবিধা হয়। অবশ্য তাদের রাজনীতির ধারাটা এমন যে, গোপনে একটি সঙ্কেত পেলেও মুহূর্তের মধ্যে তারা কোথাও একত্রিত হয়ে দলীয় কর্মসূচী সফল করতে পারে।


স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নানামুখী চাপে চরম বৈরী পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াত কে। যুদ্ধাপরাধের বিচারে একে একে দলটির সিনিয়র নেতাদের ফাঁসি এবং আরও অনেক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়ে দলটি। এছাড়া দীর্ঘদিন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে দাপটের সঙ্গে টিকে থাকা দলটি অর্থনৈতিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া বহির্বিশ্বের সমর্থনও আস্তে আস্তে এ দল থেকে সরে যায়।


এক পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হরায় জামায়াত। এ কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জামায়াত। আর এটি করতে গিয়ে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াত ও বিএনপি। আর এ দু’টি দলই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল হওয়ায় এ জোটের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনও নেতিবাচক সমালোচনার শিকার হন। যে কারণে নির্বাচনে ভরাডুবির পর ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে দেশ-বিদেশে বর্তমান সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। কোন দেশই তাদের অভিযোগ আমলে নেয়নি।


আদালতের রায়ে জামায়াত বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে আঁচ করতে পেরে দলটির সিনিয়র নেতা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক পদত্যাগ করেছেন। আরও ক’জন নেতা যে কোন সময় পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া দলের সংস্কারের পক্ষে কথা বলাসহ বিভিন্ন কারণে শনিবার জামায়াতের মজলিসে শুরার সদস্য মজিবুর রহমান মনজুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে এটি জামায়াতের পাতানো খেলা কি না এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তাহলে জামায়াত কি সত্যিই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে ? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে আদালতের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


প্রসঙ্গত : স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহল থেকে চাপ আসতে থাকে। তবে বেশ ক’বার ক্ষমতায় থাকা দল বিএনপির সঙ্গে সখ্যতার কারণে এ দলটিকে রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা করা দুরূহ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন বাতিলের পর এবার জামায়াতকে ’৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক দল থেকে পদত্যাগ করার পর দলটি নিষিদ্ধ হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। দেশের সাধারণ মানুষ মনে করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের আগেই স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াত নিষিদ্ধ করা উচিত।


শুক্রবার যুক্তরাজ্য থেকে জামায়াতের আমির মকবুল আহমদের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক তার পদত্যাগপত্র পাঠান। পদত্যাগের কারণ, হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক মূলত ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির ভূমিকাকেই তুলে ধরেছেন। ব্যারিস্টার রাজ্জাক তার পদত্যাগপত্রে জানান, প্রায় দুই দশক তিনি জামায়াতকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে ’৭১-এ দলের ভূমিকা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত এবং ওই সময়ে জামায়াতের ভূমিকা ও পাকিস্তান সমর্থনের কারণ উল্লেখ করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়াা উচিত। পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের আওতায় ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক দল গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি, কিন্তু সে দাবি অনুযায়ী জামায়াত নিজেকে এখন পর্যন্ত সংস্কার করতে পারেনি। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর আজও দলের নেতৃবৃন্দ ’৭১-এর ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইতে পারেনি। এমনকি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রসঙ্গে দলের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেনি। তাই ’৭১ এর ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইতে বলেছি।


যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং নতুন নামে দল গঠন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তাব আলোচনায় আসে জামায়াতে। কিন্তু জামায়াতের মিত্র বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তা না করেও দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করা যাবে এমনটি ধরে নিয়ে দলটির কট্টরপন্থী নেতারা দলের সংস্কার ও ৭১ এর ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া থেকে বিরত থাকে।


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি জামায়াতের ভরাডুবির পর একাত্তরের ভুল স্বীকার করে বর্তমান নামে দলকে সচল রাখতে অথবা নতুন নামে দল গঠন করার উদ্যোগ নেয় জামায়াত নেতারা। দলের তরুণ নেতৃত্বের দাবির মুখে সম্প্রতি এক সভায় একাত্তরের ভুল রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং জামায়াত নামক দল বিলুপ্ত করে সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে দলকে নিয়োজিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে অনুষ্ঠিত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম মজলিশে শুরার বৈঠকে অনুমোদন পায়নি। এ কারণেই ব্যারিস্টার রাজ্জাক পদত্যাগ করে এর প্রতিবাদ জানান। যদিও আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন। লন্ডনে যাওয়ার আগে তিনি ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের প্রধান কৌঁসুলি হিসেবে কাজ করেন। লন্ডনে গিয়েও তিনি জামায়াতের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের বাঁচাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লবিং করেন। তাই দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত জামায়াত নেতার পদত্যাগ কোন নতুন কৌশল বা পরিকল্পনা কি না এ নিয়ে বিভিন্ন মহল খোঁজখবর নিচ্ছে। জনকণ্ঠ ।


 

User Comments

  • রাজনীতি