২১ নভেম্বর ২০১৯ ১০:২৩:১২
logo
logo banner
HeadLine
রক্তচোষা ব্যবসায়ী ও গুজব রটনাকারী দুই-ই সমান অপরাধী * দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা * গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান * প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবুধাবির যুবরাজের সৌজন্য সাক্ষাত, আমিরাতের শ্রমবাজার খুলে দেয়ার ইঙ্গিত * শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন আতঙ্কের নাম বুলিং * ক্ষুদ্র ঋণের কাঙ্ক্ষিত সুফল মানুষ পায়নি : প্রধানমন্ত্রী * ডায়াবেটিস : সারা জনমের রোগ * শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে অপ্রীতিকর বক্তব্য দেওয়ার সংসদে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গা * সব অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী * ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তূর্ণা -ঊদয়ন সংঘর্ষ, নিহত ১৫ আহত শতাধিক * রোহিঙ্গা গণহত্যায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়ার মামলা * দূর্বল হয়ে পড়ছে 'বুলবুল', বন্দরসমূহে ৩ নং সতর্ক সংকেত * খুনীদের জন্য এত মায়া কান্না কেন * ভারতের মাঠে বাংলাদেশের প্রথম জয় * জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু * ২ থেকে ৭ নবেম্বর বিপ্লব নয়, ষড়যন্ত্র হয়েছিল * জুয়াড়ীদের সাথে কথোপকথনের জেরে দুই বছর নিষিদ্ধ সাকিব, অভিযোগ স্বীকার করায় এক বছরের নিষেধাজ্ঞা মওকুফ * অপরাধ করে কেউ পার পাবে না, ধরা হবে সবাইকে - প্রধানমন্ত্রী * ন্যাম সম্মেলনে যোগদান শেষে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী * ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী * নুসরাত হত্যায় সিরাজসহ অভিযুক্ত ১৬ জনেরই ফাঁসি * আলোচনা ফলপ্রসূ, আমরা খুশি, খেলায় ফিরছি: সাকিব * সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটাররা, দাবি বেড়ে এখন ১৩টি * ক্রিকেটারদের দাবি মেনে নিতে আমরা প্রস্তুত বিসিবি * ১১ দফা দাবিতে ক্রিকেটারদের খেলা বর্জন * আরও ১টি সিটি কর্পোরেশন, ১টি পৌরসভা ও ৭টি থানার অনুমোদন * সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের শুদ্ধি অভিযান * ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি সঠিক পথে - অভিজিৎ ব্যানার্জি * হৃদরোগ ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মূল কারণ চিনি * সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় বাংলাদেশের অর্থনীতি *
     25,2019 Thursday at 06:50:40 Share

বাবাকে বাঁচাতে লিভারের ৬৫% দিলেন ভৈরবের উচ্ছল

বাবাকে বাঁচাতে লিভারের ৬৫% দিলেন ভৈরবের উচ্ছল

বাবার বয়স ৬০। তিনি লিভারের কঠিন রোগে আক্রান্ত। সুস্থ করার জন্য লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে। আর না করলে ডাক্তার দুই বছরের সময় বেঁধে দিয়েছেন। কিন্তু কে দেবে লিভার? এগিয়ে এলেন ছোট ছেলে উচ্ছল। আবদুল্লাহ আল হুবায়ের উচ্ছল। বাবার প্রিয় ছেলে। বললেন, বাবার জন্য তিনি নিজের লিভারের অংশবিশেষ দান করবেন! অবশেষে সেই সাহসী ছেলের কারণেই নতুন জীবন পেলেন বাবা!


বাবা আব্দুল্লাহ আল মামুন হাইকোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। লিভারের চিকিৎসা করাচ্ছেন ভারতের দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে। ডাক্তার সুভাস গুপ্তা ও তাঁর টিম দেখছেন তাকে। ডাক্তার বলছেন, হয় লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করুন না হয় দুই বছরের বেশি বাঁচবেন না। তার ছোট ভাই কালের কণ্ঠের ভৈরব প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মনসুর লিভার সিরোসিসে কিছুদিন আগে মারা যান। বাবা ভেঙে পড়েন! আর হয়তো বাঁচবেন না। বাবার এমন কঠিন রোগে সন্তানেরাও ভেঙে পড়েন।


