৬ ডিসেম্বর ২০২১ ২৩:৪৮:৫৮
logo
logo banner
HeadLine
ভারতের সঙ্গে আমাদের রক্তের সম্পর্ক - পররাষ্ট্রমন্ত্রী * ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ'র প্রভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি * ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ : এগুচ্ছে ভারতের ওড়িশা ও অন্ধ্র প্রদেশের দিকে * রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জাপানের আশ্বাস * ০১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে টিকা দেয়া হয়েছে ১০ কোটি ২ হাজার ১২৩ ডোজ * করোনার 'ওমিক্রন' ভ্যারিয়েন্ট, যা জানা যাচ্ছে * ২৮ নভেম্বর, ২০২১ : ০.২১ হারে চট্টগ্রামে শনাক্ত ৩ * এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তোরণের রেজুলেশন জাতিসংঘে চূড়ান্তভাবে গৃহীত * প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় সেনাবাহিনী দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে - সেনাপ্রধান * বাংলাদেশ এক উন্নয়ন বিস্ময়: প্রধানমন্ত্রী * ২৪ নভেম্বর, ২০২১ : ১.৪৯ হারে শনাক্ত ৩১২,মৃত ৩, ৩৩৮ * বঙ্গবন্ধুর 'স্বপ্নের সোনার বাংলা' গড়ে তুলতে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : রাষ্ট্রপতি * ২২ নভেম্বর, ২০২১ : দীর্ঘ ১৯ মাস পর চট্টগ্রামে করোনাশূন্য দিন * ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে টিকা দেয়া হয়েছে ৮ কোটি ৬২ লাখ ৪৩ হাজার ১১ ডোজ * মলনুপিরাভিরের পর ফাইজারের 'প্যাক্সলোভিড' ও দেশের বাজারে আসছে *
     17,2021 Wednesday at 14:52:42 Share

মলনুপিরাভিরের পর ফাইজারের 'প্যাক্সলোভিড' ও দেশের বাজারে আসছে

মলনুপিরাভিরের পর ফাইজারের 'প্যাক্সলোভিড' ও দেশের বাজারে আসছে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসায় মুখে খাওয়ার নতুন একটি ওষুধ নিয়ে বড় ধরনের আশাবাদ তৈরি হয়েছে। ওষুধটির নাম ‘প্যাক্সলোভিড’ । এটি ফাইজারের তৈরী। বাংলাদেশসহ নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের ৯৫টি দেশে সরবরাহ করতে পারবে জেনেরিক ওষুধ প্রস্তুতকারকরা। আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য গোষ্ঠী মেডিসিন্স প্যাটেন্ট পুলের (এমপিপি) সঙ্গে লাইসেন্স ভাগাভাগির আওতায় দ্বিতীয় হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিটি গতকাল এ ঘোষণা দেয়।

কোভিড-১৯ টিকার অন্যতম শীর্ষ প্রস্তুতকারক ফাইজার বলছে, পরীক্ষামূলক প্রয়োগে এই পিল মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা প্রাপ্তবয়ষ্ক রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি বা মৃত্যুর সুযোগ ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে বলে প্রমাণ মিলেছে। এইচআইভির জেনেরিক ওষুধ রিটোনাভিরের সঙ্গে যুক্ত করে ওষুধটি কোভিডের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে।
কয়েক মাসের মধ্যে ফাইজারের ওষুধটির জেনেরিক সংস্করণ বাজারে পাওয়া যাবে। লাইসেন্স চুক্তির আওতায় থাকা এই ৯৫টি দেশে বিশ্বের প্রায় ৫৩ শতাংশ মানুষের বাস। এর মধ্যে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ ও সাব-সাহারা আফ্রিকার উচ্চ-মধ্যম-আয়ের দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত। ফাইজার বলছে, প্রতিটি দেশের আয়ের ভিত্তিতে স্তরায়িত দর নির্ধারণী পদ্ধতি ব্যবহার করে তারা ওষুধটি বিক্রি করবে।

