২২ নভেম্বর ২০১৯ ৭:৯:৫২
logo
logo banner
HeadLine
অপপ্রচারে কান না দিতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান * রক্তচোষা ব্যবসায়ী ও গুজব রটনাকারী দুই-ই সমান অপরাধী * দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা * গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান * প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবুধাবির যুবরাজের সৌজন্য সাক্ষাত, আমিরাতের শ্রমবাজার খুলে দেয়ার ইঙ্গিত * শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন আতঙ্কের নাম বুলিং * ক্ষুদ্র ঋণের কাঙ্ক্ষিত সুফল মানুষ পায়নি : প্রধানমন্ত্রী * ডায়াবেটিস : সারা জনমের রোগ * শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে অপ্রীতিকর বক্তব্য দেওয়ার সংসদে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গা * সব অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী * ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তূর্ণা -ঊদয়ন সংঘর্ষ, নিহত ১৫ আহত শতাধিক * রোহিঙ্গা গণহত্যায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়ার মামলা * দূর্বল হয়ে পড়ছে 'বুলবুল', বন্দরসমূহে ৩ নং সতর্ক সংকেত * খুনীদের জন্য এত মায়া কান্না কেন * ভারতের মাঠে বাংলাদেশের প্রথম জয় * জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু * ২ থেকে ৭ নবেম্বর বিপ্লব নয়, ষড়যন্ত্র হয়েছিল * জুয়াড়ীদের সাথে কথোপকথনের জেরে দুই বছর নিষিদ্ধ সাকিব, অভিযোগ স্বীকার করায় এক বছরের নিষেধাজ্ঞা মওকুফ * অপরাধ করে কেউ পার পাবে না, ধরা হবে সবাইকে - প্রধানমন্ত্রী * ন্যাম সম্মেলনে যোগদান শেষে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী * ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী * নুসরাত হত্যায় সিরাজসহ অভিযুক্ত ১৬ জনেরই ফাঁসি * আলোচনা ফলপ্রসূ, আমরা খুশি, খেলায় ফিরছি: সাকিব * সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটাররা, দাবি বেড়ে এখন ১৩টি * ক্রিকেটারদের দাবি মেনে নিতে আমরা প্রস্তুত বিসিবি * ১১ দফা দাবিতে ক্রিকেটারদের খেলা বর্জন * আরও ১টি সিটি কর্পোরেশন, ১টি পৌরসভা ও ৭টি থানার অনুমোদন * সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের শুদ্ধি অভিযান * ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি সঠিক পথে - অভিজিৎ ব্যানার্জি * হৃদরোগ ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মূল কারণ চিনি *
     17,2019 Thursday at 19:14:23 Share

পাপ পুণ্যের দানবে অসহায় মানুষ

পাপ পুণ্যের দানবে অসহায় মানুষ

অজয় দাশগুপ্ত :: যা দেখছি যা শুনছি তাতে বিস্ময়ের কারণ আছে বৈকি। একদিকে সূচক মানুষের পকেটের টাকা আরেকদিকে নানাবিধ অসামঞ্জস্য। দেশ কেমন ছিলো আর কোথায় আছে তা আমাদের প্রজন্মকে বুঝিয়ে বলার দরকার পড়ে না। আমরা এদেশের জন্মলগ্নে বড় হওয়া মানুষ। কৈশোরে দেখা দেশ আর আজকের বাংলাদেশে অনেক তফাৎ। একটা প্যান্ট কেনা একটা নতুন শার্ট মানে জীবনে অনেক কিছু পাওয়া এমন এক সমাজে বড় হয়েছি আমরা। মনে আছে বেলবটম নামের একটা পাতলুন সেলাই করতে দিয়ে কত রাত যে নির্ঘুম কাটিয়েছি। কখন তা পাবো আর চুল টেরী করে বন্ধুদের দেখাতে যাবো। যে সমাজে আমরা বড় হয়েছি সেখানে মোবাইল ক্যামেরা কম্পিউটার নেট এর  নামও শোনা যায়নি। সেগুলো আবিষ্কৃতই হয়নি তখন। মানুষের যোগাযোগ ছিলো ব্যক্তিগত আর সরাসরি। এই দেখা ও বিশ্বাসের যুগ আজ কাহিনি। তখন মানুষ শেয়ারিং জানতো। দান-খয়রাত কিংবা সাহায্য ছিলো আন্তরিক ও অন্তর বা দিল থেকে করার কাজ। এখনকার মতো একজন দেবে আর দশজন সেটা ছবি তুলবে কিংবা ভিডিও করবে এমন কালচার ছিলো না। সে সময়কালের মানুষ হিসেবে আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি দেশ আর্থিকভাবে যতটা এগিয়েছে রাজনৈতিক আর মানবিকভাবে ঠিক ততটাই পিছিয়ে চলেছে।


