১৩ আগস্ট ২০২০ ২২:৫৬:৩১
logo
logo banner
HeadLine
১৩ আগস্ট : দেশে আজ শনাক্ত ২৬১৭ , মৃত ৪৪ * ১২ অগাস্ট : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৬৬ * ১২ আগস্ট : দেশে আজ শনাক্ত ২৯৯৫ , মৃত ৪২ * ১১ অগাস্ট : সন্দ্বীপের ৪ জনসহ চট্টগ্রামে করোনা শনাক্ত আরও ১৪৯ * বিশ্বে প্রথম করোনা ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিল রাশিয়া * ১১ আগস্ট : দেশে আজ শনাক্ত ২৯৯৬ , মৃত ৩৩ * মাস্ক পরতে বাধ্য করতে মাঠে নামছে মোবাইল কোর্ট * ১০ অগাস্ট : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ১১৮ * ১৫ আগস্ট এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলী * ১০ আগস্ট : দেশে আজ শনাক্ত ২৯০৭ , মৃত ৩৯ * ৯ অগাস্ট : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ১৬০ * ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধু 'মহাকালের মহামানব' বলে অভিহিত হবেন : একজন বিদেশী শিক্ষাবিদের অভিমত * ৯ আগস্ট : দেশে আজ শনাক্ত ২৪৮৭ , মৃত ৩৪ * ৮ অগাস্ট : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৭৩ * বঙ্গবন্ধুর প্যারোলে মুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বঙ্গমাতা রাজনৈতিক ইতিহাস বদলে দিয়েছেন : প্রধানমন্ত্রী * ৮ আগস্ট : দেশে আজ শনাক্ত ২৬১১ , মৃত ৩২ * আজ বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী * ৭ অগাস্ট : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ১১৭ * ৭ আগস্ট : দেশে আজ শনাক্ত ২৮৫১ , মৃত ২৭ * ৬ অগাস্ট : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ১২৮ * সিনহা হত্যা মামলায় প্রদীপসহ ৩ আসামির ৭ দিন রিমান্ড * বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর * সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপসহ ৭ আসামি কারাগারে * ২৫% নয়, অফিস করতে হবে সবাইকে * বন্দরসমূহে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত * ৬ আগস্ট : দেশে আজ শনাক্ত ২৯৭৭ , মৃত ৩৯ * স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া হাসপাতালে অভিযান নয় * সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপ গ্রেফতার * সিনহার মৃত্যুর ঘটনায় ওসি প্রদীপসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা * ৫ অগাস্ট : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ১২১ *
     15,2020 Monday at 08:47:50 Share

এবার চলে গেলেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান

এবার চলে গেলেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান

করোনায় এবার প্রাণ হারালেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান (৬৯)।

১৫ জুন, মধ্যরাত ২.৪৫ এর দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রজিউন। বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের এপিএস বদরুল ইসলাম গণমাধ্যমমে বিষয়টিনিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পৌনে ৩ টার দিকে (২টা ৪৫ মিনিট) তিনি (স্যার) ইন্তেকাল করেছেন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তার সঙ্গে রয়েছেন স্যারের বড় ছেলে ডা. আরমান আহমদ শিপলু।

গত ০৫ জুন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে কামরানের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। ওইদিন রাত থেকে প্রথমে বাসায় আইসোলেশনে রাখা হলেও ৬ জুন সকালে বমি আর জ্বর নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। পরে অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় ০৭ জুন সন্ধ্যায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে।

চিকিৎসকরা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তাকে এ পজিটিভ রক্তের সংগৃহীত প্লাজমা থেরাপি দেন। প্লাজমা থেরাপি দেওয়ার পর পরই বদর উদ্দিন আহমদ কামরান কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু গত মধ্যরাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সিলেট আওয়ামী লীগ মানে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। আওয়ামী লীগের পুড় খাওয়া নেতা তিনি। দলের জন্য প্রশংসিত নেতৃত্ব দিয়ে পৌঁছান শেকড় থেকে শিখরে। ছাত্র রাজনীতি থেকে শহর, নগর থেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পৌঁছেছেন তিনি।। সিলেট সিটি করপোরেশন গঠনের পর পৌর চেয়ারম্যান থেকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র, এরপর নির্বাচিত মেয়র হিসেবে তিনি দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল ,মাথায় সাদা টুপি, মুখে কালো গোঁফ, চোখে সাদা চশমা পড়া লোকটি ছিলেন সিলেটের মানুষের নয়নমণি।

সিলেট পাইলট স্কুলে ছাত্ররাজনীতির হাতেখড়ি কামরানের। ছাত্রবস্থায় ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, সত্তোরের নির্বাচনসহ অতীতের গণতান্ত্রিক সকল আন্দোলন সংগ্রামে কাররান ছিলেন প্রথম সারির সংগঠক। এরপর গত দীর্ঘ তিন দশক সিলেটের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।
১৯৮৯ সালে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিলেটের আওয়ামী রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে আসেন কামরান। ১৯৯২ সালে এবং ১৯৯৭ সালে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে প্রথমবারের মত সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০০৫ এবং ২০১১ সালে গঠিত কমিটিতে মহানগর আওয়ামী লীগের পুনরায় সভাপতির দায়িত্ব পান তিনি। সবশেষ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনে নির্বাহী সদস্য করা হয় কামরানকে।
একদিকে, রাজনীতিতে যেমন দলের নেতাকর্মীর কাছে জনপ্রিয় ছিলেন কামরান, তেমনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের মনে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাকা অবস্থায় সিলেট পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার হয়ে চমক দেখান জনতার কামরান। সেই থেকে সিলেট পৌরসভার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়েন তিনি।
আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। টানা ১৫ বছর ছিলেন পৌরসভার কমিশনার। মাঝপথে খানিকটা বিরতি ছিল প্রবাসে যাওয়ায়। সেবার নির্বাচন থেকে বিরত ছিলেন। প্রবাস থেকে ফিরে ১৯৯৫ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
২০০২ সালে দুটি পাতার একটি কুঁড়ির দেশ সিলেট সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে তিনি হন ভারপ্রাপ্ত মেয়র। ২০০৩ সালে প্রথম সিটি নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাসে নাম লেখান তিনি।
১/১১র সময়ে দুইবার কারাবরণ করেন কামরান। ২০০৮ সালে কারাগার থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।
কামরানের মৃত্যুতে সিলেটের জনপ্রিয়তম আরেক নেতার আবসান ঘটলো। সিলেটসহ গোটা দেশে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করছেন শোকার্ত সিলেটবাসী।

User Comments

  • সারাদেশ