২৯ মে ২০২০ ২:২৮:৫৫
logo
logo banner
HeadLine
এ পর্যন্ত ৬ কোটি মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে সরকার * সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল, বৃষ্টিপাত থাকতে পারে আরও ৩ দিন * ২৮ মে : দেশে আজ শনাক্ত আরও ২০২৯, মৃত ১৫ * ১৫ শর্তে ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত চলাচল সীমিত করে অফিস ও গণপরিবহন চালু * চট্টগ্রাম সিটিতে ১২টি করোনা টেস্টিং বুথ বসানোর উদ্যোগ মেয়রের * ২৭ মে : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ২১৫ * ২৭ মে : দেশে আজ শনাক্ত আরও ১৫৪১, মৃত ২২ * সহসাই অনলাইন সংবাদ পোর্টালের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার হবে : তথ্যমন্ত্রী * চট্টগ্রামে করোনার চিকিৎসায় যুক্ত হচ্ছে বেসরকারী হাসপাতাল ইম্পেরিয়াল ও ইউএসটিসি * ২৬ মে : ল্যাব প্রধানসহ চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৯৮ * ২৬ মে : দেশে আজ শনাক্ত আরও ১১৬৬, মৃত ২১ * বায়ুচাপের তারতম্যে, সমুদ্রবন্দরসমূহে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত * করোনা সংকটে দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান রাষ্ট্রপতির * যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন * যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ও ঈদ উপহার * ২৫ মে : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ১৭৯ * যুক্তরাষ্ট্রে পিপিই রপ্তানি শুরু করলো বাংলাদেশ * ২৫ মে : দেশে আজ শনাক্ত আরও ১৯৭৫, মৃত ২১ * ২৪ মে : চট্টগ্রামে আরও ৬৫ জনের করোনা শনাক্ত * আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা * করোনায় মারা গেলেন এনএসআই কর্মকর্তা সন্দ্বীপের নাছির উদ্দিন * সন্দ্বীপবাসীকে পবিত্র ইদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন মেয়র * ২৪ মে : দেশে আজ শনাক্ত আরও ১৫৩২, মৃত ২৮ * করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলবে সরকারি সহায়তা, জীবন-জীবিকার স্বার্থে চালু করতে হবে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড - প্রধানমন্ত্রী * সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা * ২৩ মে : চট্টগ্রামে নতুন শনাক্ত ১৬৬ * করোনাকালীন সঙ্কটে পড়া সন্দ্বীপ পৌরসভার কর্মহীনদের বরাবরে সরকারের দেয়া ২৫০০ টাকা ছাড় শুরু * ২৩ মে : দেশে আজ শনাক্ত আরও ১৮৭৩, মৃত ২০ * বিদায় মাহে রমজান, আজ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা * হালদায় ১৪ বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড, ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ *
     15,2020 Friday at 10:38:10 Share

কিঞ্চিৎ পরিমান দিলেও যেন দিতে পারি, কেউ যেন বঞ্চিত না হয়'

কিঞ্চিৎ পরিমান দিলেও যেন দিতে পারি, কেউ যেন বঞ্চিত না হয়'