আজকাল তারুণ্যকে মানুষ ভয় পায়। এই যে বুয়েটের ঘটনা এটি নিঃসন্দেহে খারাপ জঘন্য আর নিন্দার। একটা যুবককে এভাবে মারার পেছনে যে উন্মাদনা ও পৈশাচিকতা তার দিকটা একবার ভেবে দেখুন। এ ছেলেগুলোও কারো না কারো সন্তান। এরাও মেধাবী। এদেরও প্রকৌশলী হবার কথা। তারা যদি এ ঘটনায় ধরা না পড়তো তাদের কারণে আবরার মারা না যেত আমরা কি এই কাহিনি জানতাম? এমন র‍্যাগিং বা অত্যাচার নতুন কিছু না। আমাদের আমলে একবারে হতো না তাও কিন্তু না। তবে তার একটা নিয়ম ছিলো। যারা অনিয়ম বা সীমানা ডিঙ্গাতো তাদের সাইজ করতো সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা। কিসের জোরে? নৈতিকতা আর পারিবারিকভাবে বড় হওয়া শক্তির জোরে। আজ সে নিয়মগুলো উধাও। ঘরে বাইরে লোভ লালসা আর উত্তেজনায় মানুষ এমন এক জায়গায় পৌঁছে গেছে তাদের সামনে হয় টাকা, নয় নারী, নয় পাওয়ার এছাড়া বাকী কিছু নাই। অনেকে বলেন রাজনীতি দায়ী। আবার দলান্ধ আর একচোখ মানুষরা বলেন, না রাজনীতি দায়ী না। আমি বলবো রাজনীতি অবশ্যই দায়ী। কারণ যারা দেশ চালায় মানুষকে সেবা করবে বলে সারাজীবন আর কোনো কাজ করে না। অথচ সবচেয়ে বেশি টাকা আর সম্পদের মালিক হয়, তারা দায়ী নয়তো দায়ী কারা?


এদেশের রাজনীতি সবসময় ঝামেলাযুক্ত। আমাদের যৌবনে ডান, বাম, মধ্য, জাসদ, চৈনিক, রাশিয়ান, আওয়ামী সব মিলে কত কাণ্ড। কত বড় বড় মারামারি আর যুদ্ধ। কিন্তু রাজনীতি সমাজকে এমনভাবে একা ও বিচ্ছিন্ন রাখেনি। আজকে বাংলাদেশে রাজনীতির মত একা ও নিঃসঙ্গ কোনো বিধবাও নাই। যার কাজ ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকা। এ দায়িত্ব কারা নিয়েছে? রাতভর টিভি বা খবরের কাগজ ও অন্যান্য মিডিয়ায় মাতম করা কিছু সুশীল। যে সব সুশীলরা কথা বলেন গত ক’দিন তাদের কথা শুনেছি মন দিয়ে। তারা শুধু বলেন আর বলেন কেউ না থামালে থামতে জানেন না। আর একটা বিষয়  খেয়াল করলাম আগে একজন বলতেন বাকীরা শুনতো। এখন সবাই বলে এক দু’জন শোনে। টকশোতে দেখলাম উপস্থাপক বেচারা-বেচারী ছাড়া কেউ কারো কথা শোনে না বরং ঝগড়া করে। এখন যারা সবজান্তা বা দেশের সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞ বলে পরিচিত তারাই যদি এমন করেন বাকীরা কেন তা ফলো করবে না?


এবার আসি টিচারদের কথায়। দেশে সব চাইতে বেশি সম্মানহারা লোকটির নাম উপাচার্য। ভিসি এখন একটি টিটকারীর নাম। সম্মান বা মর্যাদার প্রশ্নই ওঠে না। কোনো রাজনৈতিক দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাও এত তোপের মুখে পড়ে না। এতবার ঘেরাও হয় না। এমন করে তার সামনে কেউ আঙ্গুল উঁচিয়ে চোখ বড় করে কথা বলে না। একমাত্র আমাদের দেশে আমাদের সমাজে ভিসিকে এমন করা হয় । তারপরও ভিসি সাহেব দমেন না। কোনোদিন মন খারাপ বা রাগ করে মিডিয়ার সামনে এসে বলেন না, আমি আর নিতে পারছি না, বিদায়। এ আরেক আপদের কথা। কেউ বিদায় নেয় না। দেশের যে লোক যে পদ আঁকড়ে আছে, না তাড়ানো পর্যন্ত তা ছাড়ে না। তাহলে ছাত্র-ছাত্রীরা ছাড় দেবে কেন? তারা কি শিখছে? কি দেখছে? পরিবারে বাবা-মা কারো সময় নাই সময় দেবার। ভাই-বোন সবাই বিচ্ছিন্ন। এমন কেউ অপরাধপ্রবণ হলে কি তার দোষ? তার সামনে তো এমন কোনো মুখ নাই যার কথা ভেবে সে অপরাধ থেকে সরে আসবে। এমনকি যে প্রেম বা ভালোবাসার জন্য আমরা পুরো যৌবন মুখিয়ে থাকতাম তাও এখন মেকি। এত লাভ ইউ কোনোকালে কেউ শোনেনি। এত মিথ্যা ভালোবাসার অভিনয় হলিউড বলিউডেও হয় না। তাই কারো প্রতি কারো কোনো দায় নাই।