বড় ছেলের জন্ডিস, মেয়ে সিজার করেছে দুইবার। বাবা আর ছোট ছেলের সম্পর্ক সব সময়ই একটু আবেগমাখা হয়ে থাকে। উচ্ছলের ক্ষেত্রেও তাই ছিল। বাবার এমন কঠিন রোগ হয়েছে শুনে প্রথমে ভেঙে পড়েছিলেন উচ্ছল। তারপর ঠাণ্ডা মাথায় পুরো ব্যাপারটা ভেবে দেখেন। তার জীবনে বাবার প্রয়োজন আছে। বাবাকে অনেক ভালোবাসেন উচ্ছল। তাই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি। নিজের জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও বাবার জীবন বাঁচাতে নিজের লিভারের ৬৫% দান করার সিদ্ধান্ত নেন।


কিশোরগঞ্জের ভৈরবের সন্তান উচ্ছল বেসরকারি টেলিভিশন এসএ টিভি'র মাল্টিমিডিয়া কো-অর্ডিনেটর। তিনি বাবার চিকিৎসার জন্য চাকরি ছেড়ে দেন। ছেলের আগ্রহে বাবাও চিকিৎসা করানোর জন্য স্বেচ্ছায় অবসর নেন। লিভার ট্রান্সপ্লান্টের জন্য ফের চলে যান দিল্লি। দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয় উচ্ছল ও তার বাবাকে।


এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় জটিল এক অপারেশনের আয়োজন। ডাক্তার সুভাস গুপ্তা ও তার টিম টানা ১৪ ঘণ্টার এই জটিল অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেন। সুস্থ হয়ে ওঠেন বাবা।


কথা হয় উচ্ছলের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাবার লিভারের অসুখটা আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছিল। তার ওপর কিছুদিন আগে লিভার সিরোসিসে ছোট কাকা মারা যান। টেনশনে ঘুমাতে পারছিলাম না। চোখের সামনে ছোট কাকার মৃত্যু মেনে নিতে পারিনি। বাবার ক্ষেত্রে এমনটি হবে, সেটা কিভাবে মানব! সিদ্ধান্ত নিই লিভার আমি নিজেই দেব।


অপারেশনের সময় উচ্ছলের স্ত্রী তাদের সঙ্গেই ছিলেন। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ১৪ ঘণ্টা অপারেশনের পর রাত ৮টায় খানিকটা জ্ঞান ফেরে উচ্ছলের। ওটিতে সেন্স আসার পর থেকেই আমাদের দেখার জন্য উদগ্রীব হওয়ায় ডাক্তার আমাদের কল করে। ওটি থেকে আইসিইউতে নিয়ে যাচ্ছে এ সময় মাত্র এক মিনিটের জন্য দেখতে পেরেছিলাম। আমাকে দেখে হাত উঁচু করে ভিক্টরি সাইন দেখাল এবং বুঝাল যে সে ভালো আছে। আধখোলা চোখে প্রথমেই তার বাবা কেমন আছে প্রশ্ন করতেই আমি বললাম, ভালো আছে, মাকে দেখতে চাইল। আর এ রকম আধা সেন্সের জড়ানো বুলিতে আমাকে বলল, তোমাকে সুন্দর লাগছে। কাঁদতে কাঁদতে আমার চোখ-মুখ ফুলে যাচ্ছিল।


লিভার দান করা প্রসঙ্গে ডা. সালাহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান মানুষ যদি তার লিভার বা যকৃতের অর্ধেকের বেশি অংশ দান করে দিতে পারেন। সময়ের সাথে সাথে তার নিজের লিভার রি-জেনারেট করে ধীরে ধীরে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে।


পেটে অপারেশনের গভীর চিহ্ণের ছবি দেখিয়ে উচ্ছল বলেন, বাবাও এখন সুস্থ। আমিও এখন সুস্থ। তবে ডাক্তারের পরামর্শে আরো একমাস পর ইনডিপেনডেন্ট টিভিতে যোগদান করব।


৩০ বছরের ছেলেটির দুর্দান্ত সাহস আর ভালোবাসার প্রশংসা না করে উপায় আছে? কালের কণ্ঠ ।


 

User Comments

  • আরো