১০ আগস্ট ২০২০ ১৪:২০:১৬
logo
logo banner
HeadLine
ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধু 'মহাকালের মহামানব' বলে অভিহিত হবেন : একজন বিদেশী শিক্ষাবিদের অভিমত * ৯ আগস্ট : দেশে আজ শনাক্ত ২৪৮৭ , মৃত ৩৪ * ৮ অগাস্ট : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৭৩ * বঙ্গবন্ধুর প্যারোলে মুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বঙ্গমাতা রাজনৈতিক ইতিহাস বদলে দিয়েছেন : প্রধানমন্ত্রী * ৮ আগস্ট : দেশে আজ শনাক্ত ২৬১১ , মৃত ৩২ * আজ বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী * ৭ অগাস্ট : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ১১৭ * ৭ আগস্ট : দেশে আজ শনাক্ত ২৮৫১ , মৃত ২৭ * ৬ অগাস্ট : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ১২৮ * সিনহা হত্যা মামলায় প্রদীপসহ ৩ আসামির ৭ দিন রিমান্ড * বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর * সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপসহ ৭ আসামি কারাগারে * ২৫% নয়, অফিস করতে হবে সবাইকে * বন্দরসমূহে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত * ৬ আগস্ট : দেশে আজ শনাক্ত ২৯৭৭ , মৃত ৩৯ * স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া হাসপাতালে অভিযান নয় * সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপ গ্রেফতার * সিনহার মৃত্যুর ঘটনায় ওসি প্রদীপসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা * ৫ অগাস্ট : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ১২১ * মানুষের উন্নত জীবন ধারা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ - প্রধানমন্ত্রী * ৫ আগস্ট : দেশে আজ শনাক্ত ২৬৫৪ , মৃত ৩৩ * শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী আজ * লেবাননে বিস্ফোরণ, নিহত ৭৮ আহত ৪০০০ * ৪ অগাস্ট : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ১১৯ * ৪ আগস্ট : দেশে আজ শনাক্ত ১৯১৮ , মৃত ৫০ * সুজন চসিক প্রশাসক, প্রধানমন্ত্রীর আস্থা রক্ষার প্রতিশ্রুতি * ৩ অগাস্ট : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ১৭ * ৩ আগস্ট : দেশে আজ শনাক্ত ১৩৫৬ , মৃত ৩০ * ২ অগাস্ট : চট্টগ্রামে শনাক্ত আরও ৯ * ২ আগস্ট : দেশে আজ শনাক্ত ৮৮৬ , মৃত ২২ *
     26,2020 Sunday at 18:19:50 Share

ফাঁস হওয়া প্রশ্নে মেডিকেল-ডেন্টালে ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার শিক্ষার্থী, ৭৮ জনের তালিকা উদ্ধার

ফাঁস হওয়া প্রশ্নে মেডিকেল-ডেন্টালে ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার শিক্ষার্থী, ৭৮ জনের তালিকা উদ্ধার

ফাঁস করা প্রশ্নপত্রে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হওয়া ৭৮ জন শিক্ষার্থীর নামের তালিকা সিআইডিকে দিয়েছেন রিমান্ডে থাকা তিন আসামি। ওই সব শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের প্রধান ব্যক্তি জসিমউদ্দিন ও চক্রের অপর দুই সদস্যকে সাড়ে চার কোটি টাকা দিয়েছিলেন।


রিমান্ডে থাকা প্রশ্নপত্র জালিয়াতি চক্রের জসিম, চক্রের সদস্য পারভেজ খান ও জাকির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মামলার তদন্ত করছে, এমন একটি সূত্র জানিয়েছে, এই চক্রটির ফাঁস করা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হয়েছেন।


পাবলিক পরীক্ষা আইনে করা মামলায় এই তিন আসামি এখন সাত দিনের রিমান্ডে আছেন। আজ শুক্রবার তাঁদের রিমান্ডের প্রথম দিন ছিল।


মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা সিআইডির সাইবার পুলিশের অতিরিক্ত বিশেষ সুপার কামরুল আহসান বলেন, জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া ৭৮ শিক্ষার্থীর নামের তালিকা পেয়েছে সিআইডি। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এমবিবিএস কোর্সে এই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও বিডিএস কোর্সে ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। রিমান্ডের প্রথম দিনে চক্রের হোতা জসিমউদ্দিন ও তাঁর দুই সহযোগী জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ৭৮ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা এখন শেষ পর্যায়ে। তাঁরা প্রশ্নপত্রের জন্য প্রতিজনের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ করে নিয়েছেন। ফাঁস করা প্রশ্নপত্রে আরও অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন বলে জানান। তবে এখন পর্যন্ত তাঁদের নাম আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।


সিআইডির জ্যেষ্ঠ সহকারি পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন মেশিনম্যান আবদুস সালাম। তাঁর খালাতো ভাই জসিমউদ্দিন তা সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। সালাম ও জসিম সারা দেশে একটি বিশাল চক্র গড়েছিলেন। সালাম পলাতক। সালামসহ চক্রের পলাতক অর্ধশত সদস্যদের খোঁজ পেয়েছেন তাঁরা। রিমান্ডে থাকা তিন আসামির কাছ থেকে ৭৮ শিক্ষার্থীর দেওয়া চেকের তথ্য পাওয়া গেছে। 


মামলার তদন্ত–সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রিমান্ডে থাকা তিন আসামিকে সঙ্গে নিয়ে নিয়ে ঢাকার ডেন্টাল ও কয়েকটি মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে ওই সব শিক্ষার্থীকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু করোনার পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সবাই গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন বলে জানা যায়। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের কয়েকজন সদস্যকে ধরতেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। বৃহস্পতিবার রাতভর এসব অভিযান চালিয়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি। এখন জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের গ্রামের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে সেখানে অভিযান চালানো হবে।


মামলার তদন্ত সম্পৃক্ত সূত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পলাতক সালাম চক্রের সদস্যদের যোগসাজশে ফাঁস করা প্রশ্নপত্র নিয়ে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অন্তত চার হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। চক্রের হোতা জসিমের ২৭টি ব্যাংক হিসাব, পারভেজ ও জাকিরের ১০ থেকে ১১টি করে ব্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে। সেখানে কত টাকা আছে, সে বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছে সিআইডি। তাদের নামে আরও কোনো ব্যাংক হিসাব কিংবা সম্পদ আছে কি না, তা জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। সেখান থেকে তথ্য পেলে ও তাঁদের অবৈধ সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হবে।


২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তদন্ত করে সিআইডি। ওই মামলায় ১২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার ৪৭ জনের মধ্যে ৪৬ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁদের কয়েকজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি প্রশ্নপত্র ফাঁস করা চক্রটির সন্ধান পায় সিআইডি। ওই তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ জুলাই চক্রের সদস্য এস এম সানোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৭ সালের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ জুলাই রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জসিম উদ্দিন ওরফে মন্নু, পারভেজ খান, জাকির হোসেন মোহাইমিনুলকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনই ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে মিরপুর থানায় পাবলিক পরীক্ষা আইনে মামলা করে সিআইডি। মামলায় ১৫০ থেকে ২০০ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে সানোয়ার ও মোহাইমিনুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা এখন কারাগারে।

User Comments

  • শিক্ষা