২৬ আগস্ট ২০১৯ ১৫:৪৪:১৬
logo
logo banner
HeadLine
আইভি রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর মিলাদ মাহফিলে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী * বেপরোয়া রোহিঙ্গারা, পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২ * ২ বছরে রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের ব্যয় ৭২ হাজার কোটি টাকা! * আবারও ভেস্তে গেল রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া * গ্রেনেড হামলায় খালেদার মদদ ছিল,মৃত্যু ভয়ে আমি কখনই ভীত ছিলাম না, এখনও নই * নারকীয় গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকী আজ, আওয়ামীলীগকে নেতৃত্বশূন্য করতেই এ হামলা * ২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু * ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১,৬১৫ জন, কমছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা * জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রথমবারের মতো পালিত হলো জাতীয় শোক দিবস * ডেঙ্গু দমন নিয়ে অসন্তোষ হাইকোর্ট * সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু * ডেঙ্গুর কার্যকর ওষুধ ছিটাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও দুই মেয়রকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ , নাগরিকদেরকে তাদের বাড়িঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি * সরকারী হাসপাতেলে বিনামূল্যে, বেসরকারীতে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি বেঁধে দিয়েছে সরকার * ডেঙ্গু জ্বর: প্রতিরোধের উপায় * ডেঙ্গু : প্রকার, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা * ডেঙ্গু সম্পর্কে ১০ তথ্য * টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা, সমুদ্রবন্দরসমূহে ৩ নং সতর্ক সংকেত * মশা নিধনে দুই সিটি করপোরেশনকে চারদিন সময় দিলেন হাইকোর্ট * আমরা বিশুদ্ধ পানি চাই: হাইকোর্ট * প্রধানমন্ত্রীর চোখে অস্ত্রোপচার * ছেলেধরা সন্দেহে ১৮ জনকে গণপিটুনি, সারাদেশে আতঙ্ক * গুজব-গণপিটুনি বন্ধে পুলিশ সদর দপ্তরের বার্তা * দূত সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী * রাজধানীতে ছেলেধরা সন্দেহে গনপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় ৫০০ জনের বিরুদ্ধ্বে হত্যা মামলা * লন্ডন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী * ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য নাম, সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে প্রিয়া সাহার অভিযোগ সঠিক নয়, : মার্কিন রাষ্ট্রদূত * রিফাত হত্যায় আদালতে মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি * রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান * জিএম কাদের জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান * এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৭৩.৯৩ *
     15,2019 Monday at 20:31:33 Share

উন্নয়নের গতি বাড়াতে ডিসিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

উন্নয়নের গতি বাড়াতে ডিসিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

দেশে চলমান উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখতে কাজের গতি বাড়ানো এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারী সব সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কাজ করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারী সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যাতে কোনভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন সেদিকেও জেলার অধিকর্তাদের সতর্ক করে দেন তিনি।


সুশাসন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস-জঙ্গী, মাদক, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি নির্মূল, খাদ্যে ভেজালসহ বিভিন্ন বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য উন্নয়নের গতিটা অব্যাহত রাখাটা জরুরী। আর এটা মাথায় রেখেই আপনাদের (জেলা প্রশাসক) কাজ করে যেতে হবে। আপনারা আপনাদের যে মেধা ও মনন দিয়ে এই দেশটাকে গড়ে তুলবেন। আর সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে যেন কর্মক্ষেত্রে আপনাদের দক্ষতার পরিচয় রাখতে পারেন সেটাই আমি চাই। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে এবং জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবই।


রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে পাঁচ দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৯-এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতিসহ নানা ধরনের যে অসামাজিক কার্যক্রম সেগুলো বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে স্পষ্ট কথাটা হচ্ছে যে. ঘুষ যে নেবে সে শুধু অপরাধী না, যে দেবে সেও সমানভাবে অপরাধী। বরং যে দেবে সেই বেশি অপরাধী। এই কথাটা মাথায় রেখেই কিন্তু আমরা কাজ করলে তাহলেই আমরা এর হাত থেকে মুক্ত করতে পারব।


জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস দমন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসম্পৃক্ততার সৃষ্টির মাধ্যমে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করা হচ্ছে- এটাই হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা। এটাকে অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা জঙ্গীবাদকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। কিন্তু তার মানে এই না যে, এটা শেষ হয়ে গিয়েছে। কাজেই সর্বদা সজাগ থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং গোয়েন্দা সংস্থাসহ সবাইকে সক্রিয় রেখে সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে এবং সমাজের সবাইকে যুক্ত করে এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলে প্রতিরোধ করতে হবে।


ডিসি সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম, শেরপুর জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন এবং খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোঃ নজিবুর রহমান ও এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


অনুষ্ঠানে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যগণ, সিনিয়র সচিব এবং সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, অংশগ্রহণকারী বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ বছরের ডিসি সম্মেলনে মোট ২৯টি অধিবেশন হবে এবং সম্মেলনে ৩৩৩টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা, ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের কার্যক্রম জোরদার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, দারিদ্র্য দূরীকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। জেলা প্রশাসকগণ সম্মেলন চলাকালে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গেও সাক্ষাত করবেন।


উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ডিসিদের উদ্দেশ্যে করে আরও বলেন, তার সরকার একটি লক্ষ্য নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। আপনাদের (ডিসি) চাকরি তো দীর্ঘকালীন, আর আমাদের চাকরি স্বল্প মেয়াদের। পাঁচ বছরের জন্য আমরা নির্বাচিত হয়েছি। কাজেই এই পাঁচ বছরের মধ্যে আমাদের দেশটাকে একটা জায়গায় নিয়ে আসতে চাই এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই আমর বাজেট দিয়েছি, পরিকল্পনা নিয়েছি বা নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছি। আর সেই লক্ষ্যটা হলো বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হবে, যোগ করেন তিনি।


২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চান উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের ২১ ভাগ দারিদ্র্যমুক্ত হয়েছে এবং আমি মনে করি, আমরা যদি আরেক নেই- আমাদের হাতে এখনও যে সময়টা রয়েছে তাতে ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ২-৩ ভাগ কমাতে পারব। আপনারা জানেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দারিদ্র্যের হার ১৮ ভাগ। আমরা তার থেকে অন্তত এক ভাগ বেশি কমাতে চাই। আপনাদের প্রচেষ্টা থাকলে অবশ্যই আমরা পারব।


এ সময় প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্য পূরণে পরিকল্পনা ও কর্মসূচীর যথাযথ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে বলেন,


যারা আমাদেরকে একদিন বলেছিল, বাংলাদেশ ‘বটমলেস বাস্কেট’ হবে। তাদের দেখাতে চাই দারিদ্র্যের হার কমিয়ে এনেছি। ২০২৪ সালের মধ্যে এই হারকে আরও কমাব। আর ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ এই দক্ষিণ এশিয়ায়। এই দেশের মানুষ যেন মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে চলতে পারে- সে ব্যবস্থাটাই তার সরকার করতে চায়। আর খালি হাততালি না, আপনাদের ওয়াদা করতে হবে, আপনারা এটা করবেন। উপস্থিত জেলা প্রশাসক ও কমিশননারগণ এ সময় হাত তুলে এতে সম্মতি জানান।


তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করার জন্য ডিসিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতে পদক্ষেপ নিতে হবে। দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই হাসপাতালগুলোতে আমাদের সমস্যা হয় ডাক্তার থাকে না, সার্জন থাকে না, এ্যানেসথেসিষ্ট থাকে না।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিসিরা স্বপ্রণোদিত হয়ে নানা সামাজিক উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন। যার সুফল সাধারণ জনগণ পেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ভিক্ষুকমুক্ত করার জন্য খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমে উদ্যোগ নেয়া হয়। পরে এর সঙ্গে তিনিও সম্পৃক্ত হন। তবে, যারা পেশাদার ভিক্ষুক, তাদের এই পেশা থেকে সরানো কষ্টকর। অন্যদিকে নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় মানুষ নতুন করে গৃহহারা ও নিঃস্ব হচ্ছে। তিনি বলেন, যখনই এমন হবে তখনই তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। কেউ ভিক্ষা করতে পারবে না। আর সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের কর্মসূচীর তালিকা প্রণয়নকালে প্রকৃত দুঃস্থরাই যেন সহায়তা পেতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা বেশি হলেও তা বোঝা নয়। জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা গেলে তারাই হবে উন্নয়নের মূল শক্তি।


ডিসিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনা ॥ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা প্রশাসকদের করণীয় হিসেবে ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন।  জেলাপ্রশাসক সম্মেলন-২০১৯ এর উদ্বোধণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
সরকারের মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ পাঁচদিন ব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজক। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো হচ্ছে-
(১) সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যাতে কোনভাবেই হয়রানী বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।
(২) জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সর্বক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আপনাদের আরও সতর্কতার সঙ্গে এবং কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।


(৩) যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
(৪) গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচনে আপনাদের ব্রতী হতে হবে।
(৫) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’র উন্নয়ন ও বিকাশে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিতে হবে। দৈনন্দিন প্রয়োজনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারে জেলার সাধারণ জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
(৬) তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে।
(৭) শিক্ষার সকল স্তরে নারীশিক্ষার হার বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ত্যাগের হার হ্রাস এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে।
(৮) ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ভূমি রক্ষায় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।


(৯) কৃষি-উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার, বীজ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদির সরবরাহ নির্বিঘœ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিতে হবে।
১০) ভেজাল খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং এ ধরনের অনৈতিক কর্মকা- কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
(১১) দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
(১২) পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই সংক্রান্ত আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।


(১৩) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় প্রশমনে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২’ এবং এ সংক্রান্ত স্থায়ী নির্দেশনাবলি অনুসারে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
(১৪) সাধারণ মানুষকে সহজে সুবিচার প্রদান ও আদালতে মামলার জট কমাতে গ্রাম আদালতগুলিকে কার্যকর করতে হবে।
(১৫) জেলা প্রশাসকগণ জেলাপর্যায়ে বিভিন্ন কমিটির প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সকল কমিটিকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে হবে।
(১৬) দপ্তরসমূহের বিদ্যমান সেবাসমূহ তৃণমূলে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তথ্য মেলা, সেবা সপ্তাহ পালনসহ ইত্যাদি কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
(১৭) শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্য-পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি নির্বিঘœ করা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাস নির্মূল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
(১৮) বাজার-ব্যবস্থার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। ভোক্তা-অধিকারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যে কোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।


(১৯) নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পাচার, যৌতুক, ইভটিজিং এবং বাল্যবিবাহের মত সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি’র জন্য আপনাদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।
(২০) নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
(২১) শিশু-কিশোরদের পুষ্টিচাহিদা পূরণ এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষা, ক্রীড়া, বিনোদন ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংস্কৃতিবোধ ও বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তুলতে হবে।
(২২) প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।


(২৩) পার্বত্য জেলাসমূহের উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণের পাশাপাশি এ অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, বনাঞ্চল, নদী-জলাশয়, প্রাণিসম্পদ এবং গিরিশৃঙ্গগুলির সৌন্দর্য সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া, পর্যটনশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কুটিরশিল্পের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।
(২৪) ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী কেন্দ্রীয় পর্যায় হতে তৃণমূল পর্যন্ত উদ্যাপনের লক্ষ্যে আপনাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


(২৫) ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধুর আজীবন লালিত স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে হবে।
(২৬) বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জেলা,উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে এই ব্যবস্থা নিতে হবে।
(২৭) কোন ঢালাও পরিকল্পনা নয়, জেলার চাহিদানুযায়ী এবং তার প্রকৃতি ও পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
(২৮) স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ, জনগণের চাহিদা এবং উন্নত জীবন নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষভাবে লক্ষ্য রেখে প্রকল্প ও উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
(২৯) প্রকৃতি ও পরিবেশ বজায় রেখে খেলাধূলার বিকাশে প্রত্যেক উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
(৩০) মানুষের চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা সহ সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠী, হিজড়া এবং বেদে সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মনযোগী হতে হবে।
(৩১) গৃহহারা, ভূমিহীন এবং ভিক্ষুকদের পুণর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

User Comments

  • জাতীয়