এর আগে উদ্ভাবিত মলনুপিরাভিরকে বিশেষজ্ঞরা করোনা মহামারি মোকাবেলায় মোড় পরিবর্তনকারী কিংবা গেমচেঞ্জার ড্রাগ হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, এই ওষুধ পরিস্থিতি বদলাতে সাহায্য করবে। কোভিড চিকিৎসায় মলনুপিরাভির বিশ্বের প্রথম মুখে খাওয়ার ওষুধ। এটি ঘরে বসেই সাধারণ যেকোনো ট্যাবলেটের মতো খাওয়া যাবে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ওষুধটি খেলে রোগীর গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি অর্ধেক কমে যায়।
কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় এই ক্যাপসুল ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশের সব হাসপাতালে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রোগীদের মৃদু ও মাঝারি ধরনের লক্ষণ থাকলে এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি রোগীর বয়স ৬০ বছরের বেশি হলে, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও অন্যান্য কোমর্বিডিটি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে মুখে খাওয়ার এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে। তবে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের এই ওষুধ দিতে মানা করেছে। বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক, শার্প অ্যান্ড ডোম এবং রিজব্যাক বায়োথেরাপিউটিকস এই ওষুধটি তৈরি করেছে। বাংলাদেশে ঔষধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষ ঔষধটির জরুরি ব্যবহার, বিপণন ও উৎপাদনের অনুমোদন দেয়ার পর এরই মধ্যে ওষুধটি বাজারে নিয়ে এসেছে তিনটি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহাম্মদ রোবেদ আমিন বলেন, শরীরের ভেতরে যখন করোনাভাইরাস প্রবেশ করে তখন তার অনেক কপি তৈরি করতে হয়। এই কপি করার মূল প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে মলনুপিরাভির। ড্রাগটি বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি তৈরি করে, যাতে জিনগুলো বুঝতে না পারে যে সে কোন প্রোটিন তৈরি করবে। যখন বিভিন্ন প্রজন্মে এই ভাইরাস তৈরি হতে থাকে তখন ত্রুটির সংখ্যাও বাড়তে থাকে।
তিনি বলেন, ভাইরাসটি তখনও বুঝতে পারে না তার ভেতরে কী পরিমাণ ত্রুটি প্রবেশ করেছে। কিন্তু ভাইরাসটি মনে করে যে সে বুঝি তৈরি করেই যাচ্ছে। একটা সময় ভাইরাসটি নিষ্ক্রিয় হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। মলনুপিরাভিরের যে রাসায়নিক কাঠামো সেটা দেখতে ভাইরাসের কপি তৈরি করার টেম্পলেট বা নকশার মতো। এ কারণে সে এটাকে ঘুরিয়ে দিতে পারে।
কত দ্রুত কাজ করে : বিজ্ঞানীরা বলছেন, মলনুপিরাভিরের রাসায়নিক পদার্থগুলো দ্রুত রোগীর রক্তের ভেতরে গিয়ে ভাইরাসকে নির্মূল করার কাজ শুরু করে দিতে পারে। প্রাণীর ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, ১২ ঘণ্টা পরেই এই ওষুধটিকে বেশ কার্যকর দেখায় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ভাইরাসকে শূন্য করে ফেলতে পারে।
মানুষের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, তিন দিন পর ভাইরাস অনেক কমে গেছে, কিন্তু ভাইরাসটি পুরোপুরি ধ্বংস হতে সময় লেগেছে পাঁচ দিন। আঠারো বছরের নিচে কারো ওপর এই ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। গর্ভবতী নারীকেও এই ওষুধটি দেওয়া হয়নি। ফলে তাদের শরীরে এটি কাজ করবে কিনা সেটা পরিষ্কার নয়।
রোবেদ আমিন বলেন, যারা বয়স্ক, যাদের অন্তত একটি রিস্ক ফ্যাক্টর ছিল, তাদের অসুস্থতা যখন মৃদু থেকে মাঝারি, তাদের শরীরে এই সময়ে ওষুধটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে বলে পরীক্ষাগুলোতে দেখা গেছে। কিন্তু কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তখন এই ওষুধটি কাজ করে না।
টিকার বিকল্প নয় : ডাক্তাররা বলছেন, কোভিড টিকা নেওয়া সত্ত্বেও কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তার উপসর্গ যদি মৃদু থেকে মাঝারি হয় তাহলে তারাও এই ওষুধটি সেবন করতে পারবেন। তবে চিকিৎসকরা এই ওষুধটিকে টিকার বিকল্প হিসেবে না দেখার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন।

User Comments

  • স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা