১৭ জুন ২০১৯ ১৯:১৪:১৮
logo
logo banner
HeadLine
টিকে থাকার ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে লিটন * ব্যাংকে টাকা আছে তবে লুটে খাওয়ার টাকা নেই: সংসদে প্রধানমন্ত্রী * সামনে দেশী-বিদেশী নানা চক্রান্ত ষড়যন্ত্র, ওসব মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকুন - প্রধানমন্ত্রী * চট্টগ্রামে বিশ্বমানের সেবা নিয়ে আজ যাত্রা শুরু করছে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল * ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে না আনলে কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারি * পত্রিকা-টিভির মালিকদের ঋণের খবর নিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী * অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর * ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি যুবকের কর্মসংস্থান করা হবে * নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী 'আমার গ্রাম আমার শহর' বাস্তবায়নে ৬৬২৩৪ কোটি টাকা * এই বাজেটে ধনী ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করছে সরকার: বিএনপি * এ বাজেট জনকল্যাণমুখী: বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী * ২০১৯-২০ বাজেট বক্তৃতায় দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের ইতিবাচক কিছু তথ্য * একনজরে স্বাধীন বাংলাদেশের সকল বাজেট : ৭৮৬ কোটি থেকে ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা * যুবদের 'ব্যবসা উদ্যোগ' সৃষ্টিতে ১০০ কোটি টাকা * পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত আয়সীমা দ্বিগুন হল * পোশাক শিল্পে প্রণোদনা ২৮২৫ কোটি টাকা * আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে * বাজেটে সবার জন্য পেনশন ব্যবস্থা * মুক্তিযোদ্ধাসহ ভাতা বাড়ল যাদের * করমুক্ত আয়ের সীমা থাকছে আগের মতোই * প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮ দশমিক ২০ * করদাতার সংখ্যা শিগগির এক কোটিতে নেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী * বাজেট কর্মমুখী, আছে কিছু হতাশাও * এডিপির জন্য বরাদ্দ ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা * ১৮ বছরের কম বয়সীদের এনআইডি দেয়া হবে * এবারও সর্বোচ্চ বরাদ্দ শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে * এই প্রথম প্রবাসীদের জন্য বীমা ও ২% প্রণোদনা * কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বেড়েছে আরও * বিকেলে বাজেট-উত্তর প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন * বেতন-ভাতা-ভর্তুকি, সুদে বরাদ্দ ৬০ শতাংশ, উন্নয়নে ৪০ *
     13,2019 Monday at 19:20:54 Share

এখনো বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ সেই ৫২ পণ্য

এখনো বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ সেই ৫২ পণ্য

বাংলানিউজ :: বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া ৫২টি পণ্য এখনো পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। এসব পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য আদালত নির্দেশনা দিলেও এখনো দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনো তৎপর চোখে পড়ছে না নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি সংস্থাগুলোর। এজন্য তারা কারণ দেখাচ্ছে ‘আদেশের অনুলিপি’ হাতে না আসাটাকে।


রোববার (১২ মে) এক রিট শুনানির আদেশে উচ্চ আদালত বিভিন্ন ধরনের ভোজ্য তেল, খাবারের মসলা, পানি, সেমাই, ঘি, ময়দা, দই, চানাচুর, মধু, লবণসহ বিভিন্ন ধরনের ৫২টি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রি বন্ধ এবং সেগুলো বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেয়। বিএসটিআইয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে পুনরায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ এবং  বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় ওই রায়ে। আর এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেন আদালত।


তবে সোমবার (১৩ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার, শান্তিনগর, উত্তরাসহ বেশ কয়েকটি এলাকার দোকানপাট ও বাজারে এখনো সেসব পণ্যের মজুদ দেখা যায়। থেমেও নেই এসব পণ্যের বিক্রি। এসব পণ্যের মজুদ সরিয়ে নেওয়া অথবা বিক্রি বন্ধে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি পণ্যগুলোর মালিকানা প্রতিষ্ঠান বা উৎপাদক থেকে শুরু করে সরবরাহকারী অথবা সরকারি সংস্থাগুলোকে।