ফজলুল বারী :: এটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য। বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ডিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ৫০ লাখ পরিবারের প্রত্যেককে আড়াই হাজার টাকা করে টাকা নগদ টাকা দেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষনা দেন, ‘কেউ যেন বঞ্চিত না হয়’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটা জায়গায় মানুষের কষ্টটা দূর করাটাই লক্ষ্য। সেটাই চাই। এত বেশি মানুষ, হয়তো অনেক বেশি দিতে পারবনা। কিন্তু, কিঞ্চিৎ পরিমান দিলেও যেন দিতে পারি, কেউ যেন বঞ্চিত না হয়’।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কথাগুলো হৃদয় ছুঁয়েছে। কারন আমি একটি কল্যান রাষ্ট্রে থাকি। এখানে রাষ্ট্র নাগরিকদের নানা সময় নানা কিছু দেয়। এসব পেয়ে পেয়ে এখানে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু শেখ হাসিনার মতো আমার রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর উচ্চারনকে এমন মায়াময় আন্তরিক বোধ হয়নি।
যেমন এখন এই করোনা দূর্যোগে আমাদের এখানে রাষ্ট্র ভাতার তালিকাভূক্ত প্রতিটি বয়স্ক অথবা অসুস্থ ব্যক্তির ব্যাংক একাউন্টে সাপ্তাহিক ভাতার বাইরে এক কালীন ৭৫০ ডলার পৌঁছে দিয়েছে।
এখানে বেকারদের আগে সপ্তাহে ২৭৫ ডলার করে জব সিকার ভাতা দেয়া হতো। এই করোনা সময়ে সেটি এখন সপ্তাহে ৫৫০ ডলার করে দেয়া হচ্ছে। জব কিপার নামে নতুন একটি ভাতা দেয়া হচ্ছে সপ্তাহে ৭৫০ ডলার।
কর্মক্ষেত্রের কর্তৃপক্ষ যখন পরিস্থিতির জন্য কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেনা। সেটি এখন দিচ্ছে সরকার। এ দেশের সরকারের এমন সামর্থ্য আছে। দেশটায় মানুষও কম। মাত্র আড়াই কোটি।
বিপুল জনসংখ্যার বাংলাদেশে সে সামর্থ্য রাষ্ট্রের নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগটি আমাকে মুগ্ধ করেছে। এই দূর্যোগে তাঁর আরও কিছু উচ্চারন মন ছুঁয়েছে। যেমন মানুষকে তিনি সম্মান দিয়ে বলছেন, সরকারি ত্রানকে তারা যেন দয়ার সামগ্রী মনে না করেন। রাষ্ট্রের কাছে এটি তাদের প্রাপ্য।
এটি তাদের অধিকার। বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষকে এই দূর্যোগে সীমিত সামর্থ্য সহ সামাল দিচ্ছে সরকার। কথা বলনেওয়ালারা পদে পদে প্রশ্ন তুলছেন। যেমন এই পঞ্চাশ লাখ দরিদ্র মানুষের তালিকায় যে কিছু লোভী ভূত ঢুকেছিল সে প্রশ্নও উঠবে।
কিন্তু বাংলাদেশ যে কোটির বেশি ছাত্রকে নিয়মিত বৃত্তির টাকা দেয়, তা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। বিধবা ভাতা-বয়স্ক ভাতার টাকা দেয়, তা নিয়ে প্রায় প্রশ্ন ওঠে। কারন অসাধু পন্থায় স্থানীয় অনেকে সেখানে নিজস্ব পছন্দের নাম তুলে।
ধরা পড়লে সে তালিকা সংশোধিত হয়। এই পঞ্চাশ লাখের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বাংলাদেশের এই সরকার তা সংশোধন করতে পারবে, তা আমি বিশ্বাস করি। কারন মানুষকে দেবার সরকারের তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন আছে।
তবে আই চাইবো এই আড়াই হাজার টাকা যার একাউন্টেই যাক না কেনো, সে যদি গরিব মানুষ হয়, টাকাগুলো যাতে সেখান থেকে এখন কেড়ে আনা না হয়। কারন এখন সবার টাকা দরকার। যে পায়নি তাকে যেন টাকাটা দেবার চেষ্টা করা হয়।
মানুষে হাতে এখন টাকা দরকার। এই মানবিক রাষ্ট্র এখন মানুষকে আহার দিচ্ছে। এই মানবিক রাষ্ট্রের পুলিশ-সেনাবাহিনী-আনসার সহ সবাই এখন মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে।
