৩১ জুলাই ২০২১ ১৪:৩৫:১০
logo
logo banner
HeadLine
জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৭ লাখ ৮১ হাজার টিকা আসছে আজ * ৩০ জুলাই ২০২১ : পরীক্ষা ৪৫০৪৪, শনাক্ত ১৩৮৬২, মৃত ২১২, সুস্থ ১৩৯৭৫ * ১ আগস্ট থেকে রফতানিমুখী শিল্প কারখানা খোলার অনুমতি * বেলাল মোহাম্মদ এর ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ * ৩০ জুলাই ২০২১: চট্টগ্রামে ৩৭.৩৭ হারে শনাক্ত ১৪৬৬, মৃত ৯ জন * সিনোফার্মের আরও ৩০ লাখ ডোজ টিকা আসছে রাতে * ২৯ জুলাই ২০২১ : পরীক্ষা ৫২২৮২, শনাক্ত ১৫৯৮২, মৃত ২৩৯, সুস্থ ১৪৩৩৬ * ডেঙ্গু মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ পরামর্শ অনুসরণের আহ্বান * কোভিড সংকটের মাঝে বাড়ছে ডেঙ্গু , গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড শনাক্ত ১৯৪ * ২৫ হলেই নেওয়া যাচ্ছে করোনার টিকা, ৮ আগস্ট থেকে নিতে পারবেন ১৮ বছর বয়সীরাও * ২৯ জুলাই ২০২১: চট্টগ্রামে ৩৭.৪১ হারে শনাক্ত ১৩১৫, মৃত ১৭ জন * ২৮ জুলাই ২০২১ : পরীক্ষা ৫৩৮৭৭, শনাক্ত ১৬২৩০, মৃত ২৩৭, সুস্থ ১৩৪৭০ * ২৮ জুলাই ২০২১: চট্টগ্রামে ৩২.৭৭ হারে শনাক্ত ৯১৫, মৃত ১৭ জন * ২৭ জুলাই ২০২১ : সর্বোচ্চ পরীক্ষার দিনে মৃত্যুও সর্বোচ্চ, পরীক্ষা ৫২৪৭৮, শনাক্ত ১৪৯২৫, মৃত ২৫৮ * ৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনা টিকাদান কার্যক্রম শুরু *
     27,2021 Tuesday at 19:28:13 Share

বাংলাদেশ : আওয়ামী লীগের যাত্রাপথের সোনালি অর্জন

বাংলাদেশ : আওয়ামী লীগের যাত্রাপথের সোনালি অর্জন

বাঙালি জাতির জাগরণ, জাতীয় চেতনার বিকাশ, হাজার বছরের দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির জন্য গণজোয়ার, অকুতোভয় সংগ্রাম, জয় বাংলা স্লোগান, নৌকা প্রতীকে ভোটদান ও মহান স্বাধীনতা; এই সবকিছুর মূলেই রয়েছে একটি নাম- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। হ্যাঁ, আওয়ামী লীগের হাত ধরেই প্রতিবন্ধকতার পাহাড় ডিঙিয়েছে বাঙালি। ঘোর অমানিশায় নিমজ্জিত কোটি কোটির মানুষকে গনগনে সূর্যের মতো করে জাগিয়ে তুলেছে এই দল। আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, বাঙালির প্রাণ, স্বাধীনতার প্রাণভোমরা। বাঙালি জাতির প্রবাদ পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশজুড়ে গণমানুষের দলে পরিণত হয় এটি। তিনি হয়ে ওঠেন আওয়ামী লীগের মধ্যমণি। আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথচলা একই সরলরেখায়, তাই কাউকে ছাড়া কারো ইতিহাস রচনা করা সম্ভব না। আর স্বাধীনতার পর আবার বিপর্যয়ের মুখে পড়া বাংলাদেশকে নতুন করে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও জননেত্রী শেখ হাসিনা। এখানেও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে আওয়ামী লীগ। আধুনিক বাংলাদেশ, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা- একই সূত্রে গাঁথা। ৭২ বছর বয়সের পরিণত এই দলটির হাত ধরে আজ বিশ্বের বুকে বিস্ময় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাঙালি জাতি।

আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ

১৯৪৭ সাল। ভারতবর্ষ ভাগ হলো। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের কিছুদিন আগে থেকেই ভবিষ্যত করণীয় প্রসঙ্গে কলকাতায় বৈঠক করতে থাকেন সেখানে অধ্যয়নরত বাঙালি তথা পূর্ববাংলার প্রতিষ্ঠিত ছাত্রনেতারা। দেশ ভাগের পরপরই ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন তাদের একটা বড় অংশ। আরেকটা অংশ কলকাতার সিরাজউদ্দৌলা হোটেলে বৈঠক করে দেশে ফেরেন। প্রতিষ্ঠিত ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান ততদিনে ঢাকায় এসে নতুন একটি যুব-সংগঠন করার পেছনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যার ফলশ্রুতিতে ৭ সেপ্টেম্বর (১৯৪৭) গণতান্ত্রিক যুবলীগ নামের একটি সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন দেশে উগ্র বাম বা উগ্র ডান উভয় পন্থা পরিহার করে, একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা।

কিন্তু শুরুতেই এটি কোন্দলের মধ্যে পড়ায়, ছাত্রদের নিয়ে নতুন ও গতিশীল সংগঠন গড়ার উদ্যোগ নেন শেখ মুজিবুর রহমান। যার ধারাবাহিকতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ছাত্রলীগ। তরুণদের জন্য একটি প্লাটফর্ম তৈরি করে, নিজে যুক্ত হন আওয়ামী লীগে। তারপর নিরলস ছুটতে থাকেন দেশের প্রতিটি জেলার পথে-প্রান্তরে, গণমানুষের কাছে। দ্রুতই তিনি দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে দলের সাধারণ সম্পাদক হন। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশ অভিমুখে প্রচণ্ড যাত্রাকালে দলের দিকনির্ধারণী ব্যক্তি হিসেবেই দায়িত্ব পালন করতে থাকেন তিনি।

ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা ও দেশজুড়ে প্রচারণা

অখণ্ড ভারতবর্ষে দীর্ঘদিন মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত থাকায় তরুণ নেতা শেখ মুজিব বুঝতে পারেন যে- পূর্ববাংলার মানুষের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য গতিশীল সংগঠনের বিকল্প নেই। এজন্য ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে কর্মীসভা ডেকে (পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম) ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। ১৪ সদস্যের এই সাংগঠনিক কমিটির একজন সদস্য হিসেবে থাকেন তিনি নিজে। কলকাতার ছাত্র রাজনীতিতে হাতপাকানো ছাত্রনেতা শেখ মুজিবের কর্মতৎপরতার কারণে, ছাত্রলীগ গঠনের পরবর্তী এক মাসের মধ্যে দেশের প্রায় সব জেলাতেই কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়।

এরমধ্যেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১১ মার্চ (১৯৪৮) হরতাল ঘোষণা হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে। এই পরিষদের অন্যতম একটি সক্রিয় সংগঠন হিসেবে মাঠে নামেন ছাত্রলীগ নেতারা। জনমত গঠনের জন্য বিভিন্ন জেলায় ভ্রমণ করেন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর ১১ মার্চ ঢাকার রাস্তায় সক্রিয় আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশি হামলার শিকার ও গ্রেফতার হন তিনি। তবে ১৫ মার্চ তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সরকার। ১৬ মার্চ জেল থেকে বের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় শেখ মুজিবের সভাপতিত্বে একটি প্রতিবাদী ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও মুসলিম লীগ নেতা খাজা নাজিমুদ্দিন সেনাবাহিনীর সহায়তা চান। অবশেষে পূর্ব পাকিস্তানের জিওসি মেজর জেনারেল আইয়ুব খান তার বাহিনী নিয়ে এসে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে নেন।

২১ মার্চ (১৯৪৮) পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ করে একদল তরুণ। তাদের মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা শেখ মুজিব ছিলেন অন্যতম। এরপর ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তনেও একই কথা বলেন জিন্নাহ। কিন্তু ছাত্রদের প্রতিবাদের মুখে চুপসে যান তিনি। নিরলসভাবে ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ১১ সেপ্টেম্বর শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৪৯ সালের জানুয়ারিতে ছাড়া পান তিনি।

ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা থেকে এবং আওয়ামী লীগের অপরিহার্য নেতা

বাংলা ভাষার আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার পর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ায়, ১৯৪৯ সালের ১৯ এপ্রিল শেখ মুজিবকে আবারো গ্রেফতার করা হয়। মূলত ভাষা আন্দোলনে সামনে থেকে ভূমিকা রাখার কারণে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করে পুলিশ। একারণে বিভিন্ন অযুহাতে কারাগারে নেওয়া হয় তাকে। এবার ছাত্রনেতা হিসেবে জেলে প্রবেশ করলেও, জেলখানাতেই তার ছাত্ররাজনীতির সমাপ্তি ঘটে। শেখ মুজিব জেলে থাকা অবস্থাতেই ২৩ জুন, কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডনে গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী (মুসলিম) লীগ। শেখ মুজিবের নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়ে তাকে এই সংগঠনের প্রাতিষ্ঠাতা যুগ্মসাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২৭ জুন তিনি আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা হিসেবে জেল থেকে বের হন।

এরপর সেপ্টেম্বর মাসে ছাত্রলীগের প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় শেখ মুজিবের সভাপতিত্বে। তিনি ছাত্রলীগের নতুন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে দেন। এরপর থেকে নিজে পুরোদমে মন দেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রসারে। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই সংগঠনের সভাপতি ও শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক হলেও, দেশজুড়ে কর্মী সংগ্রহ ও দলীয় প্রচারণার কাজ করতে হয় শেখ মুজিবকে। এদিকে ভাষার অধিকার আদায়ের দাবিতে নিয়মিত ছাত্রলীগ নেতাদেরও নির্দেশনা দিতে থাকেন তিনি।

এরমধ্যেই, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে, ১৯৪৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার আরমানিটোলায় জনসমাবেশ করে আওয়ামী লীগ। সভা শেষে ভুখা মিছিল থেকে দলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার এড়িয়ে দলীয় কার্যক্রমের পরিসর বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে শেখ মুজিব পশ্চিম পাকিস্তানে যান সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে দেখা করতে। তিনি পূর্ব-বাংলায় গণতান্ত্রিক আন্দোলন বেগবান করার জন্য সোহরাওয়ার্দীকে রাজি করান। এরপর ঢাকায় ফেরার পর তাকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় গ্রেফতারে ভয়ে পদত্যাগ করেন অনেক আওয়ামী লীগ নেতা। অনেকে নিস্ক্রিয় হয়ে যান। ফলে নিজের দূরদর্শিতা এবং নেতৃত্বগুণে মাত্র ৩০ বছর বয়সেই দলের অপরিহার্য মুখ হয়ে পড়েন শেখ মুজিবুর রহমান। তার কথায় মুগ্ধ হয়ে ১৯৫০ সালের ১৮ ও ১৯ মার্চ নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করেন অখণ্ড বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীন সোহরাওয়ার্দী। পুরো পাকিস্তানজুড়ে একটি রাজনৈতিক আবহ সৃষ্টি হয়। শেখ মুজিবের উদ্যোগে প্রাদেশিক দল থেকে পুরো পাকিস্তানের জাতীয় দলে পরিণত হয় আওয়ামী লীগ।

এমনকি পরবর্তীতে শেখ মুজিবের ওপর আস্থা রেখে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রচারণায় সহায়তার জন্য ইত্তেফাক পত্রিকার জন্য রামকৃষ্ণ মিশন রোডে একটি অফিস কিনে দেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। একটা ট্রাস্টের মাধ্যমে পত্রিকা চলতে থাকে। শেখ মুজিব ছিলেন এই ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য।