উত্তরার বিডিআর মার্কেটের মুদি দোকানি মো. মনির হোসেন  জানান, ভেজালের কারণে নিষিদ্ধ হওয়া পণ্যের মধ্যে বেশ কয়েকটি পণ্য আছে তার দোকানেও। আর সেগুলো ক্রেতারা কিনছেনও। 


কারওয়ান বাজারে পণ্য কিনতে আসা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, পণ্যে ভেজাল আছে বুঝলাম, কিন্তু ভাল বা নির্ভেজাল পণ্যটা কোথায়? ৫২টি হয়তো পরীক্ষা করে ভেজাল পাওয়া গেছে, কিন্তু ঠিকমত পরীক্ষা করলে দেখা যাবে যে, প্রায় শতভাগ পণ্যেই ভেজাল। তাই ভেজাল পণ্যই যেহেতু কিনতে হবে তাহলে এগুলো কিনলেই বা আর কী হবে!


তবে নিষিদ্ধ পণ্যগুলোর বিষয়ে উৎপাদক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান বা সরবরাহকারীদের কাছে থেকে এখনো কোনো ‘নির্দেশনা’ পাওয়া যায়নি বলে  নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন। পণ্যগুলো এখনো বিক্রি হচ্ছে এবং ক্রেতারা কিনছেন জানিয়ে হেলাল উদ্দিন বলেন, এ ধরনের খবর রীতিমত আতঙ্কিত হওয়ার মত খবর। কিন্ত বাস্তবতা হচ্ছে, বিএসটিআই বা অন্যান্য অনেক সংস্থার ওপরই এখন জনগণের আস্থা সেভাবে নেই। বিএসটিআইয়ের থেকে অনেক উচ্চমানের পরীক্ষাগার আছে এসব প্রতিষ্ঠানের। তবে আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আমাদের দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমরা দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে একটি চিঠি লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা সেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলবো যে, আমাদের মজুদে থাকা মালগুলো নিয়ে কেনার সময়ে দেওয়া মূল্য ফিরিয়ে দিতে অথবা পণ্যগুলোতে যে ভেজাল নেই সেটা যেন তারা প্রমাণ করে। 


এদিকে আদালতের রায়ের অনুলিপি হাতে পেলে সেখানে থাকা নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে  জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য এবং অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন বলেন, আদালতের আদেশের কপি না পাওয়া পর্যন্ত আসলে আমাদের কিছুই করার নেই। কারণ আদেশে উল্লেখিত বিভিন্ন শব্দগত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করবে যে আমাদের কী পদক্ষেপ নিতে হবে? পণ্যগুলো সরিয়ে ফেলা বলতে ঠিক কোনগুলো বা কী পরিমাণ সরিয়ে ফেলতে হবে সেটা দেখতে হবে। কোনো একটি ব্যাচ নাকি পুরো লট সরিয়ে ফেলতে হবে? এসব বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে রায় বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেবো। 


প্রায় একই রকম মন্তব্য করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। 


অন্যদিকে আদালতের আদেশের পরও এসব পণ্য বিক্রিকে ‘একরকম অবৈধ’ বলছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী ওয়াসীমুল হক। তিনি বলেন, এটা ঠিক যে রায়ের কপি থেকে পরিষ্কার হবে, ওই পণ্যগুলোর সবগুলোর ওপরেই কি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে নাকি কোনো বিশেষ ব্যাচ বা লটের ওপর। তবে আংশিক হলেও সেসব পণ্য বাজারে তো আছে। তাই সেই পণ্যগুলো অন্তত বিক্রি করা অবৈধ এখন। আর যদি ওই ৫২টির সবগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়ে থাকে তাহলে তো সবই বিক্রি অবৈধ। 


পাশাপাশি এ ধরনের পণ্য কেনার সময় ক্রেতাদের আরও সাবধান ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রেসিডেন্ট ও সাবেক বিচারপতি গোলাম রহমান। একইসঙ্গে দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের ৫২টির তালিকায় থাকা পণ্যগুলো পরবর্তী নির্দেশনা আসা পর্যন্ত বিক্রি বন্ধ রাখা নৈতিকভাবে ‘উচিত’ বলেও মত দিয়েছেন তিনি। 

User Comments

  • জাতীয়