রাজনীতির পাশপাশি অর্থনীতির হাল আরো নাজুক। কারা ধনী? কারা আজ সম্রাট? রাজা বাদশা সব ফেল। পাশ করেন আর ফেল করেন আপনার ভাগ্যে কয়েক হাজার বড়জোর লাখ টাকা। সাথে যারা আছে তারা পড়াশুনা না করে কোনো সার্টিফিকেট ছাড়াই কোটি কোটি টাকার মালিক। তাদের সকল অন্যায় আবদারের কাছে নতজানু হতে হতে এরা বুঝে যায় টাকাই সব। গডফাদার না থাকলে জীবন মিছা। ব্যস তখন আশ্রয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ নয় ছাত্রদল-যুবদল। এর ভেতর আছে মৌলবাদ। এই যে আবরার ঘটনা তার মোড় ঘুরলো শিবিরের দিকে। প্রায় সাকসেসফুল হবার পথে তারা। ঘোলা পানিতে সবাই আছে মাছ শিকারে ব্যস্ত। একটা কথা পরিষ্কার আদর্শের দিন খতম। খতম ন্যায় অন্যায়। এখন আপনি ভোগ করবেন, করতে করতে একসময় ধরা পড়বেন। জেলে যাবেন তাতে কি? কিছুবছর পর আপনার কি হয়েছে কোথায় আছেন তা কি আর কেউ জানে?


সমাজও তাই এখন ইস্যুমুখী। একটা ইস্যু পেলেই হয়। কদিন তা নিয়ে রমরমা। হৈ হৈ। তারপর সব শুনশান। এ সমাজে আর কোনো শক্তি বা বল নাই যা দিয়ে অনৈতিকতা বা অনিয়ম মোকাবেলা করা সম্ভব। তাই নতুন কিছুর দরকার। শেখ হাসিনা যতদিন আছেন ততদিন একটা ভরসা অন্তত আছে। তারপর? কেউ জানে না। সেদিন দেখলাম গা ঝাড়া দেয়া ড. কামাল হোসেন হঠাৎ এসে ঘটনা বুঝে না বুঝে আবরার নিয়ে কথা না বলে যা কিছু রাগ সব শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঝেড়ে আবার গা ঢাকা দিয়েছেন। এটাই বিএনপি ও বিরোধী দলের পতনের নতুন কারণ। ইস্যু বাদ দিয়ে শেখ হাসিনাকে অপমান করা তার ব্যক্তিগত এজেন্ডা হতে পারে জাতির নয়। তাই এসব কথা মানুষকে টানে না। যে মানুষ তার গণফোরামের নেতাদের সংসদে পাঠায় আবার বলে তিনিই বলবেন এই সরকার অবৈধ তাকে কে বিশ্বাস করবে?


সব দেখেশুনে আমার মনে হচ্ছে আর একটি নতুন প্রজন্ম ছাড়া এই জট খুলবে না। রাজনীতির স্বাভাবিক গতিহীনতা ফিরিয়ে সমাজকে নৈতিকভাবে বড় করা এখন কথার কথা। খাওয়া-দাওয়া কথিত ভোগ আর টাকার বাইরে পা রাখার যে সরল সহজ জীবন তাকে ফিরিয়ে আনা জরুরি। এতকিছু পেতে হয় না। এত চাওয়াও পাপ। এই সত্যটুকু বুঝতে হবে। আমিতো দেখছি কারো সময় নাই। বিয়ে বা যেকোনো অনুষ্ঠানে মানুষ যাচ্ছে শুধু ছবি তুলতে আর হয়তো খাওয়াটা একটা কাজ। বাকি সব কেমন কেমন!


বাংলাদেশের একটা বড় বৈশিষ্ট্য ঠিক সময়ে জ্বলে ওঠা। সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করিয়ে নেয়া। এই সরকার ও শেখ হাসিনা থাকতে থাকতেই তেমন কাজ শুরু করা দরকার। সত্যি বলছি নয়তো শিল্প, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি সবকিছু গিলে খাবে এক দানব। যার নাম পাপ। সাবধান স্বদেশ। সাবধান হে বাঙালি।


 

User Comments

  • কলাম