এইদফায় গ্রেফতার করে ২৬ মাস জেলে রাখা হয় শেখ মুজিবুর রহমানকে। ১৯৫২ সালের এপ্রিলে জেল থেকে বের হয়ে দেশের অধিকাংশ জেলায় রাজনৈতিক সফর করেন তিনি। দলের সভাপতি ভাসানী যেহেতু তখনো বন্দি, তাই প্রায় চার মাসজুড়ে নিরলস পরিশ্রম করে সারাদেশের কমিটি পুনর্গঠন করেন তরুণ নেতা শেখ মুজিব। মাত্র ৩২ বছর বয়সে দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের পোস্টারে পরিণত হন তিনি।

বাংলা ভাষার আন্দোলন ও শেখ মুজিব

মাতৃভাষার অধিকারের জন্য দেশজুড়ে যখন গণজাগরণ তুঙ্গে, এমন সময় ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন পল্টন ময়দানের ভাষণে বলেন- উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। ফলে উত্তাল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে প্রতিবাদী মিছিল বের করে ছাত্র-জনতা। পাকিস্তানি জান্তাদের গুলিতে প্রাণ হারান অনেকে। রঞ্জিত হয়ে ওঠে ঢাকার রাজপথ।

এই সময় শেখ মুজিবকে জেলে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে থাকার সুবাদে তিনি ছাত্রনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ পান। এসময় ছাত্রনেতাদের ডেকে নিয়ে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠনের পরামর্শ দেন এবং আওয়ামী লীগ নেতাদেরও এ ব্যাপারে অবহিত করেন। তার নির্দেশেই এই সংগ্রাম পরিষদের কনভেনর করা হয় ছাত্রলীগের কাজী গোলাম মাহবুবকে। শেখ মুজিবের তৎপরতা বুঝতে পেরে ১৫ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলে স্থানাস্তরিত করা হয় তাকে। এর আগেই, ছাত্রনেতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে কঠোর আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থণ দেন এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে অনশন শুরু করেন তিনি।

তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেল থেকে শেখ মুজিবকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি সরকার। ১৯৫২ সালের এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকার ফেরেন তিনি। আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তখনো বন্দি। তাই দলের কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সভা ডাকেন শেখ মুজিব। সভায় তাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও আওয়ামী লীগের জয়জয়কার

দীর্ঘদিন কারাজীবন শেষে, ১৯৫৩ সালের দিকে আওয়ামী লীগ নেতারা মুক্তি পেতে থাকেন। সেই বছরই, ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের প্রথম কাউন্সিল ডাকা হয়। মাওলানা ভাসানীকে সভাপতি ও শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে (পূর্ব পাকিস্তান) আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর একপর্যায়ে শেরে বাংলা একে ফজলুল হককে আওয়ামী লীগে যোগদানের আমন্ত্রণ জানান শেখ মুজিব। মুজিবের আহ্বানে সাড়া দিয়ে চাঁদপুরের এক জনসভায় তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন জানান।

কিন্তু পরবর্তীতে তিনি নিজেই কৃষক-শ্রমিক পার্টি গঠন করেন। এর আগে ১৯৩৭ সালে ভারতবর্ষের প্রাদেশিক নির্বাচনে তার কৃষকপ্রজা পার্টি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। তবে পাকিস্তান সৃষ্টির পর এই প্রথম তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হলেন এবং নিজের দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেন। ফলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সৃষ্টি হলো যুক্তফ্রন্ট। এর সঙ্গে থাকা অন্য দলগুলো হলো গণতন্ত্রী দল, নেজামে ইসলাম ও ফেলাফতে রব্বানী। ১৯৫৪ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নেয় যুক্তফ্রন্ট।

