১৮ নভেম্বর ২০১৯ ১৮:৩:৫৪
logo
logo banner
HeadLine
যুবলীগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রবিবার, বৈঠকে থাকছেন না ওমর ফারুক চৌধুরী * পাপ পুণ্যের দানবে অসহায় মানুষ * র্যা গিংয়ের শিকার হলে নালিশ করুন, বিচার হবে : আইনমন্ত্রী * চট্টগ্রামে তিন মেট্রোরেল নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ * আরও দু'টি মেট্রোরেল রাজধানীতে * এক বাঙালিসহ অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন ৩ জন * বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনারও রোল মডেল : প্রধানমন্ত্রী * ছাত্র রাজনীতি কিংবা ছাত্রলীগ নয়, টার্গেট সরকার * হঠাৎ চারদিকে কেমন যেন অস্বস্তি * ইউনিয়ন পর্যন্ত নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী * রসায়নে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী * দেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে, এটা হতে পারে না * পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী * অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ অটুট থাকবে, আশা প্রধানমন্ত্রীর * হাসিনা-মোদী বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত ৭ চুক্তি, ৩ প্রকল্প উদ্বোধন * পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান * আঞ্চলিক অর্থনীতির কেন্দ্র হতে পারে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী * উন্নয়নের উইপোকা দমনে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত * কোনো অন্যায় হলে তার ব্যবস্থা আমিই নেবো, সেটা যে-ই হোক - প্রধানমন্ত্রী * রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে * রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ব্যবস্থা নিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী * 'রাজহংস' উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা * মানুষের সেবা করার ব্রত নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি - প্রধানমন্ত্রী * জনগণের আস্থায় যেন ফাটল না ধরে, সজাগ থাকতে হবে * কাল রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী * এসএমই খাতে ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ছে * আওয়ামীলীগে শুদ্ধি অভিযান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী দুই শতাধিক নেতাকে পাঠানো হচ্ছে শোকজ * আমরা কৃষিকেও গুরুত্ব দেই, আবার শিল্পকেও গুরুত্ব দেই - শেখ হাসিনা * বেপরোয়া রোহিঙ্গারা, প্রশাসনিক এ্যাকশন শুরু * স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা দিতে হবে *
     31,2019 Saturday at 16:43:52 Share

আসামে চূড়ান্ত নাগরিকত্ব তালিকা থেকে বাদ পড়ল ১৯ লাখ

আসামে চূড়ান্ত নাগরিকত্ব তালিকা থেকে বাদ পড়ল ১৯ লাখ

আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকা থেকে বাদ পড়ছে ১৯ লাখের বেশি মানুষ। আজ শনিবার সকাল ১০ টায় বহু প্রতিক্ষীত এই তালিকা প্রকাশ করা হলো। এনআরসি সেবা কেন্দ্র ও সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এই তালিকা। এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জনের নাম অন্তর্ভুক্তি হয়েছে।


অপরদিকে ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জনের নাম বাদ পড়েছে চূড়ান্ত তালিকা থেকে। তবে গত বছরের ৩০ জুলাই ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেন্স (এনআরসির) তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল প্রায় ৪০ লাখ আবেদনকারীর নাম। এরা সবাই বাঙালি এবং বেশিরভাগই মুসলিম। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল তাদের।


চলতি বছরেও প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার আবেদনকারীর নাম পড়েছে। এনআরসির তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি না হয় সে কারণে আসামজুড়েই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই গুয়াহাটিসহ রাজ্যের উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।


এনআরসি তালিকায় নাম উঠেছে কিনা তা এনআরসি সেবা কেন্দ্র অথবা সার্কেল অফিসারের অফিস কিংবা ডেপুটি অফিসারের অফিসে গিয়ে দেখা যাবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে এই তালিকা দেখা যাবে।


আসামের ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স বা এনআরসির প্রথম তালিকাটি প্রকাশিত হয় ১৯৫১ সালে। সেটা ছিল ভারত ভাগের চার বছর পর। সে সময় তৎকালীন পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অংশ হওয়ার পর লাখ লাখ লোক সীমান্ত অতিক্রম করে নবগঠিত ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন।


বিপুল সংখ্যক মুসলমানদের আগমন হিন্দু-প্রধান আসামের জনসংখ্যার ভারসাম্যকে বদলে দিতে পারে এই আশঙ্কায় সেখানকার অসমীয়া জাতীয়তাবাদী দলগুলো আন্দোলন শুরু করে এবং নাগরিকত্বের প্রথম তালিকাটি তৈরি হয়।


এই সমস্যা আবার দেখা দেয় ১৯৭০ সালে যখন বাংলাদেশে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে আন্দোলন শুরু হয়। সে সময় লাখ লাখ মানুষ পালিয়ে ভারতে চলে যায়। এদের একাংশ আসামে আশ্রয় নেয়।


অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু) ১৯৭৯ সালে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৮৩ সালে এই আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়। এতে দুই হাজার সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসী প্রাণ হারান। এদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসলমান।


আসু এবং কয়েকটি আঞ্চলিক দল এই প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত ১৯৮৫ সালে রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসে। ওই চুক্তিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে থেকে আসামের বাসিন্দা, কেউ এমনটা প্রমাণ করতে না পারলে তাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে। আর তাকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু চুক্তিটি কখনই বাস্তবায়ন করা হয়নি।


অভিজিৎ শর্মা নামের এক ব্যক্তি ২০০৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোটের কাছে এক পিটিশন দায়ের করেন এবং এনআরসি তালিকা হালনাগাদ করার আবেদন করেন।


২০১৪ সালে আদালত ওই তালিকা ২০১৬ সালের ৩১শে জানুয়ারির মধ্যে হালনাগাদ করার জন্য কেন্দ্র সরকারকে আদেশ দেয়। কিন্তু এটা ছিল দুঃসাধ্য। কারণ এতে তিন কোটি ২০ লাখ মানুষের দলিলপত্র যাচাই করার ব্যাপার রয়েছে। এই কাজ শেষ করে সরকার ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রথম খসড়া তালিকা প্রকাশ করে।


যাচাই বাছাইয়ের পর ওই খসড়ার দ্বিতীয় তালিকাটি প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই। এনআরসিতে যাদের নাম রয়েছে তারা প্রমাণ করতে পেরেছেন যে, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে তারা আসামে এসেছেন।


নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য রাজ্যের সব অধিবাসীকে তাদের জমির দলিল, ভোটার আইডি এবং পাসপোর্টসহ নানা ধরনের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হয়েছিল। এনআরসি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ উঠেছে যে, তালিকা থেকে বাদ পড়া বহু লোকের কাছে তারা চিঠি পাঠিয়েছে এবং কাছের অফিস বাদ দিয়ে বহু দূরের অফিসগুলোতে গিয়ে তাদের কাগজপত্র জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।


স্থানীয় ভারতীয় কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, তারা মুসলমানদের লক্ষবস্তুতে পরিণত করছেন না। তবে এনআরসির প্রধান প্রতীক হাজেলা বিবিসির কাছে স্বীকার করেছেন যে, যারা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তারা ভিন্ন ধর্ম ও গোষ্ঠীর মানুষ।

User Comments

  • আন্তর্জাতিক