৫ জুলাই ২০২০ ২:৪৫:১৮
logo
logo banner
HeadLine
০৪ জুলাই : দেশে আজ শনাক্ত ৩২৮৮ , মৃত ২৯ * সন্দ্বীপ পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি পেতে যাচ্ছে ৭০ হাজার পৌরবাসী * ৩ জুলাই : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২৬৩, মোট ৯৬৬৮ * পাটকলগুলোর আধুনিকায়নে উৎপাদন বন্ধ করে শ্রমিকদের এককালীন পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার * প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডেল্টা কাউন্সিল গঠন * ০৩ জুলাই : দেশে আজ শনাক্ত ৩১১৪ , মৃত ৪২ * ২ জুলাই : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২৮২, মৃত ৩ * দেশে আবিষ্কৃত করোনা ভ্যাকসিন আসছে ৬ মাসের মধ্যে * ০২ জুলাই : দেশে আজ শনাক্ত ৪০১৯ , মৃত ৩৮ * ১ জুলাই : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২৭১, মৃত ৬ * দেশী কোম্পানী গ্লোব বায়োটেকের করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি, সংবাদ সম্মেলন কাল * ০১ জুলাই : দেশে আজ শনাক্ত ৩৭৭৫ , মৃত ৪১ * ৩ আগস্ট পর্যন্ত স্বাস্থ্যবীধি মেনে সীমিত পরিসরে অফিস ও গণপরিবহন চলবে * ৩০ জুন : চট্টগ্রামে আজ শনাক্ত আরও ৩৭২ * সংসদে ২০২০ - ২১ অর্থবছরের বাজেট পাস * ৩০ জুন : দেশে আজ শনাক্ত ৩৬৮২ , মৃত ৬৪ * ২৯ জুন : চট্টগ্রামে আজ শনাক্ত আরও ৪৪৫ * 'গেদু চাচা' খ্যাত খোন্দকার মোজাম্মেল হক আর নেই * করোনা পরীক্ষার ফিঃ ২০০ টাকা , বাসায় ৫০০ * করোনা ভাইরাসের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি মহামন্দার দ্বারপ্রান্তে - প্রধানমন্ত্রী * বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি ,৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার * ২৯ জুন : দেশে আজ শনাক্ত ৪১০৪ , মৃত ৪৫ * ২৮ জুন : চট্টগ্রামে আজ শনাক্ত আরও ৩৪৬ * জাতির ক্রান্তিকালে ভরসা দেয় যে নেতৃত্ব * আপন মহিমায় ভাস্বর একাত্তর উত্তীর্ণ আওয়ামী লীগ * শুধু করোনা নয়, সমগ্র চিকিৎসা ব্যবস্থায় মনোযোগ দরকার * বছরের পর বছর লোকসান, বন্ধ হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সব পাটকল, ২৫ হাজার শ্রমিক গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে * বিশ্বজুড়ে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১ কোটি ছাড়ালো, মৃত ৫ লাখ * ২৭ জুন : চট্টগ্রামে আজ শনাক্ত আরও ৬৪ * ৭ কোটি ১১ লাখ মানুষ করোনায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা পেয়েছে *
     12,2019 Friday at 21:15:39 Share

আরও বৃষ্টির আশংকা, বিপদসীমার উপরে প্রধান নদ-নদীর পানি

আরও বৃষ্টির আশংকা, বিপদসীমার উপরে প্রধান নদ-নদীর পানি

শুক্রবার দুপুর থেকে রাজধানীসহ সারাদেশ ভারী বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্রুতগতিতে। এরকমভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে পানি যেকোনো সময় বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।


এদিকে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। সোমবার এই বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে বলে তারা জানায়। ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভূমিধসেরও আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল থেকেই দেশের উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়। এর ফলে দ্রুতগতিতে দেশের সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, আজকের মধ্যেই যমুনা নদীর জামালপুর জেলার বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল ৬টা থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় রাঙ্গামাটিতে ১৬৫, হাতিয়ায় ১৩৫, সীতাকুণ্ড১২৯, টাঙ্গাইলে ১২২, কুতুবদিয়ায় ১১১, সনদ্বীপে ১০১ এবং চট্টগ্রামে ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।


 


এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান  বলেন, ‘আগামী দুই দিন এই বৃষ্টি থেমে থেমে অব্যাহত থাকবে। সোমবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমে আসবে। কিন্তু একেবারে বন্ধ হবে না। বষা মৌসুমে এই বৃষ্টি স্বাভাবিক। ভারী বৃষ্টির কারণে নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।’


এদিকে, শুক্রবার (১২ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ঢাকার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ৭৬ মিলিমিটার এবং দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে রাঙ্গামাটিতে। এই অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৯৪ মিলিমিটার।


আবহাওয়ার এক সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় শুক্রবার (১২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ এ কে এম রুহুল কুদ্দুছ।


অন্যদিকে, শুক্রবার রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল,পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।


 


অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি এখনো অবনতির দিকে। শুক্রবার সকাল থেকেই বেড়েছে সুরমা, ধরলা ও তিস্তার পানি। পানিবন্দি হয়ে আছে অনেক গ্রামের মানুষ। কমপক্ষে হাজারো পরিবার ঠাঁই নিয়েছেন আশ্রয়শিবিরে।


লালমনিরহাট জেলার প্রায় সবকটি নদীর পানিবৃদ্ধি অব্যাহত হয়েছে। বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করছে ধরলা’র পানিও। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। পানিবন্দী ১৯টি ইউনিয়নের ৬০টি গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা কুটিরপাড়ে বাঁধ ভেঙ্গে তিস্তার পানিতে ভেসেছে লোকালয়। ডুবেছে ঘর-বাড়ী ও আবাদি জমি। গবাদি পশুসহ অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন সরকারি রাস্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে চরম অমানবিক পরিস্থিতে পড়েছেন দুর্গতরা।


খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস নেই। বুধবার থেকে পানিবন্দি ২৫ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ। ১২টি আশ্রয় শিবিরে উঠেছে তিন শতাধিক পরিবার। এখনো বিচ্ছিন্ন দীঘিনালার সাথে রাঙামাটির লংগদুর সড়ক যোগাযোগ।


বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। সড়কের বিভিন্ন স্পট তলিয়ে বুধবার থেকে বিচ্ছিন্ন সারাদেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ। পাহাড় ধসে সাত উপজেলার অভ্যন্তরীন রাস্তাগুলোও বন্ধ রয়েছে।


একই অবস্থা সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার। জানা যায়, গত পাঁচ দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। আকস্মিক এই বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন জেলার লক্ষাধিক মানুষ। বন্যার কারণে বন্ধ রয়েছে প্রায় তিনশ’ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ৬টি পয়েন্ট দিয়ে পাড় উপচানো পানি সুনামগঞ্জ শহরে ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলো।


কুড়িগ্রাম জেলায় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে নদী তীরবর্তী চরের নিম্নাঞ্চল। দ্রুত গতিতে পানি বাড়ার পাশাপাশি তীব্র রূপ নিয়েছে নদ-নদীর ভাঙন। বন্যা মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ এবং পর্যাপ্ত ত্রাণের দাবি জানিয়েছেন দুর্গতরা।


এ ছাড়া আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের সুরমা, কুশিয়ারা, কংস, সোমেশ্বরী, ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহুরি, হালদাসহ প্রধান নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

User Comments

  • জাতীয়