যুক্তফ্রন্টের সভাপতি মনোনীত হয় নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসেন শহীন সোহরাওয়ার্দী। বাংলার প্রতিটি প্রান্তে নিরলস প্রচারণা চালাতে থাকেন পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান। এই প্রাদেশিক নির্বাচনে কট্টর ধর্মীয় প্রচারণা উপেক্ষা করে মানবিক অধিকারের পক্ষে নৌকা মার্কায় ভোট দেয় জনগণ। ফলে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৮টি আসনে জয়লাভ করে এই জোট। আওয়ামী লীগ একাই পায় ১৪৩টি আসন।

আওয়ামী লীগের সরকার

মুসলিম লীগের ধর্মের খোলস উন্মোচন করে, আওয়ামী লীগের ওপর ভর করে ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল সরকার গঠন করে যুক্তফ্রন্ট। কিন্তু পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্রের কারণে মাত্র দুই মাসের কম সময় ব্যবধানে, ১৯৫৪ সালের ৩১ মে, যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে ইস্কান্দার মির্জাকে পূর্ব বাংলার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয় পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। শেখ মুজিবসহ পূর্ব পাকিস্তান আইনপরিষদের ৩৫ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৫৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তফ্রন্ট ভেঙে যায় এবং একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে আওয়ামী লীগ।

এদিকে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে অসাম্প্রদায়িকতার প্রতি বাংলার মানুষের গণরায়ের ওপর ভিত্তির করে, ১৯৫৫ সালের ২২-২৩ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটিকে বাদ দেওয়া হয়। দেশের সর্বসাধারণের সবার জন্য এই দলের দুয়ার খুলের দিতে সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবের উদ্যোগেই এই বাস্তবায়িত হয়। প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে সদস্য হিসেবে জায়গা পান তাজউদ্দীন আহমদ।এরপর ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রাদেশিক পরিষদের সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। মুখ্যমন্ত্রী হন দলের সহসভাপতি আতাউর রহমান খান। এই মন্ত্রিসভায় শেখ মুজিবকে শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতিরোধ ও গ্রামীণ সহায়তাবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কিন্তু দলের কাজে সময় দেওয়ার জন্য মে মাসের শেষে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। দেশজুড়ে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগেক শক্তিশালী করার কাজে নিমগ্ন হয়ে যান তিনি।

সামরিক রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের পুনর্জীবন

১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বর, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। সোহরাওয়ার্দীর পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিরোধের জেরে ১৯৫৭ সালে ১৩ ও ১৪ জুন পূর্ব-পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ডাকেন শেখ মুজিবুর রহমান। কাউন্সিলররা বিপুল ভোটে সোহরাওয়ার্দীর পররাষ্ট্রনীতি অনুমোদন করেন। এদিকে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিভেদের কারণে আওয়ামী লীগ ছেড়ে নতুন দল গড়েন ভাসানী। ভাসানী।  ফলে দলের এই কাউন্সিল থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশকে। এদিকে ১৩ মাস সরকার পরিচালনার পর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার ষড়যন্ত্রের কারণে আওয়ামী লীগ মন্ত্রিসভার পতন হয় এবং ১৯৫৭ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেন সোহরাওয়ার্দী।

এখানে উল্লেখ্য যে, ১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সোহরাওয়ার্দীর মতো গণতন্ত্রকামী আওয়ামী লীগ নেতা প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকলে এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে, এই আশঙ্কা থেকে ইস্কান্দার মির্জা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালের অক্টোবরে সামরিক আইন জারি করেন তিনি। ১২ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয় শেখ মুজিবকে। ২৭ অক্টোবর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দখল নেন সেনাপ্রধান আইয়ুব খান। দেশে নিষিদ্ধ করা হয় রাজনীতি। গ্রেফতার এড়াতে সিনিয়র নেতারা অবসরের ঘোষণা দিয়ে নিরাপদ জীবন বেছে নেন।

কিন্তু জেল থেকে বের হয়ে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ফলে আবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় আইয়ুব খান কর্তৃক তথাকথিত মৌলিক সংবিধানকে অগ্

User Comments

  • রাজনীতি