২৩ এপ্রিল ২০২১ ১৪:২৩:৪০
logo
logo banner
HeadLine
২২ এপ্রিল ২০২১ : গেল ২৪ ঘন্টায় ১৪ দশমিক ৬৩ হারে শনাক্ত ৪২৮০, মৃত ৯৮, সুস্থ ৭২৬৬ * কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে উন্নত দেশগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান * ২১ এপ্রিল ২০২১ : কমেছে সংক্রমণ , বেড়েছে সুস্থতা * দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন সোয়া ১৮ লাখ, প্রথম ডোজ সাড়ে ৫৭ লাখ এবং নিবন্ধন করেছেন সাড়ে ৭১ লাখের অধিক * এ বছর ফিতরা জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২,১৩০ ও সর্বনিম্ন ৭০ টাকা * সুরক্ষায় মিলছে করোনা সার্টিফিকেট * ২০ এপ্রিল ২০২১ : ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত ৪৫৫৯, মৃত ৯১, সুস্থ ৬৮১১ জন * ভ্যাকসিনের চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্তৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর * ১৯ এপ্রিল ২০২১ : দেশে করোনায় একদিনে মৃত ১১২, যা দৈনিক সর্বোচ্চ * মামুনুল হকের ৭ দিনের রিমান্ড * মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ফ্লাইট ছাড়া ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ * চলমান চলাচল বিধিনিষেধ ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত * হেফাজত নেতা মামুনুল হক গ্রেফতার * দেশের সবচেয়ে বড় কোভিড হাসপাতাল উদ্বোধন * ৫১ আলেম-ওলামার বিবৃতি,'হেফাজতে ইসলাম দেশে ফেতনা সৃষ্টিকারী ফাসেকের দল' *
     18,2021 Sunday at 05:01:03 Share

এইচ টি ইমামের মৃত্যু, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

এইচ টি ইমামের মৃত্যু, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি (হোসেন তৌফিক) ইমাম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না……রাজিউন)।
বুধবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত ১ টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া তার ফেসবুক পেজে এইচ টি ইমামের মৃত্যুও খবরটি জানান।
তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে জানাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম রাত ১টা ১৫ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। জানাজা এবং দাফনের বিষয়টি পরে অবহিত করা হবে।’
মৃত্যুকালে এইচ টি ইমামের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি কিডনির জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। তাকে অসুস্থ অবস্থায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছিল।
এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আজ এক শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে এইচ টি ইমাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ‘তিনি (ইমাম) দেশের স্বাধীনতার চেতনার উন্নয়নে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের জন্য সারাজীবন কাজ করে গেছেন। এছাড়া তিনি সদ্য স্বাধীন দেশের সরকার পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।’
রাষ্ট্র প্রধান বলেন, এইচ টি ইমাম একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও দেশের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ‘তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একজন নিবেদিত প্রাণ নেতাকে হারালো।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
এইচ টি ইমাম তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা হয়েও ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদায় জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ করেন। ২০১৪ তে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা পরিচালনা বিষয়ে তার কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে।
এইচ টি ইমাম ১৯৩৯ সালের ১৫ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা তাফসির উদ্দীন আহমেদ বি.এ. বি.এল. ও মাতা তাহসিন খাতুন। পিতার চাকুরির সূত্রে শৈশবে রাজশাহীতে অবস্থান এ রাজশাহীতেই প্রাথমিক শিক্ষা। পরবর্তীকালে লেখাপড়া করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া ও কলকাতায়। ১৯৫২ সালে ম্যাট্রিক পাস করেছেন ঢাকা কলেজিয়েট হাইস্কুল থেকে। এরপর ভর্তি হন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে। এখান থেকেই ১৯৫৪ তে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। এর পর ভর্তি হন রাজশাহী কলেজ এবং সেখান থেকে অর্থনীতিতে অনার্সসহ বি.এ. ডিগ্রী অর্জন করেন ১৯৫৬ সালে। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এ সময় তিনি প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির সাথে বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকারের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এইচ টি ইমাম। এইচ টি ইমাম স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হন এবং ১৯৭৫ সালের ২৬ অগাস্ট পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিপরিষদের সচিবের দায়িত্বে ছিলেন।
এরপর ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত সাভারের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি যোগাযোগ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিবও হন।
সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর এইচ টি ইমাম আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান। এছাড়াও, তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

User Comments

  • জাতীয়