বিপন্ন কৃষক, যে ফসল বিক্রি করতে পারছেনা, তার কাছ থেকে ফসল কিনে এনে অভাবী মানুষকে এক টাকায় নানাকিছুর বাজার তুলে দিচ্ছে সেনাবাহিনী! এমন মানুষের জন্যে মানুষের এমন সব বিচিত্র প্রকারের ভালোবাসা বাংলাদেশ আগে দেখেনি।
এমন আজ সবাই নেমে পড়ার কারন সবাই দেখছে রাষ্ট্র এখানে আন্তরিক। নির্ঘুম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাক্ষন সবাইকে সাহস যুগিয়ে চলেছেন। মানুষের সাহস এখন বহাল রাখাটা সবার আগে বেশি দরকার।
এখন যে প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাংলাদেশে করোনা রোগী আর মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, নেতৃত্বকে সাহস ধরে রেখে এ তুফান পাড়ি দিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে সবার এখন মন খারাপ।
যখন মানুষের মন খারাপ থাকে তখন সে নানা রকম বেহিসেবি আচরন করে। তখন সে এভাবে পড়ি কি মরি করে বুঝে অথবা না বুঝে মহামারীর হট স্পটের দিকে ছুটে আসে! মরার সময়ে এভাবে ভিড় করে ঈদ শপিং এ যায়!
বাংলাদেশকে এই সময়ে নানাকিছুর সঙ্গে দেশের এসব অদ্ভূত মানসিক বৈকল্যের মানুষজনকেও সামাল দিতে হচ্ছে। কারন এখন যে মহামারীর সময়। সে কারনে জাতির একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্যারের মতোকে ব্যক্তিত্বকেও এই সময়ে সবাই মিলে শেষ বিদায় জানানো গেলোনা।
দেশের সবচেয়ে সংরক্ষিত একটি হাসপাতালে রেখেও মহামারীর সংক্রমন থেকে তাকে রক্ষা করা যায়নি। এতকাল যিনি অজস্র নাগরিক শোকসভায় সভাপতি্ত্ব করেছেন, এই সময়ে তাঁর জন্যে একটি নাগরিক শোকসভারও আয়োজন করা যাবেনা।
কারন এখন যে করোনা মহামারীর সময়। এখন দেশের মানুষকে বাঁচানোর সময়। আনিসুজ্জামান স্যার, সাহাদাত হোসেইনের মতো দেশ প্রেমিক ব্যক্তিত্বদের এই দূর্যোগ পাড়ি দেবার পর আমরা সবাই মিলে বসে সম্মান জানাতে পারবো।
এখন দরকার প্রত্যেকের যার যার সুরক্ষা। এই সুরক্ষার কাজটি যার যার করতে হবে। দেশের প্রত্যেক পরিবার, যার যার স্বজনকে সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে যার যার মতো করে।
কি কি কারনে করোনা হয় এটি এখন সবাই জানে। সরকার এই করলোনা সেই করলোনা এসব মুখস্ত অনেক বলেছেন। প্লিজ এখন এসব ফাও কথাবার্তা বন্ধ করুন। নিজের দিকে তাকান।
নিজের সুরক্ষা নিজে নিজে না করলে সরকার বা কেউ এসে আপনাকে বাঁচাতে পারবেনা। অনেক উন্নত বড় বড় দেশ যাদের সামর্থ্য ছিল, তারাও হাজার হাজার নাগরিকের মৃত্যু ঠেকাতে পারেনি।
সে তুলনায় সীমিত সামর্থ্যের বাংলাদেশ এখনও ভালো আছে। এই সময়ে নতুন ডাক্তার-নার্স নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্তটি প্রমান করে সরকার কতোটা আন্তরিক। অন্য কোন দেশের সঙ্গে তুলনা করে লাভ নেই।
বাংলাদেশের যুদ্ধ কৌশলটি নিজস্ব। এই সময়ে মহামারী মোকাবেলার যুদ্ধের ময়দানে, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মতো এর মিডিয়া কর্মীদের যুদ্ধটাও আমি অবাক বিস্ময়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখি।
আমিতো তাদের চিনি জানি। আমিতো তাদের ভাই। এখন তাদের অনেকের ঘরেও খাবার নেই। তাদের স্ত্রী-সন্তান-স্বামী-স্বজন প্রতিটি মূহুর্তে দুঃসংবাদের আতঙ্কে বাড়িতে থরথর কম্পমান!
এরপরও, সব ভুলে থেকে সবাই যেমন অভিযোগহীন ফ্রন্টলাইন থেকে প্রতিটা দিন প্রতিটা মূহুর্তে যেভাবে চমৎকার চমৎকার রিপোর্টের মাধ্যমে আপডেট জানাচ্ছেন, বিশ্বাস করুন এমন একটি দেশ এই যুদ্ধে হারবেনা।

User Comments

  • আরো